মোবাইলফোনের ভয়েস ও ইন্টারনেট প্যাকেজ কমায় লাভ কার?

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১৭:৫২, অক্টোবর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৬, অক্টোবর ১২, ২০১৮

ছবিটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর ভয়েস ও ইন্টারনেটের শতাধিক প্যাকেজ আর থাকছে না। এরই মধ্যে প্যাকেজের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, মোবাইলফোন ব্যবহারকারীদের সুনির্দিষ্ট সুবিধা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মোবাইলের ভয়েস কলে ‘ইউনাইটেড ফ্লোর প্রাইস’ (উচ্চ ও নিম্নসীমা) চালু হয়েছে। চালু হয়েছে নম্বর না বদলে অপারেটর পরিবর্তন সেবা তথা এমএনপি।

তবে প্যাকেজের সংখ্যা কমায় গ্রাহকের লাভ না ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

গ্রাহক সংশ্লিষ্টদের মতে, ভয়েসে না হোক, এমএনপি সেবার ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের বেলায় শত প্যাকেজ থাকলে গ্রাহকেরই উপকার হতো বেশি। গ্রাহক ওইসব প্যাকেজ থেকে তার পছন্দেরটা বেছে নিতে পারতো। ভয়েস কলে যেহেতু কিছু করার নেই সেক্ষেত্রে গ্রাহক ইন্টারনেটের ওপর বেশি ভরসা করতে পারতো। এখন প্যাকেজ সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় গ্রাহকের পছন্দের জায়গাটি সংকুচিত হয়ে গেল।

তবে সরকারের অভিমত, অপারেটরগুলোর চালু থাকা শত শত প্যাকেজ গ্রাহককে ধন্দে ফেলে। এত প্যাকেজের মধ্যে ভালো প্যাকেজটা বেছে নেওয়া কষ্টকর। এই কষ্ট থেকে পরিত্রাণ দিতে প্যাকেজের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে শুরু করেছে। অপারেটরগুলোর এটাই সুযোগ। সবচেয়ে কম দামে বা অনেক কম দামে ইন্টারনেট প্যাকেজ তৈরি করে তারা গ্রাহক আকৃষ্ট করতে পারে। এমএনপি সেবা নিতেও গ্রাহক বেশি আগ্রহী হবে।

সম্প্রতি অপারেটরগুলোকে প্যাকেজের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩৫টি করতে নির্দেশ দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। গত ১ জুলাই থেকে এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়। কেউ নির্দেশ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, দেশের পাঁচ মোবাইল অপারেটরের মোট প্যাকেজের সংখ্যা ছিল (গত ১ জুলাইয়ের আগে) ৬১৭টি। এরমধ্যে গ্রামীণফোনের ১০২, রবি ও এয়ারটেলের ২৫৮ (মতান্তরে ১৩৯টি), বাংলালিংকের ৭৬ ও টেলিটকের ছিল ৪২টি প্যাকেজ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ভয়েস ও ইন্টারনেটের শত শত প্যাকেজ রাখা যাবে না। কমাতেই হবে। কোনও কোনও অপারেটর এরই মধ্যে প্যাকেজ সংখ্যা কমিয়েছে। শত শত প্যাকেজ রেখে গ্রাহককে বিভ্রান্ত করার কৌশল শেষ হওয়া উচিত।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এমএনপি চালু হয়েছে। অপারেটররা তাদের নিজেদের স্বার্থেই ডাটার আকর্ষণীয় প্যাকেজ অফার করবে। কারণ, ভয়েসে দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কিছু করার নেই। ইন্টারনেট এখনও মুক্ত আছে। যে অপারেটর যত কম দামে ইন্টারনেট প্যাকেজ অফার করবে সেই অপারেটরে গ্রাহক বেশি যাবে।’

এ অবস্থায় অপারেটররা শর্তের মধ্যে এসে ইন্টারনেট প্যাকেজের ওপর গুরুত্ব দেবে বলে মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার জানা মতে কয়েকটা অপারেটর কিছু আকর্ষণীয় প্যাকেজ এরই মধ্যে অফার করতে শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যে আরও প্যাকেজ আসবে। গ্রাহককে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।’

প্যাকেজ কমিয়ে আনার বিষয়ে বাংলালিংকের হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান তাইমুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্যাকেজের সংখ্যা ছিল ৭৬টি। এরই মধ্যে তা ৬০টির নিচে নেমে এসেছে। এমএনপি চালুর জন্য কিছুদিন এ বিষয়ে প্রতি নজর দেওয়া হয়নি। বিষয়টির প্রতি আমরা শিগগিরই মনোযোগী হবো।’
মোবাইলফোন অপারেটর রবি সূত্রে জানা গেছে, অপারেটরটি (রবি ও এয়ারটেল) এরই মধ্যে প্যাকেজের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে ফেলেছে। ভয়েস কলে ‘ইউনাইটেড ফ্লোর প্রাইস’ নির্ধারিত হওয়ার পরে প্যাকেজের সংখ্যা কমেছে। এমএনপি চালু হওয়ার পরে এই সংখ্যা আরও কমার প্রক্রিয়ায় আছে বলে অপারেটর সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের শেষ দিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ মোবাইলফোন সেবায় বিদ্যমান প্যাকেজের সংখ্যা কত, তা জানতে চেয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে অপারেটরগুলোর মোট প্যাকেজ, অনুমোদনহীন প্যাকেজের সংখ্যা, যেসব প্যাকেজ অটো-রিনিউ হয় সেসব প্যাকেজের তালিকা এবং গ্রাহকের সমস্যা, এমন কী কী সেবা বিদ্যমান আছে যেগুলো গ্রাহকরা বুঝতে পারেন না, সেসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। চিঠির জবাবের পর ভয়েস ও ইন্টারনেট প্যাকেজগুলো কমানোসহ তখন গ্রাহকবান্ধব কিছু নির্দেশনা জারির উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। তখনই প্যাকেজের সংখ্যা ১০ থেকে ২০টার মধ্যে নামিয়ে আনার কথা শোনা গিয়েছিল।

/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ