Vision  ad on bangla Tribune

মা ও খালার কাছ থেকে রাজনীতি শিখেছি: টিউলিপ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১০:২৮, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৫

টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক‘আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে আামি যুক্তরাজ্যের এমপি হবো, কিন্তু আমি হয়েছি। একজন ব্রিটিশ বাঙালি মুসলিম নারী হিসেবে সব রকম প্রতিবন্ধকতাই মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু আমি সবসময় চেষ্টা করেছি নিজের এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার। সে যত ছোট সমস্যাই হোক না কেন, তা সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমি আমার রাজনীতিতে তরুণদের অধিকারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। তাদের জন্য পলিসি তৈরি করেছি। সেটাই হয়তো আমাকে এখানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে’ যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য ও ছায়ামন্ত্রী টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন।
রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে তরুণদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বুধবার বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন টিউলিপ। সেন্টার ফর রিসার্চ এ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ শিক্ষক, চিকিৎসক ও রাজনৈতিক কর্মীদের সাথে টিউলিপের এই বিশেষ আলাপচারিতার আয়োজন করে। টিউলিপ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমার নানা শেখ মুজিবুর রহমান এবং খালা শেখ হাসিনার যে রাজনৈতিক মতাদর্শ তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা দুজনই সাধারণ ও গরীব মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতি করেছেন। ব্রিটেনের লেবার পার্টির মূল নীতিও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। যা খালা এবং নানার রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে মিলে যায়। তাই আমি লেবার পার্টি করি।’

রাজনীতির শিক্ষা কোথায় পেলেন-এমন এক প্রশ্নের জবাবে টিউলিপ বলেন, ‘আমার মা এবং খালার কাছ থেকে। রাজনীতি করতে গেলে সবার আগে ধৈর্য্য দরকার। আমি খালার কাছ থেকে সেটা শিখেছি। আরও একটা বিষয় তারা আমাকে শিখিয়েছেন, সেটা হলো বিনয়ী হওয়া। তারা সবসময় বলেন, তুমি যত বড়ই হওনা কেন, কখনও অহংকার করো না। অন্যের কথা শোনো। অন্যকে গুরুত্ব দাও। এটি রাজনীতির ক্ষেত্রে খুব জরুরি।’

টিউলিপ সিদ্দিক তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষা তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়ে বলেন, ‘আমরা একটু বড় হলেই অহংকারী হয়ে উঠি। এটা খুব খারাপ। কখনও অহংকারী হবেন না। নিজের লক্ষ্য স্থির রাখুন। তাহলেই কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন।’

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার বড় মেয়ে ব্রিটিশ বাঙালী টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক এবছর মে মাসে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি সেখানে লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিপরিষদে সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়া বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গত ২১ ডিসেম্বর স্বামীসহ বাংলাদেশ সফরে আসেন। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই তার প্রথম বাংলাদেশ সফর।

মা শেখ রেহানার সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিক

রাজনীতিকেই কেন বেছে নিলেন টিউলিপ সিদ্দিক এমন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ছোট বেলা থেকেই আমাদের বাড়িতে সবসময় রাজনীতির আলোচনা শুনেছি। আমার দাদা-দাদিও অত্যন্ত রাজনীতি সচেতন ও নারীবাদী ছিলেন। আমার নয় দশ বছর বয়সের সময় আমার বাবার খুব অসুখ হলো। তখন লন্ডনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস আমার বাবার চিকিৎসা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। যেখানে বলা হয়েছিলো আমার বাবা আর কোনদিন উঠে দাঁড়াতে পারবে না, সেই বাবা দিব্যি অধ্যাপনা করতে লাগলেন। সেসময় লন্ডনের চিকিৎসা ব্যবস্থায় মুগ্ধ হয়ে মানুষের সেবায় আত্বনিয়োগ করার লক্ষ্যেই নিজেকে রাজনীতির সাথে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই। ১২ বছর বয়স থেকেই লেবার পার্টির নানা কাজের সাথে যুক্ত হই। সেদেশের নিয়ম অনুযায়ী ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টিতে যোগ দেই।’

টিউলিপ সিদ্দিক ২০০৬ সালে ক্যামডেন কাউন্সিলের জন্য কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে গেলেও দমে যাননি। তিনি বলেন, ‘আমি হেরে গেলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতটা খুব উপভোগ করেছিলাম এবং পরবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।২০১০ সালের মে মাসে পুনরায় একই আসন থেকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হই। যে এলাকায় আমার মা-বাবার বিয়ে হয়েছে আমি সেই আসনেই বাস করি। সেই আসন থেকেই আমি এমপি নির্বাচিত হয়েছি।’ সূত্র: বাসস।

/এফএস/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ