দেশে অবৈধ মোবাইল আসা কমেছে যে কারণে

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১৭:০১, মার্চ ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৩, মার্চ ২২, ২০১৯

মোবাইল ফোন‘চোরাই মোবাইল শনাক্তের’ ডাটাবেজ চালু হওয়ার পরে দেশে অবৈধ পথে আসা মোবাইল ফোনের সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি ডাটাবেজ চালুর পরেও বিটিআরসি রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অবৈধ পথে দেশে আসা মোবাইল ধরতে  অভিযান চালাচ্ছে। এই দুটি কারণেই মূলত গ্রে (চোরাই মোবাইলের বাজার) মার্কেটে মোবাইল আসা কমেছে।

চোরাই মোবাইল শনাক্তের এই ডাটাবেজের নাম আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) ডাটাবেজ। নকল বা অবৈধ মোবাইল ফোন শনাক্ত করতে একটি শক্তিশালী আইএমইআই ডাটাবেজ তৈরি করেছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে স্থাপিত এই ডাটাবেজ গত ২২ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের আগে আইএমইআই ডাটাবেজে ২ কোটির বেশি ‘আইএমইআই  নম্বর’ ইনপুট দেওয়া হয়।


স্যামসাং ও শাওমি ফোনের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, অবৈধ পথে আসা মোবাইল ধরতে  সরকারের এই উদ্যোগের ফলে তাদের প্রায় ৪০ শতাংশ বিক্রি বেড়েছে। জানা গেছে, শাওমি মোবাইল অবৈধ পথেই দেশে বেশি আসছিল।
জানা যায়, ২০১৮ সালে ৩ কোটির বেশি মোবাইলফোন দেশে আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ২ কোটির বেশি নম্বর দেওয়া হয় ডাটাবেজে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৮ সালের আগের মোবাইলের (দোকানে অবিক্রীত ও ব্যবহার হওয়া) আইএমইআই নম্বর মোবাইল ফোন অপারেটররা নিজেরাই ডাটাবেজে ইনপুট দেবেন। তবে এ বছর দেশে আসা সব মোবাইলের আইএমইআই নম্বর ডাটাবেজে ইনপুট দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন খান বলেন, ‘আইএমইআই ডাটাবেজের কাজ সফলভাবেই হচ্ছে। এটিকে আরও গতিশীল করতে এ মাসেই বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা, স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। যেহেতু এটি একটি কারিগরি বিষয়, ফলে প্রশিক্ষণের পরই আরও অ্যাডভান্স কাজ শুরু হবে।’ তিনি আরও জানান, আইসিটি বিভাগের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)-এর ফাইলিং কার্যক্রমের মধ্যে আইএমইআই ডাটাবেজের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে এটাও একটা ইতিবাচক অন্তর্ভুক্তি বলে তিনি মনে করেন।  
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) যুগ্ম সম্পাদক ও স্যামসাং মোবাইলের অন্যতম পরিবশেক ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আইএমইআই ডাটাবেজ নিয়মিত আপডেট হচ্ছে। শিগগিরই আমার নতুন করে এর প্রচারণা চালাবো।’ গ্রে মার্কেটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রে মার্কেটের দৌরাত্ম কিছুটা কমেছে। স্যামসাংয়ের বিক্রি বেড়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, স্যামসাং মোবাইলের গ্রে মার্কেটে পণ্য আসা ৪০ শতাংশ কমেছে। সব আমদানিকারকের প্রায় একই অবস্থা বলে তিনি জানান। 

জানতে চাইলে শাওমি মোবাইল ফোনের ন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউটর সোলার ইলেকট্রো বাংলাদেশ লিমিটেডের (এসইবিএল) প্রধান নির্বাহী দেওয়ান কানন বলেন, ‘সরকারের এই ঘোষণায় কাজ হয়েছে। মোবাইল বিক্রি ৩০-৪০ ভাগ বেড়েছে। গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে যা অনেক কমে গিয়েছিল।’
দেওয়ান কানন আরও বলেন, ‘আইএমইআই ডাটাবেজ হওয়ায় গ্রে মার্কেটে মোবাইল আসা কমেছে। এই কারণে বাজারে বৈধ পথে আসা মোবাইলের বিক্রি বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো একদিন গ্রে মার্কেট মোবাইলশূন্য হয়ে যাবে।’
স্মার্টফোন মটোরোলার ডিস্ট্রিবিউটর স্মার্ট টেকনোলজিসের মোবাইল বিভাগের পরিচালক সাকিব আরাফাত জানান, তাদের মোবাইলের বিক্রি বাড়েনি। তবে বাজারে মোবাইল ফোনের বিক্রি বেড়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনিও আশাবাদী, নতুন করে দেশের বাজারে আসা মটোরোলারও বিক্রি বাড়বে। তিনি বলেন, ‘গ্রে মার্কেটে মোবাইল আসা বন্ধ হলে সেই সুফল বৈধভাবে দেশে আনার মোবাইলের আমদানিকারকরা উপকৃত হন।’

 

/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ