সরকারি প্রতিষ্ঠানে দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারের আহ্বান

Send
টেক রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩৬, মার্চ ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৫, মার্চ ১৯, ২০১৯

সফটওয়্যার মেলার উদ্বোধনী পর্বদেশীয় প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যার সরকারি অফিসে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনের সফটওয়্যার মেলা। বসুন্ধরার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯’ শীর্ষক এই মেলা উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এটি ১৫তম সফটওয়্যার মেলা। মেলার আয়োজক বেসিস। মেলার পার্টনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ও এক্সপেরিয়েন্স জোন পার্টনার হিসেবে থাকছে এলআইসিটি ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মেলার নতুন সংযোজন উপলক্ষে নির্মিত মোবাইল অ্যাপের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অ্যাপস, ড্রোনের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরাও বিশ্বমানের মেলা আয়োজনে সক্ষম হচ্ছি। এটি একটি ইতিবাচক সংযোজন। দেশে তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান অবস্থান বর্ণনা করে পলক জানান, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ১০ লাখ তরুণ-তরুণী তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করছে, যা ২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখে পৌঁছবে।

পলক বলেন, ‘আমরা সরকারি কাজে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে বলবো। প্রয়োজনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে কাজ করবে।’ এছাড়া দেশীয় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা বাড়াতে এবং এর ব্যবহার করতে টেলিকম ও ব্যাংকিং খাতকেও অনুরোধ করেন তিনি।

বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘এবারের বেসিস সফটএক্সপো সফটওয়্যার ও আইটিএস সেবা প্রদর্শন ও অশংগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার দিক থেকে এই আয়োজন শুধু বাংলাদেশে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ এটা প্রমাণ করে যে, এই শিল্প খাতের অবস্থান আশাব্যঞ্জক এবং সম্ভাবনাময়।’

সফটওয়্যার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দেব, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, এক্সপো কমিটির আহ্বায়ক ফারহানা এ রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মেলা ২১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করা যাবে।

ব্রডব্যান্ড ৩৬০ ডিগ্রির স্টল

জানা যায়, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য মেলায় থাকছে উইমেন জোন। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি স্টলেই থাকবেন সিভি জমা দেওয়ার সুবিধা। থাকছে বি-টু-বি ম্যাচমেকিং, জাপান ডে, করপোরেট আওয়ার। বিজনেস লিডারশিপ মিটে অংশ নেবেন পাঁচ শতাধিক করপোরেট হাই-অফিসিয়াল।

জানা যায়, প্রদর্শনী এলাকাকে ১০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন সংযোজন ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ এবং এক্সপেরিয়েন্স জোন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরবে। রয়েছে উইমেন জোন, ভ্যাট জোন, ডিজিটাল এডুকেশন জোন, ফিনটেক জোন এবং বরাবরের মতো রয়েছে সফটওয়্যার সেবা প্রদর্শনী জোন, উদ্ভাবনী মোবাইল সেবা জোন, ডিজিটাল কমার্স জোন, আইটিইএস ও বিপিও জোন।

প্রদর্শনী তথা মেলায় থাকবে ৩০টিরও বেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সেমিনার, যেখানে বক্তব্য রাখবেন শতাধিক দেশি-বিদেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্যে থাকছে বি-টু-বি ম্যাচমেকিং সেশন, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসার প্রসার খুব সহজেই করতে পারবেন। আয়োজন করা হবে করপোরেট আওয়ার, জাপান ডে। লিডারশিপ মিটে অংশ নেবেন পাঁচ শতাধিক করপোরেট হাই-অফিসিয়াল। শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প আর বরাবরের মতো গেমিং ফেস্ট।

 

/এইচএএইচ/

লাইভ

টপ