রিও’র বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ১৭:১৯, আগস্ট ২৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৮, আগস্ট ২৫, ২০১৬

পিয়াল, শাকিব, মাশুরুল এবং রনি- ৪ জনের সবাই তাদের দৈনন্দিন কর্মজীবন ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে। লক্ষ্য বিদেশের মাটিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রিয় জন্মভূমির প্রতিনিধিত্ব করা। সারা বিশ্ব থেকে ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে রিও অলিম্পিকে কাজ করেছেন ৫ জন বাংলাদেশি। অলিম্পিক কমিটি থেকে ১০ জনের অনুমতি থাকলেও সময়ের স্বল্পতা এবং ভিসাগত জটিলতার কারণে ৫ জন যোগ দিতে পারেননি।

রিও’র বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ

অলিম্পিকে তৃতীয়বারের মতো কাজ করেন আলাওল আহমেদ রনি। রনির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিও ২০১৬ অলিম্পিকের আয়োজক কমিটি ২০১৫ সালের জুলাই মাসে স্বেচ্ছাসেবকের আবেদনপত্র আহ্বান করে তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানের মাধ্যমে এ আবেদনপত্র পূরণ করতে হয়। এরপর ইংরেজি ভাষার স্কিল টেস্ট দিতে হয়। যারা এই স্কিল টেস্ট পাশ করেন তাদেরকে অনলাইনে ডাইনামিক টেস্ট দিতে হয় যা পুরোপুরি সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের উপর নির্ভর করে এবং সবাইকে যথাযথ উত্তর দিতে হয়। যারা আয়োজক দেশের বাইরে থাকেন তাদেরকে সরাসরি অনলাইনে ইন্টারভিউ দিতে হয়। ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে মূলত পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাওয়া হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সের চাইতেও এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কাজের প্রতি উৎসাহ কেমন সেটাই বিবেচনায় আনা হয়।

রনি বলেন, “সবকিছু ঠিকঠাক শেষ হওয়ার পর যখন দেখলাম ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে আমার নামটাও রয়েছে তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলাম। এরপর ঢাকাস্থ ব্রাজিলিয়ান দূতাবাসে যোগাযোগ করে ভিসার আবেদন করি এবং ১০ দিনের মধ্যেই ভিসা পেয়ে যাই।”

অলিম্পিকে স্বেচ্ছাসেবকের কাজে আয়োজকরা কোনও রকম আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না, তাই যাতায়াত এবং থাকার ব্যবস্থা ছাড়া আর তেমন কোনও সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় না। “তবে এরকম একটি আয়োজনে কাজ করতে পারাই আসলে সবচেয়ে বেশি সম্মানের”-বলেন রনি।

মার্গারিটা মামুনের সঙ্গে আইনুল ইসলাম শাকিব

রনি আরও জানান রিওতে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল রিও সেন্ট্রালের পাহাড় চূড়ায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে। তাদের কাজ করতে হতো ব্রাজিলিয়ান আর্মিদের সাথে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র উপায় ছিল গুগল ট্রান্সলেটর অ্যাপ।

পিয়াল রেজওয়ান একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রিওতে তিনি প্রেস অপারেশন মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্ব ছিল সংবাদকর্মীদের সহায়তা করা।

ট্রান্সপোর্ট টিমের সদস্য হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের আইনুল ইসলাম শাকিব। তিনি অ্যাথলেট টিমের প্রবেশ পথের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। 

রিও অলিম্পিকের স্বেচ্ছাসেবক দলে ৩ বাংলাদেশি তরুণ

বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানির চাকরি ছেড়ে দিয়ে রিওতে কাজ করেন মাশুরুল হক। তিনি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপ প্রটোকল মেম্বার হিসেবে কাজ করেন। তার দায়িত্ব ছিল আইওসি এবং এনওসি পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা করা।

অলিম্পিকের মতো একটি আয়োজনে দেশের হয়ে কাজ করতে পারার অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না- এমনটিই জানান রিওতে কাজ করা বাংলাদেশি তরুণরা। তাদের সকলেরই বিশ্বাস তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের আয়োজনে ভবিষ্যতে বাংলাদেশির উপস্থিতি আরও বাড়বে।  

 

/এনএ/

লাইভ

টপ