behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

‘৫ মেগার নিচে ব্রডব্যান্ড নয়’সংজ্ঞা বদলাবে, গতি বাড়বে তো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের?

হিটলার এ. হালিম২০:৪৯, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৬

৫

আবারও সংজ্ঞা বদলাচ্ছে ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি)ইন্টারনেটের। তবে এবার গতি বদলাবে তো- গত কয়েকদিন ধরে এমন প্রশ্ন ঘুরছে দেশের প্রযুক্তি অঙ্গনে। এমনিতেই ধীর গতির ইন্টারনেট নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের ভোগান্তির অন্ত নেই। তারপরও এমন ঘোষণায় প্রযুক্তিপ্রেমীদের ততটা খুশি হতে দেখা যাচ্ছে না। এর আগেও একবার সংজ্ঞা বদলেছিল কিন্তু প্রযুক্তিপ্রেমীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। তাদের ভাষ্য, ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞায় পরিবর্তন না এনে বরং প্রকৃত অর্থে ‘গতি’ পেলেই তারা খুশি।

প্রসঙ্গত,ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ন্যূনতম গতি ১ মেগা থেকে বাড়িয়ে ৫ মেগা করতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগিরই এ বিষয় চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে বলে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) সূত্রে জানা গেছে। গত বছর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিসিসি ভবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হবে। এর ন্যূনতম গতি হবে ৫ মেগাবাইট। সরকার এ বিষয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।

বিএসসিসিএল-এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছে নির্দেশনা জারির সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর করতে। কেউ ব্রডব্যান্ডের নামে এর চেয়ে কম গতি দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ৩ মার্চ দেশে আসবেন। ৪ বা ৫ মার্চের দিকে সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত ওই বৈঠক থেকেই ঘোষণা আসতে পারে কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে ৫ মেগার ব্রডব্যান্ড।

জানা যায়, আগামী ৩-৫ মার্চ ঢাকায় আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি বৃহৎ আয়োজন ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো-২০১৬’ অনুষ্ঠিত হবে। ওই মেগা আয়োজন থেকেও এই সুখবর দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে।

এদিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহাজাহান মাহমুদ জানিয়েছেন,‘৫ মেগার নিচে ব্রডব্যান্ড নয়’ ঘোষণা আসতে ২-৩ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি ১ এমবিপিএস। ঘোষণা এলে তা হয়ে যাবে ৫ এমবিপিএস। তবে ৫ এমবিপিএসের কম গতির ইন্টারনেট সংযোগকে ‘ন্যারোব্যান্ড’ বা ধীরগতির ইন্টারনেট হিসেবে বিবেচনা করবে সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বলছে, গ্রাহক পর্যায়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতেই ব্রডব্যান্ডের সর্বনিম্ন গতি বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৪ হাজার। ২০১৫ এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ লাখ ৮৩ হাজার।

এদিকে সরকার জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা করেছে ২০০৯ সালে। ৭ বছর হয়ে গেলেও সেই নীতিমালা হালনাগাদ করা হয়নি। জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা-২০০৯ -এ ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞায় বলা হয়েছিল, ‘যাহার ন্যূনতম গতি হবে ১২৮ কেবিপিএস। এর চেয়ে গতি কম হইলে তাকে বলা হইবে ন্যারোব্যান্ড ইন্টারনেট।’ যদিও ২০১৩ সালে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির জারি করা এক নিদের্শনায় নতুন করে ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়। নতুন সংজ্ঞায় বলা হয়, 'যাহার ন্যূনতম ব্যান্ডউইথ ১ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) হইবে। ১ এমবিপিএস হইতে কম ব্যান্ডউইথকে ন্যারোব্যান্ড বলা হইবে।' ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ২০১৩ সালের মে মাসের ১ তারিখ থেকে এই গতি উপভোগ করছেন। বিটিআরসি একই বছরের এপ্রিলের ১ তারিখে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে।

২০১৬ সালে আবারও ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এবার ন্যূনতম ব্যান্ডউইথ ১ মেগার পরিবর্তে ৫ মেগা করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

/এইচএএইচ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ