behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

হয়রানি বন্ধে মোবাইল রিচার্জ ‘কোড নম্বরে’

হিটলার এ. হালিম১৭:৩৪, জানুয়ারি ০১, ২০১৬

মোবাইল রিচার্জহঠাৎ মোবাইলে অচেনা নম্বর থেকে ফোন। বিব্রতকর কথাবার্তা, অশালীন প্রস্তাব, হুমকি-ধমকি আজকাল যেন নিত্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে একটু সচেতন হলেই এসব বিষয় অনেকাংশে এড়ানো যায়। মোবাইল রিচার্জের দোকানে নিজের নম্বরটি না লিখে বা কাজের মানুষের হাতে না পাঠিয়ে একটি পিন নম্বর বা পাসওয়ার্ড পাঠিয়ে এ কাজ সম্পন্ন করা যায়। ফলে নিজের মোবাইল নম্বরটি কোথাও প্রকাশিত হওয়ার আশঙ্কা  থাকে না। এতে বাঁচা যায় হয়রানি থেকেও।
অভিযোগ রয়েছে, সাধারণত মোবাইল রিচার্জের দোকান থেকে অনেক নম্বর কপি হয়। ভোগান্তি সৃষ্টি করতে রিচার্জের দোকানে নারী বা পুরুষরা টাকা রিচার্জ করতে গিয়ে যে নম্বর লিখে দেন সেটা অনেকে কপি করে ফোন দিয়ে অহেতুক হয়রানি করেন।
মোবাইলে হয়রানি পুরুষের তুলনায় নারীর বেশি। নারীরা যদি দোকানে রিচার্জ না করতে গিয়ে রিচার্জ কার্ড ব্যবহার করে বা পিন নম্বর ব্যবহার করেন, তাহলে এ হয়রানির মাত্রা অর্ধেকে কমে আসবে বলে মনে করে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক বিভাগের প্রতিষ্ঠিত সাইবার হেল্প ডেস্ক। এখানে আসা সাইবার হয়রানির যেসব অভিযোগ আসে তার একটা বড় অংশে থাকে মোবাইল হয়রানি।

অনেকেই মনে করেন, মোবাইলে রিচার্জের জন্য নারীরা পিন নম্বর ব্যবহারের পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবাও ব্যবহার করতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গ্রামীণফানের এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান সৈয়দ তালাত কামাল বলেন, রিচার্জ বা বিল পেমেন্টের সময় যারা তাদের নম্বরটি কারও কাছে প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য গ্রামীণফোন নিয়ে এসেছে প্রাইভেট রিচার্জ। এই সেবার আওতায় ফ্রি নিবন্ধনের মাধ্যমে গ্রাহক একটি স্বতন্ত্র পিন কোড পাবেন এবং এই পিন দিয়েই তিনি তার প্রয়োজনীয় রিচার্জ বা বিল-পে করতে পারবেন। কোনও মোবাইল নম্বরের প্রয়োজন হবে না।

তিনি জানান, সরবরাহ করা পিনটি সর্বোচ্চ ১০ ডিজিটের হবে এবং সেটি অবশ্যই ৭ দিয়ে শুরু হবে। নারীরা তাদের নিরাপত্তার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন। এটা নারীর জন্য বেশি ভালো।

দেশের একাধিক মোবাইল ফোন অপারেটরের এই পিন নম্বরে রিচার্জ বা প্রাইভেট রিচার্জ পদ্ধতি চালু রয়েছে। এর ব্যবহারকারী সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক মোবাইলফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী।

বিকাশের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ ও গণমাধ্যম) জাহেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিকাশের মাধ্যমে সহজে ও বিনামূল্যে মোবাইল রিচার্জ করা যায়। এর মাধ্যমে রিচার্জ করা নিরাপদ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বিকাশের মাধ্যমে রিচার্জের হার দিন দিন বাড়ছে। এতে নম্বর প্রকাশের কোনও সুযোগ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোবাইলের রিচার্জের দোকানে সংশ্লিষ্ট অপারেটর থেকে সরবরাহ করা খাতায় রিচার্জ ব্যবসায়ীরা নম্বর লিখে রাখেন। খাতা ফুরিয়ে গেলে এসব খাতা কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। কখনও খাতার কাগজ ছিঁড়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। এভাবে বিভিন্ন হাতে হাতে চলে যায় নম্বরগুলো। যারা এসব বিড়ম্বনা সৃষ্টি করতে চায় তারা এসব নম্বরে ফোন দিয়ে অঘটন ঘটায়।

একাধিক রিচার্জ ব্যবসায়ীর অভিযোগ, আগে এক শ্রেণির লোকজন এসব খাতা কিনে নিয়ে যেত। তারাও এগুলো ভালো দামে বিক্রি করতেন। যদিও এখন চাহিদা কমে গেছে।

তবে তারা উল্লেখ করেন, কোনও নারী মোবাইলে টাকা রিচার্জের জন্য খাতায় নম্বর লিখে গেলে অনেকে খাতা উল্টিয়ে নম্বর দেখার চেষ্টা করে। এই প্রবণতা এখনও রয়ে গেছে, কমছে না। তারা নিজেরাও এটা প্রতিহত করতে পারছেন না। বাধা দিতে গেলে আর রিচার্জ করতে দেবে না বলে তারা ভয় দেখায়।         

এদিকে সাইবার হেল্প ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছরে সাইবার হেল্প ডেস্কে ১২ হাজারের বেশি অভিযোগ এসেছে, যার মূল শিকার নারী। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ অভিযোগ ফেসবুক নিয়ে। বাকি ২৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নম্বর থেকে ফোন, বিব্রতকর কথাবার্তা, অশালীন প্রস্তাব, হুমকি-ধমকিসহ আরও অনেক কিছু।

 /এসটি/এমএনএইচ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ