কয়েন দিয়ে খেলা গেমিং বক্স এখন লাখ টাকা দামের ল্যাপটপ

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১২:০৪, অক্টোবর ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

 গেমিং ল্যাপটপ (ছবি-ইন্টারনেট থেকে নেওয়া) পাড়া-মহল্লার অলি-গলির গেমসের দোকানে খুচরা পয়সা বা কয়েন দিয়ে ভিডিও গেমস খেলার দিনগুলোর কথা হয়তো অনেকেরই মনে আছে। সেসব এখন পুরনো দিনের কথার মতো শোনায়। টিভিতে ভিডিও গেমিং কনসোল দিয়ে গেম খেলা, পরবর্তীতে এক্স-বক্স বা প্লে-স্টেশনে ফিফা বা অন্য কোনও গেম খেলা ছিল খুবই সাধারণ ঘটনা। পরে এসেছে অনলাইনে গেম খেলার সুযোগ। এসবের বিবর্তনে গেমিং ডিভাইসেও বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এখন গেম খেলার জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ল্যাপটপ। গেমিং ল্যাপটপ নামে এগুলোর বাজারে বিক্রি খুব বেশি। বাজারে দেড় লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা দামে গেমিং ল্যাপটপ বিক্রির খবর পাওয়া গেলেও ২৩ লাখ টাকা দামের ল্যাপটপেরও খোঁজ মিলেছে।
বাজার ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে এসার, আসুস, ডেল, গিগাবাইট, এমএসআই ইত্যাদি ব্র্যান্ডের গেমিং ল্যাপটপ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর দাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকারও বেশি। তবে এসব ব্র্যান্ডের ২৩ ও ২৫ লাখ টাকা দামের গেমিং ল্যাপটপ রয়েছে।
এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মো. শাহিদ উল মুনীর বলেন, বিজনেস হয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে। সম্প্রতি গেমিং ল্যাপটপের চাহিদা বেড়েছে, ফলে এই ক্যাটাগরির ল্যাপটপের বাজার বড় হয়েছে। ব্যবসাও বেড়েছে। তিনি মনে করেন, গেম খারাপ নয়। সারা বিশ্বেই এটা খেলা হচ্ছে। এর বাজারও বিশাল। মোবিলিটির (সহজে বহনযোগ্য হওয়ায়) কারণে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে গেমিং প্রতিযোগিতাও হচ্ছে বিশাল আয়োজনে। গেম আগে ডেস্কটপে ছিল। এখন চলে এসেছে ল্যাপটপে। তিনি বলেন, আমি মনে করি বাবা-মায়েদের তাদের সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে তারা যেন আসক্ত না হয়ে পড়ে। গেম আসক্তি খুবই ভয়াবহ।
বাজারে এখন বিভিন্ন ধরনের গেমিং কনসোল পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া গেমিং সেট, স্ক্রিন, মনিটর, পিসি, গেমিং চেয়ার, মাউস, কি-বোর্ড, কুলিং সিস্টেম, হেডসেট বা হেডফোন, জয়স্টিক ইত্যাদি। এমনও গেমিং চেয়ারের খোঁজ পাওয়া গেছে, যেগুলোর দাম ১৫ হাজার ডলার।
প্রযুক্তি পণ্যের বাজার বলছে, দেশে এখন ডেলের এলিয়নওয়্যার-এর দাম ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। এসারের প্রিডেটর এক লাখ ৫ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা, এসারের ট্রাইটন-৭০০ তিন লাখ টাকা, এসারের প্রিডেটর থ্রনস ২৩ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এইচপির ওমেন ১ লাখ ৫ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে এমএসআই ব্র্যান্ডের ল্যাপটপের পরিবেশক ইউসিসির প্রধান নির্বাহী সারোয়ার মাহমুদ খান বলেন, ‘মূলত হাই-এন্ডের গেমিং ল্যাপটপের ক্রেতারা উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। বিশ্ববাজারে নতুন কোনও গেমিং ল্যাপটপ অবমুক্ত হলে তারা আমাদের নক করে। আমরা তাদের অপেক্ষায় রাখি, হাতে পেলে দিয়ে দিই। অন্যদিকে দেশের বাজারে আসতে দেরি হলে বা বিশ্ববাজারে অবমুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অর্ডার করে এনে দিই। ব্যবসার চেয়ে এখানে ক্রেতা সন্তুষ্টিকেই আমরা বড় করে দেখি।’
স্মার্ট টেকনোলজিস-এর অন্যতম পরিচালক মুজাহিদ আলবেরুনী সুজন বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২ হাজার ল্যাপটপ বিক্রি হয়। এর মধ্যে ৪০০ থেকে ৫০০ গেমিং ল্যাপটপ। তিনি আরও জানান, আসলে এগুলো হাই-এন্ডের ল্যাপটপ। এসব ল্যাপটপ দিয়ে প্রোগ্রামিং, গ্রাফিকস ডিজাইন, রেন্ডারিংয়ের কাজ করা গেলেও সবাই এগুলোকে গেমিং ল্যাপটপ হিসেবেই চেনে। তিনি জানান, দিন দিন এই মার্কেট বড় হচ্ছে। দেশে গেমার বাড়ছে। অভিভাবকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় তারা সন্তানদের জন্য এগুলো কিনে দিচ্ছেন।’
গিগাবাইটের কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা মোহাম্মদ আনাস খান বলেন, গিগাবাইটের গেমিং ল্যাপটপ নিয়ে খুবই সাড়া পাচ্ছি আমরা। সম্প্রতি দেশের বাজারে এই ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ অবমুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে আমরা ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা দামের মধ্যে ল্যাপটপ বেশি বিক্রি করছি। এগুলোর চাহিদা বেশি। গিগাবাইটের ৫ লাখ টাকা দামেরও ল্যাপটপ আছে বলে তিনি জানান।

/ওআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ