দেশের ৪৯ শতাংশ স্কুল শিক্ষার্থী অনলাইনে নিপীড়নের শিকার

Send
টেক রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩০, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩০, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৬

চাই নিরাপদ ইন্টারনেট



এশীয় অঞ্চলে ইন্টারনেটের অগ্রগতি বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেটের বিস্তৃতি এ অঞ্চলের তরুণদের জন্য বিশাল সম্ভাবনার সুযোগ নিয়ে এসেছে। তবে, এ সম্ভাবনার সঙ্গে অনলাইনে শিশুদের নিরাপদে রাখার চ্যালেঞ্জ ও অনলাইনের হুমকি থেকে তাদের সুরক্ষিত রাখার গুরুত্বও সামনের দিকে চলে এসেছে। শিক্ষার্থীদের অনলাইনে কার্যক্রম ও আচরণবিধি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝে উঠতে টেলিনর গ্রুপ মঙ্গলবার নিরাপদ ইন্টারনেটের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ গবেষণায় বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোসহ ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সের ১ হাজার ৮৯৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ইন্টারনেট বিষয়ক জ্ঞান নিয়ে জরিপ চালানো হয়।
টেলিনরের হেড অব সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি ওলা জো বলেন, শীর্ষস্থানীয় মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেলিনর গ্রুপ ইন্টারনেটে সবার জন্য বিশেষত তরুণদের মধ্যে নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে নিবেদিতভাবে কাজ করছে। টেলিনর আশা করে, শিশুরা কিভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করবে এ নিয়ে টেলিনরের দেশভিত্তিক এ গবেষণা ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রতি ইতিবাচক বাবা-মা ও শিক্ষকদের নিরাপদ ইন্টারনেটের গুরুত্ব বোঝার ওপর জোর দেবে। পাশাপাশি এ গবেষণা ডিজিটাল সম্ভাবনা, বাবা-মায়েদের শিশুদের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা করা এবং এ নিয়ে তাদের উপদেশ দেয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করবে।
সাইবার বুলিং সহ ইন্টারনেট সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে টেলিনর এ নিরাপদ ইন্টারনেট গবেষণা পরিচালনা করেছে। প্রভাববিস্তারকারী আচরণের ধরন বুঝতে, শিশুদের জন্য ইন্টারনেটকে নিরাপদ করে তুলতে এবং এ বিষয়ে কার্যকরী সমাধানের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।
পারিপার্শ্বিক চাপ
সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সহজে প্রবেশের সুযোগ থাকায় শিশুরা পারিপার্শ্বিক চাপের কারণে তাদের জন্য অনুপযোগী ওয়েবসাইট ভিজিট করছে কিংবা অনলাইনে অশালীন ভাষা ব্যবহার করছে। জরিপকরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জানায়, পারিপার্শ্বিক চাপের কারণে তারা একবার হলেও এ ধরনের কাজ করেছে।
সাইবার বুলিং
গবেষণায় আরও জানা যায়, শিশুদের ইন্টারনেটে সহজে প্রবেশাধিকারের কারণে বাবা-মায়েদের কাছে তা আশঙ্কার বিষয়। একটি বিষয় হচ্ছে সাইবারবুলিং। গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৪৯ শতাংশ স্কুল শিক্ষার্থী একই ব্যক্তির মাধ্যমে উৎপীড়নের শিকার হওয়া অথবা অনলাইনে উত্যক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। অথবা তারা নাম প্রকাশ না করে অনলাইনে অন্যকে উত্যক্ত করেছে।
অনেক শিশুই অনলাইনে শব্দ ব্যবহারের প্রভাব সম্পর্কে বুঝে উঠতে পারে না। ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ার একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, শিশুদের দুই-তৃতীয়াংশ মনে করে বিব্রতকর এসএমএস পাঠানো, অনলাইনে নিজের পরিচয় গোপন করা ও অনুপযুক্ত ছবি পোস্ট করা সাইবার বুলিং-এর মধ্যে পড়ে না। ২০০৯ সালে টেলিনর নরওয়ে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে শিশু, বাবা-মা ও শিক্ষকদের শিক্ষিত করে তুলতে একটি জাতীয় কর্মসূচি পালন করে।
নেতিবাচক অভিজ্ঞতা
শিক্ষার্থীরা প্রায়ই, সাইবারবুলিং ও পারিপার্শ্বিক চাপের শিকার হয়। এরপর তাদের এ নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে সামাল দেওয়ার ব্যাপারে তাদের দক্ষতা নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী জানায়, তারা মনে করে নিজেরা অথবা বাবা-মা ও শিক্ষকদের পরামর্শের মাধ্যমে তারা এ ধরনের সমস্যা সমাধান করতে পারবে।
বাংলাদেশের সাথে তুলনা অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার আরও ৭ শতাংশ বেশি শিক্ষার্থী মনে করে তারা অনলাইনে নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে সামলে ওঠার জন্য প্রস্তুত।
ঝুঁকি হ্রাস
ইন্টারনেটের মাধ্যমে নতুন কিছু ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ওয়েবসাইটে মাদক, অস্ত্র, আত্মহত্যা এবং নিজেকে ঘৃণা করা জাতীয় প্রচারণা চালানো। তবে সাধারণ স্কুল শিক্ষার্থীরা এগুলোকে খুব একটা হুমকি মনে করে না। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী জানায় তারা এ ধরনের ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলে।
এ গবেষণার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানায়, তারা অনলাইনে ‘সেক্সটিং’ নামে পরিচিত অশোভন কোনও বার্তা পাঠাবে না।
বাবা-মা ও স্কুল থেকে সাহায্য নেওয়া
দেশজুড়ে পরিচালিত এ গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্ধেকের কম স্কুল শিক্ষার্থী অনলাইনে এ ধরনের সমস্যায় যখন বুঝতে পারে না কিভাবে এর সমাধান করবে তখন তারা এর সমাধানের জন্য বাবা-মা ও শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করে। বাবা-মায়েদের এ নিয়ে শিশুদের সঙ্গে খোলাখুলি কথাবলা, আলোচনা করা এবং অনলাইনে এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে যেন শিশুরা তাদের বাবা-মায়েদের কাছে সাহায্য চাইতে পারে এ পরিবেশ তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে ইন্টারনেটের অপব্যবহার হতে পারে এ ব্যাপারে শিশুদের সচেতন করার সময় বাবা-মায়েরা একইসঙ্গে ইন্টারনেটের সম্ভাবনা ও উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করতে পারে। ইন্টারনেটের এমন সব সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে নেটওয়ার্কিং, শিক্ষা ও পরিবেশ।
গ্রামীণফোন মঙ্গলবার নিরাপদ ইন্টারনেট সচেতনতা নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে একটি সেশন আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস উদযাপন করেছে।
/এইচএএইচ/

লাইভ

টপ