তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে এবারও চমক থাকছে আ. লীগের ইশতেহারে

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ২৩:৩০, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৬, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮





আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার (২০১৪ ও ২০০৮ সাল)একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে এবারও তথ্যপ্রযুক্তি অংশে চমক থাকছে। এমনটাই জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তবে কী সেই চমক তা সুনির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি। অবশ্য তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর পরে কী হবে সেই বিষয়ে ঘোষণা থাকতে পারে।
মোস্তাফা জব্বার আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটিরও সদস্য। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবারও আমি ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তি অংশ লিখে দেবো।’
মোস্তাফা জব্বার জানান, আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারের একটি বড় অংশজুড়ে থাকবে তথ্যপ্রযুক্তি, বিশেষ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে। ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তি অংশে ২০-২২টি বিষয়কে হাইলাইট করা হতে পারে। এ খাতে অর্জনের সংক্ষিপ্তসার, আগামীতে কী কী করা হবে, বাংলাদেশকে বিভিন্ন সময়ে কোথায় দেখা যাবে— সেসবও উঠে আসবে এবারের ইশতেহারে।
বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, “২০০৮ সালে ঘোষণা করা হয়, ২০২১ সালের লক্ষ্য ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। এখন আমরা ডিজিটাল বাস্তবায়নের দিকে। মেয়াদ পূর্তির আগেই তা হয়ে যাবে। কিন্তু মুশকিল বা চ্যালেঞ্জ হলো ডিজিটাল বাংলাদেশের পরে কী... এখনও আমরা তা চিহ্নিত করতে পারিনি। আমরা অনেক কিছুই ভাবছি কিন্তু কোনও কিছু চূড়ান্ত করতে পারিনি। এখনও আমাদের শ্লোগান ঠিক হয়নি।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়তো ১৩ বা ১৪ ডিসেম্বর ইশতেহার ঘোষণা করতে পারেন। তার আগেই আমরা শ্লোগান চূড়ান্ত করে ফেলবো।’
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তিতে আমরা কী অর্জন করেছি তার একটি সংক্ষিপ্তসার থাকবে। এছাড়া কোথায় যেতে চাই, কোথায় যাবো, তারও একটা পথ নির্দেশনা থাকবে ইশতেহারে।’
মন্ত্রী জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা দেওয়ার আগে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কাজ করা হয়েছে। ৮ বছরের কাজের ফসল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ঘোষণা। অথচ ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম ২০১২ সালে ডিজিটাল দেশ (চতুর্থ শিল্প বিপ্লব) গড়ার ঘোষণা দেয়। আর বাংলাদেশ ২০০৮ সালেই ঘোষণা দেয় ডিজিটাল বাংলাদেশের। এই দিক দিয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পরে ভারত ও ব্রিটেন ডিজিটাল হওয়ার ঘোষণা দেয়।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তিতে ২০২১ সাল পর্যন্ত স্বল্প মেয়াদ, ২০৩০ সাল পর্যন্ত মধ্য মেয়াদ এবং ২০৪১ সালকে দীর্ঘমেয়াদ ধরে আমরা পরিকল্পনা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে থাকে। প্রতিদিন মোবাইলে এই সেবার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। এটা আমাদের সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল।’
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে আমরা সরকারি সেবা কোথায় কোথায় যেতে পারে তা চিহ্নিত করতে পেরেছি। ৫৩টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলে এক হাজার ৯৬০টি সরকারি সেবা চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯০০টি সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই ৯০০ সেবা কোথায়, কীভাবে নেওয়া হবে তার একটি পথরেখা থাকতে পারে ইশতেহারে।’ তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, ‘তিন শতাধিক অ্যাকশন প্ল্যান করা আছে আমাদের। ইশতেহারে সেসবও উঠে আসতে পারে।’
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে চলে এসেছে যাকে বলা হচ্ছে ৪.০। জাপানে বলা হচ্ছে সোসাইটি ৫.০। এর অর্থ হলো গত ১০ বছরে আমাদের অ্যাডাপ্টেশন ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। সুনির্দিষ্ট পথরেখা থাকলে আরও অনেক দূর যাওয়া সম্ভব।’

/এইচআই/

লাইভ

টপ