behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

একান্ত সাক্ষাৎকারে জুনাইদ আহমেদ পলক‘২০৪১ সালকে টার্গেট করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি’

হিটলার এ. হালিম১৪:৫২, মার্চ ২৬, ২০১৬

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক
সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি চলমান প্রক্রিয়া, একটা জার্নি। যাকে বলে ‘ফিলোসফি অব রেভ্যুলেশন’। এই প্রযুক্তি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, এই জার্নি ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার মধ্য দিয়ে অর্ধেক শেষ হবে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হওয়ার মধ্য দিয়ে এটির চূড়ান্ত সাফল্য অর্জিত হবে। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় পলক জানালেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন এদেশে একদিন গুগল-ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে তরুণরা।

তবে তার চাওয়া ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের সফটওয়্যার ও সেবা পণ্যের রফতানি ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা। দেশের মোট জনশক্তির অর্ধেক নারী হওয়ায় তিনি মনে করেন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেও এ দেশে নারীর ক্ষমতায়ন করা সম্ভব। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের প্রশিক্ষণের জন্য ৬টি ডিজিটাল প্রশিক্ষণ বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। উদ্যোগ নিয়েছেন আউটসোর্সিং ও অ্যাপস বিষয়ক প্রশিক্ষণের। নিজ দেশের প্রয়োজন মেটাতে এবং পশ্চিমা বিশ্বে তথ্যপ্রুযক্তিতে দক্ষ জনবল (প্রোগ্রামার) পাঠাতে স্কুল পর্যায় থেকে প্রোগ্রামার খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এজন্য শুরু করেছন জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা।

এরইমধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক নামের পাশে জুটিয়ে ফেলেছেন ‘ডিজিটাল মন্ত্রী’র তকমা। বললেন, ঘুমানোর সময়টুকু ছাড়া বাকি ১৬-১৮ ঘণ্টা আমি সক্রিয়ভাবে অনলাইনে থাকি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫-৬ ঘণ্টা তিনি কথা বলে এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে মোবাইলের পেছনে ব্যয় করেন! এসময় তিনি মেইল চেক, ফেসবুকিং, নিউজ সাইট ভিজিট, নিজের ওয়েবসাইট ঢুঁ মারা, কখনও স্কাইপেতে ভিডিও সম্মেলন করা, ই-বুক পড়া, অজানা বিষয় জানার জন্য গুগলে ঘোরাঘুরি আর বিনোদনের জন্য মাঝে-মধ্যে ইউটিউবে গান শোনেন। প্রযুক্তির সর্বশেষ ‘ডিভাইস’ ব্যবহারেও তার আগ্রহ বেশি। জানালেন, হালে তিনি মেসেঞ্জার ফোনে কথা বলে বেশ মজা পাচ্ছেন।

সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ পাঠকের জন্য তুলে দেওয়া হলো।

বাংলা ট্রিবিউন: ইন্টারভিউ দিতে আপনার কেমন লাগে?

জুনাইদ আহমেদ পলক : খুব ভালো লাগে। তবে সময় লাগে। কারণ ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে আমি কি করছি তা যাচাই করা যায়। আয়নায় যেমন নিজের চেহারা দেখতে ভালো লাগে তেমনি ইন্টারভিউ দিতেও ভালো লাগে। ইন্টারভিউটা আয়নার মতোই। নিজের কর্মকাণ্ডের একটা স্ক্রিনিং হয়। যখন বলি তখন আমাকে ভাবতে হয়, কী করেছি, কী করতে পারব, কী করতে পারিনি, ভবিষ্যতে কী করব। এ কারণে ইন্টারভিউ দিতে আমি পছন্দ করি।

বাংলা ট্রিবিউন: আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর যেখান থেকে শুরু করেছিলেন সেখান থেকে এখন কতদূর এগিয়েছেন?

জুনাইদ আহমেদ পলক : অনেক দূর এগিয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমরা কয়েকটি বিষয় নির্দিষ্ট করেছিলাম, যেমন কানেক্টিটিভিটি পৌঁছে দেওয়া। আমরা ইনফো সরকার ২ -এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছি, ফাইবার অপটিক হাইস্পিড ক্যাবল দিয়ে। হাইটেক পার্ক ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। হাইটেক পার্ক হবে ডিজিটাল ইকোনোমির ব্যাকবোন। সেটার কাজ আমরা শুরু করেছি সফলভাবে। এখন ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে।

সুতরাং, এই যে দুটো জায়গা, কানেক্টিভিটি ও হাইটেক পার্ক- এসবের কাজ শুরু হয়ে গেছে। তৃতীয় লক্ষ্য ছিলো মানব সম্পদ উন্নয়ন। কারণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে গেলে আমাদের ডিজিটাল মানব সম্পদ লাগবে। সেটাতে আমরা সাফল্যের সঙ্গে এগোচ্ছি।  প্রতি বছর আমরা প্রায় ৫০ হাজার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক  বাংলা ট্রিবিউন: মেয়াদ শেষে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

জুনাইদ আহমেদ পলক : কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে কাজ করছে, যশোরে (সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে) হাজারও ছেলে-মেয়ে কাজ করছে। জনতা টাওয়ার ফাংশনাল হয়েছে। পাশাপাশি আমরা দেখতে চাই, বাংলাদেশ থেকে এমন কিছু ইন্টারনেট পণ্য তৈরি হয়েছে যেগুলো বিশ্ব মাতাচ্ছে। গুগল-ফেসবুকের মতো পণ্য হয়তো এতো দ্রুত আমরা তৈরি করতে পারব না। কিন্তু আমরা আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী নতুন কিছু তৈরি করতে পারব। যা গুগল-ফেসবুকের মতো হতে পারে। সেগুলো হবে বাংলাদেশের নিজস্ব কনটেন্ট বা প্ল্যাটফর্ম।

আমরা ইনোভেশন ফান্ড, ইনোভেশন ডিজাইন একাডেমি ও এন্টারপ্রেনিওর একাডেমিকে চলমান দেখতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার যে ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন, সেখানে আমরা (আইসিটি সেক্টরে) অন্তত বিলিয়ন ডলারের রফতানি দেখতে চাই। পাশপাশি যে কানেক্টিং স্টার্টআপস শুরু করেছি সেটাতেও আমাদের বেশ কিছু স্টার্টআপস যেন আন্তর্জাতিকভাবে বড় আকারে শুরু করতে পারে সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ২০১৮ সালের মধ্যে অন্তত এক বিলিয়ন ডলারের তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবাপণ্য যেন আমরা রফতানি করতে পারি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি আজীবন এই পদে থাকবেন না, এমন কী কোনও কাজ করেছেন বা করছেন যার জন্য মানুষ আপনাকে আজীবন মনে রাখবে?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমরা তো সবাই কর্মের মধ্যদিয়েই বেঁচে থাকব। কারণ আমরা কেউই পৃথিবীতে চিরদিন বেঁচে থাকব না। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে সুযোগটা দিয়েছেন, তরুণ বয়সে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন, হয়তো এসবের মধ্যেই থাকব। আমি মনে করি, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক ও আমাদের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে একটি নতুন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। এই হাইটেক পার্কের মধ্য দিয়ে ডিজিটাল ইকোনোমির সঙ্গে আমরা কিছুটা হলেও বেঁচে থাকব। তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সূচকে আমরা শীর্ষে অবস্থান করব।

বাংলা ট্রিবিউন: তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সূচকে আপনার দৄষ্টি কোথায় রাখতে চান; যেখানে গেলে বিশ্ববাসী তথ্যপ্রযুক্তির বিকল্প বলতে বাংলাদেশকে চিনবে? 


জুনাইদ আহমেদ পলক : আইসিটির নেক্সট ডেস্টিনেশনেই আমরা বাংলাদেশকে দেখতে পাচ্ছি। এখন ৫০ আউটসোর্সিং ডেস্টিনেশনের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। এ. টি. কারনির রিপোর্ট অনুসারে গতবার বাংলাদেশ ছিল ২৬তম, এবার চার ধাপ এগিয়ে হয়েছে ২২তম। আপওয়ার্কে ঢাকা বর্তমানে ৩ নম্বর অবস্থানে রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সারাবিশ্বের তরুণ প্রজন্মের একটা পরিচিতি গড়ে তুলতে চাই। বলতে চাই আমরা অত্যন্ত মেধাবী, দক্ষ ও কম্পিটিটিভ প্রাইস। এভাবেই আমরা আমাদের বাংলাদেশকে তুলে ধরতে চাই। তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং সেখানে একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলা ট্রিবিউন: দেশব্যাপী চলছে তথ্যপ্রযুক্তির আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মান এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়েও কথা উঠেছে। আপনি কি বলেন?

জুনাইদ আহমেদ পলক : সবসময়ই প্রশিক্ষণ দেওয়া কিন্তু খুব ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ প্রশিক্ষণকে আপনি কোনও দাঁড়িপাল্লায় মাপতে পারবেন না। এটা কিন্তু ধরা যায় না, ছোঁয়াও যায় না। এ কারণে কিছু সমস্যা ছিল। আমরা এখন প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে মনোযোগী হয়েছি। পুরো প্রজেক্টগুলোকে রি-ডিজাইন করছি। প্রজেক্টগুলোর টাইম ডিউরেশন (প্রশিক্ষণের মেয়াদ) বাড়াচ্ছি।

পাশাপাশি আমরা কম্পিটিটিভ এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় কিছু ফার্ম (প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান) সিলেক্ট করছি। ‘আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়াং’কে আমরা নির্বাচিত করেছি, মনিটরিং করছি। প্রতিনিয়ত সেটাকে একটা তৎপরতার মধ্যে রেখেছি। পাশাপাশি ‘লার্নিং আর্নিং’ এবং ‘এলআইসিটি’র যে প্রশিক্ষণগুলো আমরা দেবো সেটার জন্য পিপিআর অনুসারে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ফার্মগুলো যেন প্রশিক্ষণ প্রদানের দায়িত্ব পায় সেজন্য তাদের আউটসোর্স করছি। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, এবার প্রশিক্ষণের মান বিশ্বমানের হবে। আমরা অল্প খরচে অধিক সংখ্যক গুণগত ও মানসম্পন্ন মানব সম্পদ পাব। মোবাইল অ্যাপস নিয়েও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: মোবাইল অ্যাপস নিয়ে আপনার পরিকল্পনা জানতে চাই।

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমরা যে ৫০০ অ্যাপস তৈরির কাজ শুরু করেছিলাম সেটা সফলভাবে করছি। এটা প্রতিনিয়ত ডেভেলপ হচ্ছে। মোবাইল অ্যাপসে আমাদের ছেলে-মেয়েরা অত্যন্ত ভালো করছে। একটা নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আসছি যার নাম ‘মোবাইল অ্যাপ ও গেমিং ডেভেলপমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি’। প্রজেক্টটা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আগের কর্মসূচির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই প্রজেক্ট পাশ হলে মোবাইল অ্যাপ ও গেমিং ইন্ডাস্ট্রির একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। নারীরা এই প্রজেক্টে ভালো করছে। এসবের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব।

বাংলা ট্রিবিউন: নারীর ক্ষমতায়নে প্রশিক্ষণ, মোবাইল অ্যাপ ও আউটসোর্সিং কীভাবে সহায়তা করতে পারে?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ। এর অর্ধেকই নারী। তাদের যদি আমরা মূল অর্থনৈতিক স্রোতে যুক্ত করতে না পারি তাহলে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার আমাদের যে স্বপ্ন সেটা পূরণ করতে বাধাগ্রস্ত হতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা চান নারীর ক্ষমতায়ন। আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থান করতে চাই।

‘লার্নিং-আর্নিং’য়ে আমরা ২০ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ডিজিটাল প্রশিক্ষণ বাস প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যাতে থাকছে ৬টা বাস। যেগুলো মোবাইলফোন অপারেটর রবি এবং হুয়াওয়ের সঙ্গে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) পরিচালিত হচ্ছে। বাসগুলো আগামী তিন বছরে আড়াই লাখ নারীকে প্রশিক্ষণ দেবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে আধুনিক প্রশিক্ষণের কোনও ব্যবস্থা নেই সেখানে এই বাসগুলো পাঠানো হবে। নারীদের তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বের জন্য তৈরি করার চেষ্টা করা হবে।

নারীরা প্রোগ্রামিংয়ে ভালো করছে। এ কারণে আমরা নারীদের জন্য আলাদা প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেছি। স্কুল পর্যায় থেকেই আমরা প্রোগ্রামার খুঁজতে শুরু করেছি জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। আমাদের ধারণা এই প্রতিযোগিতার ফলে স্কুল থেকেই শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী হয়ে উঠবে। কারণ, আগামী দিনে আমাদের অনেক প্রোগ্রামার প্রয়োজন হবে। হাইটেক পার্কগুলোতে অনেক প্রোগামার লাগবে। ২০২০ সাল নাগাদ পশ্চিমা বিশ্বে প্রায় ২০ লাখ প্রোগ্রামারের পদ খালি থাকবে। আমরা সেই সুযোগটা নিতে চেষ্টা করব। 

বাংলা ট্রিবিউন: সাইবার হয়রানি রোধে আর কী কী করা যেতে পারে?

জুনাইদ আহমেদ পলক : ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মাধ্যমে আমরা একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েছি। ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, ন্যশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি এবং সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠনের মধ্য দিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত, প্রতিরোধ করা এবং অপরাধ সংগঠিত হলে তথ্য প্রমাণ উদঘাটন করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এবং আদালতে পেশ করার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মাধ্যমে আমরা এই উদ্যোগগুলো গ্রহণ করব।

বাংলা ট্রিবিউন: ডিজিটাল বাংলাদেশের পরে কী?

জুনাইদ আহমেদ পলক : ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটা একটা জার্নি। এটা একটা ‘ফিলোসফি অব রেভ্যুলেশন’। এটি একটি বিপ্লব। এই প্রযুক্তি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে একটি ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। এই জার্নি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার মধ্য দিয়ে এই যাত্রা অর্ধেক শেষ হবে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হওয়ার মধ্য দিয়ে এটির চূড়ান্ত সাফল্য অর্জিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই চলমান প্রক্রিয়ায় আমাদের তরুণ প্রজন্ম সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশ তরুণদের জন্য উৎসর্গ করেছেন। আইসিটি সাসটেইনেবল অ্যাওয়ার্ডও তরুণদের জন্য উৎসর্গ করেছেন। আমাদের তরুণরাই এই ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্নকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: ২০৪১ সালের পর কী আমরা নতুন কোনও ভিশন পাবো?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আপাতত ২০৪১ সালকেই টার্গেট করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার কাজ, উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং তথ্যপ্রযুক্তিকে এগিয়ে নেওয়া- এসব বিবেচনা করে নিজেকে ১০০ নম্বরের মধ্যে কত দেবেন?

জুনাইদ আহমেদ পলক :আমার দায়িত্ব পালন শেষে দেশের জনগণ এবং উপকারভোগী যারা আছেন তারা যে নম্বর দেবেন সেটাই আমার নম্বর।

বাংলা ট্রিবিউন: ইয়াং গ্লোবাল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৬’ পেয়েছেন। আপনার ঠিক কোন কাজের স্বীকৃতি এই পুরস্কার?

জুনাইদ আহমেদ পলক : ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবায়নের পথে যে নতুন উদ্যোগগুলো নিয়েছি, কানেক্টিং স্টার্টআপস, ইনোভেশন ডিজাইন, এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্টসহ যেসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সেসব হয়তো তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বাংলা ট্রিবিউন: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

জুনাইদ আহমেদ পলক : বাংলা ট্রিবিউনকেও ধন্যবাদ।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

শ্রুতি লিখন: এম এম রহমান

/এইচএএইচ/এপিএইচ/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ