মোবাইল সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় স্বয়ং বিটিআরসি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫৫, জুন ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৩, জুন ১৩, ২০১৯





টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা—বিটিআরসির কার্যক্রম সম্পর্কিত গণশুনানিতে সংস্থার কর্মকর্তারাই মোবাইল ফোনের সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন। বুধবার (১২ জুন) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত গণশুনানিতে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তারা এ অসন্তুষ্টির কথা জানান।
কর্মকর্তারা বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্টু নই। আমরা বিরক্ত। সেবা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে।’
শুনানিতে বিটিআরসিকে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা হয়। বলা হয়, কমিশন নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় না থেকে অপারেটরগুলোকে সুবিধা দিচ্ছে। অন্যদিকে কমিশনের পক্ষ থেকে মোবাইল সেবাকেন্দ্রিক সমস্যাগুলো কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে এবং সেগুলো সমাধানের চেষ্টাও থাকবে বলেও জানানো হয়।
বিটিআরসি আয়োজিত এ গণশুনানিতে ১৬৫ জনকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। শুনানি চলে প্রায় তিন ঘণ্টা।

গণশুনানিতে নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৭ জন প্রশ্ন করেন। এছাড়া ফ্লোর ওপেন করে দেওয়ায় ৫ জন প্রশ্ন করার সুযোগ পান। সব মিলিয়ে প্রশ্ন আসে ৩০ থেকে ৩৫টি। একজনকে সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়।

একজন নারী গ্রাহক বলেন, একটি ওয়াইম্যাক্স অপারেটর তার লাইন বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু ওই সংযোগে ৪৫-৫০ হাজার টাকার মতো ব্যালান্স ছিল। এ নিয়ে ওয়াইম্যাক্স অপারেটরে অভিযোগ করে তিনি সমাধান পাননি। বিটিআরসিতে অভিযোগ করেও কিছু হয়নি। তিনি জানতে চান, কোথায় গেলে তিনি সুরাহা পাবেন? বিটিআরসি চেয়ারম্যান তাকে আবারও আবেদন করতে বলে আশ্বাস দেন, এবার দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

নিবন্ধন নম্বর ১৩-এর বিপরীতে একজন গ্রাহক জানতে চান, সরকারি চাকরির আবেদনের টাকা কেন শুধু টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে দিতে হবে? এই প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি থেকে বলা হয়, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে উত্তর দেওয়া হবে।
মাফি ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে তিনি অনলাইনে তার গ্রামীণফোনের সিম রিপ্লেসমেন্টের অর্ডার দেন। এজন্য তিনি ১৯০ টাকা ফিও দিয়েছেন। আজ পর্যন্ত তিনি সিম পাননি। কোথায় গেলে সিম পাওয়া যাবে জানতে চাইলে বিটিআরসিতে তাকে অভিযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

আতাউর রহমান নামের এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ জানায়, রেডিয়েশনের যে ফল পাওয়া গেছে তা আন্তর্জাতিক মানের নিচে আছে। ফলে টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, কমিশনার (স্পেকট্রাম) মো. আমিনুল হাসান, কমিশনার (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. রেজাউল কাদের, কমিশনার (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস) প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ এবং কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাপরিচালকরা নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, ‘আমরা সমস্যাগুলো শুনলাম। সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে খাত যত এগিয়ে যাবে সে খাতে সমস্যাও থাকবে। এসব প্রযুক্তিগত সমস্যা। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। কেয়ামত পর্যন্ত এই খাতে সমস্যা থাকবে। সমাধানের চেষ্টাও থাকবে।’
বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান, গণশুনানিতে যেসব প্রশ্ন এসেছে সেসবের উত্তর শিগগিরই কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। আর যেসব অভিযোগ এসেছে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। বিটিআরসির কলসেন্টার এখন থেকে ৩৬৫ দিনই ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, ভোক্তা অধিকার সংঘ, মোবাইলফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ মে থেকে ৩ জুন বিটিআরসির ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের মাধ্যমে ২০২ জন গ্রাহক ১ হাজার ৩১৯টি প্রশ্ন, অভিযোগ ও মতামত কমিশনকে জানান। পরে যাচাই-বাছাই করে ১৬৫ জনকে শুনানিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
মোবাইল অপারেটরগুলোর কলড্রপ ও বিভিন্ন প্যাকেজ (ভয়েস, ডাটা বান্ডল) ও এর মূল্য সম্পর্কে অভিযোগ ছাড়াও বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন, সাইবার অপরাধ, মোবাইলফোনে হুমকি, ফেসবুক ব্যবহারে নিরাপত্তা, সচেতনতা, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, ফাইভ-জি, মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি, মোবাইল অপারেটরদের কলসেন্টারের মাধ্যমে সেবাসংক্রান্ত বিষয় প্রশ্নের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

/এইচএএইচ/এইচআই/

লাইভ

টপ