হার্ডওয়্যার থেকে মনোযোগ সরাচ্ছে অ্যাপল?

Send
তাহসিনা হাসান
প্রকাশিত : ২০:৩২, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩২, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯

অ্যাপলের আইফোনঅ্যাপল নিজেদের বার্ষিক আয়ের হিসাব প্রকাশ করেছে মঙ্গলবার। ওই আয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে- তাহলে অ্যাপল কি হার্ডওয়্যার ব্যবসা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিচ্ছে? এমন প্রশ্ন কেন সামনে এলো সেটা বুঝতে অ্যাপলের আয়ের হিসাবটা একটু দেখে নেওয়া যাক। গত চারটি ত্রৈমাসিকে অ্যাপ, মুভি, গেম, অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল কেয়ার, আই-ক্লাউড সাবস্ক্রিপশন এবং অ্যাপল পে থেকে প্রতিষ্ঠানটি আয় করেছে প্রায় ৩৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে অ্যাপলের আয়ের ৬২ শতাংশই এসেছে এসব থেকে।

সবকিছু মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন ‘ফরচুন-ফাইভ হানড্রেড’ তালিকার ৭৯ নম্বরে অবস্থান করছে। ইতিমধ্যে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশ ভালোভাবেই জায়গা করে নিয়েছে অ্যাপল। এক্ষেত্রে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করছে তারা।

অ্যাপল এরই মধ্যে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজকদের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করছে। উদ্দেশ্য হলো- নিজস্ব একটি স্ট্রিমিং সার্ভিস চালু করা যেখানে এক্সক্লুসিভ সব কনটেন্ট থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টিম কুকও এ সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বার্ষিক আয়ের হিসাব প্রকাশ করার সময় তিনি বলেন, অ্যাপল সত্যিকারের কনটেন্ট জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত জানাবো। তার এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, হয়তো এপ্রিলে এ সম্পর্কে মুখ খুলবেন তিনি।

অ্যাপল এসব কনটেন্ট দিয়ে কী করবে কিংবা ঠিক কিভাবে এগুলো ব্যবহার করবে তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না কেউ। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আইওএস ডিভাইস যারা ব্যবহার করবে তাদের সবার জন্য হয়তো এ ধরনের কনটেন্ট বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।

অ্যাপলের প্রায় সব ধরনের প্ল্যাটফর্মই রয়েছে। এক্ষেত্রে আই-ক্লাউড এবং অ্যাপল মিউজিকের কথা বলা যেতে পারে। বর্তমানে কোনও গ্রাহকের স্টোরেজ শেষ হয়ে গেলে আই-ক্লাউড কিনছেন। এমনভাবে অ্যাপলের সব সেবাই হয়তো বিক্রি হবে কোনও এক সময়। আর এজন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও ভালো করে সাজাচ্ছে তারা।

বর্তমানে অ্যামাজনের একটি প্যাকেজ চালু আছে। এই প্যাকেজের আওতায় খাবার থেকে শুরু করে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, প্রাইম মিউজিক, বিনামূল্যে ই-বুক ও ম্যাগাজিন এবং বিনামূল্যে ফটো স্টোরেজসহ বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে থাকেন।

অ্যাপলও হয়তো এমন সুবিধা চালু করতে পারে। যেখানে একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের সব সেবা পাওয়া যাবে। এতে গ্রাহকরা যেমন খরচ বাঁচিয়ে বিভিন্ন সুবিধা নিতে পারবেন তেমনি অ্যাপলও লাভবান হবে।

গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, আইফোনের বিক্রি কমেছে। বিক্রি বাড়াতে আইফোনের দাম কমানোরও পরিকল্পনা করছে তারা।

তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, আয় বা মুনাফা ধরে রাখতে হলে অ্যাপলকে প্যাকেজ ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে। শুধু আইফোন দিয়ে এখন আর বাজার দখলে রাখতে পারবে না তারা। এজন্য অন্য সেবাগুলোর দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।

সূত্র: ইয়াহু টেক

/এইচএএইচ/

লাইভ

টপ