এখনও পর্নোগ্রাফি দেখায় ব্যয় হচ্ছে ২১ শতাংশ ব্যান্ডউইথ!

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ২১:৫২, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৪, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯

 

পর্নো সাইট বন্ধ

সরকারের সাম্প্রতিক একাধিক উদ্যোগের (ডোমেইন ব্লক, লিংক বন্ধ, অশ্লীল ভিডিও সরিয়ে নেওয়া ইত্যাদি) ফলে দেশে পর্নো সাইট দেখার হার কমেছে। এই উদ্যোগের আগে দেশে ব্যবহার হওয়া মোট ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ৪০ শতাংশ পর্নোগ্রাফি দেখার পেছনে ব্যয় হলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশে। দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

ইন্টারনেট দেখার ক্ষেত্রে দেশে বর্তমানে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ১১৫০ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড) । আইএসপিএবির হিসাব মতে, এখনও মোট ব্যান্ডউইথের ২৪১.৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যাচ্ছে পর্নোগ্রাফি দেখায়। সরকারের কঠোর উদ্যোগের ফলে এটা সরাসরি ব্রাউজিং করে দেখার হার কমেছে। তবে বিকল্প পথেও দেখা হচ্ছে। সেটা এখনই সংশ্লিষ্টরা আমলে নিতে চাইছেন না।

আইএসপিএবি এক হিসাবে বলছে, মোট ব্যান্ডউইথের ২৪ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগল ব্যবহারে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও ই-মেইলে ব্যবহার হচ্ছে ৪০ শতাংশ (সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে ১৪ শতাংশ, ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে ১৪ শতাংশ ও ই-মেইলে ১২ শতাংশ), পর্নোগ্রাফি দেখায় যাচ্ছে ২১ শতাংশ, অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে যায় ১০ শতাংশ (এর মধ্যে আছে ড্রপব্ক্স, ভিডিও কলিং বা ওটিটি অ্যাপসের ব্যবহার, টর ব্রাউজার ব্যবহার, গেমিং অ্যাপলিকেশন ও মিউজিক) এবং অন্যান্য খাতে ব্যবহার হচ্ছে ৫ শতাংশ (নেটফ্লিক্স ইত্যাদি)।

জানা যায়, সরকারের এই উদ্যোগের আগে রাতে পর্নোগ্রাফি দেখায় ৭০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ (ব্যবহার হওয়া ৪০ ভাগ ব্যান্ডউইথের মধ্যে) ব্যবহার হতো আর দিনের বেলা ব্যবহার হতো ৫ শতাংশ। এদিকে টিকটক কর্তৃপক্ষ সরকারের অনুরোধে তাদের সাইট থেকে ২ লাখের বেশি অশ্লীল ভিডিও মুছে ফেলেছে বলে জানা গেছে।

পর্নোগ্রাফি দেখা বন্ধে এরই মধ্যে ২০ হাজারের বেশি পর্নোসাইট বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

জানতে চাইলে আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের হিসাব মতে মোট ব্যান্ডউইথের ৪৫ ভাগ ব্যয় হয় প্রোডাক্টিভ খাতে। আর ৫৫ ভাগ ব্যবহার হয় নন-প্রোডাক্টিভ খাতে। নন-প্রোডাক্টিভ খাতে ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলের জন্য ব্যয় হয় ২১ শতাংশ (২৪ শতাংশের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ বাণিজ্যিক, শিক্ষামূলক ও ব্যবসায়ের কাজে যায়) এবং পর্নোগ্রাফি দেখায় ব্যয় হয় ২১ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের এই উদ্যোগের ফলে পর্নোগ্রাফি দেখা অনেক কমেছে। এটা প্রাথমিক সাফল্য বলে মনে করি। এটা ধরে রাখতে না পারলে কিছুদিন পর অবস্থা আবার আগের জায়গায় ফিরে যাবে।’

ইমদাদুল হক জানান, বর্তমানে সরাসরি পর্নোগ্রাফি খোঁজা বা দেখার হার কমেছে। বিখ্যাত ও পপুলার সাইটগুলো ব্লক করা হয়েছে। এখন দেখতে চাইলে অনেক ব্রাউজ করে তবে বের করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সাইট। অনেকে রেফান্সের মাধ্যমেও লিংক পেয়ে থাকেন বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিশ্বে ২ কোটির বেশি পর্নো সাইট রয়েছে যার সবগুলো এ দেশ থেকে দেখা যায় না। তথ্য জানা না থাকা বা ভাষা সমস্যার কারণে তা খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশ্বে মোট পর্নো সাইটের মধ্যে ২ শতাংশর কম সাইট এ দেশ থেকে ব্রাউজ করে পাওয়া যায় মনে মন্তব্য করেছেন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জড়িতরা।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ