behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

দেশের প্রথম সোশ্যাল রোবট তৈরির গল্প

দায়িদ হাসান মিলন১৩:৪৮, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৬

গত ১১ ডিসেম্বর ‘সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যাল ২০১৫’ তে প্রদর্শন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম হিউম্যানোয়েড রোবট- রিবো। হিউম্যানোয়েড রোবট বলতে বোঝায় মানুষের মতো দেখতে এবং মানুষের মতো আচরণ করতে সক্ষম রোবটকে। এছাড়া এটি বাংলাদেশের প্রথম সোশ্যাল রোবটও।

রিবো এমন এক রোবট যার গঠন কাঠামো অনেকটাই মানুষের মতো। তাছাড়া মানুষের আচরণের সঙ্গে এর আচরণের সাদৃশ্য রয়েছে। করতে পারে মানুষের মতো অঙ্গভঙ্গি। এছাড়া এটি বাংলায় কথাও বলতে পারে। সব মিলিয়ে সোশ্যাল রোবট হিসেবে অনেকেরই নজর কেড়েছে রিবো।

রিবো এই কয়দিনে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও অনেকেই জানেন না রিবো তৈরির পেছনের গল্প। জানেন না কাদের শ্রমে রিবো তৈরি হলো।বাংলাদেশের প্রথম সোশ্যাল রোবট রিবো
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বিভাগের ১১ জন তরুণ। এদের মধ্যে দলনেতা হিসেবে কাজ করেছেন নওশাদ সজীব। তারা প্রায় দেড় মাস কাজ করে তৈরি করেন এই রোবটটি। রোবট তৈরির জন্য অনেক যন্ত্রই বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। সেজন্য বেশ কিছু যন্ত্র খুব পরিশ্রম করে তাদের তৈরি করতে হয়েছে।
রিবো তাদের প্রথম রোবট নয়। এর আগে আরও তিনটি রোবট তৈরি করেছে তারা। যেগুলোর নাম ছিল- সাস্ট টু। কিন্তু সেগুলো এত জনপ্রিয়তা পায়নি। তখন থেকেই তাদের পরিকল্পনা ছিল এমন একটি রোবট তৈরির যা মানুষের আগ্রহ কেড়ে নেবে। কিন্তু তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তহবিল। অর্থের অভাবে তাদের সেই পরিকল্পনা কোনওভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত তারা পাশে পায় বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটিকে। সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির সহযোগিতায়ই তৈরি হয় রিবো।
রিবো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন শাবিপ্রবির শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। তিনি শুরুর দিকে নির্মাতাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং উৎসাহ যুগিয়েছেন। বেশ কিছু সময়ে তিনি নিজের হাত থেকে টাকা দিয়েও সহযোগিতা করেছেন। এছাড়াও নির্মাতাদেরকে নির্দ্বিধায় তার নিজস্ব ল্যাব ব্যবহার করতে দিয়েছেন বলে জানান নির্মাতারা।

মূলত ১১ জনের এই দলটির রোবট তৈরির কার্যক্রম শুরু হয় শাবিপ্রবির একটি সংগঠন রোবোসাস্টের মাধ্যমে। অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও শিক্ষার্থী নওশাদ সজীবের হাত ধরে রোবোসাস্ট যাত্রা শুরু করে ২০১১ সালে। তখন থেকেই তারা ছোট ছোট বিভিন্ন কাজ শুরু করে আজ এ পর্যায়ে এসেছেন।

ভবিষ্যতে এই দলটির পরিকল্পনা আছে আরও উন্নত রোবট তৈরি করার। তবে সেজন্য প্রয়োজন তহবিলের। আর্থিক সহযোগিতা পেলে হাটতে পারে এমন রোবট তৈরির আশা প্রকাশ করেছেন তারা। এ প্রসঙ্গে দলটি জানায়, জাপানের মতো দেশে রোবটকে হাঁটানোর জন্য সময় লেগেছিল প্রায় এক যুগ। আর উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা পেলে অল্প সময়ের মধ্যেই হাঁটতে পারে এমন রোবট তৈরি করতে সক্ষম হবেন তারা।

রোবট তৈরির এ কার্যক্রম সম্পর্কে দলটির অন্যতম সদস্য সাজিদ হাসান বললেন, ‘এটা একটা সূচনা। মানুষ, বিশেষ করে ছোটরা এখান থেকে দেখবে এবং নতুন কিছু করার প্রেরণা পাবে। তারা অন্ততপক্ষে এই মনোবল রাখবে যে, আর আমাদেরকে বিশেষ কিছু করার জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে না। দেশেই এখন অনেক কিছু সম্ভব, যদি ইচ্ছা থাকে।’

/এফএস/  

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ