মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: মোস্তাফা জব্বার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:০১, মে ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১১, মে ১৮, ২০১৯





ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, সাম্প্রতিকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো আসলে প্রযুক্তিকে ঠেকিয়ে রাখার একধরনের অপচেষ্টা।
শনিবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘সাম্প্রতিক কালে আমরা বিভ্রান্তি ছড়াতে দেখিছি। অনেকে ক্ষেত্রে বলার চেষ্টা করা হয়েছে, মোবাইল ফোন ব্যবহারে নাকি স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। মোবাইল ফোনের টাওয়ারে নাকি বনজঙ্গল ধ্বংস হয়ে যাবে, পাখি নাকি ডিম ফোটাবে না। ৫-জি নিয়েও বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছাড়ানো হচ্ছে। আমি অনুরোধ করবো বিভ্রান্তি দূর করতে। এগুলো আসলে প্রযুক্তিকে ঠেকিয়ে রাখার একধরনের অপচেষ্টা।’
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, ‘লাউয়াছড়াতে যখন টেলিটকের একটি টাওয়ার তৈরি করতে বাধা দেওয়া হয়, তখন বিটিআরসির কাছে জানতে চেয়েছি, আমাকে প্রকৃতি চিত্রটা দেখান যে আসলে মানুষ বা বন্যপ্রাণী কিংবা পরিবেশের কোনও ক্ষতি হয় কিনা। আমি দেখেছি, পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে টাওয়ারের রেডিয়েশন মিনিমাম স্টান্ডার্ড ২ দশমিক ৭৮, আর আমাদের দেশে টাওয়ারের বিকিরণের মাত্রা দশমিক ৫-এর বেশি নয়। অথচ আমাদের ঠেকানো হয়, যাতে প্রযুক্তি প্রসার ঘটাতে না পারি। আমি আশা করি, জীববৈচিত্র, প্রাণিকুল রক্ষা করবো, কিন্তু বিভ্রান্তি যেন ছড়ানো না হয়। মানুষের ক্ষতির হওয়ার বিষয় যদি থাকতো তাহলে সারাপৃথিবীতে মোবাইল প্রযুক্তি দিকে যেতো না।’ ইতোমধ্যে ইউকে-তে ভোডাফোন ৫-জি চালু করে দিয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ২০২১-২৩ সালের মধ্যে দেশে ৫-জি’র যাত্রা শুরু হবে।
তিনি বলেন, ‘বার্সেলোনা বা সুজাইরল্যান্ডসে প্রেজেন্ট করেছি তখন বহু দেশের মন্ত্রীরা এসে খুঁজে বেড়িয়েছেন, বলেছেন, বাংলাদেশের মন্ত্রী কই? খুব স্পষ্ট বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ গত ১০ বছরে যে জায়গাগুলোতে যে ধরনের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে পৃথিবীর অনেক দেশ তার ধারেকাছেও যেতে পারেনি।’
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, টেলিকম খাতে গুণগতমান নিশ্চিত করতে প্রতিবছর থার্ড পার্টির মাধ্যমে টেকনিক্যাল হওয়া জরুরি। ইন্টানেটের ইতিবাচক ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সচেতনতা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিগত ১০ বছরে ইন্টারনেট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে সরকার। আগামীতে সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখতে এ ক্ষেত্রে গুণগতমান নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ‘দ্য স্টার্ন্ডাডাইজেশন অব ফাইভ-জি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হুয়াওয়ে টেকনোলজিস বাংলাদেশ লিমিটেড-এর চিফ টেকনোলজি অফিসার ওয়াং শিউ জেরি। ‘প্রসপেক্টস অব আইএসপি ইন্ড্রাস্টি ইন ফাইভ-জি রিজিমি’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম।
অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ডাক অধিদফতরের বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে প্রকাশিত দশ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন। এ উপলক্ষে দশ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডেটা কার্ড এবং একটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে মন্ত্রী সনদ বিতরণ করেন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাংযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস প্রমুখ। 

/সিএ/এইচআই/

লাইভ

টপ