দুই বন্ধুর হাজার কোটি টাকার ‘সেবা’

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১৮:৫৮, মার্চ ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৩, মার্চ ২৭, ২০১৯

ইলমুল হক সজীব"সার্ভ উইথ লাভ"-মূলমন্ত্র নিয়ে দুই বন্ধু গড়ে তুলেছেন সেবাভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম। আদনান ইমতিয়াজ হালিম ও ইলমুল হক সজীবের গড়ে তোলা ‘সেবা ডট এক্সওয়াইজেড’ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় প্রায় সব সার্ভিস (সেবা) সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে। ইলেকট্রিশিয়ান, টিভি, ফ্রিজ মেরামতের টেকনিশিয়ানের খোঁজসহ ৮৬টির বেশি সার্ভিসের খোঁজ মিলবে সেবায়।

বাংলা ট্রিবিউন: উদ্যোক্তা হলেন কেন?

ইলমুল হক সজীব: আমরা ১৩ বছর করপোরেট জগতে কাজ করেছি। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি কোম্পানি যখন একটা ডেভেলপমেন্টের কাজ করছে তখন ‘এন্ড টু এন্ড’ কাজটি করতে পারছে না। সেখান থেকে মূলত ভাবনাটা আমাদের মাথায় আসে। দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি একটি সেক্টরকে (সার্ভিস সেক্টর) আরও দ্রুততা এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করার একটা প্রয়াস থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার প্রথম ইচ্ছাটা জাগে। একই সঙ্গে কেবল একজন উদ্যোক্তাই পারে তার নিজের কোনও আইডিয়া বাস্তবায়ন করে সমাজ এবং দেশের উন্নয়ন অংশীদার হতে। এই ভাবনা থেকেই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা

একটা সময় মনে হলো সমাজ এবং দেশকে কিছু একটা দেওয়ার সময় হয়েছে। অনেক চিন্তা এবং গবেষণার পর আমরা দেখতে পেলাম, দেশের "সার্ভিস" সেক্টরটি এখনও খুব একটা আধুনিক এবং উন্নত হয়ে উঠতে পারেনি। অবকাঠামোগত দিক থেকে এই সেক্টরটিকে আরও দৃঢ় এবং সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন থেকে আমরা আমাদের আইডিয়াটি নিয়ে কাজ করা শুরু করলাম, যার ফল আজকের এই সেবা ডট এক্সওয়াইজেড’র বিশাল প্ল্যাটফর্ম। 

বাংলা ট্রিবিউন: কীভাবে উদ্যোক্তা হলেন?

ইলমুল হক সজীব: আদনান ইমতিয়াজ হালিম আর আমি (ইলমুল হক সজীব) ইউনিভার্সিটি ফ্রেন্ড। আমরা এআইইউবি-তে (আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকসে একসঙ্গে পড়তাম। গ্র্যাজুয়েশন শেষে আমরা করপোরেট দুনিয়ায় মুভ করলাম। বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল প্রজেক্টে আমি ১৩ বছর কাজ করেছি। আদনানও সেরকমই। আমরা একসঙ্গে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট ডেলিভার করেছি ওই সময়ে। একটা সময় মনে হলো সমাজ এবং দেশকে কিছু একটা দেওয়ার সময় হয়েছে। অনেক চিন্তা এবং গবেষণার পর আমরা দেখতে পেলাম, দেশের "সার্ভিস" সেক্টরটি এখনও খুব একটা আধুনিক এবং উন্নত হয়ে উঠতে পারেনি। অবকাঠামোগত দিক থেকে এই সেক্টরটিকে আরও দৃঢ় এবং সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন থেকে আমরা আমাদের আইডিয়াটি নিয়ে কাজ করা শুরু করলাম, যার ফল আজকের এই সেবা ডট এক্সওয়াইজেড’র বিশাল প্ল্যাটফর্ম। ২০১৫ সালের একটি স্বপ্ন আজ দেশের বৃহত্তম অনলাইন সার্ভিস মার্কেট।

বাংলা ট্রিবিউন: সেবা ডট এক্সওয়াইজেড আসলে কি? সার্ভিসের বাংলা সেবা, সেই অর্থে?

ইলমুল হক সজীব: সেবা ডট এক্সওয়াইজেড এককথায় এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আপনার প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় প্রায় সব সার্ভিস সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে পাবেন। এই প্ল্যাটফর্মে থাকা সার্ভিস প্রোভাইডাররা শুধু নামে সার্ভিস দেয় না, বরং নিজে থেকে যত্নের সঙ্গে সার্ভিসটির জন্য প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে থাকে। কেননা, সেবা ডট এক্সওয়াইজেড’র মূলমন্ত্র "সার্ভ উইথ লাভ"

সেবা এক্সওয়াইজেড

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার ডোমেইনের নাম সেবা ডট এক্সওয়াইজেড। এটা কি বাংলাদেশের প্রথম এক্সওয়াইজেড?

ইলমুল হক সজীব: আমার মনে হয় এটা প্রথম এক্সওয়াইজেড। এজন্য এক্সওয়াইজেড থেকেও আমাদের মেইল করা হয়েছে যে তোমরা বাংলাদেশে এক্সওয়াইজেডকে অনেক জনপ্রিয় করেছো। এটা কেন নিয়ে আসা হয়েছে সেটা বলি- আমরা তো সার্ভিস দিই। ৮৬টিরও বেশি সেবা আছে আমাদের Sheba.xyz প্ল্যাটফর্মে, যা মূলত প্রতিদিনের বাড়ি কিংবা অফিসের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সার্ভিস সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান। এই সম্পূর্ণতাকে তুলে ধরতেই আমরা আমাদের ডোমেইনের শেষে যুক্ত করেছি এক্সওয়াইজেড।

রাতে হয়তো কাস্টমাররা খুব একটা কল দেন না। কিন্তু যারা দেন তাদের প্রয়োজনটা থাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই অসময়ে প্রয়োজনের সার্ভিসটি যেন আমরা দিতে পারি সেজন্যই আমাদের ২৪/৭ কল সেন্টার সাপোর্ট। 

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাদের সেবা দেওয়ার মাধ্যম কি? আপনারা কীভাবে সেবা দেন?

ইলমুল হক সজীব: আমরা ৩৬০ ডিগ্রি কাভার করেছি। কীভাবে? ফার্স্ট হচ্ছে, যারা অ্যাপ ইউজার তারা Sheba.xyz অ্যাপের মাধ্যমে আমাদের প্ল্যাটফর্মে থাকা সার্ভিসগুলো খুঁজে নিতে পারবেন। আপনি যে সার্ভিসটি খুঁজছেন সেই অনুযায়ী সার্ভিস বুক করলেই আপনার দেওয়া সময় এবং স্থানে পৌঁছে যাবে বিশ্বস্ত এবং দক্ষ সার্ভিস প্রোভাইডার। প্লে-স্টোর ও অ্যাপল স্টোর থেকে আমাদের অ্যাপ নামানো যাবে। যারা অ্যাপে অভ্যস্ত নন তারা আমাদের কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারবেন। ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়ার প্রয়াসেই আমাদের কল সেন্টার। রাতে হয়তো কাস্টমাররা খুব একটা কল দেন না। কিন্তু যারা দেন তাদের প্রয়োজনটা থাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অসময়ে প্রয়োজনের সার্ভিসটি যেন আমরা দিতে পারি সেজন্যই আমাদের ২৪/৭ কল সেন্টার সাপোর্ট। আমাদের আরেকটা ‘প্রোডাক্ট’ আছে। সেটা হলো ‘সেবা বন্ধু’। এটা হলো- ধরুন আপনি এলাকার যে কোনও একটি দোকানে গিয়ে বললেন আমাকে একটা টেকনিশিয়ান ডেকে দাও। তারা তখন ‘সেবা বন্ধু’ অ্যাপের মাধ্যমে আপনার প্রয়োজনীয় সার্ভিস প্রোভাইডারকে ডেকে দেবে। এটা মূলত রেফারেন্সভিত্তিক অ্যাপ। অর্থাৎ গ্রাহকরা অন্য কারও কাছে চাইবে। তারপর সেই তৃতীয়পক্ষ আমাদের রেফার করে দেবে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে এই অ্যাপ দিচ্ছি। কারণ, মানুষ কিছু হলে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ বেশি নেয়। এভাবে আমরা ৩৬০ কাভার করছি।

বাংলা ট্রিবিউন: ফোন এলো, গভীর রাতে একজনের বাসার কল ভেঙে গেছে, তখন কীভাবে সেবা দেওয়া হয়?

ইলমুল হক সজীব: তখন সার্ভিসটি যিনি চাইছেন তার বাসা থেকে নিকটস্থ একজন সার্ভিস প্রোভাইডারের সঙ্গে আমরা তার যোগাযোগ করিয়ে দিতে চেষ্টা করি। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি এখন সার্ভিস প্রোভাইডার (এই ঘটনার ক্ষেত্রে একজন প্লাম্বার) যেন সার্ভিসটি দিয়ে আসতে পারে। তবে রাতে সার্ভিসের চার্জ হয়তো একটু বেড়ে যেতে পারে। কেননা, রাতের সময় অন্য কোনও পরিবহন থাকে না বা থাকলেও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে কোনও রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করেই তাকে সার্ভিস চাওয়া গ্রাহকের বাড়িতে যেতে হবে। তারপরও আমরা এই সেবাটা দিতে চাই যেন তাদের আস্থাটা অর্জন করতে পারি। আমাদের কল সেন্টারের নম্বর হচ্ছে ১৬৫১৬। এখানে কল করে যে কেউ তাদের প্রয়োজনের কথা জানাতে পারবেন।

 বাংলা ট্রিবিউন: ৮৬টিরও বেশি সার্ভিস সেবা ডট এক্সওয়াইজেডর। সার্ভিস প্ল্যানটা করলেন কীভাবে?

ইলমুল হক সজীব: আমরা প্রথমে বেসিক সার্ভিস দিয়ে শুরু করেছি। বেসিক সার্ভিস কি ইলেকট্রিশিয়ান, টিভি, ফ্রিজ ঠিক করার সার্ভিস। আমরা যখন সেবা দেওয়া শুরু করলাম তখন গ্রাহকরাই আমাদের বলতে শুরু করলেন তারা কী ধরনের সার্ভিস আশা করে থাকেন। এগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সার্ভিস যোগ করছি আমাদের প্ল্যাটফর্মে। ভবিষ্যতেও চাহিদা অনুযায়ী আরও সেবা যুক্ত করা হবে। আমরা যখন ফুড সার্ভিস আনলাম তখন দেখেছি ফ্রোজেন ফুড খুব দরকার। তখন সেটা এনেছি। ড্রাইভার আনার সময় দেখলাম অন ডিমান্ড ড্রাইভার দরকার বেশি। তখন সেটাও এনেছি। ধরুন, আপনার ড্রাইভার ছুটিতে গেছে। আপনি কোথাও বিয়ে খেতে যাবেন, চার ঘণ্টার জন্য ড্রাইভার দরকার। আমরা সেটা সরবরাহ করছি।

বাংলা ট্রিবিউন: সেবা গ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় কীভাবে?

ইলমুল হক সজীব: আমাদের যারা সার্ভিস প্রোভাইডার তাদের চার-পাঁচভাবে ভেরিফিকেশন হয়। তাদের সব তথ্য উপাত্ত আমাদের কাছে আছে। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড সবকিছু আমাদের হাতে আছে। গ্রাহকরা অ্যাপের মাধ্যমেই জেনে নিতে পারবেন সেবা দিতে কে যাবে তার বাসায়। সেবা ডট এক্সওয়াইজেড-এ থাকা ভেরিফাইড, দক্ষ এবং নিরাপদ সার্ভিস প্রোভাইডারদের নিয়ে তাই চিন্তার কোনও অবকাশ নেই।

দুই বন্ধু। বাঁ থেকে ইলমুল হক সজীব ও আদনান ইমতিয়াজ হালিম

বাংলা ট্রিবিউন: উদ্যোক্তা হতে গেলে কি চাকরি করা জরুরি?

ইলমুল হক সজীব: এটা দুইদিক থেকে দেখা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ম্যাচিউরিটি। ব্যবসা করতে গেলে একজনকে সবকিছু জানতে হয়। আমি দেখি যদি ব্যবসা করতে হয় তাহলে সম্পূর্ণ ম্যাচিউরড হতে হবে। কারণ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার থাকতে হবে। এখানে তাকে চাকরি করতেই হবে ব্যাপারটা এরকম নয়। কাজ করলে ম্যাচিউরিটি গ্রো করে। আর যদি পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করে তাহলে কাজ না করলেও চলে। এখন অনেকেই কাজ না করে সরাসরি আসছে। কারণ, তারা নিজেদের সেভাবেই তৈরি করেছে।

বাংলা ট্রিবিউন: সেবা ডট এক্সওয়াইজেডর এই বাজারটা আপনারা কীভাবে তৈরি করলেন?

ইলমুল হক সজীব: আমরা সার্ভিসটাকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করেছি। এজন্য আমরা শুরুতেই অটোমেশনে যাইনি। তখন ম্যানুয়ালি কাজ করা হতো। আমরা আস্তে আস্তে এটাকে অটোমেশন করেছি। যেমন ধরুন, কোনও গ্রাহক আমাদের ফোন দিয়ে বললো কাল দুপুর ১২টায় টেকনিশিয়ান লাগবে। আমরা অর্ডার পেয়েই টেকনিশিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাকে বলেছি ১২টায় এই ঠিকানায় যেতে হবে। পরদিন আবার গ্রাহককে ফোন দিয়ে বলেছি টেকনিশিয়ান যাচ্ছে। কাজ শেষে আবার গ্রাহকের সঙ্গে কথা হয়েছে কাজ ঠিক আছে কিনা। এভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি এগিয়েছে। কোনও গ্রাহকের এখানে নির্দিষ্ট কাজ শেষ করে আসার পর যদি একই সমস্যা আবার দেখা দেয় তাহলে আমরা ৭ দিনের মধ্যে বিনামূল্যে সেটা ঠিক করে দিয়েছি। এভাবে গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করেছি। আমাদের সেবায় আগে পরে কিছু কাজ আছে। যেমন- সময় মতো যাওয়া, কোন কারণে কত টাকা খরচ হবে তা আগেই নির্ধারণ করে ফেলা, সার্ভিস দেওয়ার ৭ দিনের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছি আমরা।

বাংলা ট্রিবিউন: সেবার ‘বিজনেস চ্যালেঞ্জ’টা কি?

ইলমুল হক সজীব: বিজনেস চ্যালেঞ্জগুলোকে যদি আমরা কয়েকটা ভাগে ভাগ করি তাহলে প্রথম যেটা হলো প্রোডাক্ট রেডি করা। প্রোডাক্টটা ভালোভাবে মার্কেটে দেওয়া, যেহেতু এটা মার্কেটে নেই। দ্বিতীয় হলো- মার্কেট অ্যাওয়ারনেস। এর কারণ হলো- মানুষ যদি না জানে তাহলে তো কিছুই হবে না। মানুষকে হেল্প করছি এটা জানাতে হবে। এগুলোর সমাধান হলো- ফান্ড। যারা সার্ভিস প্রোভাইডার তাদের রেডি করাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এদের আমরা তৈরি করেছি অনলাইন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে। অর্থাৎ সেবা-তে যারা সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে নিবন্ধিত হতে চায় তাদের শুরুতে কিছু ট্রেনিং নিতে হবে। আমাদের দুটো ট্রেনিং আছে। ‘কমপ্লিট বিহেভিয়ার ট্রেনিং’ এবং ‘কমপ্লিট সিস্টেম ট্রেনিং’। বিহেভিয়ার ট্রেনিংয়ে শেখানো হয় গ্রাহকদের সঙ্গে ফোনে কীভাবে কথা বলবে, বাসায় গিয়ে কলিংবেল কীভাবে চাপবে এসব। এরপর তাদের এ বিষয়ে কুইজ হয় ভিডিওর মাধ্যমে। কুইজে পাস করলেই কেবল নিবন্ধনের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন তারা।

আমরা যখন সেবা দেওয়া শুরু করলাম তখন গ্রাহকরাই আমাদের বলতে শুরু করলেন তারা কী ধরনের সার্ভিস আশা করে থাকেন। এগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সার্ভিস যোগ করছি আমাদের প্ল্যাটফর্মে। ভবিষ্যতেও চাহিদা অনুযায়ী আরও সেবা যুক্ত করা হবে। আমরা যখন ফুড সার্ভিস আনলাম তখন দেখেছি ফ্রোজেন ফুড খুব দরকার। তখন সেটা এনেছি। ড্রাইভার আনার সময় দেখলাম অন ডিমান্ড ড্রাইভার দরকার বেশি। তখন সেটাও এনেছি। ধরুন, আপনার ড্রাইভার ছুটিতে গেছে। আপনি কোথাও বিয়ে খেতে যাবেন, চার ঘণ্টার জন্য ড্রাইভার দরকার। আমরা সেটা সরবরাহ করছি।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনেকেই আজ সফল উদ্যোক্তা। এটা কীভাবে সম্ভব হলো?

ইলমুল হক সজীব: আমাদের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে সফল হয়েছে তার কিছু উদাহরণ দিই। ২০১৫ সাল থেকে কাউসার একটা প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কল ঠিক করতেন তিনি। তখন তার মাসে আয় ছিল ১০-১৫ হাজার টাকা। এভাবে তিনি এক বছর কাজ করার পরে ভাবলেন নিজে উদ্যোক্তা হবেন। তখনই তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান চালু করেন। কিন্তু তার ব্যবসা ঠিকমতো চালাতে পারছিলেন না। তখন তিনি খোঁজ পান আমাদের প্লাটফর্ম’র। আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এখন কাউসার এন্টারপ্রাইজের রিসোর্স আছে প্রায় ৩৬ জন। তিনি প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০টি অর্ডার ‘হ্যান্ডেল’ করেন। তার মাসিক আয় এখন এক লাখ টাকার মতো।

এক্সপ্রেস সলিউশন নামের একটা কোম্পানি আছে। এর মালিকের নাম আশিকুল আলম। আশিকুল আলম আগে ছিলেন একজন ড্রাইভার। এরপর তিনি চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশের প্রথম অন-ডিমান্ড ড্রাইভার কোম্পানি এক্সপ্রেস সলিউশন চালু করেন। ড্রাইভার থাকাকালে তার মাসিক আয় ছিল প্রায় ২২ হাজার টাকার মতো। এরপর এই কোম্পানি চালু এবং রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা শুরু করার পর যোগ দেন সেবা ডট এক্সওয়াইজেড প্ল্যাটফর্মে। এখন তার মাসিক আয় প্রায় ২ লাখ টাকার কাছাকাছি। তার অধীনে প্রায় ১৫ জন ড্রাইভার আছে। এরকম প্রতিটা সেক্টরে সাকসেস স্টোরি আছে, যারা একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেও সেবা ডট এক্সওয়াইজেড মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন।

ভবিষ্যতে নরমাল প্রোডাক্ট বলে কিছু থাকবে না। সব হবে সার্ভিস। একজন মানুষের যা কিছু প্রয়োজন সবকিছুই মূলত সার্ভিস। আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) আসছে। কয়েকদিন পর হয়তো এমন দিন আসবে যখন আপনার একটি সার্ভিস প্রয়োজন পড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছে তার চাহিদা পৌঁছে যাবে। ভবিষ্যতের এমন একটি দিনের জন্যই প্রস্তুত হচ্ছে সেবা ডট এক্সওয়াইজেড।

বাংলা ট্রিবিউন: দেশে এই সার্ভিস মার্কেটের আকারটা কত বড়?

ইলমুল হক সজীব: এই সার্ভিস মার্কেটের সাইজ অনেক বড়। বিলিয়ন ডলারের থেকেও বেশি। কয়েক বিলিয়ন ডলার। আমরা বিষয়টা যেভাবে দেখি, ভবিষ্যতে নরমাল প্রোডাক্ট বলে কিছু থাকবে না। সব হবে সার্ভিস। একজন মানুষের যা কিছু প্রয়োজন সবকিছুই মূলত সার্ভিস। আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) আসছে। কয়েকদিন পর হয়তো এমন দিন আসবে যখন আপনার একটি সার্ভিস প্রয়োজন পড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছে তার চাহিদা পৌঁছে যাবে। ভবিষ্যতের এমন একটি দিনের জন্যই প্রস্তুত হচ্ছে সেবা ডট এক্সওয়াইজেড

বাংলা ট্রিবিউন: ভবিষ্যতে সেবা ডট এক্সওয়াইজেড’কে কোথায় দেখতে চান বা আপনাদের পরিকল্পনা জানতে চাই।

ইলমুল হক সজীব: বাংলাদেশের একটা প্রোডাক্ট (ঢাকাতে শুরু হওয়া) সারা বিশ্বে যাবে। বিশ্বের সব দেশ তাদের নিজেদের সুবিধার জন্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ তাদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে সেবা ব্যবহার করবে। সেবাকে আমরা পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দেখি। আপনার যে পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আছে সে কিন্তু সব কাজ পারে না কিন্তু জানে কীভাবে সব কাজ করাতে হয়। সেবা ডট এক্সওয়াইজেডও হবে সেরকম।

বাংলা ট্রিবিউন: দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা আছে?

ইলমুল হক সজীব: অবশ্যই। আমরা এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এ বছরের শেষের দিকে একটা ভালো সংবাদ দিতে পারবো হয়তো। আমরা শুরুতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কাজ করছি। তারপর আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগোবো।

বাংলা ট্রিবিউন: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ইলমুল হক সজীব: বাংলা ট্রিবিউনকে শুভেচ্ছা।

শ্রুতি লিখন: আসির আহবাব নির্ঝর

 

/এইচএএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ