ধার করা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে রেড হেরিংয়ের তালিকায়

হিটলার এ. হালিম১৯:০৯, জানুয়ারি ২৮, ২০১৬

রাফেল কবীর (২)

তার ছিল স্বপ্ন আর ৪০ হাজার টাকার পুঁজি। তা-ও ধার করা। এটা নিয়েই তিনি উদ্যোক্তা হওয়ার যুদ্ধে নামেন। গড়ে তোলেন ডিএনএস সফটওয়্যার লিমিটেড। সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠান জায়গা করে নিয়েছে রেডহেরিং ডট কমের (আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর র‌্যাংকিং তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি) এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তালিকায়। তারা ডিএনএস সফটওয়্যার লিমিটেডকে এশিয়ার সম্ভাবনাময় ও উদীয়মান প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রাফেল কবীর। 

পুঁজি ছিল মোটে ৪০ হাজার টাকা তাও আবার নগদ নয়, ধার করা। ওই টাকা দিয়ে কেনা হলো কম্পিউটার। মাত্র একটি কম্পিউটারকে সম্বল করে ‘উদ্যোক্তা' হওয়ার দুঃসাহস দেখিয়ে ফেলি। ওই একটি কম্পিউটার আর  যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা সফটওয়্যার দিয়েই আমরা শুরু করি ই-মেইল সেবাদানের কাজ। আসলে পুঁজি বা নগদ টাকা না থাকা কোনও সমস্যা নয়। থাকতে হবে উদ্ভাবনী আইডিয়া।

 বাংলা ট্রিবিউন: ডিএনএস কিভাবে রেডহেরিংয়ের তালিকায় জায়গা করে নিল?

 রাফেল কবীর: ওরা আমাদের কোম্পানির কাগজ-পত্র দেখে অনলাইনে আমার ইন্টারভিউ করে। হয়তো ওরা দেখেছে, যে ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানকে ওরা তালিকায় জায়গা দেয় ডিএনএস সেসব ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে পেরেছে। তাছাড়া আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বেড়ে ওঠাটাও হয়তো ওদের আকৃষ্ট করেছে।

 বাংলা ট্রিবিউন: ডিএনএস-এর বেড়ে ওঠাটা কেমন ছিল?

 রাফেল কবীর: পুঁজি ছিল মোটে ৪০ হাজার টাকা তাও আবার নগদ নয়, ধার করা। ওই টাকা দিয়ে কেনা হলো কম্পিউটার। মাত্র একটি কম্পিউটারকে সম্বল করে ‘উদ্যোক্তা' হওয়ার দুঃসাহস দেখিয়ে ফেলি। ওই একটি কম্পিউটার আর  যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা সফটওয়্যার দিয়েই আমরা শুরু করি ই-মেইল সেবাদানের কাজ। আসলে পুঁজি বা নগদ টাকা না থাকা কোনও সমস্যা নয়। থাকতে হবে উদ্ভাবনী আইডিয়া।

 বাংলা ট্রিবিউন: তালিকায় স্থান পাওয়ার বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?

রাফেল কবীর (১)

 রাফেল কবীর: এটা অবশ্যই একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্মানের। আমরা রেডহেরিং ডট কমের ‘২০১৫ টপ এশিয়া: শর্ট লিস্টেড কোম্পানিজ’ –এ ছিলাম। এশিয়ার তালিকা নিয়ে ওরা হংকংয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। ওখানে প্রেজেন্টেশন দিতে হয়। ভালো করলে গ্লোবাল র‌্যাংকিংয়ে জায়গা পাওয়া যায়। গ্লোবাল পর্যায়ের অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে হয়। ওখানেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে প্রেজেন্টেশন দিতে হয়। তবে কোনওটিতেই অংশ নেওয়া হয়নি আমাদের অফিসের নানান ধরনের সমস্যায়। ওখানে অংশ নিতে পারলে প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ডিং করা যেত।

 বাংলা ট্রিবিউন: কি ধরনের সুবিধা পাওয়া যেত বলে আপনি মনে করেন?

 রাফেল কবীর: এই তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটির বড় হওয়ার সক্ষমতা এবং সামর্থ দুই-ই রয়েছে। ফলে সহজেই বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়ে আকৃষ্ট করা সম্ভব। তুমি কি ধরনের ফান্ডিং চাও, সব পাওয়া সম্ভব। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ইমেজ বাড়ায় এই তালিকায় জায়গা পাওয়ার ঘটনাটি।

 বাংলা ট্রিবিউন: মূলত কি ধরনের প্রভাব ফেলে রেড হেরিংয়ের এই তালিকা স্থান করে নেওয়ার বিষয়টি?

 রাফেল কবীর: গ্লোবালি ব্যবসা করতে গেলে এটা রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া গ্লোবাল এক্সপোজার বাড়ে, বেড়ে যায় প্রতিষ্ঠানের ভ্যালু। আমার জানা মতে, ফেসবুকের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ পর্যায়ে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল। আজ  কোথায় ফেসবুক। ভারত ও চীনের অনেক প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় সব সময় জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের ভবিষ্যতও ভালো। দারুণ ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম তারা। এই তালিকা দেখে এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের একটি সাময়িকী (ম্যাগাজিন) ‘অ্যাকুইজিশন’ আমার ইন্টারভিউ নিয়েছে। ম্যাগাজিনটি ফান্ড, কোম্পানি অ্যাকুইজেশন বিষয় নিয়ে কাজ করে।

এই তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটির বড় হওয়ার সক্ষমতা এবং সামর্থ দুই-ই রয়েছে। ফলে সহজেই বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়ে আকৃষ্ট করা সম্ভব। তুমি কি ধরনের ফান্ডিং চাও, সব পাওয়া সম্ভব। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ইমেজ বাড়ায় এই তালিকায় জায়গা পাওয়ার ঘটনাটি।

 বাংলা ট্রিবিউন: আপনি একজন বুয়েট  প্রকৌশলী হয়েও কেন অন্য পেশায় গেলন না?

 রাফেল কবীর: আসলে আমি সব সময় স্বাধীনভাবে কিছু একটা করতে চেয়েছি। ব্যবসাটাই ছিল আমার টার্গেট।উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রকৃতিকভাবে কিছু গুণ হয়তো আমার ভেতর ছিল। এ কারণেই ব্যবসায় এসেছি। তবে ব্যবসা করতে চাইলে সবার আগে ব্যবসাটা বুঝতে হবে। বুঝতে হবে, কোথায় ব্যবসা আছে? ওটা যে আমি করতে পারব সেটাও বুঝতে হবে। সর্বপোরি নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। আবেগও থাকতে হবে। টাকা উপার্জনের জন্য ব্যবসা করলে সেই ব্যবসা কখনওই হবে না। টাকা হচ্ছে রেসিডিউয়াল ইম্প্যাক্ট,তোমার যদি ব্যবসা ভাল হয় টাকা এমনিই আসবে।

 বাংলা ট্রিবিউন: কেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতকেই বেছে নিলেন?

 রাফেল কবীর: আমি সবসময় নতুন কিছু করতে চেয়েছি। ইন্টারনেট দিয়ে শুরু করেছি বলে এখনও যে ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে আছি তা তো নয়। সব সময় নতুনের সন্ধান করেছি। যদি ট্রেন্ডটা ফলো করা যায়, তাহলে নতুন কিছু আসছে কি না তা বোঝা যায়। 

 বাংলা ট্রিবিউন: আগামী দিনে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায় কোন দিকটা উজ্জ্বল হবে বলে আপনি মনে করেন?

রাফেল কবীর

 রাফেল কবীর: এটা আসলে শিক্ষা ব্যবস্থার মতো। আমরা জানি না আসলে কোন দিকে, কোনটার কীভাবে উন্নয়ন হচ্ছে। তবে আমরা যেহেতু সব সূচকে এগিয়ে আছি, আমরা এগিয়ে যাব। আমরা পিছিয়ে থাকব না। তবে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বিষয়ে বলা যেতে পারে। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ আসলে সার্ভিসে। আমি চাইলেও এখন আর ফেসবুক বা মাইক্রোসফট বানাতে পারব না। তবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বা সেবা পরিচালনার জন্য এ বিষয়ক সেবার জন্য অ্যাপস বা সেবাধর্মী কিছু একটা বানাতে পারব। ওই সেবা দিয়েই ভবিষ্যৎ চলবে।

আমি সবসময় নতুন কিছু করতে চেয়েছি। ইন্টারনেট দিয়ে শুরু করেছি বলে এখনও যে ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে আছি তা তো নয়। সব সময় নতুনের সন্ধান করেছি। যদি ট্রেন্ডটা ফলো করা যায়, তাহলে নতুন কিছু আসছে কি না তা বোঝা যায়।

 বাংলা ট্রিবিউন: দেশে ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে আপনার উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাই।

 রাফেল কবীর: এটা শিক্ষার মতো একটা বিষয়। এই জায়গাটার বৈষম্য পূরণ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। গ্রামের দিকে বিদ্যুৎ নাই, কম্পিউটার নাই। থাকলেও তারা ব্যবহার করতে পারে না। কারণ কম্পিউটারের ব্যবহার ইংরেজিতে। দেশের সব জায়গায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছেনি। বৈষম্যের পেছনে এসব একটা বড় কারণ। নতুন যে প্রজন্ম আসছে তারা এসব দিকে অনেক এক্সপার্ট। ১০-১৫ বছর পর এই বৈষম্যটা এমনিতেই কমে যাবে।

ছবি: সংগ্রহ

/এইচএএইচ/ 

লাইভ

টপ