১ টাকায় খাবার, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা!

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ১৮:১৩, মার্চ ২২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৬, মার্চ ২২, ২০১৭

এক টাকায় খাবার, চিকিৎসা,  অথবা আইনি সহায়তা!  শুনলেই অবাক লাগে। শায়েস্তা খাঁর যুগ চলে এসেছে কিনা এটা ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন নিশ্চয়। টাকার এই মূল্যবান যুগে কীভাবে সম্ভব? অবাস্তব কথা এসব। কিন্তু না, বলছি বাস্তবতার কথা। এই অসাধ্য সাধন করে আসছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু হয় এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশের হাত ধরে।

নানা প্রতিকূলতার কারনে শৈশবে নিজেও সুবিধাবঞ্চিতদের কাতারে ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা কিশোর। টাকার অভাবে মাধ্যমিকের পর লেখাপড়ার বিরতি ঘটে। এরপর কয়েকবছর বিরতি শেষে চট্টগ্রামের একটি পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে প্রবেশ করেন চুয়েটের দ্বারে। এখান থেকে শেষ করেই ২০০৬ সালে যোগদান করেন ওয়ারিদ টেলিকমে (এয়ারটেল)। বর্তমানে পেরুতে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওলো’তে কর্মরত রয়েছেন। সম্পূর্ণ নিজের টাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। সুবিধাবঞ্চিত হওয়া এবং নানা প্রতিকূলতাই তাকে সমাজের সুবিধাবঞ্ছিত শিশুদেরকে নিয়ে ভাবার প্রেরণা জাগিয়েছে।

সংগঠনটি চলছে মুলত স্বেচ্ছাসেবকদের হাতেই। মানুষের জন্য কিছু করার উদ্দেশ্যেই নিজ উদ্যোগেই এখানে কাজ করেন সবাই। 

১ টাকায় খাবার প্রথমে বিনামূল্যেই বিতরণ করা হতো। কিন্তু সুবিধাবঞ্ছিতদের নিজেদেরকে অন্তত খাবার কিনতে পারার সামর্থ্যবান বোঝাতেই এই ১ টাকার তকমা লাগানো বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম সেচ্ছাসেবক তৌকির ওসমান। প্রতিদিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবার রান্না ও বিতরণের কাজে নিয়োজিত আছেন প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেই রান্নার কাজ করে থাকেন।

শুধু আহারই নয় এর পাশাপাশি শিশুদের পরিচ্ছন্ন জীবন উপহারে তাদেরকে খাবারের পূর্বে হাত ধোওয়া, নখ কাঁটা এবং নিয়মিত চুল কাটার কাজ শেখাতেও নিয়োজিত এই ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি কড়াইল বস্তিতে আগুনে সর্বহারা মানুষেরর পাশেও দাঁড়িয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। ৫ দিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে সেখানে। তাদের দেখাদেখি অন্যান্য সংগঠনও ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যার্থে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আগুন লাগার পরদিন ভোরবেলা থেকেই সাহায্যের কাজ শুরু করেছে এই প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকরা। সমাজের অনেক সম্মানিত ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছেন, তারা নিজেদেরকে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সেচ্ছাসেবক হিসেবে পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দবোধ করেন।

এক টাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ সুবিধাবঞ্ছিত মানুষের জন্য খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। প্রথম থেকে প্রতিষ্ঠাতা কিশোরের নিজ অর্থায়নে চললেও বর্তমানে সমাজের নানা পেশার মানুষের অর্থায়নে চলছে এর কার্যক্রম। কিন্তু অর্থ সংগ্রহে রয়েছে একটি প্রক্রিয়া এবং সচ্ছতা। যে কেউ চাইলেই অর্থ সাহায্য করতে পারেনা। এর জন্য তাদেরকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

খাবারের পাশাপাশি চলছে এক টাকায় চিকিৎসা এবং আইনি সহায়তা। এই বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এক টাকায় সাস্থ্যসেবা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার মানুষকে দেয়া হয়েছে এই সেবা। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে জড়িত শিশুদের আইনি সহায়তা দিয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠান তাও আবার এক টাকায়। এ সকল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঠিক পথে পরিচালনা করাই প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য উদ্দেশ্য।

/এফএএন/

 

লাইভ

টপ