হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: সিকিউরড কোনও অ্যাপ সত্যিই আছে কি?

Send
আসির আহবাব নির্ঝর
প্রকাশিত : ২০:৫৭, মে ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৮, মে ১৭, ২০১৯

হোয়াটসঅ্যাপহোয়াটসঅ্যাপের একটি ত্রুটি পেয়ে তা দিয়ে বিভিন্ন স্মার্টফোনে স্পাইওয়্যার স্থাপন করে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সব তথ্য ওই প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেছে। হোয়াটসঅ্যাপও এরইমধ্যে বিষয়টি স্বীকার করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ হোয়াটসঅ্যাপের কল ফাংশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের স্মার্টফোনে স্পাইওয়্যার স্থাপন করে। মূলত এর সাহায্যেই তথ্য চুরি করে তারা। আর এটি নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। যদিও হোয়াটসঅ্যাপের সব গ্রাহক হ্যাকিংয়ের শিকার হননি, তারপরও বিষয়টি সবার মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
অবশ্য এই সমস্যা থেকে বাঁচতে এরইমধ্যে প্রাথমিক একটি সমাধান দিয়েছেন হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছেন হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ ভার্সনটি ব্যবহার করতে। একইসঙ্গে স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেমের আপডেটেড ভার্সন ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে এখন যা ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে তা হলো, হোয়াটসঅ্যাপকে ভাবা হতো সবচেয়ে নিরাপদ অ্যাপ। এটার ‘এন্ড টু এন্ড’ এনক্রিপশন ছিল। অর্থাৎ প্রেরক এবং প্রাপক ছাড়া আর কেউই হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য পাওয়ার কথা না। অথচ তারপরও তথ্য চুরি হলো। তাহলে কি সত্যিই কোনও সিকিউরড অ্যাপ নেই?
বিশ্লেষকরা বলছেন, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে মেসেজ পাঠানোর পর প্রেরকের কাছ থেকে এই মেসেজ চুরি করা সম্ভব নয়। তবে প্রাপকের কাছ থেকে সেটি করা যেতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য হ্যাকের পর অনেকে এনক্রিপশনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ বলছেন এটা ভুয়া জিনিস।

বিশেষ করে গত মঙ্গলবার ব্লুমবার্গে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী লেখায় হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপশনকে ‘অকার্যকর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যদিও এ বিষয়টি মানতে নারাজ সাইবার বিশ্লেষকরা। বিষয়টি সম্পর্কে সাইবার বিশ্লেষক ড. জেসিকা বার্কার বলেন, আমি মনে করি না এটা অকার্যকর। কারণ, এতে খুব কমই সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি আরও বলেন, এনক্রিপশন খুব ভালো একটা ফিচার। বেশিরভাগ সময়ই এটা আমাদের সুরক্ষিত করে। ‘এন্ড টু এন্ড’ এনক্রিপশন হ্যাকারদের জন্য তথ্য চুরি করার বিষয়টি অনেক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।

হোয়াটসঅ্যাপে হ্যাকের ঘটনাটি শোনার পর থেকে অনেকে ভাবছেন আর হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করবেন কিনা। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে যদি আপনি অন্য অ্যাপে যান তাহলে ওই অ্যাপও আপনাকে তথ্য চুরি না হওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। বরং হোয়াটসঅ্যাপ এখন আগের চেয়েও নিরাপদ হবে। বিশেষ করে হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার পর নিরাপত্তার জন্য আরও ভালো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তারা।

প্রকৃতপক্ষে তত্ত্বগত দিক থেকে যেকোনও ডিভাইস বা সেবা-ই হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারে। তবে অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক কিংবা প্রতিষ্ঠান অতি উচ্ছ্বাসের কারণে নিজেদের ‘আনহ্যাকেবল’ (যা হ্যাক করা যায় না) ঘোষণা করে। মূলত এ কারণেই সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য বাস্তবে সব ডিভাইস ও সেবা হ্যাক করা যায়- এই কথাটি সবসময় মাথায় রাখতে হবে। তাহলে সমস্যা কিছুটা কমবে।

অবশ্য হ্যাকারদের জন্য হ্যাকিংয়ের পথ আরও কঠিন করতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। বিশ্লেষকদের দেওয়া তেমন কয়েকটি পরামর্শ হলো-

  • অ্যাপ এবং অপারেটিং সিস্টেমের সিকিউরিটি আপডেট রাখতে হবে
  • প্রতিটি অ্যাপ ও সেবার জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে
  • যেখানে সম্ভব সেখানেই টু-স্টেপ অথেনটিকেশন ব্যবহার নিশ্চিত করুন
  • কি অ্যাপ ডাউনলোড করলেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন
  • আপনার কাছে পরিচিত নয় এমন কোনও লিংক বা মেইলে ক্লিক করবেন না।

সূত্র: বিবিসি 

/এইচএএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ