এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগে পাঁচ পরীক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তাদের মধ্যে একজন নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অপর চারজনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, সন্তান, ভাগনি ও পরিবারের সদস্যদের দিয়ে উত্তরপত্রের বৃত্ত পূরণ করানোর অভিযোগ উঠেছে, যার ভিডিও ও স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
সোমবার (১ জুন) জারি করা এক অফিস আদেশে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষক মো. আ. রশিদ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বোর্ডের অভিযোগ, একজন পরীক্ষকের জন্য নির্ধারিত ৩০০ উত্তরপত্রের পরিবর্তে তিনি তথ্য গোপন করে ৭০০ উত্তরপত্র গ্রহণ করেন এবং অল্প সময়ে সেগুলো মূল্যায়ন করে প্রধান পরীক্ষকের কাছে জমা দেন।
বোর্ডের নিয়ম-নীতি লঙ্ঘনের দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে।
একই দিন জারি করা আরেক অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার গণিত বিষয়ের উত্তরপত্র পরিবারের সদস্যদের দিয়ে বৃত্ত পূরণ করানোর ভিডিও ও স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষক শাহজাহানকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
এর আগে ১৯ মে জারি করা অফিস আদেশে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া চতল বাইদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পরীক্ষক মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ইংরেজি প্রথম পত্রের উত্তরপত্রের বৃত্ত পূরণ করানোর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের বিষয়ে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে।
২০ মে জারি করা আরেক আদেশে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ঘোপঘাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পরীক্ষক মো. মাহাবুব রহমানের বিরুদ্ধে সন্তান ও ভাগনিকে দিয়ে বাংলা প্রথম পত্রের উত্তরপত্রের বৃত্ত পূরণ করানোর অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ২৪ মে জারি করা অফিস আদেশে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পরীক্ষক মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের দিয়ে পূরণ করানোর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের বিষয়ে তার কাছেও ব্যাখ্যা চেয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বলছে, পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তি, শিক্ষার্থী কিংবা পরিবারের সদস্যকে দিয়ে উত্তরপত্রের বৃত্ত পূরণ বা মূল্যায়ন করানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব ঘটনায় বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।









