১৫ কোটি মানুষের নাম ও ছবি সংগ্রহ করেছে ফেসঅ্যাপ

Send
আসির আহবাব নির্ঝর
প্রকাশিত : ১৮:৪০, জুলাই ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৪, জুলাই ১৮, ২০১৯

ফেসঅ্যাপের জোয়ারবাংলাদেশে কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে শুধু বুড়ো মানুষের ছবি দেখা যাচ্ছে। আসলে এরা সবাই বুড়ো নয়, একটি অ্যাপের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় বুড়ো হয়েছেন তারা। দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই অ্যাপটির নাম ফেসঅ্যাপ। এরইমধ্যে অনেকেই জেনে কিংবা কেউ কেউ না জেনেও ফেসঅ্যাপ ব্যবহার করেছেন।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই ফেসঅ্যাপের ছোঁয়া লেগেছে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের বুড়ো হওয়ার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন। বর্তমান এই যুগে যেকোনও অ্যাপ ব্যবহারই বিপজ্জনক। যেখানে ফেসবুকই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণে বারবার সমালোচিত হচ্ছে সেখানে অন্য অ্যাপ তো সামান্য বিষয়। এটা জেনেও নিজের বুড়ো চেহারা দেখার ‘লোভে’ ফেসঅ্যাপে ঢুঁ মেরেছেন অনেকেই।
যেকোনও অ্যাপ ব্যবহারেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফেসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও ছিল। শুরু থেকেই অনেক প্রযুক্তি বিশ্লেষক বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তবে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করলেন তারা।
মার্কিন প্রভাবশালী বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস এক প্রতিবেদনে জানায়, ভাইরাল হওয়া ফেসঅ্যাপ মানুষকে তাদের মুখভঙ্গি পরিবর্তন এবং বয়স বাড়িয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। বিনিময়ে মানুষ ফেসঅ্যাপকে দিয়েছে তাদের নাম এবং ছবি ব্যবহারের ক্ষমতা। অর্থাৎ ফেসঅ্যাপ এখন চাইলেই যেকোনও কাজে এসব নাম এবং ছবি ব্যবহার করতে পারে।
হিসাব বলছে, গুগল প্লে-স্টোর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ কোটিরও বেশিবার ফেসঅ্যাপটি ডাউনলোড হয়েছে। আর ১২১টি দেশে থাকা আইওএস অ্যাপ স্টোরে বর্তমানে শীর্ষে থাকা অ্যাপ হলো ফেসঅ্যাপ। এসব হিসাবই বুঝিয়ে দিচ্ছে মানুষ এই অ্যাপের প্রতি কতটা ঝুঁকেছেন।
প্রতিটি অ্যাপেরই কিছু ব্যবহারবিধি এবং শর্ত (টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস) থাকে। বেশিরভাগ অ্যাপের ক্ষেত্রে আমরা সেগুলো না পড়েই সম্মতি (আই এগ্রি) দিয়ে দিই। ফেসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও হয়তো অনেকেই না পড়ে সম্মতি দিয়েছেন। কিন্তু তারা কি জানেন এই অ্যাপের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনসে কী লেখা আছে?
এটা জানলে এখন হয়তো আপনি হতাশ হয়ে পড়বেন। তাদের সেই নীতিতে লেখা আছে, ফেসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য শর্তহীনভাবে আজীবনের জন্য যেকোনও কাজে ব্যবহার করতে পারবে। এমনকি যে কারও সামনে এগুলো উপস্থাপন করা হতে পারে।
যারা ফেসঅ্যাপ এরইমধ্যে ব্যবহার করেছেন তারা এই কথাগুলোতে সম্মতি দিয়েই করেছেন। সময় যত যাবে প্রযুক্তি ততই এগোবে। একসময় হয়তো আপনার ছবি দিয়েই বিভিন্ন সেবা কিংবা অর্থ লেনদেন করা যাবে। আমরা তো স্মার্টফোনে এখনই ফেসলক ব্যবহার করছি। এবার ভাবুন, ফেসঅ্যাপ ব্যবহার করা ঠিক হলো কিনা।

 

/এইচএএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ