রোহিঙ্গাদের মোবাইল সিম দিতে ‘কৌশলী’ হচ্ছে সরকার

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১০:০০, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৯, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

রোহিঙ্গা সমাবেশ, ছবি: বিবিসি

রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। এরইমধ্যে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ে থ্রি-জি ও ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা হচ্ছে। অবৈধ মোবাইল সংযোগও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার সরকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় তাদেরকে মোবাইল সিম দেওয়ার বিষয়ে ‘কৌশলী’ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। তবে কী সেই পদক্ষেপ, তা নির্ভর করছে ওই এলাকায় পাঠানো বিটিআরসির প্রতিনিধি দলের দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর।
জানা গেছে, অনেক রোহিঙ্গারই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রয়েছে। বিভিন্ন উপায়ে তারা এনআইডি সংগ্রহ করেছে। সেসব দিয়েও অনেকে মোবাইল সিম সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করছে। এনআইডি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৫টি সিম কিনতে পারবে। ফলে তাদের মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করাও সম্ভব নয়। তবে বিটিআরসি চিহ্নিত অবৈধ সিম বন্ধ করে এনআইডি ব্যবহারকারীদের কীভাবে এবং জনপ্রতি কতটি সিম দেওয়া হবে, তা এখন অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। এ কারণে সিম দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার ‘কৌশলী’ উদ্যোগই নেওয়া হবে।     

জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কী উপায়ে সিম দেওয়া হবে, তা ভেবে দেখা হবে। এ ব্যাপারে কৌশল অবলম্বন করা হতে পারে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে উচ্চপর্যায়ের কমিটি যে প্রতিবেদন দেবে, সেই আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি জানান, ক্যাম্পগুলোতে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করে। এর মধ্যে ঠিক কতজন সংযোগসহ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, সে বিষয়ে পরিপূর্ণ কোনও তথ্য না থাকলেও সংখ্যাটি যে বেশ বড় তা বোঝা যাচ্ছে।

জহুরুল হক বলেন, ‘অবৈধ সিম চিহ্নিত করে মোবাইল ফোন অপারেটররা বন্ধ করে দেবে।’ এ বিষয়ে দেশের সব মোবাইল অপারেটর কমিশনকে সহযোগিতা করছে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক রোহিঙ্গার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রয়েছে। এটা বাস্তবতা। যাদের এনআইডি আছে, তারা সিম নিতে পারে। একজন একটা এনআইডি দিয়ে ১৫টি সিম কিনতে পারে। দেখা গেলো, তারা একটি সিম কিনছে ১০০ টাকা দিয়ে, আর সেটা বিক্রি করে দিচ্ছে ১৫০০ টাকায়। এভাবে তারা আয়ও করছে। এটা তো উদ্বেগের কথা। এটা বন্ধ করতে হবে।’

কমিশন চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় একটি এনআইডি দিয়ে পাঁচটি সিম দেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম। কিন্তু তাতেও অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে। ফলে আমাদের এখন এ বিষয়ে কৌশল নিতে হবে।’ মো. জহুরুল হক বলেন, ‘আমরা সেখানে মোবাইল সিম দেবো, কিন্তু কৌশল অবলম্বন করে। কৌশল আমাদের নিতেই হবে, যাতে সব পক্ষই যার যার অবস্থানে ঠিক থাকে।’

প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় বিকাল ৫টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত মোবাইল নেটওয়ার্কে থ্রি-জি ও ফোর-জি বন্ধ থাকছে। এই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় থ্রি-জি ও ফোর-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায় না। এ সময় টু-জি ব্যবহার করা যায়, যা শুধুমাত্র ভয়েস কল করার উপযোগী। যদিও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় উল্লিখিত সময় ছাড়া অন্য সময়ে টু-জি, থ্রি-জি ও ফোর-জি ব্যবহার করা যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় মোবাইল সিম বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে অসংখ্য মোবাইল ব্যবহার হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ওইসব সিম অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সিম বিক্রি বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি।    

এদিকে, বিটিআরসির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত প্রতিনিধি দলের ক্যাম্পে ক্যাম্পে গিয়ে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার কথা। প্রতিনিধি দলে বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (কারিগরি সদস্য) ও মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তারা ক্যাম্প এলাকায় থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ থাকছে কিনা, সিম বিক্রি বন্ধ হয়েছে কিনা—তা পরীক্ষা করে দেখছেন। এছাড়া, রোহিঙ্গারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে কী ধরনের কাজ করছে, তাও খোঁজ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেছেন, ওই এলাকায় (টেকনাফ ও উখিয়া থানা) থ্রি-জি ও ফোর-জি বন্ধ করা হলে স্থানীয় অধিবাসীদের কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখবেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। ইন্টারনেট ব্যবহারে স্থানীয়দের কোনও সমস্যা হলে ক্যাম্প এলাকাগুলোতে জ্যামার বসানো হবে কিনা, হলে কী সুফল মিলবে, তা যাচাই করে দেখা হতে পারে। 

 

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ