Vision  ad on bangla Tribune

খাতা ভরে লিখব!

আসাদুজ্জামান, সাতক্ষীরা।।১৭:৫৮, অক্টোবর ২৬, ২০১৫

satkhira pic 2ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ সমন্বিত হয়ে বৃহৎ আকার ধারণ করে। আর তরুণরা যদি কোনও কল্যাণকর উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। তেমনি একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ ধীরে ধীরে বড় হয়ে সাতক্ষীরার সবার নজর কেড়েছে।

বেশি দিন আগের কথা নয়। গত আগস্ট মাসে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ছয় শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়িয়ে নিজেদের আয় করা টাকা একত্রিত করে দরিদ্র শিশু শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। ওই  মাসেই সাতক্ষীরা শহরের সিলভার জুবলি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ শিশু শিক্ষার্থীকে তিনটি করে খাতা ও কলম উপহার দেয় তারা। শিশুরা যখন তাদের পরিচয় জানতে চায় তখন ওরা বলে, আমরা তোমাদের ‘বড় বন্ধু’।

বড় বন্ধুত্বের এ উদ্যোগটি ছয় শিক্ষার্থী চালু রাখে। সেপ্টেম্বর মাসে আরও  ৩০ শিশু শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় এ  উপহার। পত্রপত্রিকায় এই খবর পড়ে ‘বড় বন্ধু’ খ্যাত কলেজ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগকে উৎসাহ জানাতে এগিয়ে আসেন এক চিকিৎসক। একইভাবে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন আরও  তিনজন।

সম্প্রতি উপহার হিসেবে খাতা-কলম দেওয়া হয়েছে ৬৩ জন শিশু শিক্ষার্থীকে। তাদের উচ্ছ্বসিত বাক্য—  ‘খাতা ভরে লিখব!’

একই সঙ্গে ছোট্ট বন্ধুদের হাতে উপহার তুলে দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত ‘বড় বন্ধু’ খ্যাত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শামছুন্নাহার মুন্নী, বাহলুল করিম, মফিজুল ইসলাম, নাইম চৌধুরী, এসএম নাহিদ হাসান ও অসীম রায়। উদ্যোগে সম্পৃক্ত হয়েছেন ডা. সুব্রত ঘোষ। পরবর্তী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক দেবাসীষ বসু শেখর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম।

উদ্যোগটি নিয়ে কথা হয় ‘বড় বন্ধুদের’ একজন  শামছুন্নাহার মুন্নীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ নিজ খরচে ছোট ছোট বন্ধুদের উপহার হিসেবে খাতা-কলম দেই। পেয়ে তারাও খুশি হয়, আমরাও আনন্দ পাই।’

আর এই উদ্যোগে নতুন সম্পৃক্ত ডা. সুব্রত ঘোষ জানান,‘পত্রিকায় পড়ে তাদের উদ্যোগ ভাল লেগেছে। ক্ষুদ্র উদ্যোগ, কিন্তু অসাধারণ।’

 

/এইচকে/এএ/

লাইভ

টপ