ভিডিও কনফারেন্সিং প্রযুক্তি জীবনকে করেছে সহজ: অশোক কুমার

Send
রুশো রহমান
প্রকাশিত : ১৮:৪৭, অক্টোবর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৮, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

অশোক কুমার জাংরাভিডিও কনফারেন্সিং প্রযুক্তি জীবনকে করেছে সহজ, দূরকে করেছে নিকট আর সময়কে করেছে তালুবন্দি। প্রযুক্তি না হলে এই তিনের মেলবন্ধন সম্ভব হতো না বলে মনে করেন প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লজিটেকের ক্যাটাগরি হেড (দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া) অশোক কুমার জাংরা।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলমান ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো প্রাঙ্গণে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অশোক কুমার জাংরা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এখন ই-কোর্ট চালু করা সম্ভব হয়েছে। ভারতের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভারতে কয়েকশত আদালতে ই-কোর্ট স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বিচারিক কাজে গতি এসেছে। আসামীকে কোর্টে আনার ঝক্কি কমেছে। কারাগারে ভার্চুয়াল কোর্ট বসিয়ে বিচার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে করে সময়ের যেমন সাশ্রয় হচ্ছে তেমনি আসামিকে আনা নেওয়া করতে না হওয়ায় সাশ্রয় হচ্ছে কর্মঘণ্টা। তিনি জানান, ভারতের ২৯টি হাইকোর্টের ২৩টিতে ই-কোর্ট চালু করা হয়েছে। সবগুলোতে কারিগরি সাপোর্ট দিচ্ছে লজিটেক। এর হার্ডওয়্যার প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে ক্যামেরা, ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম, স্পিকার ইত্যাদি। তিনি মনে করেন, ই-কোর্ট চালু হলে সবকিছুর ডিজিটাল রেকর্ড থাকে। ফলে কোনও কিছু হারিয়ে যাওয়া, ছিঁড়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
অশোক কুমার বলেন, বাংলাদেশের আদালতে এই সুবিধা চালু হবে বলে আমরা শুনেছি। আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করবো। যদি সংশ্লিষ্টরা চান তো আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারি। পাইলটভিত্তিতে যদি কোথাও এই উদ্যোগ চালু করা হয় আর আমাদের ডাকা হলে আমরা সানন্দে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবো।
অশোক কুমার বলেন, টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ শহরের সবচেয়ে ভালো ডাক্তারের সেবা নিতে পারছেন। দ্রুত রোগ নির্ণয়ের ফলে চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যাচ্ছে।
তিনি দূর শিক্ষণ পদ্ধতির উদাহরণ দিয়ে বলেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাদান পদ্ধতির মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। অন্যদিকে একজন ভালো শিক্ষকের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। তিনি চাইলেও একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াতে পারেন না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দূর-শিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াতে সক্ষম হবেন এবং গ্রামের শিক্ষার্থীরা শহরের নামকরা স্কুলের পাঠদান পাবে। আর এ সবই ভিডিও কনফারেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে করা সম্ভব। যার সব ধরনের প্রযুক্তিগত সুবিধা দিয়ে থাকে লজিটেক।
তবে এই কাজের (ভিডিও কনফারেন্সিং) জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রয়োজন হয়। যা প্রায় প্রতিটা দেশেরই একটি বড় সমস্যা। সবাই ধরেই নেন, ভিডিও কনফারেন্সিং প্রযুক্তির জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রয়োজন হবে। বিষয়টি সেরকম নয়। লজিটেকে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যাতে ‍উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রয়োজন হবে না। উচ্চগতি না থাকলেও প্রযুক্তি পণ্যটি (ডিভাইস) তার মতো করে কাজ করতে পারবে বলে জানান অশোক কুমার জাংরা। 

/এইচএএইচ/

লাইভ

টপ