মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া

সীমাবদ্ধতা ও তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি: স্বাধীন-জনমুখী কাঠামোর সন্ধানে

রেজাউর রহমান লেনিন
১২ জুন ২০২৬, ১৮:০০আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১৮:৫২

একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং মানবিক সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকারের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী আইনি কাঠামোর কোনও বিকল্প নেই। আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ কেবল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেই সমুন্নত করে না, বরং আইনের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার কাঠামো সংস্কারের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি অনলাইনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর ওপর জনসাধারণের মতামত ও পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে। দেশের আগামী দিনের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনি কাঠামো নির্ধারণে এই বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই সাধারণ নাগরিক ও সচেতন অংশীজন হিসেবে খসড়া দুটি মনোযোগ দিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়সীমার (১৪ জুন ২০২৬) মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে বা ই-মেইলের মাধ্যমে আপনার সুচিন্তিত মতামত, প্রস্তাব বা সংশোধনী জমা দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন।

তত্ত্ব ও তাত্ত্বিক বাস্তবতার বাইরে, বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এবং তৎপরতা নাগরিকবৃন্দ বেশ কিছু কাঠামোগত, পদ্ধতিগত ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন—যা আইনকে পুরোপুরি জনমুখী ও যুগোপযোগী করার পথে বাধা সৃষ্টি করে। আলোচ্য আইনটির  ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতার কোনও ব্যতিক্রম ঘটেনি। এখানে আইন প্রণয়নে নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ জনগণের (অংশীজন) কার্যকর মতামত নেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ এখনো সীমিত। উদাহরণস্বরূপ, এই আইনটি  নিয়ে বিগত ১৭ মে ২০২৬ তারিখে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিল, সেখানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসাবে আমন্ত্রিত অংশীজনদের প্রায় সবাই ছিলেন সুপরিচিত বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের (১০ থেকে ২০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে) শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকার আন্দোলনের তরুণ ও চিরসবুজ নেতৃত্ব! পক্ষান্তরে, সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে মানবাধিকার রক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রান্তিক তবে স্বাধীন ও একক মানবাধিকার কর্মীদের একজনকেও সরকার কর্তৃক আলোচনায় আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সমাজের নানা আর্থসামাজিক প্রতিনিধি ব্যতীত এই আইনের খসড়াও অচিরে আইনে পরিণত হবে, তবে হবার আগেই কতগুলো চিরসবুজ এবং অপেক্ষাকৃত তরুণ আশঙ্কার আলাপ তুলে বলে খসড়া আইনের মূল আলোচনায় যাওয়া যেতে পারে।

অনেক সময় মন্ত্রণালয় কর্তৃক খসড়া প্রকাশ করে নাগরিকদের মতামত চাওয়া হলেও প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো চূড়ান্ত আইনে প্রতিফলিত করার ক্ষেত্রে কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা বা স্বচ্ছতা থাকে না। আইনের প্রাথমিক খসড়া তৈরির কাজটি মূলত আমলাতান্ত্রিক বা প্রশাসনিক এবং সাম্প্রতিককালে তথাকথিত ‘বিশেষজ্ঞ’ স্তরে সম্পন্ন হয়। এর ফলে আইনের মূল দর্শনে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার চেয়ে অনেক সময় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও শাসন করার মানসিকতা বেশি প্রাধান্য পায়, যা আইনের গণতান্ত্রিক চরিত্রকে ক্ষুণ্ণ করে। পাশাপাশি, খসড়া বা বিল পাসের আগে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সেটির চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বিতর্ক হওয়া আবশ্যক হলেও আমাদের দেশে প্রায়শই পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় আলোচনা বা দীর্ঘমেয়াদি যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে বিল পাস করার প্রবণতা দেখা যায়। এতে আইনে নানামুখী অস্পষ্টতা ও ফাঁকফোকর থেকে যায়। খসড়া প্রণয়নের জন্য বিশেষায়িত আইনি জনবলের তীব্র সংকট যেমন রয়েছে, তেমনই আইন প্রণয়নের আগে প্রয়োজনীয় সামাজিক ও আইনি গবেষণাও পর্যাপ্ত হয় না। ফলস্বরূপ, অনেক সময় নতুন আইন বা অধ্যাদেশের বিতর্কিত ধারাগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার কিংবা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর বর্তমান খসড়াও এই বাস্তবতাকে অতিক্রম করতে পারেন নাই, সর্বোপরি, বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও জনমুখী করতে হলে মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনগুলো প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক ও ‘বিশেষজ্ঞ’ খোলস থেকে বের করে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গবেষণানির্ভর ও সংসদীয় জবাবদিহি আওতায় আনা জরুরি।

এবার মূল আলোচনায় যাওয়া যাক, প্রস্তাবিত খসড়া বিলের সবচেয়ে উদ্বেগজনক এবং মারাত্মক ত্রুটি হলো— শৃঙ্খল বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষেত্রে কমিশনকে কোনও স্বাধীন ক্ষমতা না দেওয়া। এই ক্ষমতার অনুপস্থিতি কমিশনকে গত এক দশক ধরে এক চরম প্রাতিষ্ঠানিক পঙ্গুত্বের মধ্যে বন্দি করে রেখেছে। এই সীমাবদ্ধতার কথা কমিশন নিজে বহুবার ক্ষোভের সঙ্গে স্বীকার করেছে এবং এটি সংশোধন করা তাদের প্রতিদিনের দাবিতে পরিণত হয়েছিল। তাই অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি জানানো প্রয়োজন, যেন নতুন আইনে—বিশেষ করে প্রস্তাবিত ২০ নম্বর ধারায় (যা ২০০৯ সালের আইনের ১৮ নম্বর ধারার স্থলাভিষিক্ত)—কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত আইনে শৃঙ্খলা-বাহিনীর ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতাকে যেভাবে সীমিত করা হয়েছে তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, কারণ বিগত এক দশকে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করার ক্ষেত্রে কমিশনের চরম অক্ষমতা ও ক্ষমতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে; তাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে হয় সরাসরি অভিযোগ তদন্ত করার অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিবেদন চাওয়ার দ্বৈত ক্ষমতা প্রদান সংক্রান্ত সুস্পষ্ট বিধান রাখা উচিত। তা না হলে, ভবিষ্যতে নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হিসেবে কমিশন বরাবরের মতোই তাদের সেই পুরোনো ভাঙা রেকর্ড বাজাতে থাকবে: ‘আমাদের তো তদন্ত করার ক্ষমতাই নেই।’’

তবে শুধু আইনি ক্ষমতার অভাবই একমাত্র সংকট নয়। বিগত এক দশকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ‘অপরাধ’ এবং ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’-এর মধ্যকার মৌলিক তফাৎ অনুধাবন করতে না পেরে চরম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কমিশন জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ৭০টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করলেও একটি একক ঘটনাতেও মানবাধিকার লঙ্ঘন খুঁজে পায়নি; বরং শক্তিশালী প্রাথমিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাজানো গল্পকে অন্ধের মতো গিলেছে এবং গুমকে ‘সাধারণ নিখোঁজ’ বলে দায়সারা অবস্থান নিয়েছে। একই ধরনের লজ্জাজনক চিত্র দেখা গেছে, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ৫৩টি এবং বিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের ৩০টি অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও। ‘মামলা বিচারাধীন রয়েছে’ কিংবা ‘এখতিয়ার নেই’—এমন সস্তা অজুহাতে সিংহভাগ গুরুতর অভিযোগ ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে কমিশন কেবল আইনের ভুল ব্যাখ্যাই করেনি, বরং প্রচলিত ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সাথে মানবাধিকার আইনি কাঠামোকে গুলিয়ে ফেলে ভুক্তভোগী নাগরিকদের সাথে এক চরম প্রতারণামূলক বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

প্রকৃতপক্ষে, এই সংকটের মূল কারণ আইনি এখতিয়ারের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং কমিশনের সভাপতি এবং সদস্যদের মেরুদণ্ড, সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। ২০০৯ সালের আইনে মানবাধিকার কমিশনকে যে আধা-বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, তার প্রকৃত মর্ম, প্রক্রিয়া ও প্রতিকার বাস্তবায়নের সমন্বিত কাঠামো অনুধাবন করতে না পারা তাদের চরম জ্ঞানগত দেউলিয়াত্বকে ফুটিয়ে তোলে। এই প্রাতিষ্ঠানিক জড়তা থেকে উত্তরণের জন্য কমিশনকে তাদের ক্ষমতা ও এখতিয়ারের ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, একটি সাধারণ অপরাধের চেয়ে কীভাবে একটি রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক মানবাধিকার লঙ্ঘন আলাদা ও স্বতন্ত্র, সেই তত্ত্বগত স্পষ্টতা তাদের মজ্জায় ঢুকিয়ে দিতে হবে, যেন ভবিষ্যতে তারা সাধারণ আদালতের মতো আচরণ না করে স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রদত্ত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন (খসড়া), ২০২৬’ ধারা ২-এর তদন্ত’ সংজ্ঞায়নে যথারীতি ‘অপরাধ’ এবং ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’-এর মধ্যকার মৌলিক তফাৎ অনুধাবন করতে পারে নাই। খসড়ার ধারা ২-এ ‘‘তদন্ত বলিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনও অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নির্ধারণ, ইহার প্রকৃতি ও কারণ নিরূপণ, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শনাক্তকরণ, দায়-এর পরিধি নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রস্তুতের প্রক্রিয়াকে বুঝাইবো’’ বলেছে,  কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতাকে সুনির্দিষ্ট করতে এবং ‘‘দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শনাক্তকর ‘’-এর পরিবর্তে “সরকার ও সরকারি কর্তৃপক্ষ” বাক্যাংশটি যুক্ত করে সংজ্ঞাটি সম্পূর্ণ করা যেত, যা আসলে করা হয় নাই। একইরকম ভুল রয়ে গিয়েছে, খসড়ায় ১৩ (ক) ধারায়  কমিশনের কার্যাবলি বর্ণনা করবার ক্ষেত্রেও, ‘‘এই আইনে সংজ্ঞায়িত মানবাধিকারের লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের প্ররোচনা সম্পর্কিত কোনও বিষয় অবগত হইবার পর যেকোনও ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে বা স্বতঃপ্রণোদিত হইয়া তদন্তপূর্বক প্রাথমিক সত্যতা উদঘাটনের আলোকে অত্র আইনের অধীন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ”; এখানে মনে রাখা দরকার ‘ব্যক্তির’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার কথা বলা হচ্ছে কেন? মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সাধারণত সরকারের বিরুদ্ধেই দায়ের করা হবে। এটি যদি কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়, তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে? মূল আইনে ‘রাষ্ট্র বা সরকার’ এবং ‘সরকারি কর্তৃপক্ষ’ সংক্রান্ত বিধানাবলি ছিল। বিগত আইনে যা এই শব্দ দুটি পুনর্বহাল করা প্রয়োজন, অন্যথায়, মানবাধিকার আইনের (যা পাবলিক ল বা সরকারি আইনের একটি অংশ) সমগ্র প্রকৃতিই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। একইরকম ভুল রয়ে গিয়েছে, খসড়ায় ধারা ১৩(খ), (ছ) এবং (ট) ধারায় কমিশনের কার্যাবলি বর্ণনায়ও।

খসড়ার ১৩ (খ) ধারায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের ভিত্তিতে প্রাথমিক সত্যতা নিরূপণের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির যে বিধান রাখা হয়েছে, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন কারণ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কোনও প্রথাগত আদালত নয়। যখন একজন দরিদ্র বা প্রান্তিক ভুক্তভোগী জানতে পারবেন যে তাকে একটি আনুষ্ঠানিক শুনানিতে অংশ নিতে হবে, তখন তিনি কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করতেই নিরুৎসাহিত বোধ করবেন। ঠিক একইভাবে, খসড়ার ১৩(ছ) ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য চিকিৎসাসহ পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে ‘অভিযুক্ত’ শব্দটির ব্যবহার বিভ্রান্তিকর, কারণ মানবাধিকার আইন মূলত পাবলিক ল’ বা সরকারি আইনের একটি অংশ এবং এখানে প্রাথমিক দায়বদ্ধতা সবসময় ব্যক্তি বিশেষের চেয়ে রাষ্ট্র, সরকার বা সরকারি কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। যদি কোনও ঘটনার লঙ্ঘনকারী বা অভিযুক্ত ব্যক্তি আর্থিকভাবে অসচ্ছল বা দরিদ্র হন, তবে কমিশন কীভাবে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করবে; ফলে সরকারের পরিবর্তে কোনও সাধারণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন আদেশ প্রদান করা হলে তা সম্পূর্ণ নিরর্থক ও অকার্যকর হয়ে পড়বে এবং সাধারণ নাগরিকেরা কমিশনে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এই কারণেই নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভজনক ব্যবসা পরিচালনার মতো বেসরকারি বা ব্যক্তিগত বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলোকে মানবাধিকার আইনের রাষ্ট্রীয় ও জন-বাধ্যবাধকতার সাথে গুলিয়ে ফেলা মোটেও সমীচীন নয়। বিদ্যমান এই ত্রুটিপূর্ণ এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ ধারার কারণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাজের পরিধি ও কার্যকারিতা বহুলাংশে সীমিত হয়ে পড়বে, তাই মানবাধিকার আইনের প্রকৃত দর্শনকে অক্ষুণ্ণ রাখতে ২০০৯ সালের মূল আইনের ১২ নম্বর ধারাটিকেই অপরিবর্তিতভাবে পুনর্বহাল করা উচিত।

প্রস্তাবিত আইনি ধারাগুলোতে নৈতিক ভাষা বা ‘মোরাল ফ্রেজ’ ব্যবহারের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট আইনি পরিভাষা ব্যবহার করা উচিত, কারণ খসড়ার ধারা ১৪ অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে সাধারণত ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ’ কোনও গ্রহণযোগ্য প্রতিরক্ষা বা আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি হিসেবে গণ্য হয় না। ধারা ১৬(১) অনুযায়ী অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে কোনও অভিযোগ প্রাথমিকভাবে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা মনে হলে—অভিযোগকারীর বক্তব্য শুনে তা নথিজাত করার যে প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে, তা কার্যত অর্থহীন এবং যখন কোনও অভিযোগ কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে থাকে, তখন তা শুরুতেই খারিজ করে দেওয়া উচিত, অন্যথায় এর ফলে নিরপরাধ ভুক্তভোগীরা বড় ধরনের পদ্ধতিগত জটিলতা বা প্রতিকূল ফলাফলের মুখোমুখি হয়ে কমিশনে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ধারা ১৬(৫) তদন্তের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে থানায় সোপর্দ করার যে ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হচ্ছে, তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে স্রেফ সরকারের একটি সাধারণ তদন্ত সংস্থায় রূপান্তরিত করবে। কমিশন কোনও আদালত কিংবা সরকারের কোনও তদন্তকারী শাখা নয় এবং প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী বিশ্বের কোনও জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানই অপরাধের তদন্ত বা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার মতো পুলিশি দায়িত্ব পালন করে না, ফলে এই বিধান যুক্ত করলে কমিশন তার মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে হারাবে।

প্রস্তাবিত আইনে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর পক্ষদের নোটিশ প্রদান, শুনানি গ্রহণ এবং দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতের মতো অভিযোগ নিষ্পত্তির (ধারা ১৭ উপধারা ২গ) যে প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে, তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে একটি প্রথাগত ফৌজদারি আদালতে রূপান্তরিত করবে। প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের কোনও জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানই এমন বিচারিক বা আদালতসুলভ ভূমিকা পালন করে না এবং তারা প্রথাগত আদালতের মতো কঠোর সাক্ষ্যপ্রমাণ সংক্রান্ত নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ নয়। সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি হলো, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রকৃত ক্ষতির দ্বিগুণ বা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ কোনও সাধারণ ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে আদায়ের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের নামে এক নির্মম উপহাসে পরিণত হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলা ও ক্ষতিপূরণের আদেশ মূলত রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; ফলে এই ধারাটি মূলত ফৌজদারি আইন ও মানবাধিকার আইনের মৌলিক দর্শনকে মারাত্মকভাবে গুলিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় কোনও সাধারণ ব্যক্তির কাছ থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণ আদায় করা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত বা কার্যকর করা সম্ভব নয়, কারণ আন্তর্জাতিক আইন ও ‘ভিকারিয়াস লায়াবিলিটি’ বা পরোক্ষ দায়ের নীতি অনুযায়ী এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মূল দায়িত্ব সবসময় সরকারের। কমিশন কোনও আদালত নয় এবং এটি যদি আদালতের মতো কাজ শুরু করে, তবে তা তার আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পূর্ণভাবে হারাবে। এর চূড়ান্ত খেসারত হিসেবে, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিভিন্ন কমিটি—যেমন সর্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনাকে, নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন এবং নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ -এর মতো বৈশ্বিক ফোরামগুলোর সাথে স্বাধীনভাবে কাজ করার যোগ্যতা ও সক্ষমতাও কমিশন চিরতরে হারিয়ে ফেলবে।

সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক প্রেরিত রেফারেন্সের তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার ধারার সাথে বিগত আইনের ১৮(১)(ক) এবং (খ) ধারার বিধানাবলি, অর্থাৎ হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করার ক্ষমতা যুক্ত করা আবশ্যক, কারণ বিশ্বব্যাপী জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদালতের 'কান ও হাত' হিসেবে গণ্য করা হয়। আদালতে বিচারাধীন কোনওবিষয়ে কমিশন তদন্ত পরিচালনা করবে না—এই বিধানটির গত এক দশকে চরম অপব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ৯০ শতাংশেরও বেশি অভিযোগ স্রেফ 'ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে' এবং 'কমিশনের এখতিয়ার নেই'—এমন অজুহাতে খারিজ করা হয়েছে। কমিশন হয়তো এই বিধানটি বোঝে না অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে এর অপব্যবহার করছে, অথচ বাংলাদেশের কোনও আদালতেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলা বিচারাধীন থাকে না এবং থাকতে পারেও না; তাই নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সুনির্দিষ্টভাবে এই বিধান যুক্ত করা উচিত যে, ‘অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন থাকার অজুহাতে কমিশন কোনও অভিযোগ নিষ্পত্তি বা খারিজ করতে পারিবে না।’ সর্বশেষে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক করা উচিত যে কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে তার বিস্তারিত বিধিমালা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করতে হবে, অন্যথায় ব্যর্থতার জন্য কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে গণ্য করা হবে। উল্লেখ্য যে বিগত এক দশকে হাইকোর্টের তিনটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কমিশন তার বিধিমালা প্রণয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা প্রমাণ করে সমস্যাটি আইনের নয়, বরং কমিশনের নিজস্ব সদিচ্ছার; কারণ কমিশন ক্রমাগত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সাধারণ ফৌজদারি অপরাধকে গুলিয়ে ফেলেছে এবং ভুলে গেছে যে ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণের জন্য ‘সন্দেহাতীত প্রমাণের’ প্রয়োজন হলেও, প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র বা সরকারি সংস্থার মানবাধিকার লঙ্ঘন নির্ধারণ করা কমিশনের মূল ম্যান্ডেট।

প্রয়োজনীয় পরিমার্জন ও আলোচনার সুবিধার্থে যে অতিরিক্ত বিধানাবলি যুক্ত করা উচিত, তা হলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশসমূহ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে কমিশন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করিতে বাধ্য থাকিবে এবং এই বাধ্যবাধকতা পূরণে যেকোনও ব্যর্থতা নিজেই ৬ নম্বর ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসাবে গণ্য হইবে। এর পাশাপাশি কমিশন সুশীল সমাজ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সাথে একটি বার্ষিক সভার আয়োজন করিবে, যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া, ফলাফল এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের সামগ্রিক চিত্র প্রকাশ করা হইবে। একই সাথে কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির নিকট একটি বার্ষিক অভিযোগ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করিতে বাধ্য থাকিবে এবং এই দায়িত্ব পালনে যেকোনও ব্যর্থতাকেও ৬ নম্বর ধারার অধীনে একটি স্বতন্ত্র ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে বিবেচনা করা হইবে। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিটি অভিযোগ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে এবং কোনও কর্মকর্তা এই কাজ করিতে ব্যর্থ হইলে তিনি এই আইন এবং সরকারি চাকরিজীবী আচরণ বিধিমালার অধীনে জন-কর্তব্য বা পাবলিক ডিউটি লঙ্ঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন। সর্বশেষে, কমিশনকে আগামী ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে তার বিস্তারিত বিধিমালা প্রণয়নের কাজ অবশ্যই সম্পন্ন করতে হইবে এবং এই আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে যেকোনও ধরনের ব্যর্থতা নিজেই ৬ নম্বর ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে গণ্য হইবে।

পরিশেষে বলা যায়, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি নাগরিক সুরক্ষায় একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করলেও এতে মারাত্মক তাত্ত্বিক ও পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়ে গেছে। সাধারণ অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলা, শৃঙ্খলা-বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত না করা এবং কমিশনকে আদালতে রূপান্তরের প্রয়াস প্যারিস নীতিমালার পরিপন্থি। একটি স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন গঠনে আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা পরিহার করে খসড়াটিতে ‘রাষ্ট্র ও সরকারি কর্তৃপক্ষ’-এর দায় সুনির্দিষ্ট করা এবং রিট দায়েরের ক্ষমতা যুক্ত করা আবশ্যক। অতএব, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে নাগরিক সমাজ ও প্রান্তিক অংশীজনদের সুচিন্তিত মতামত গ্রহণের মাধ্যমে এই খসড়াকে একটি জনমুখী ও যুগোপযোগী আইনে রূপান্তর করা জরুরি, অন্যথায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের মানবাধিকার সুরক্ষার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং কমিশন বৈশ্বিক ফোরামগুলোতে স্বাধীনভাবে কাজ করার যোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চিরতরে হারিয়ে ফেলবে।

লেখক: গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
কল্পনা চাকমা অপহরণ৩০ বছরেও মেলেনি উত্তর, স্বাধীন তদন্তের দাবি
‘পুশইন ও শূন্যরেখায় মানুষকে আটকে রাখার ঘটনা মানবাধিকার নীতির পরিপন্থি’
স্বাধীন নয়, মানবাধিকার কমিশন হবে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন: টিআইবি 
সর্বশেষ খবর
ভারতের অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের বিক্ষোভের ডাক
ভারতের অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের বিক্ষোভের ডাক
‘দেশে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা, শিগগিরই আসছে চীনা প্রতিনিধিদল’
‘দেশে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা, শিগগিরই আসছে চীনা প্রতিনিধিদল’
ভারত-বাংলাদেশ এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে: নতুন হাইকমিশনার
ভারত-বাংলাদেশ এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে: নতুন হাইকমিশনার
বেলফাস্টে অভিবাসীদের ওপর হামলা, ঘরবন্দি ৩ হাজার বাংলাদেশি
বেলফাস্টে অভিবাসীদের ওপর হামলা, ঘরবন্দি ৩ হাজার বাংলাদেশি
সর্বাধিক পঠিত
১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল, কার কত বেতন
১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল, কার কত বেতন
সংসদ নির্বাচনে ২৭ হাজার ভোটে পরাজিত বিএনপি নেতা পেলেন নতুন দায়িত্ব
সংসদ নির্বাচনে ২৭ হাজার ভোটে পরাজিত বিএনপি নেতা পেলেন নতুন দায়িত্ব
দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত
দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত
ভাইকে দেখে কাঁদতে শুরু করেন সেই বৃদ্ধ, ভারতে গেলেন কীভাবে
ভাইকে দেখে কাঁদতে শুরু করেন সেই বৃদ্ধ, ভারতে গেলেন কীভাবে
বাংলাদেশে এসেই ভিসা নিয়ে যা বললেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার
বাংলাদেশে এসেই ভিসা নিয়ে যা বললেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার