X
বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

একান্ত সাক্ষাৎকারে আছাদুজ্জামান মিয়া

ক্যাসিনো নিয়ে এত কথা বলছেন, অন্য সেক্টরের অবস্থা তো আরও গুরুতর

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৩৮

আছাদুজ্জামান মিয়া‘ক্যাসিনো’ সংস্কৃতি রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ার সময় তিনি ছিলেন ডিএমপির দায়িত্বে। ফলে অনেকেই ‘ক্যাসিনো’ বন্ধ করতে না পারার পেছনে পুলিশকে দায়ী করছেন, পুলিশ কর্মকর্তারা এসবের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করছেন। নাকের ডগায় ক্যাসিনো চলার পরও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণ জানতে যোগাযোগ করা হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদ্য সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার  সঙ্গে। ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এর উত্তর দিয়েছেন পুলিশের এই সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা। তার সময়ের অপরাধ বিশেষ করে ক্যাসিনোসহ চাঁদাবাজি ও দখলবাজি এবং এগুলো পরিচালনায় জড়িতদের ক্ষমতা সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।   

প্রশ্ন করা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক বছর ধরেই অবৈধভাবে জেঁকে বসেছিল ক্যাসিনোগুলো। অবৈধ ক্যাসিনো বন্ধ করতে না পারার বিষয়টি পুলিশ কমিশনার হিসেবে আপনার বা পুলিশের ব্যর্থতা ছিল কিনা?

জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদ্য বিদায়ী কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এই যে ক্লাবগুলোতে বছরের পর বছর ধরে হাউজি ছিল। হাউজির জায়গা ওয়ান-টেন নিলো, ওয়ান-টেনের জায়গা নিলো ক্যাসিনো। এখন সবাই পুলিশকে দোষারোপ করছে। বুঝলাম, পুলিশ ফেল করেছিল। তাহলে বাকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা গোয়েন্দা সংস্থা যেগুলো আছে—তাদের সফলতা কী ছিল? এই পুলিশের বাইরে আরও তো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রয়েছে। র‌্যাবের কথা বলছেন, যাদের এখন আপনারা ক্রেডিট দিচ্ছেন তখনও তো তারা এই মাঠেই ছিল। আমাদের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও তো মাঠে এসব নিয়ে কাজ করেছে। আমাদের সাংবাদিকরাও তো ছিল। আজ পত্রিকা খুললে ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে যেভাবে চিত্রগুলো উঠে আসছে, যেভাবে কেচ্ছাকাহিনি উঠে আসছে, এর সঙ্গে জড়িতদের নাম উঠে আসছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনার আগে এভাবে কি এসেছে? কোনও ক্ষেত্রে হয়তো হালকা-পাতলা জুয়া খেলা হচ্ছে বলে এসেছে। এখন যে মাত্রায় এই জিনিসটা আসছে এর ছিটেফোঁটাও কি আমরা মিডিয়ায় দেখেছি? দেখি নাই। তাহলে ব্যর্থতার কথা যদি বলেন, তাহলে এই ব্যর্থতা আমাদের সকলের। এই ব্যর্থতা আমাদের সমাজের।’

আছাদুজ্জামান মিয়া গত সাড়ে চার বছর ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে গত ১৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে গিয়েছেন। এরপর সরকার তাকে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সমন্বয়ক হিসেবে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে এ পদেই দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটাকে পুলিশের একক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ পুলিশের মুষ্টিমেয় সদস্য যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। যারা ধরা পড়েছে তারাও স্বীকারোক্তি দিচ্ছে। এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে যারাই জড়িত থাকুক, পুলিশ হোক বা সাংবাদিক হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এখানে সাংবাদিকের নাম এসেছে, পুলিশের নাম এসেছে, গোয়েন্দাদের নাম এসেছে। কার নাম আসে নাই? নেতার নাম আসছে। যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিলেই এই অবস্থার আর পুনরাবৃত্তি হবে না। যাদের ধরা হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবার তালিকা করা হোক।  যারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে, যারা অর্থায়ন করেছে, যারা সুবিধা নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ব্যক্তিগত জবাবদিহিতার কথা যদি বলেন, তাহলে বলবো−আমাদের সোর্স অব ইনফরমেশনটা কী? সোর্স অব ইনফরমেশন হলো−এক, থানা পুলিশ আমাদের জানাবে কোথায় কী হচ্ছে। দুই, গোয়েন্দা সংস্থা যেগুলো আছে, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, এনএসআই, ডিজিএফআই তারা আমাদের জানায় যে এখানে এটা হচ্ছে। তিন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি কোথায় কী হচ্ছে। আর চতুর্থ হলো পিপলস। জনগণ বা রাজনীতিকদের মধ্য থেকেও আমাদের জানানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি কমিশনার থাকা অবস্থায় এরকম দুই-চারটা অভিযোগ এসেছিল। এগুলো হলো, প্রীতম জামান টাওয়ারে সম্রাটরাই একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই ধরনের ক্যাসিনো চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এটা যখনই আমার নলেজে এসেছে, আমি খবর নিয়ে দেখি ঘটনা সত্যি। আমরা কিন্তু ওটা সিলগালা করে দিয়েছি। উত্তরা রিক্রিয়েশন ক্লাবে এধরনের জুয়া খেলার কথা যখনই আমাদের কানে এসেছে আমরা কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করে দিয়েছি। গুলশানে একটা ক্লাবে হতো, আমরা তাও বন্ধ করে দিয়েছি। কলাবাগান ক্লাবে দেড় বছর আগে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য ক্লাবের কথা যদি বলি, আজ  যেভাবে খবরটা আসছে আমার কাছে কিন্তু পারসোনালি খবর ছিল না। আমার কাছে খবর ছিল, হাউজি-টাউজি খেলে, ওয়ান-টেন খেলে, ওটার টাকা ওই যে ক্রীড়া সংগঠনের কাজে ব্যয় করা হয়। এটা রাজনীতিবিদ বলেন, সাংবাদিক বলেন, প্রশাসন বলেন, সবারই কিন্তু একটা...। কিন্তু এটা যে আধুনিক ক্যাসিনো বা জুয়া খেলায় রূপান্তরিত হয়েছে তা আমার জানা ছিল না। না থাকার কারণ হলো, আমার কাছে যেটা মনে হচ্ছে এখন ঘটনা দেখে এবং সংবাদমাধ্যমে পড়ে, একদম মাঠপর্যায়ে একটা আনহোলি ইউনিটি, একটা অসাধু চক্র গড়ে উঠেছিল। যে কারণে আমাদের কান পর্যন্ত যতগুলো সোর্স অব ইনফরমেশন বললাম, আগে যদি পত্রিকায় এভাবে লেখা হতো, গোয়েন্দা সংস্থা যদি সতর্ক করতো, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি সতর্ক করতো বা জনগণের মাধ্যমে যদি এধরনের প্রতিবাদ পাওয়া যেত, তাহলে তাৎক্ষণিক আমাদের নলেজে আসতো। কিন্তু পারসোনালি আমি যদি বলি, আমার এডিশনাল কমিশনার বা জয়েন্ট কমিশনার এই নিউজগুলো কিন্তু আমাদের কাছে এভাবে আসে নাই। তো সামগ্রিকভাবে আপনাকে বলতে হবে এটা একটা সিস্টেমের ফেইলিওর ছিল।’

বর্তমানে ক্যাসিনো কাণ্ডে সবচেয়ে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নাকের ডগায় বছরের পর বছর ধরে ক্যাসিনো বা জুয়া খেলা চললেও পুলিশের পক্ষ থেকে তা বন্ধে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কেন, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা-সমালোচনা। বলা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পুলিশও এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। ক্যাসিনোগুলো থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিত পুলিশ সদস্যরা। বাংলা ট্রিবিউনের প্রশ্নের জিজ্ঞাসায় সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘দেখুন, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়, বিভাগীয় শহরে এবং ঢাকা শহরে যুগ যুগ ধরে স্পোর্টস ক্লাবগুলোতে হাউজি চলে আসছিল। ধারণাটা এমন ছিল, স্পোর্টস ক্লাবগুলোর দৃশ্যত কোনও ইনকাম নাই। খেলাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া, খেলোয়াড় তৈরি করা, ক্রীড়া জগৎকে উৎসাহিত করার জন্যে, এই যে হাউজিগুলো, এটি অনেক ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা অনুমতি দিয়ে থাকেন। মহানগরেও এটা ছিল কিন্তু, এটি আরও দশ বছর আগে যদি যাই, ধীরে ধীরে হাউজির পাশাপাশি কোনও কোনও জায়গায় ওয়ান-টেন খেলা চালু হয়। রাজনৈতিক-সামাজিক প্রভাবশালীরা ধীরে ধীরে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। আজ এই যে নৈরাজ্যটা হয়েছে, এটা এমন নয় যে ওভারনাইট এই নৈরাজ্যটা তৈরি হয়েছে। এখন এই নৈরাজ্যটা বন্ধ করতে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা দরকার ছিল সেটি হলো, যে যখনই ক্ষমতায় থাকুক না কেন রাষ্ট্রের যারা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এগুলো গুঁড়িয়ে দাও, এখন গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অলরেডি র‌্যাব-পুলিশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে।  কিন্তু বাস্তবতা হলো, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে বিষয়টি কিন্তু কঠিন ছিল। আপনারা সবই জানেন, যারা এসব করেছে তারা কেউ চুনোপুঁটি নয়। তারা কিন্তু পলিসি মেকার। সেই ক্ষেত্রে এককভাবে পুলিশের পক্ষে এটাকে নির্মূল করা অসম্ভব বলবো না, বলবো যে কঠিন কাজ ছিল।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশের সম্পর্কে যে নেতিবাচক কথা বলা হচ্ছে, আমি পুরোপুরি একমত হবো না। যদি পত্রিকার কথামতো বলি যে এটা আরও দুই চার বছর আগে থেকে শুরু হয়েছে, তাহলে বুঝলাম পুলিশ ফেল করেছিল। তাহলে বাকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গোয়েন্দা সংস্থা তাদের সফলতা কি ছিল? তার মানে এটা মানতেই হবে যে ইটস অ্যা ফেইলিয়র অব দ্য সিস্টেম। ইটস দ্য টোটাল ফেইলিয়র অব দ্য অ্যাডমিনেস্ট্রেশন, টোটাল ফেইলিয়র অব দ্য সোসাইটি।’

তিনি যোগ করেন, ‘আপনি যদি খণ্ডিতভাবে বলেন, দিস ইজ দ্য ফেইলিয়র অব দ্য পুলিশ, যদি বলেন পুলিশের ইমেজ নষ্ট হয়েছে, আমি এটার সঙ্গে একমত না। আপনি পুলিশকে যদি ব্লেম দেন তাতে সমাধান হবে না। বাস্তবতা হলো বিপদে পড়লে পুলিশের কাছে যেতে হবে, মামলা করতে হলে পুলিশের কাছে যেতে হবে। যদি যেতে হয়, তাহলে পুলিশকে কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। অ্যাট দ্য সেইম টাইম যারা এসব অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এসবের সঙ্গে ১০, ২০ বা ৫০ জন জড়িত, বাকিরা তো জড়িত না। এটা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে হতোদ্যম করলে দেশের ক্ষতি হবে। এখন পুলিশকে ঢালাওভাবে দোষ দেওয়া যাবে না।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘বলা হচ্ছে পুলিশ দোষী। এখানে তো সাংবাদিকরাও ছিলেন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন, রাজনীতিবিদরাও ছিলেন, কেউ তো এটা নিয়ে সোচ্চার হয় নাই? যখনই অনারেবল পিএম বললেন, তখন সবাই ক্যাসিনো জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হুমড়ে পড়লেন। আপনি যদি এটা বিশ্লেষণ করেন, তাহলে দেখবেন এই ব্যর্থতা রাষ্ট্রের। এই ব্যর্থতা সবার। এখানে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে আমি তা মনে করি না।’

সাবেক এই কমিশনার বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি পুলিশকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলে পুলিশ অবশ্যই কাজ করতে পারে। দুই চার জন খারাপ লোক থাকবে। আড়াই লাখ পুলিশের মধ্যে দুই চার পাঁচ হাজার খারাপ থাকতে পারে। এই ক্যাসিনোর ঘটনায় যারা ধরা পড়েছে, যারা এগুলোর আয়োজক তাদের ধরে, তথ্যাদি সংগ্রহ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। কারা এই দুষ্ট চক্রের সঙ্গে জড়িত? সাংবাদিক জড়িত ছিল, পুলিশ জড়িত ছিল, প্রশাসন জড়িত ছিল, গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত ছিল, রাজনীতিবিদ জড়িত ছিল, এদের শনাক্ত করে ও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তা দৃশ্যমান করা হোক। যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের কর্ম করতে না পারে। রাজনৈতিক প্রভাব, সামাজিক প্রভাবের কারণে যারা এটা করছে, যারা যেভাবে করছে, হয়তো আমাদের নিচের দিকের অনেকেই সুযোগ সুবিধা নিয়েছে এটা তো তদন্তে বের হয়ে আসবে। এটা তো গোপন রাখার বিষয় না। যে টাকা দিয়েছে ওর কাছে তো কাগজ আছে, ওর কাছে লিস্ট আছে। ও তো বলে দেবে আমি মাসে অমুককে এত টাকা দিতাম। সব বের হয়ে আসবে।’

‘যারা এর সঙ্গে জড়িত, ধরা পড়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যাবে কারা বেনিফিশিয়ারি, কারা এই দুষ্ট চক্রের সঙ্গে ছিল, কে কে টাকা-পয়সা নিয়েছে, কে কে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। তাদের তালিকা বের করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক সাজার ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে যাতে এইরকম আর না হয়, রাজনৈতিকভাবেও তাদের অবস্থান প্রকাশ করা হোক। এর জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন। বিধায় এটি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। এবং এটা ধরে রাখাও সম্ভব হবে যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা স্থায়ী হয়। তা না হলে খালেদ বা সম্রাটের জায়গায় নতুন খালেদ সম্রাট তৈরি হবে। জায়গা বদল হবে।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এই ক্যাসিনোর বিষয়টি যদি আমাদের নলেজে আসতো, আজ যেভাবে এসেছে, অবশ্যই সেটা  প্রধানমন্ত্রীর নলেজে দিয়ে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম। যেগুলো এসেছে সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এটা যে এত ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে এই নলেজটা এই নিউজটা এই ইনফরমেশনটা আমাদের ছিল না। সেটা যদি আমাদের ব্যর্থতা বলেন অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা। তবে এই ব্যর্থতা আমার একা না। আমি সাংবাদিকদেরও বলবো, আমি রাজনীতিবিদদেরও বলবো, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও বলবো। আজকে যারা ক্রেডিট নিচ্ছে, আমি কোনও সংস্থার নাম ধরে বলবো না। আপনারা তো তখনও ছিলেন, কই আপনারা তো তখন কোনও ব্যবস্থা নেন নাই? এখন কেন সব দোষ পুলিশের একার ঘাড়ে চাপাবেন? হ্যাঁ, দোষ যদি হয়ে থাকে এই দোষে সবাই দুষ্ট আমরা। সবচেয়ে বড় কথা হলো রাজনৈতিক নির্দেশনা এবং সদিচ্ছা ছাড়া শুধু পুলিশের একার পক্ষে এগুলো বন্ধ করা কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘আপনি এখন ক্যাসিনো নিয়ে এত কথা বলছেন, এখন যদি অন্য সেক্টরের কথা বলি? অন্য সেক্টরের অবস্থা তো আরও গুরুতর। পরিবহন সেক্টরে কেউ গাড়ি চালাতে পারে টাকা না দিয়ে রাস্তায়? আসেন শেয়ার কেলেঙ্কারিতে, কোথায় গেল এই টাকা? কারা করছে শেয়ার কেলেঙ্কারি? এটা খুঁজে বের করলে অনেক কিছু বের হয়ে যাবে না? শেয়ার কেলেঙ্কারি, ব্যাংকের টাকা লুটের কথা যদি বলি, তারপর পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজির কথা বলি। খাল-বিল-ফুটপাত দখলের কাহিনি বলি। বহু কাহিনি খুঁজে দেখেন, এর পেছনে কারা? এখন পুলিশকে যদি ওই ধরনের নৈতিক সাহস এবং শক্তি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা নির্দেশনা প্রদান করা না হয়, চালাতে পারবেন পুলিশকে? ইট উইল বি ভেরি টাফ অন দ্য পার্ট অব পুলিশ টু প্রিভেন্ট অল থিংস। আজকে যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এইভাবে কথা না বলতেন, এইভাবে নির্দেশনা না দিতেন, আজকে যারা এত বড় বড় কথা বলছেন তা বলতে পারতেন? এটা হলো বাস্তবতা।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘পুলিশকে যারা ব্লেম করার চেষ্টা করছেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, হ্যাঁ বুঝলাম পুলিশ খারাপ। এই ক্যাসিনো যখন শুরু হয়, আপনারাও তো ছিলেন তখন, আপনারা কিছু করে দেখাইতেন। ক্যাসিনো বন্ধ করে বলতেন পুলিশ করে নাই কারণ পুলিশ এইটার সঙ্গে যুক্ত। কই তা তো করেন নাই। এখন প্রধানমন্ত্রী বলার পর সবাই যার যার মতো ক্রেডিট নিচ্ছেন। এটা তো যৌক্তিক হলো না।’ 

/এফএস/টিএন/এমএমজে/

সম্পর্কিত

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি: আলালের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও জিডি

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি: আলালের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও জিডি

পাঁচ ঘণ্টা র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ইমনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

পাঁচ ঘণ্টা র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ইমনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

আবরার হত্যার রায় আজ, সর্বোচ্চ শাস্তি চান বাবা

আবরার হত্যার রায় আজ, সর্বোচ্চ শাস্তি চান বাবা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি: আলালের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও জিডি

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি: আলালের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও জিডি

পাঁচ ঘণ্টা র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ইমনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

পাঁচ ঘণ্টা র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ইমনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

আবরার হত্যার রায় আজ, সর্বোচ্চ শাস্তি চান বাবা

আবরার হত্যার রায় আজ, সর্বোচ্চ শাস্তি চান বাবা

স্বাক্ষর জাল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানোর অভিযোগে দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্বাক্ষর জাল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানোর অভিযোগে দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা

মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

পার্বত্য চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি বিশিষ্টজনদের

পার্বত্য চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি বিশিষ্টজনদের

র‍্যাব হেফাজতে চিত্রনায়ক ইমন

র‍্যাব হেফাজতে চিত্রনায়ক ইমন

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

ডেসটিনির প্রতিবেদন গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

ডেসটিনির প্রতিবেদন গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

সর্বশেষ

নমুনা না দিয়েই করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট পেলেন তিন বিদেশগামী

নমুনা না দিয়েই করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট পেলেন তিন বিদেশগামী

মেসি-এমবাপ্পের জোড়ায় ব্রুজকে উড়িয়ে  দিলো পিএসজি, হেরেছে ম্যান সিটি

মেসি-এমবাপ্পের জোড়ায় ব্রুজকে উড়িয়ে দিলো পিএসজি, হেরেছে ম্যান সিটি

৬ রোহিঙ্গাকে হত্যা, একজনের স্বীকারোক্তি

৬ রোহিঙ্গাকে হত্যা, একজনের স্বীকারোক্তি

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি: আলালের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও জিডি

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি: আলালের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও জিডি

বেগম রোকেয়া পদক ২০২১ পাচ্ছেন যারা

বেগম রোকেয়া পদক ২০২১ পাচ্ছেন যারা

© 2021 Bangla Tribune