X
বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

একান্ত সাক্ষাৎকারে আছাদুজ্জামান মিয়া

ক্যাসিনো নিয়ে এত কথা বলছেন, অন্য সেক্টরের অবস্থা তো আরও গুরুতর

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৩৮

আছাদুজ্জামান মিয়া‘ক্যাসিনো’ সংস্কৃতি রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ার সময় তিনি ছিলেন ডিএমপির দায়িত্বে। ফলে অনেকেই ‘ক্যাসিনো’ বন্ধ করতে না পারার পেছনে পুলিশকে দায়ী করছেন, পুলিশ কর্মকর্তারা এসবের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করছেন। নাকের ডগায় ক্যাসিনো চলার পরও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণ জানতে যোগাযোগ করা হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদ্য সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার  সঙ্গে। ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এর উত্তর দিয়েছেন পুলিশের এই সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা। তার সময়ের অপরাধ বিশেষ করে ক্যাসিনোসহ চাঁদাবাজি ও দখলবাজি এবং এগুলো পরিচালনায় জড়িতদের ক্ষমতা সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।   

প্রশ্ন করা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক বছর ধরেই অবৈধভাবে জেঁকে বসেছিল ক্যাসিনোগুলো। অবৈধ ক্যাসিনো বন্ধ করতে না পারার বিষয়টি পুলিশ কমিশনার হিসেবে আপনার বা পুলিশের ব্যর্থতা ছিল কিনা?

জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদ্য বিদায়ী কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এই যে ক্লাবগুলোতে বছরের পর বছর ধরে হাউজি ছিল। হাউজির জায়গা ওয়ান-টেন নিলো, ওয়ান-টেনের জায়গা নিলো ক্যাসিনো। এখন সবাই পুলিশকে দোষারোপ করছে। বুঝলাম, পুলিশ ফেল করেছিল। তাহলে বাকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা গোয়েন্দা সংস্থা যেগুলো আছে—তাদের সফলতা কী ছিল? এই পুলিশের বাইরে আরও তো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রয়েছে। র‌্যাবের কথা বলছেন, যাদের এখন আপনারা ক্রেডিট দিচ্ছেন তখনও তো তারা এই মাঠেই ছিল। আমাদের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও তো মাঠে এসব নিয়ে কাজ করেছে। আমাদের সাংবাদিকরাও তো ছিল। আজ পত্রিকা খুললে ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে যেভাবে চিত্রগুলো উঠে আসছে, যেভাবে কেচ্ছাকাহিনি উঠে আসছে, এর সঙ্গে জড়িতদের নাম উঠে আসছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনার আগে এভাবে কি এসেছে? কোনও ক্ষেত্রে হয়তো হালকা-পাতলা জুয়া খেলা হচ্ছে বলে এসেছে। এখন যে মাত্রায় এই জিনিসটা আসছে এর ছিটেফোঁটাও কি আমরা মিডিয়ায় দেখেছি? দেখি নাই। তাহলে ব্যর্থতার কথা যদি বলেন, তাহলে এই ব্যর্থতা আমাদের সকলের। এই ব্যর্থতা আমাদের সমাজের।’

আছাদুজ্জামান মিয়া গত সাড়ে চার বছর ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে গত ১৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে গিয়েছেন। এরপর সরকার তাকে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সমন্বয়ক হিসেবে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে এ পদেই দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটাকে পুলিশের একক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ পুলিশের মুষ্টিমেয় সদস্য যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। যারা ধরা পড়েছে তারাও স্বীকারোক্তি দিচ্ছে। এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে যারাই জড়িত থাকুক, পুলিশ হোক বা সাংবাদিক হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এখানে সাংবাদিকের নাম এসেছে, পুলিশের নাম এসেছে, গোয়েন্দাদের নাম এসেছে। কার নাম আসে নাই? নেতার নাম আসছে। যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিলেই এই অবস্থার আর পুনরাবৃত্তি হবে না। যাদের ধরা হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবার তালিকা করা হোক।  যারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে, যারা অর্থায়ন করেছে, যারা সুবিধা নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ব্যক্তিগত জবাবদিহিতার কথা যদি বলেন, তাহলে বলবো−আমাদের সোর্স অব ইনফরমেশনটা কী? সোর্স অব ইনফরমেশন হলো−এক, থানা পুলিশ আমাদের জানাবে কোথায় কী হচ্ছে। দুই, গোয়েন্দা সংস্থা যেগুলো আছে, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, এনএসআই, ডিজিএফআই তারা আমাদের জানায় যে এখানে এটা হচ্ছে। তিন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি কোথায় কী হচ্ছে। আর চতুর্থ হলো পিপলস। জনগণ বা রাজনীতিকদের মধ্য থেকেও আমাদের জানানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি কমিশনার থাকা অবস্থায় এরকম দুই-চারটা অভিযোগ এসেছিল। এগুলো হলো, প্রীতম জামান টাওয়ারে সম্রাটরাই একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই ধরনের ক্যাসিনো চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এটা যখনই আমার নলেজে এসেছে, আমি খবর নিয়ে দেখি ঘটনা সত্যি। আমরা কিন্তু ওটা সিলগালা করে দিয়েছি। উত্তরা রিক্রিয়েশন ক্লাবে এধরনের জুয়া খেলার কথা যখনই আমাদের কানে এসেছে আমরা কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করে দিয়েছি। গুলশানে একটা ক্লাবে হতো, আমরা তাও বন্ধ করে দিয়েছি। কলাবাগান ক্লাবে দেড় বছর আগে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য ক্লাবের কথা যদি বলি, আজ  যেভাবে খবরটা আসছে আমার কাছে কিন্তু পারসোনালি খবর ছিল না। আমার কাছে খবর ছিল, হাউজি-টাউজি খেলে, ওয়ান-টেন খেলে, ওটার টাকা ওই যে ক্রীড়া সংগঠনের কাজে ব্যয় করা হয়। এটা রাজনীতিবিদ বলেন, সাংবাদিক বলেন, প্রশাসন বলেন, সবারই কিন্তু একটা...। কিন্তু এটা যে আধুনিক ক্যাসিনো বা জুয়া খেলায় রূপান্তরিত হয়েছে তা আমার জানা ছিল না। না থাকার কারণ হলো, আমার কাছে যেটা মনে হচ্ছে এখন ঘটনা দেখে এবং সংবাদমাধ্যমে পড়ে, একদম মাঠপর্যায়ে একটা আনহোলি ইউনিটি, একটা অসাধু চক্র গড়ে উঠেছিল। যে কারণে আমাদের কান পর্যন্ত যতগুলো সোর্স অব ইনফরমেশন বললাম, আগে যদি পত্রিকায় এভাবে লেখা হতো, গোয়েন্দা সংস্থা যদি সতর্ক করতো, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি সতর্ক করতো বা জনগণের মাধ্যমে যদি এধরনের প্রতিবাদ পাওয়া যেত, তাহলে তাৎক্ষণিক আমাদের নলেজে আসতো। কিন্তু পারসোনালি আমি যদি বলি, আমার এডিশনাল কমিশনার বা জয়েন্ট কমিশনার এই নিউজগুলো কিন্তু আমাদের কাছে এভাবে আসে নাই। তো সামগ্রিকভাবে আপনাকে বলতে হবে এটা একটা সিস্টেমের ফেইলিওর ছিল।’

বর্তমানে ক্যাসিনো কাণ্ডে সবচেয়ে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নাকের ডগায় বছরের পর বছর ধরে ক্যাসিনো বা জুয়া খেলা চললেও পুলিশের পক্ষ থেকে তা বন্ধে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কেন, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা-সমালোচনা। বলা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পুলিশও এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। ক্যাসিনোগুলো থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিত পুলিশ সদস্যরা। বাংলা ট্রিবিউনের প্রশ্নের জিজ্ঞাসায় সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘দেখুন, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়, বিভাগীয় শহরে এবং ঢাকা শহরে যুগ যুগ ধরে স্পোর্টস ক্লাবগুলোতে হাউজি চলে আসছিল। ধারণাটা এমন ছিল, স্পোর্টস ক্লাবগুলোর দৃশ্যত কোনও ইনকাম নাই। খেলাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া, খেলোয়াড় তৈরি করা, ক্রীড়া জগৎকে উৎসাহিত করার জন্যে, এই যে হাউজিগুলো, এটি অনেক ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা অনুমতি দিয়ে থাকেন। মহানগরেও এটা ছিল কিন্তু, এটি আরও দশ বছর আগে যদি যাই, ধীরে ধীরে হাউজির পাশাপাশি কোনও কোনও জায়গায় ওয়ান-টেন খেলা চালু হয়। রাজনৈতিক-সামাজিক প্রভাবশালীরা ধীরে ধীরে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। আজ এই যে নৈরাজ্যটা হয়েছে, এটা এমন নয় যে ওভারনাইট এই নৈরাজ্যটা তৈরি হয়েছে। এখন এই নৈরাজ্যটা বন্ধ করতে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা দরকার ছিল সেটি হলো, যে যখনই ক্ষমতায় থাকুক না কেন রাষ্ট্রের যারা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এগুলো গুঁড়িয়ে দাও, এখন গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অলরেডি র‌্যাব-পুলিশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে।  কিন্তু বাস্তবতা হলো, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে বিষয়টি কিন্তু কঠিন ছিল। আপনারা সবই জানেন, যারা এসব করেছে তারা কেউ চুনোপুঁটি নয়। তারা কিন্তু পলিসি মেকার। সেই ক্ষেত্রে এককভাবে পুলিশের পক্ষে এটাকে নির্মূল করা অসম্ভব বলবো না, বলবো যে কঠিন কাজ ছিল।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশের সম্পর্কে যে নেতিবাচক কথা বলা হচ্ছে, আমি পুরোপুরি একমত হবো না। যদি পত্রিকার কথামতো বলি যে এটা আরও দুই চার বছর আগে থেকে শুরু হয়েছে, তাহলে বুঝলাম পুলিশ ফেল করেছিল। তাহলে বাকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গোয়েন্দা সংস্থা তাদের সফলতা কি ছিল? তার মানে এটা মানতেই হবে যে ইটস অ্যা ফেইলিয়র অব দ্য সিস্টেম। ইটস দ্য টোটাল ফেইলিয়র অব দ্য অ্যাডমিনেস্ট্রেশন, টোটাল ফেইলিয়র অব দ্য সোসাইটি।’

তিনি যোগ করেন, ‘আপনি যদি খণ্ডিতভাবে বলেন, দিস ইজ দ্য ফেইলিয়র অব দ্য পুলিশ, যদি বলেন পুলিশের ইমেজ নষ্ট হয়েছে, আমি এটার সঙ্গে একমত না। আপনি পুলিশকে যদি ব্লেম দেন তাতে সমাধান হবে না। বাস্তবতা হলো বিপদে পড়লে পুলিশের কাছে যেতে হবে, মামলা করতে হলে পুলিশের কাছে যেতে হবে। যদি যেতে হয়, তাহলে পুলিশকে কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। অ্যাট দ্য সেইম টাইম যারা এসব অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এসবের সঙ্গে ১০, ২০ বা ৫০ জন জড়িত, বাকিরা তো জড়িত না। এটা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে হতোদ্যম করলে দেশের ক্ষতি হবে। এখন পুলিশকে ঢালাওভাবে দোষ দেওয়া যাবে না।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘বলা হচ্ছে পুলিশ দোষী। এখানে তো সাংবাদিকরাও ছিলেন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন, রাজনীতিবিদরাও ছিলেন, কেউ তো এটা নিয়ে সোচ্চার হয় নাই? যখনই অনারেবল পিএম বললেন, তখন সবাই ক্যাসিনো জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হুমড়ে পড়লেন। আপনি যদি এটা বিশ্লেষণ করেন, তাহলে দেখবেন এই ব্যর্থতা রাষ্ট্রের। এই ব্যর্থতা সবার। এখানে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে আমি তা মনে করি না।’

সাবেক এই কমিশনার বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি পুলিশকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলে পুলিশ অবশ্যই কাজ করতে পারে। দুই চার জন খারাপ লোক থাকবে। আড়াই লাখ পুলিশের মধ্যে দুই চার পাঁচ হাজার খারাপ থাকতে পারে। এই ক্যাসিনোর ঘটনায় যারা ধরা পড়েছে, যারা এগুলোর আয়োজক তাদের ধরে, তথ্যাদি সংগ্রহ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। কারা এই দুষ্ট চক্রের সঙ্গে জড়িত? সাংবাদিক জড়িত ছিল, পুলিশ জড়িত ছিল, প্রশাসন জড়িত ছিল, গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত ছিল, রাজনীতিবিদ জড়িত ছিল, এদের শনাক্ত করে ও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তা দৃশ্যমান করা হোক। যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের কর্ম করতে না পারে। রাজনৈতিক প্রভাব, সামাজিক প্রভাবের কারণে যারা এটা করছে, যারা যেভাবে করছে, হয়তো আমাদের নিচের দিকের অনেকেই সুযোগ সুবিধা নিয়েছে এটা তো তদন্তে বের হয়ে আসবে। এটা তো গোপন রাখার বিষয় না। যে টাকা দিয়েছে ওর কাছে তো কাগজ আছে, ওর কাছে লিস্ট আছে। ও তো বলে দেবে আমি মাসে অমুককে এত টাকা দিতাম। সব বের হয়ে আসবে।’

‘যারা এর সঙ্গে জড়িত, ধরা পড়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যাবে কারা বেনিফিশিয়ারি, কারা এই দুষ্ট চক্রের সঙ্গে ছিল, কে কে টাকা-পয়সা নিয়েছে, কে কে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। তাদের তালিকা বের করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক সাজার ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে যাতে এইরকম আর না হয়, রাজনৈতিকভাবেও তাদের অবস্থান প্রকাশ করা হোক। এর জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন। বিধায় এটি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। এবং এটা ধরে রাখাও সম্ভব হবে যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা স্থায়ী হয়। তা না হলে খালেদ বা সম্রাটের জায়গায় নতুন খালেদ সম্রাট তৈরি হবে। জায়গা বদল হবে।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এই ক্যাসিনোর বিষয়টি যদি আমাদের নলেজে আসতো, আজ যেভাবে এসেছে, অবশ্যই সেটা  প্রধানমন্ত্রীর নলেজে দিয়ে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম। যেগুলো এসেছে সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এটা যে এত ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে এই নলেজটা এই নিউজটা এই ইনফরমেশনটা আমাদের ছিল না। সেটা যদি আমাদের ব্যর্থতা বলেন অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা। তবে এই ব্যর্থতা আমার একা না। আমি সাংবাদিকদেরও বলবো, আমি রাজনীতিবিদদেরও বলবো, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও বলবো। আজকে যারা ক্রেডিট নিচ্ছে, আমি কোনও সংস্থার নাম ধরে বলবো না। আপনারা তো তখনও ছিলেন, কই আপনারা তো তখন কোনও ব্যবস্থা নেন নাই? এখন কেন সব দোষ পুলিশের একার ঘাড়ে চাপাবেন? হ্যাঁ, দোষ যদি হয়ে থাকে এই দোষে সবাই দুষ্ট আমরা। সবচেয়ে বড় কথা হলো রাজনৈতিক নির্দেশনা এবং সদিচ্ছা ছাড়া শুধু পুলিশের একার পক্ষে এগুলো বন্ধ করা কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘আপনি এখন ক্যাসিনো নিয়ে এত কথা বলছেন, এখন যদি অন্য সেক্টরের কথা বলি? অন্য সেক্টরের অবস্থা তো আরও গুরুতর। পরিবহন সেক্টরে কেউ গাড়ি চালাতে পারে টাকা না দিয়ে রাস্তায়? আসেন শেয়ার কেলেঙ্কারিতে, কোথায় গেল এই টাকা? কারা করছে শেয়ার কেলেঙ্কারি? এটা খুঁজে বের করলে অনেক কিছু বের হয়ে যাবে না? শেয়ার কেলেঙ্কারি, ব্যাংকের টাকা লুটের কথা যদি বলি, তারপর পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজির কথা বলি। খাল-বিল-ফুটপাত দখলের কাহিনি বলি। বহু কাহিনি খুঁজে দেখেন, এর পেছনে কারা? এখন পুলিশকে যদি ওই ধরনের নৈতিক সাহস এবং শক্তি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা নির্দেশনা প্রদান করা না হয়, চালাতে পারবেন পুলিশকে? ইট উইল বি ভেরি টাফ অন দ্য পার্ট অব পুলিশ টু প্রিভেন্ট অল থিংস। আজকে যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এইভাবে কথা না বলতেন, এইভাবে নির্দেশনা না দিতেন, আজকে যারা এত বড় বড় কথা বলছেন তা বলতে পারতেন? এটা হলো বাস্তবতা।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘পুলিশকে যারা ব্লেম করার চেষ্টা করছেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, হ্যাঁ বুঝলাম পুলিশ খারাপ। এই ক্যাসিনো যখন শুরু হয়, আপনারাও তো ছিলেন তখন, আপনারা কিছু করে দেখাইতেন। ক্যাসিনো বন্ধ করে বলতেন পুলিশ করে নাই কারণ পুলিশ এইটার সঙ্গে যুক্ত। কই তা তো করেন নাই। এখন প্রধানমন্ত্রী বলার পর সবাই যার যার মতো ক্রেডিট নিচ্ছেন। এটা তো যৌক্তিক হলো না।’ 

/এফএস/টিএন/এমএমজে/

সম্পর্কিত

ঋণগ্রহীতার গুদামেই জামানত, খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে আবার ঋণ!

ঋণগ্রহীতার গুদামেই জামানত, খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে আবার ঋণ!

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই শিশুর দণ্ড: ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যাখ্যা চাইলেন হাইকোর্ট

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই শিশুর দণ্ড: ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যাখ্যা চাইলেন হাইকোর্ট

উপ-নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে পারবে ইসি, হাইকোর্টের নির্দেশ

উপ-নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে পারবে ইসি, হাইকোর্টের নির্দেশ

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই ডেঙ্গুর আশঙ্কাজনক রূপ

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই ডেঙ্গুর আশঙ্কাজনক রূপ

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে: ইউজিসি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ১৬:০৮

দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই কার্যক্রম নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন পদক্ষেপ নির্ধারণে ইউজিসি ভার্চুয়াল সভা এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইউজিসি ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।

কমিটির আহ্বায়ক ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং, ইউজিসি সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান, গবেষণা সহায়তা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মো. কামাল হোসেন, আইএমসিটি বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া, এসপিকিউএ বিভাগের উপ-পরিচালক বিষ্ণু মল্লিক যুক্ত ছিলেন।

সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে যুগোপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইউজিসি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। সরকারের চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করবে।

অধ্যাপক সাজ্জাদ আরও বলেন, ‘জ্ঞান ও দক্ষতায় শিল্পক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ নির্ধারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও এফবিসিসিআই সমন্বিত উদ্যোগ নেবে।

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বিষয়ে আগামী ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউজিসি।

 

/এসএমএ/এনএইচ/

সম্পর্কিত

এসএসসির ইংরেজি ভার্সনের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

এসএসসির ইংরেজি ভার্সনের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী পালনের নির্দেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী পালনের নির্দেশ

মুজিববর্ষেরই জাতীয়করণের ঘোষণা চান শিক্ষকরা

মুজিববর্ষেরই জাতীয়করণের ঘোষণা চান শিক্ষকরা

মতিঝিল আইডিয়ালের আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

মতিঝিল আইডিয়ালের আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ১৬:০৩

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ ১০ আগস্ট মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এত দিন বন্ধ থাকলেও শুক্রবার (৬ আগস্ট)  থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিল্প, কল-কারখানা বিধিনিষেধের আওতা বহির্ভূত থাকবে। 

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

৬ আগস্ট থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

ইউএস বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানান, সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ সকল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে পরিচালিত রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, যশোর, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী। অভ্যন্তরীণ রুটে ৭২ আসন বিশিষ্ট ব্র্যান্ড নিউ এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।



/সিএ/এনএইচ/

সম্পর্কিত

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

ডা. এম এ মোহায়মেন মারা গেছেন

ডা. এম এ মোহায়মেন মারা গেছেন

চেকপোস্ট অমান্য করা দ্রুতগতির গাড়ি কেড়ে নিলো পুলিশ সদস্যের প্রাণ

চেকপোস্ট অমান্য করা দ্রুতগতির গাড়ি কেড়ে নিলো পুলিশ সদস্যের প্রাণ

এসএসসির ইংরেজি ভার্সনের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

এসএসসির ইংরেজি ভার্সনের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ১৫:৫৫

দেশে নতুন চারটিসহ যে ২৭ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে ভয়াবহতার তালিকায় এগিয়ে আছে লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড (এলএসডি), ক্রিস্টাল মেথ বা আইস বা মেথামফিটামিন।

বুধবার ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণিকে আটক করার সময় র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পরীমণির বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি আইস ও এলএসডিও উদ্ধার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইস বা ক্রিস্টাল মেথ ইয়াবার চেয়েও শক্তিশালী। ইয়াবায় মিথাইল অ্যামফিটামিন ব্যবহার করা হয় নির্দিষ্ট পরিমাণে। আইস বা ক্রিস্টাল মেথ মানে শতভাগ মিথাইল অ্যামফিটামিন।

মাদকাসক্তদের নিয়ে কাজ করেন এমন চিকিৎসকরা বলছেন, এলএসডি এক ধরনের সাইকেডেলিক ড্রাগ। এটি সেবনে আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো মাত্রাতিরিক্ত উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। মারাত্মক হ্যালুসিনেশনও হতে থাকে। যা নেই সেটাই দেখে সেবনকারী, মাথার ভেতর শব্দও শোনে। যা সামনে নেই, সেটারও স্পর্শ পায়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এলএসডি সেবনকারীদের অনেকেই বলেন, তারা কালার (রঙ) ‘শুনতে’ পায়, শব্দ ‘দেখতে’ পায়। এমন বিচিত্র সব অনুভূতি হয়। এটা যদি ‘ব্যাড ট্রিপ’ তথা খারাপের দিকে গড়ায় তবে হত্যা বা আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে পারে সেবনকারী। এমন ঘটনা আমাদের দেশেই ঘটেছে।’

এসব মাদকের সাইডএফেক্ট

অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এলএসডি যখন কেউ নেয় তখন তার সাফোকেটিং ব্রিদিং হয়। ঘামাতে থাকে। বুক ধড়ফড় করে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তখন অনিয়ন্ত্রিত যেকোনও আচরণ করতে পারে।’

অপরদিকে, আইস হলো ইয়াবার উন্নত সংস্করণ- এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সেবনে ঘুম কমে যায়। অবসাদ বাড়িয়ে তোলে। তখন এর ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে সেবনকারী। একপর্যায়ে অলীক সব চিন্তা শুরু করে আসক্ত ব্যক্তি।’

আইস মানুষের হৃৎস্পন্দন এমনভাবে বাড়িয়ে দেয় যে অনেক সময় কার্ডিও টক্সিসিটি তৈরি হয়। যার কারণে হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক বেড়ে যায়।

এসব মাদক নেয় কারা?

কোন বয়সের রোগীদের এই সময় বেশি পাচ্ছেন? জানতে চাইলে চিকিৎসক ও আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, এসব মাদক অপেক্ষাকৃত তরুণ ও ধনীরাই বেশি নিচ্ছে।

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বয়সটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আগে এ কাতারে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের পাওয়া যেত। এখন মধ্যবয়সীদেরও রোগী হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে।’

৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে অনেক রোগী পাচ্ছি জানিয়ে ডা. হেলাল বলেন, ‘এটা কোনও জরিপ নয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ব্যবসায়ী এবং মধ্যবয়সী প্রতিষ্ঠিত মানুষরাই আসছেন অনেক।’

তবে এখন পুরুষের তুলনায় নারীদের সংখ্যা কম হলেও অনেক নারী আসক্তকেও রোগী হিসেবে পাচ্ছেন জানিয়ে ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন নারী আসক্তের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।’

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত যে তথ্য রয়েছে তাতে দেখেছি, আইস ও এলএসডি বেশ ব্যয়বহুল মাদক। ধনী পরিবারের সন্তানরা এসব সেবন করে। প্রতিবার আইস সেবন করতে তাদের খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা।’

 

 

/এআরআর/জেএ/ইউআই/এফএ/আপ-এনএইচ/
টাইমলাইন: পরীমণি
০৫ আগস্ট ২০২১, ১৫:৫৫
ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা
০৪ আগস্ট ২০২১, ২২:৪১
০৪ আগস্ট ২০২১, ২১:৩৯
০৪ আগস্ট ২০২১, ২১:০৪

সম্পর্কিত

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে: ইউজিসি

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে: ইউজিসি

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

ডা. এম এ মোহায়মেন মারা গেছেন

ডা. এম এ মোহায়মেন মারা গেছেন

চেকপোস্ট অমান্য করা দ্রুতগতির গাড়ি কেড়ে নিলো পুলিশ সদস্যের প্রাণ

চেকপোস্ট অমান্য করা দ্রুতগতির গাড়ি কেড়ে নিলো পুলিশ সদস্যের প্রাণ

ডা. এম এ মোহায়মেন মারা গেছেন

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ১৫:৪৪

দেশের অগ্রণী সামরিক কার্ডিও-থোরাসিন সার্জন মেজর জেনারেল (অব.) ডা. এম এ মোহায়মেন মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) বার্ধক্যজনিত রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বুধবার (৪ আগস্ট) তাকে বনানী সামরিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। 

দাফনের আগে পূর্ণ সামরিক শবযাত্রার পর তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ একজন দায়িত্বশীল বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান। 

সদ্য প্রয়াত ডা. এম এ মোহায়মেন ১৯৩৬ সালের ৫ ডিসেম্বর বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সামরিক সার্জন হিসেবে তিনি আর্মি মেডিক্যাল কর্পস, পাকিস্তান আর্মি (১৯৫৯-১৯৭১) এবং আর্মি মেডিক্যাল কর্পস, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে (১৯৭৩-১৯৯৬) দায়িত্বপালন করেন। কর্মজীবনে অবদানের জন্য এম এ মোহায়মেন জয় পদক ও সংবিধান পদক লাভ করেন। 

মৃত্যুকালে ডা. এম এ মোহায়মেন মৃত্যুকালে তার স্ত্রী নিলুফার মোহায়মেন, দুই সন্তান জায়েদ মোহায়মেন, নাঈম মোহায়মেনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান। 

 

/এসটিএস/এনএইচ/

সম্পর্কিত

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে: ইউজিসি

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে: ইউজিসি

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

চেকপোস্ট অমান্য করা দ্রুতগতির গাড়ি কেড়ে নিলো পুলিশ সদস্যের প্রাণ

চেকপোস্ট অমান্য করা দ্রুতগতির গাড়ি কেড়ে নিলো পুলিশ সদস্যের প্রাণ

চেকপোস্ট অমান্য করা দ্রুতগতির গাড়ি কেড়ে নিলো পুলিশ সদস্যের প্রাণ

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ১৫:৩৩

ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে দ্রুতগতির প্রাইভেট কারের চাপায় পুলিশ কনস্টেবল রাব্বি ভূঁইয়া নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানাধীন দোহাজারী হাইওয়ে থানার সামনে পুলিশ চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে চেকপোস্ট পরিচালনার সময় একটি প্রাইভেট কারকে থামতে সংকেত দেওয়া হয়। এরপর চেকপোস্ট অমান্য করে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেট কারটি দুই পুলিশ কনস্টেবলকে চাপা দেয়। এসময় ঘটনাস্থলেই কনস্টেবল রাব্বি ভূঁইয়া নিহত হন। এছাড়া কনস্টেবল মোহাম্মদ আরাফাত আহত হয়।

হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চাপা দেওয়ার পর গাড়িটিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু চালক পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

কনস্টেবল রাব্বি ভূঁইয়া ২০১৬ সালের ১২ আগস্ট বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার পলাশ থানায়। 

 

/আরটি/এনএইচ/

সম্পর্কিত

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

ডা. এম এ মোহায়মেন মারা গেছেন

ডা. এম এ মোহায়মেন মারা গেছেন

এসএসসির ইংরেজি ভার্সনের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

এসএসসির ইংরেজি ভার্সনের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

সর্বশেষ

বিসিবি অ্যাওয়ার্ড নাইট চালু প্রসঙ্গে যা বললেন পাপন

বিসিবি অ্যাওয়ার্ড নাইট চালু প্রসঙ্গে যা বললেন পাপন

কারখানায় নামাজ আদায় ও টুপি পরতে মানা, শ্রমিকদের ‘বিক্ষোভ’

কারখানায় নামাজ আদায় ও টুপি পরতে মানা, শ্রমিকদের ‘বিক্ষোভ’

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে: ইউজিসি

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে: ইউজিসি

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

শেখ কামালের জন্মদিনে বিসিবিতে মিলাদ ও দোয়া

শেখ কামালের জন্মদিনে বিসিবিতে মিলাদ ও দোয়া

খুলনায় প্রস্তুত ৩০৭ বুথ, টিকা পাবে ৬১৪০০ জন

খুলনায় প্রস্তুত ৩০৭ বুথ, টিকা পাবে ৬১৪০০ জন

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

সোয়া দুই কোটি টাকা ভ্যাট দিলো গুগল

সোয়া দুই কোটি টাকা ভ্যাট দিলো গুগল

ডা. এম এ মোহায়মেন মারা গেছেন

ডা. এম এ মোহায়মেন মারা গেছেন

শেখ কামাল ক্রীড়া পুরস্কারে সালাউদ্দিন-রোমানদের উচ্ছ্বাস

শেখ কামাল ক্রীড়া পুরস্কারে সালাউদ্দিন-রোমানদের উচ্ছ্বাস

চেকপোস্ট অমান্য করা দ্রুতগতির গাড়ি কেড়ে নিলো পুলিশ সদস্যের প্রাণ

চেকপোস্ট অমান্য করা দ্রুতগতির গাড়ি কেড়ে নিলো পুলিশ সদস্যের প্রাণ

শেখ কামালের জন্মবার্ষিকীতে স্মারক ডাকটিকিট উদ্বোধন

শেখ কামালের জন্মবার্ষিকীতে স্মারক ডাকটিকিট উদ্বোধন

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ঋণগ্রহীতার গুদামেই জামানত, খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে আবার ঋণ!

জনতা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি পর্ব-৩ঋণগ্রহীতার গুদামেই জামানত, খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে আবার ঋণ!

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই শিশুর দণ্ড: ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যাখ্যা চাইলেন হাইকোর্ট

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই শিশুর দণ্ড: ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যাখ্যা চাইলেন হাইকোর্ট

উপ-নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে পারবে ইসি, হাইকোর্টের নির্দেশ

সিলেট-৩ আসন উপ-নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে পারবে ইসি, হাইকোর্টের নির্দেশ

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই ডেঙ্গুর আশঙ্কাজনক রূপ

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই ডেঙ্গুর আশঙ্কাজনক রূপ

ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি

ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি

টানা ডিউটিতে ‘ক্লান্ত’ পুলিশ

টানা ডিউটিতে ‘ক্লান্ত’ পুলিশ

কাকরাইলে গ্যারেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে

কাকরাইলে গ্যারেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে

কাকরাইলে গাড়ির গ্যারেজে আগুন

কাকরাইলে গাড়ির গ্যারেজে আগুন

২৩ ভবন মালিককে সোয়া ২ লাখ টাকা জরিমানা

২৩ ভবন মালিককে সোয়া ২ লাখ টাকা জরিমানা

মাকে তাড়িয়ে দেওয়া সন্তানদের সতর্ক করলো পুলিশ

মাকে তাড়িয়ে দেওয়া সন্তানদের সতর্ক করলো পুলিশ

© 2021 Bangla Tribune