ই-কমার্সে পাঁচ বছর ভ্যাট আরোপ না করার দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:০৩, জুন ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০৪, জুন ২৪, ২০১৯





গোলটেবিল বৈঠকআগামী ৫ বছর ই-কমার্সে কোনও ধরনের কর আরোপের বিপক্ষে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, এখন এই খাতের প্রতি মানুষকে আগ্রহী করে তোলার সময়। এখনই ই-কমার্স কেনাকাটা ও সেবা গ্রহণে কোনও ধরনের ভ্যাট বা অন্যান্য কর আরোপ করা হলে ক্রেতার খরচ বেড়ে যাবে। ফলে তারা অনলাইন বিমুখ হবে। এ কারণে অন্তত ৫ বছর এই খাতে ভ্যাট আরোপের বিপক্ষে তারা। রবিবার (২৩ জুন) রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ই-কমার্স সংগঠন, ব্যবসায়ী, মার্কেটপ্লেস, অনলাইনে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা এই দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেট ঘোষণায় ই-কমার্স ও সেবাপণ্যের কেনাকাটায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাটের প্রস্তাব করেছেন। গত অর্থবছরে অনলাইন ব্যবসায় তথা ই-কমার্সে পাঁচ শতাংশ ভ্যাট প্রস্তাব করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠন, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্যোগের ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিষয়টি ছাপার ভুল বলে উল্লেখ করে এবং বাজেট পাসের সময় ওই ভ্যাট বাদ দেয়। এরও আগে একবার ই-কমার্সে চার শতাংশ ভ্যাটের প্রস্তাব করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের আপত্তির মুখে সেবারও তা পাস হয়নি।

অনুষ্ঠানে বেসিস ই-কমার্স স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ কামাল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দাবি ৫ বছরের জন্য ভ্যাট মওকুফ করা হোক। যদি সম্ভব না হয় তাহলে ঠিক করে দেওয়া হোক, কতদিনের জন্য ভ্যাট মওকুফ করা হলো। তাহলে আমাদের একটা প্রস্তুতি থাকবে। আমরা বাজার সেভাবে তৈরি করবো।’

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আজকেরডিলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাসরুর বলেন, ‘ই-কমার্স হলো একটা ইকোসিস্টেম। এখানে ক্রেতা তৈরি করতেই ৫-১০ বছর চলে যায়। আমাদের ক্রেতারা কেবল তৈরি হচ্ছেন। এখনই ভ্যাট আরোপ করা হলে তা এই খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।’ তিনি বলেন, ‘দেশ বর্তমানে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার ক্রেতা অনলাইনে কেনাকাটা করছেন। এই বাজারের আকার মাত্র হাজার কোটি টাকার। ই-কমার্স কেনাকাটায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলে এই খাত থেকে সরকার মাত্র ৭৫ কোটি টাকা আয় করতে পারবে।’ কিন্তু তা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।

সহজ ডট কমের প্রধান নির্বাহী মালিহা এম কাদির বলেন, ‘এই খাতের বিকাশে আমরা ব্যাংক ঋণ পাই না। দেশের বাইরে থেকে আমাদের বিনিয়োগ আনতে হয়। আমরা বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক কথা বলে, তথ্য দিয়ে বিনিয়োগ নিয়ে আসি। ভ্যাট আরোপের কথা শুনলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে উৎসাহ হারাবে।’ তিনি বলেন, ‘আগামী ৫ বছর এই খাত ভ্যাটমুক্ত থাকা উচিত।’

বই বিষয়ক ই-কমার্স সাইট রকমারিডটকমের প্রধান নির্বাহী মাহমুদুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘এই খাত থেকে সরকার বড় কিছু পেতে চাইলে এখনই নয়, আরও ৫ বছর এই খাত ভ্যাটমুক্ত রাখা উচিত।’

চালডালডটকমের প্রধান পরিচলন কর্মকর্তা জিয়া আশরাফ বলেন, ‘ভ্যাট আরোপ করা হলে এই খাতের গতি কমে যাবে।’ তিনি ভ্যাট আরোপের আগে বাজার বড় এবং ক্রেতার সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ চান।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘ই-কমার্সকে আমরা খাত বলছি কিন্তু আসলে এই নামে এখনও কোনও খাত নেই। আমরা সম্ভাবনার কথা বলে এটিকে খাত হিসেবে চিহ্নিত করছি। এখনও আমাদের আইটি বা আইটিইএস কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ই-কমার্স ব্যবসায় করতে হচ্ছে। তবে আমরা এটিকে খাত হিসেবে চিহ্নিত করাতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রিয়শপডটকমের প্রধান নির্বাহী আশিকুল আলম খান। তিনি অনলাইন পণ্য ও সেবা বিক্রয়কে আলাদা সার্ভিস হিসেবে বিবেচনা এবং নতুন সেবা কোড বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান।

/এইচএএইচ/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ