এসএমপি ঘোষণার পর গ্রামীণফোনের ভবিষ্যৎ কী

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১২:৪২, মার্চ ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০১, মার্চ ১৩, ২০১৯

গ্রামীণফোন

টেলিযোগাযোগ খাতে কোনও প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত বছরের নভেম্বরে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) প্রবিধান ঘোষণা করে সংস্থাটি। এর অর্থ হলো নির্দিষ্ট সীমার ওপরে কেউ গেলে তাকে আটকে ফেলা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অন্যরাও যাতে বড় হতে পারে এজন্যই এই উদ্যোগ। বিটিআরসির প্রবিধানের আওতায় প্রথমেই পড়ে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণা করে বিটিআরসি।

বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বলেন, ‘আমরা বাজারকে ভারসাম্যপূর্ণ করার জন্য, বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতকে সুশৃংখল, প্রতিযোগিতামূলক ও সবার জন্য সমান করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছি।’  তিনি আরও বলেন, ‘প্রবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর থেকে তারা ব্র্যান্ডিং করতে পারবে তবে কোনও মাধ্যমে (গণমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যম) কোনও ধরনের মার্কেটিং কমিউনিকেশনস চালাতে পারবে না। সেটি লংঘন হলে বিটিআরসি আইন অনুযায়ী জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।’

কী আছে প্রবিধানে?

বিটিআরসি গত বছরের নভেম্বরে এসএমপি প্রবিধান ঘোষণা করে। প্রবিধানের ৭ (১১) ধারা অনুযায়ী, তিনটি নিয়ামকের একটি যদি ৪০ ভাগের বেশি থাকে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান এসএমপি ঘোষিত হবে। ক্যাটাগরি তিনটি হলো- গ্রাহক, অর্জিত রাজস্ব ও তরঙ্গ।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণা করা হয়। এ সময় গ্রামীণফোনের গ্রাহক ছিল মোট মোবাইল গ্রাহকের ৪০ শতাংশের বেশি। অপারেটরটির রাজস্ব আয়ও ছিল ৪০ শতাংশের বেশি (৪৭.৫%)। এমনকি রাজস্ব আয়ও ছিল টেলিযোগাযোগ খাতের মোট রাজস্বের ৪০ ভাগের বেশি।

গ্রামীণফোনের তরঙ্গ (স্পেক্ট্রাম) ৪০ ভাগ ছাড়িয়ে যায়নি বলে অপারেটরটিকে গ্রাহক ও রাজস্বের ভিত্তিতে এসএমপি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে গ্রামীণফোনের তরঙ্গ ৩৭ মেগাহার্টজ।

জানা যায়, ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনকে এসএসপি ঘোষণা করা হলেও সে সময় অপারেটরটি কী করতে পারবে, কী করতে পারবে না অর্থাৎ করণীয় ও বর্জনীয় ঠিক করে দেওয়া হয়নি। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি এসএমপির ক্ষেত্রে করণীয়-বর্জনীয় ১৫টি বিষয় নির্দিষ্ট করে বিটিআরসি চিঠি দেয় গ্রামীণফোনকে।

এর মধ্যে অন্যতম ছিল নতুন কোনও প্যাকেজ, অফার, কলরেটের তথ্য জানিয়ে কোনও মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে পারবে না গ্রামীণফোন। ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়, অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বতন্ত্র এবং একক স্বত্বাধিকার চুক্তিও করা যাবে না, কোনোভাবেই মাসে কল ড্রপের সর্বোচ্চ হার দুই শতাংশের বেশি হতে পারবে না, এমএনপি (নম্বর না বদলে অপারেটর পরিবর্তন) লকের ক্ষেত্রে মেয়াদ হবে ৩০ দিন এবং দেশব্যাপী কোনও ধরনের মার্কেট কমিউনিকেশনও করা যাবে না। এসএমপি নির্ধারিত হওয়ার ৬ মাস পরে বিটিআরসি প্রবিধানমালা ২০১৮, ধারা ৭ (১১) এর বর্ণিত নির্ণায়কগুলো পুনঃপর্যালোচনা করা হবে এবং এক বছর পরপর ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

জানা গেছে, বিটিআরসির বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনে চলার পরও গ্রামীণফানের প্রবৃদ্ধি (গ্রাহক ও রাজস্ব) হলে কোনও সমস্যা হবে না। এটাকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে করেও যদি গ্রামীণফোনকে বেঁধে রাখা না যায় তাহলে অপারেটরটির সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। হয়তো তখন বলা হতে পারে শুধু ছুটির দিনে বা ছুটির দিন ছাড়া অন্য দিনে সিম বিক্রি করতে পারবে গ্রামীণফোন।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রামীণফোনের গ্রাহক ছিল মোট মোবাইল গ্রাহকের ৪০ শতাংশর বেশি (৪৭.৫০)। এটাতে কোনও সমস্যা হবে না। নির্দেশনায় এই গ্রাহক সংখ্যা কমানোর কোনও কথা উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি এখন নতুন সিম বিক্রিতেও কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, এমনিতেই এমএনপি চালুর পরে গত ৬ মাসে গ্রামীণফোন ৫০ থেকে ৬০ হাজার গ্রাহক হারিয়েছে। এটাও অপারেটরটির জন্য একটা বড় ধাক্কা।   

গ্রামীণফোনের ভাষ্য

সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) প্রবিধানের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন সৈয়দ তালাত কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসএমপি সংক্রান্ত নির্দেশনার ব্যাখ্যা চেয়ে এবং গ্রাহক ও শেয়ার হোল্ডারদের অধিকার সুরক্ষায় আমরা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছি। আদালত বিবাদীদের ওপর রুল জারি করেছেন। এছাড়া নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার আরোপিত শর্তে মানুষের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে খর্ব করে এমন নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন আদালত।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করতে এসএমপি সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রচলিত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও দেশের আইনকানুন অনুযায়ী হওয়া উচিত।’

/জেজে/ওআর/

লাইভ

টপ