X
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

আশ্রয়কেন্দ্রে উপকূলবাসী

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:১২

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাবে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারির পরও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে দুপুর পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আগ্রহ দেখায়নি। তবে শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রমুখী হয়েছেন তারা। সন্ধ্যা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ। 

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, প্রথম দিকে কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে না গেলেও বিকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ছুটেছেন প্রান্তিক উপকূলের মানুষ। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে বরগুনার ৫১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়াও এসব আশ্রয়কেন্দ্রে গরু, ছাগল ভেড়াসহ ২০ হাজারের মতো গবাদি পশু ও ৩০ হাজারের অধিক হাঁস মুরগি আশ্রয় নিয়েছে। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বিকালের পর বরগুনা সদর উপজেলার, পোটকাখালী, কেওড়াবুনিয়া, বুড়িরচর, নলটোনা, এম বালিয়াতলী, ডালভাঙা, নলী, মাঝেরচর ও গুলিশাখালী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- এসব এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ ঘর তালাবদ্ধ করে পরিবার পরিজন ও গবাদি পশু নিয়ে ছুটছেন। আবার অনেকে পৈত্রিক সম্পত্তি ও ঘর ছেড়ে যেতে চাইছেন না আশ্রয়কেন্দ্রে।

বরগুনা সদর উপজেলার পোটকাখালী এলাকার বাসিন্দা কামাল বলেন, ‘যে পরিস্থিতি তাতে মনে হয় সিডরের মতো অবস্থা হবে। সিডরের সময় এইরকম অবস্থা হয়েছিল। তখন আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে অনেক ভুল করেছিলাম, এবার আর সেই ভুল করতে চাই না।’

সদর উপজেলার নলী এলাকার সাহিদা নামের এক গৃহবধূ জানান, ‘ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে শুনেছি। মাইকিংও করা হয়েছে কিন্তু সাইক্লোন শেল্টারে যে যাবো, সেই অবস্থা নেই। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে নারী ও শিশুদের জন্য কোনও সুব্যবস্থাই রাখা নেই।’  

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যে যেভাবে যেখানেই থাকুক না কেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সবাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে ৫০৯টি আশ্রয় কেন্দ্র, ৪২টি মেডিক্যাল টিম, ৮টি জরুরি সেবা কেন্দ্র ও সিপিপি, রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক।’

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কান্তি পালের বরাত দিয়ে বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাড়ে ১২ হাজার লোক আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বাড়ছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, শরণখোলার চারটি ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার লোক আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাত মান্নান জানান, উপজেলাবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে আড়াই হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ১০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, ২৬ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে।

চিতলমারী উপেজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুল আলম জানান, লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া যাচ্ছে না। বিকাল পর্যন্ত দেড় শতাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে।

এদিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারির পর জেলা সদরসহ উপকূলে নতুন করে মাইকিং করা হয়েছে। বিকালে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা হয়েছে জেলা প্রশসকের সম্মেলন কক্ষে।

বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন জানান, মোংলা বন্দরে অবস্থান করা দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পশুর চ্যানেলে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া বন্ধ রাখা হয়েছে মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমন ও নির্গমনও।  

এদিকে নিরাপত্তার কারণে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর, কটকা, কচিখালী, আলোরকোল, দুবলাসহ বন বিভাগের ৬টি অফিস বন্ধ করে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানান সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান।

সুন্দরবনসহ বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা চালাতে নৌবাহিনীর ১০টি জাহাজসহ চারশ’ নৌসেনা, মোংলা বন্দরের তিনটি জাহাজ এমটি সুন্দরবন, এমটি শিপসা ও এমটি অগ্নিপ্রহরী প্রস্তুত রয়েছে।  একইভাবে কোস্টগার্ডের সিজিএস কামরুজ্জামান, মুনসুর আলী, স্বাধীন বাংলা, সোনার বাংলা, অপারেজয় বাংলাসহ ১০টি জাহাজ ও সুন্দরবন বিভাগের ছয়টি প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধার তৎপরতার চালানোর জন্য। 

 

খুলনা প্রতিনিধি জানান, খুলনার চার উপজেলার ২৮৫ কেন্দ্রে এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে- কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা। খুলনা জেলা প্রশাসন কন্ট্রোল রুম থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণের জন্য ৪শ’ মেট্রিক টন চাল মজুদ আছে। ৬০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি ৩০টি পানি পরিশোধন প্লান্টও সক্রিয় রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ঝুকিপূর্ণ এলাকায় প্যাকেটজাত শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নৌবাহিনীর ৫টি জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে ত্রাণ নিয়ে।

প্রতিটি উপজেলার পাঁচটি করে মেডিক্যাল টিম ও দুটি করে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে।

এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, হাতিয়া, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের ৩৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২৯ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ও কয়েক হাজার গবাদিপশুকে উঁচু স্থানে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে থাকা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইসরাত সাদরিন জানান, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ ও ঢালচরের প্রায় ১৫ হাজার ২শ’, সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর, জনতার ঘাট, সোলায়মান বাজার ও শান্তির হাট এলাকার ৫ হাজার, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী, চর হাজারী ও মুছাপুরের ৮ হাজার ৮শ’ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। মজুদ রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ। সব ধরনের নৌ-যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আরও জানানো হয়, জেলা প্রশাসন সব ধরনের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রামে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেওয়ার পর উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়া, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক দলকে সতর্ক রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে জনগণকে নিরাপদে আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। দুপুর ২টার পর থেকে হাতিয়ার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে লোকজন আসতে শুরু করেছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে পানি ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে তিনটি উপজেলার ৬২৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওষুধসহ ১১টি মেডিক্যাল টিম ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস জানান, প্রতিটি উপকূলীয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে সকল প্রকার নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

 

ফেনী প্রতিনিধি জানান, উপকূলীয় সোনাগাজী উপজেলায় দুর্যোগকালীন উদ্ধার তৎপরতাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য সিপিপির দেড়হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ দুই হাজার কর্মী প্রস্তুত রয়েছেন। মওজুদ রাখা হয়েছে শুকনো খাবার। এছাড়াও পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্ধশত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান বলেন,  ‘জেলায় ৭৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় খাবার স্যালাইনসহ প্রাথমিক ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে।’ দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে কৃষি বিভাগ, মৎস বিভাগসহ সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় সব বিভাগ কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনাসহ জনগণকে সর্তক করার লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অর্ধশত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ উপজেলার সব বিদ্যালয়কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে এবং ১০টি চিকিৎসক দল, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষের জন্য ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল, ৬শ’ মেট্রিক টন গম, চিড়া, মুড়িসহ বিশুদ্ধ পানির মজুদ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, দুই দিন ধরে বৃষ্টি থাকলেও আশ্রয়ণ কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ নেই মানুষের মধ্যে। তবে নদীর তীরবর্তী কিছু মানুষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের দিকে ছুটছেন। নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীর নিকটবতী ভৈরবপাশা ও মড়গ এবং রাজাপুর উপজেলার বিশখালি নদীর পাড়ের বড়ইয়া ও মঠবাড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন অনেক মানুষ।

রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান মনির জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। প্রচুর পরিমাণ শুকনো খাবার মজুত করা হয়েছে। বিভিন্ন আশ্রয়ণ কেন্দ্রে চিড়া, গুড় ও মুড়ি সরবরাহ করা হয়েছে। রাতে খিচুড়ি পাক করে খাওয়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, ‘জেলায় ৭৪টি সাইক্লোন সেন্টার, স্কুল-কলেজ প্রস্তুত রাখা  হয়েছে। জেলা পর্যায়ের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। আশ্রয়ণ কেন্দ্রের জন্য ৭ লাখ টাকা, ১১২ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার মেট্রিক টন শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’ 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, শনিবার (৯ নভেম্বর) কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানান, ঝড় মোকাবিলায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা রাখা, প্রত্যেক ইউনিয়নে জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে ব্যাপক মাইকিং, সিভিল সার্জনের নেতৃত্ব ৯৯টি মেডিক্যাল টিম গঠন ও ফায়ার সার্ভিসকে সদা প্রস্তুত রাখা।

তিনি আরও জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সব মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে মসজিদের মাইক হতে জনগণকে নিরাপদে যেতে আহ্বান করবেন।

এ ছাড়াও বিদ্যুৎ বিভাগের সার্বক্ষণিক মোবাইল টিম রেডি রাখা আছে, যা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের মাঝের চরের লোকজনকে বলেশ্বর নদীর এপারে সরিয়ে আনা হয়েছে। বেতমোর রাজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাঝের চরে চারশ’ পরিবার বসবাস করে। ইতোমধ্যে তাদের অধিকাংশকেই সরিয়ে আনা হয়েছে।

মঠবাড়িয়ার শাপলেজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিরাজ মিয়া জানান, লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠছে। তাদের শুকনা খাবার সরবারহ করা হবে।

জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একটি করে মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জেলার ২২২টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মর্তা জিএম সরফরাজ জানান, উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তুষখালী,বড়মাছুয়া, আমড়াগাছিয়া,সাপলেজা, বেতমোড় ইউনিয়নসহ সিপিপির প্রতিটি ইউনিটে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, বিকাল সাড়ে ৪টার পর থেকে বাতাসের তীব্রতা বেড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন কমপক্ষে ১ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ। এছাড়াও পুলিশ,বিজিবি, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে গঠিত টিম উপকূলবর্তী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক সার্বক্ষণিক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভবনা গাবুরা এবং পদ্মপুকুরের বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নে। আমার ইতোমধ্যে ঝূর্কিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ এখন সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান করছেন।’

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস এস মোস্তফা কামাল জানান, ২৭০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্যোগ কবলিতদের সহায়তার জন্য ৩১০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৭ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পর্যাপ্ত ওষুধপত্র মজুদ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ পূর্ববর্তী, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী তিন স্তরে কাজের জন্য প্রশিক্ষিত ২২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ ৮৫টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া শিশুদের জন্য ১ লাখ টাকা ও গবাদি পশুর জন্য আরও ১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালে থাকা নৌযানগুলিকে উপকূলবর্তী নিরাপদ স্থলে আনা হয়েছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার অলী জানান, বিকাল ৩টা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ৪০.৪ মিলি লিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৬ শতাংশ।

 আরও পড়ুন...

উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত

যে কারণে এবারও ৯১ সালের মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

সুন্দরবন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে ‘বুলবুল’

‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সরকার ও দল সর্বোচ্চ প্রস্তুত: ওবায়দুল কাদের

আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন উপকূলবাসী

‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সাতক্ষীরায় সেনা মোতায়েন

স্বাস্থ্য বিভাগের ছুটি বাতিল, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৮ নির্দেশনা

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার: নৌ প্রতিমন্ত্রী

দুর্গতদের যেকোনও প্রয়োজনে ৯৯৯-এ কল করার অনুরোধ

 সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ

উপকূলে ৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

১৩ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

 

/এএইচ/

সম্পর্কিত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে আরসা, পুলিশ বললো অস্তিত্ব নেই

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে আরসা, পুলিশ বললো অস্তিত্ব নেই

পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা: যুব পরিষদের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে 

পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা: যুব পরিষদের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে 

ভারতে পাচার হওয়ার আড়াই বছর পর দেশে ফিরলো মেয়েটি

ভারতে পাচার হওয়ার আড়াই বছর পর দেশে ফিরলো মেয়েটি

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ

এখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:০০

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত করোনা যোদ্ধাদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স প্রণোদনার টাকা পেয়েছেন। এখন ৬৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স করোনাকালে দায়িত্ব পালন করলেও প্রণোদনার বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এ নিয়ে করোনার সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে খ্যাত চিকিৎসক ও নার্সদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অফিস সূত্র মতে, ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩৬২ চিকিৎসকের মধ্যে ১৪৯ জন প্রণোদনার বরাদ্দ হিসেবে মূল বেতনের সমপরিমাণ দুই মাসের টাকা পেয়েছেন। ১০২৮ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সদের মধ্যে ৩৪০ জন একই হারে প্রণোদনার টাকা পেয়েছেন। গত অর্থবছরে প্রণোদনার বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২৯ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৪০ টাকা। এই হিসেবে ৩৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ চিকিৎসক নার্স প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পেয়েছেন। এখনও ২১৩ জন চিকিৎসক ও ৬৮৮ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পাননি। এছাড়া করোনাকালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৪৬ জন চিকিৎসক, ৪৫০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ৯৫ কর্মচারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে শাখাল বেগম নামে একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স  করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এখনও প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা না পাওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার আনিসুর রহমান জানান, ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রণোদনার বরাদ্দ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অমানবিক এবং দ্বৈতনীতির বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও অনেক চিকিৎসক এখনও প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পায়নি। এ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে  ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে তিনি আরও জানান, যারা এখনও পায়নি এবং সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার চিকিৎসকদের দ্রুতই বরাদ্দের আওতায় এনে টাকা পাওয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শাখার সভাপতি লুৎফর রহমান জানান, করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাড়ে চারশ সিনিয়র স্টাফ নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা করলেও এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ নার্স প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পায়নি। যারা এখনও টাকা পায়নি তাদের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চাপা ক্ষোভ নিয়ে এখনও এসব নার্সরা করোনা ইউনিটে রোগীদের সেবা করে যাচ্ছে। বিষয়টা বিবেচনায় এনে দ্রুতই এখনও যারা প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পায়নি তাদের টাকা পাওয়ার ব্যাপারে দ্রুতই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে এমনটাই দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চলতি অর্থবছরে প্রণোদনার বরাদ্দের জন্য দ্বিতীয় দফায় ১৭৯ জন চিকিৎসক ও ৫৮০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের নামের তালিকা স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে তারা প্রণোদনার টাকা পেয়ে যাবেন। তিনি আরও জানান, তৃতীয় দফায় যারা বাকি আছেন তাদের নামের তালিকা  স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন। ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন চিকিৎসক নার্স প্রত্যেকেই প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পাবেন এমনটাই জানিয়েছেন উপ-পরিচালক।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক নার্সরা করোনা রোগীদের সেবার কাজ করে থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের প্রণোদনার বরাদ্দের আওতায় আনেনি। শুধুমাত্র মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদেরকে এই প্রণোদনার বরাদ্দের আওতায় আনা হয়েছে।

/এমআর/

সম্পর্কিত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:১১

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ মাদ্রাসা’য় ট্রেনিং সেন্টার করতে চেয়েছিল একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। একইসঙ্গে ওই গ্রুপটিতে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যোগ দেওয়ারও চাপ ছিল সন্ত্রাসীদের। এ জন্য প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকিতে আতংকে ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এমনটি অভিযোগ করছেন সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতের স্বজন ও সাধারণ রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় হয়েছিল হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর ক্যাম্প জুড়ে বিরাজ করছে অস্থিরতা। কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রাত হলেই ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন না থাকায় সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন রোহিঙ্গারা। তবে সন্ত্রাসীদের ভয়ে ক্যাম্পের বাসিন্দারা এ বিষয়ে কথা বলতে চান না, দেন না কোনও অভিযোগ।  

মুহিবুল্লাহ হত্যা: তিন মিনিটে শেষ হয় কিলিং মিশন


​শুক্রবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিতে আসা নিহত রোহিঙ্গাদের কয়েকজন স্বজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন- কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত ‌‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ মাদ্রাসা’টিতে ‘আরসা’র পরিচয়ে কিছু সন্ত্রাসী ট্রেনিং সেন্টার করতে মাদ্রাসা সুপারকে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এতে রাজি না হওয়ায় রাতে হামলা চালানো হয়। এ সময় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক, ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবীসহ ছয় জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। হামলায় আহত হন ১০-১২ জন। 

অভিযোগ রয়েছে, নির্মম এই ঘটনার পরও হামলাকারীরা ক্যাম্পের আশপাশেই বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সাধারণ রোহিঙ্গারা ভয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তা জানাতে পারছেন না। কারণ দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাত হলে ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সন্ত্রাসীদের হাতে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহত রোহিঙ্গার আরেক স্বজন অভিযোগ করেন, ‘ক্যাম্পে রাতের অবস্থা খুব ভয়াবহ। দিন শেষে সন্ধ্যা হলেই নিয়ন্ত্রণে নেয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। এই গ্রুপটি মিয়ানমারের রাখাইনে সাধারণ রোহিঙ্গাদের যে জুলুম-নির্যাতন করে আসছিল, ঠিক একই কায়দায় ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন চালাচ্ছে। ক্যাম্পগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। রাত হলেই এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের বিচরণে ভয়ে রাত কাটে রোহিঙ্গাদের।’

রোহিঙ্গাদের ভাষ্যমতে, ‘আরসা’র নামধারী মৌলভী আবু বক্কর, মৌলভী নুর হোছন, খালেক, ফজলুল কবির, ইকবালসহ অনেকেই উখিয়ার বালুখালী ২ নম্বর ক্যাম্পটি নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এর জের ধরেই মাদ্রাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জানতে চাইলে ক্যাম্পে নিয়োজিত ১৪ নম্বর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ‘এপিবিএন’র অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো. নাঈমুল হক জানান- রাতে ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এরপরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হবে। নিহত ছয় জনের হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় হামলার ঘটনায় এই পর্যন্ত ছয় জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলোর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) ভোর ৪টার সন্ত্রাসীদের হামলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১২, ব্লক-জে-৫ এর বাসিন্দা হাফেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক মো. ইদ্রীস (৩২), ক্যাম্প-৯ ব্লক-১৯ এর মৃত মুফতি হাবিবুল্লাহর ছেলে  ইব্রাহিম হোসেন (২৪), ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এইচ -৫২ এর নুরুল ইসলামের ছেলে মাদ্রাসার ছাত্র আজিজুল হক (২২), একই ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবী আবুল হোসেনের ছেলে মো. আমীন (৩২)। ‘এফডিএমএন’ ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এফ-২২ এর মোহাম্মদ নবীর ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষক নুর আলম ওরফে হালিম (৪৫), এফডিএমএন ক্যাম্প-২৪-এর রহিম উল্লাহর ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষক হামিদুল্লাহ (৫৫) নিহত হন। পুলিশ হামলাকারীদের সদস্য মুজিবুর নামের একজনকে দেশীয় লোডেড ওয়ান শ্যুটারগান, ছয় রাউন্ড গুলি ও একটি ছুরিসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নিহতদের লাশ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহতদের দাফন করা হয়।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের শীর্ষনেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যার পর ক্যাম্পজুড়ে বিরাজ করছে অস্থিরতা। সৃষ্টি হয়েছে ভীতিকর পরিস্থিতি। ক্যাম্পে কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা করছে। এছাড়া অবৈধ দখলের মাধ্যমেও তারা বিভিন্ন দোকান পরিচালনা করছে। মানুষ হত্যা ও জিম্মির ঘটনাও ঘটছে। তাই, সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক এজেন্সি একত্রে কাজ করছে। 

/টিটি/

সম্পর্কিত

এখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

এখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে আরসা, পুলিশ বললো অস্তিত্ব নেই

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে আরসা, পুলিশ বললো অস্তিত্ব নেই

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩৮

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে আবারও আমরণ অনশনে বসেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ফের অনশনে ক্যাম্পাস আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। 

শিক্ষার্থীরা ​বলছেন, বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিকালে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট সভা বসে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  

অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা ফের অনশন শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া আবু জাফর হোসাইন। 

শিক্ষার্থী আবু জাফর বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে আমাদেরকে ফোন দিয়ে জানানো হয় কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা মুলতবি করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা ভারপ্রাপ্ত ভিসি স্যারকে ফোন দেই। তখন তিনি বলেন, আজ এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। তোমরা ক্লাস-পরীক্ষাতে ফেরো। আমরা আবার সিন্ডিকেট সভায় বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। তখন আমরা আগামীকালকেই সিন্ডিকেট সভা বসবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত একমাসের মধ্যে এই সভা বসার সম্ভাবনা নেই। 

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমরা শিক্ষকদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সব ধরনের আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু যেহেতু আমরা সমাধান পাচ্ছি না, তাই গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা থেকে আবারও আমরণ অনশন শুরু করেছি। 

তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফকে একাধিকবার মোবাইলফোনে কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় এ ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকার ধানমন্ডিস্থ আবাসিক ভবন অফিসে সিন্ডিকেট বৈঠক শুরু হয়। টানা ৩ ঘণ্টা বৈঠক চলার পর কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ বৈঠক শেষ হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

এখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

এখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

সিরাজগঞ্জে মনসুর আলীর নাতির ওপর হামলা

সিরাজগঞ্জে মনসুর আলীর নাতির ওপর হামলা

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২২

ময়মনসিংহে নিজের কাছে থাকা অস্ত্রের গুলিতে এক বিজিবি সিপাহী আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের নাম সোহরাব হোসাইন চৌধুরী (২৩)। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর রাত ৯টায় ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকায় অবস্থিত ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে তিনি আত্মহত্যা করেন। 
 
ওই বিজিবি সদস্য ফেনীর পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তবে এ বিষয়ে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজিবি ৩৯ ব্যাটালিয়নের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌফিকুর রহমান।

জানা যায়, নিজ বেতনের টাকায় সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হওয়ায় ক্ষোভে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেন, ‘সাতটা বছর মানসিক যন্ত্রণা আর অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে সত্যি বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এইবার একটু রেস্ট দরকার। আমার পরিবার, সহকর্মী সিনিয়র-জুনিয়র, আমার বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এই নিকৃষ্ট কাজের জন্য পারলে ক্ষমা করবেন, এছাড়া বিকল্প কোনও পথ আমার ছিল না।’  

/টিটি/

সম্পর্কিত

এখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

এখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে আরসা, পুলিশ বললো অস্তিত্ব নেই

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:১৭

রাত তখন ৩টা। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকে সুনসান নীরবতা। কেউ ঘুমের ঘোরে, কেউ তাহাজ্জুদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক একই অবস্থা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায়ও। রাত পোহালে শুক্রবার। ছুটির দিন হওয়ায় অনেক ছাত্র বাড়িতে চলে গেছেন। হেফজ বিভাগের ২০/২৫ ছাত্র এবং সাত শিক্ষক রাতে মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন। শিক্ষকদের কয়েকজন তখন মসজিদে তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়িয়েছিলেন। এমন সময় ঘটে আকস্মিক সশস্ত্র হামলা। প্রায় সাড়ে ৩০০ সন্ত্রাসী দা, কিরিচসহ নানান দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক ও ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। এতে নিহত হয়েছেন ছয় জন। এর মধ্যে তিন শিক্ষক, এক ছাত্র ও দুই সাধারণ রোহিঙ্গা রয়েছেন। এই ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও সাধারণ রোহিঙ্গারা সরাসরি আরাকানের সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা’কে দায়ী করেছেন।

নিহতরা হলেন- শিক্ষক হাফেজ মো. ইদ্রিস, মসজিদের ইমাম নুর হালিম, হামিদ উল্লাহ, ছাত্র নুর কায়সার, স্থানীয় রোহিঙ্গা আজিজুল হক (১৬) ও মোহাম্মদ আমিন (৬৩)। এ ঘটনায় মাদ্রাসা পরিচালক দিল মোহাম্মদসহ আরও ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের শীর্ষস্থানীয় নেতা মো. মুহিবুল্লাহকে (৫০) হত্যার ঘটনায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সন্ত্রাসীরা জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছিল তার পরিবার।

এদিকে, বাংলাদেশে আরসা নামের কোনও সংগঠনের অস্তিত্ব নেই দাবি করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্বৃত্তের গুলিতে ছয় রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে নিশ্চিত না হয়ে বলা যাচ্ছে না এ ঘটনায় কারা জড়িত।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে কাজ করা একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা বলেন, ‘এ ধরনের হামলা হতে পারে, সে বিষয়ে আমরা আগে থেকেই আঁচ করেছিলাম। এ নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিতও করেছি। কিন্তু আমরা পদক্ষেপ নিতে পারেনি। মূলত মুহিবুল্লাহ হত্যার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু অপরাধী ধরা পড়েছে। সেখানে এ হামলাকারীদের অনেক সদস্য ছিল। ফলে তারা আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এ ধরনের হামলা আরও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসাটির দাওরা বিভাগের (উচ্চতর শ্রেণি) ছাত্র রহিমুল্লাহ বলেন, ‘শুক্রবার ছুটি থাকায় রাতে তেমন পড়াশোনা ছিল না। তাই এশার নামাজের পর সামান্য পড়ে শুয়ে পড়েছিলাম। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ পশ্চিম দিক থেকে ৩০০/৪০০ সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসা ঘিরে ফেলে। এর মধ্যে দেড় শতাধিক ক্যাম্পাসে ঢুকে টিনশেডে দা কিরিচ দিয়ে কোপাতে থাকে। পরে তারা নামাজরত অবস্থায় শিক্ষকদের ওপর হামলা করে, গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করে। পরে ছাত্রদের কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর করে তাদের ওপরও হামলা চালায়। সেখানে বেশিরভাগ ছিল হেফজ বিভাগের ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী ছাত্র। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের অনেকে তাদের সন্তানদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করে আরসার সন্ত্রাসীরা। তবে এত বেশি সংখ্যক সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে সাহস করেনি কেউ।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান প্রশাসনের কর্মকর্তারা

শুক্রবার সকালে উখিয়ার বালুখালীর ওই ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসাটি ঘিরে রেখেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। মাদ্রাসার বাইরে সড়কে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলার সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। এলাকার মানুষের মুখে কোনও সাড়া শব্দ নেই। তবে নিহত পরিবারগুলোতে স্বজনদের আহাজারি শোনা গেছে।

রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, আরসা পুরো ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার করছে। তাদের আলেমদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘উলামা কাউন্সিল’ ক্যাম্পের প্রত্যেক মসজিদ-মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল। ইতোমধ্যে ক্যাম্পের শতাধিক মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে। যেসব মাদ্রাসা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সেখানে তারা সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। একাধিকবার তারা এ মাদ্রাসাটি নিয়ন্ত্রণে নিতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আরসার একাধিক প্রস্তাবেও কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় রোহিঙ্গারা প্রতিষ্ঠানটি তাদের হাতে তুলে দিতে রাজি হননি। এতে ওই ব্লকের রোহিঙ্গা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ওপর ভীষণ খেপেছিল আরসার নেতার।

এইচ ব্লকের নুর আমিন জানান, যে মাদরাসাটিতে হামলা হয়েছিল, সেটি পরিচালনা করতেন ইসলামিক মাহাজ নামের একটি রোহিঙ্গা সংগঠন। তবে সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়সহ, মিয়ানমার ফেরাতে উৎসাহিত করার কাজ করছে। এছাড়া সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু সন্ত্রাসী সংগঠনটি (আরসা) এটি মেনে নিতে পারেনি। তাই মাহাজকে পিছু হটাতে সংগঠনটির মূল কেন্দ্র মাদ্রাসাটিতে হামলা চালানো হয়।

নিহত আজিজুল হকের মা সাজেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে আজিজ মাদ্রাসায় হামলার ঘটনার খবর শুনে হেফজ বিভাগে পড়ুয়া ভাই নুর কদরকে উদ্ধার করতে ছুটে গিয়েছিলেন। সেখানে আরসার সদস্যরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।’

হামলার শিকার মাদ্রাসাটি

নিহত নুর হালিমের স্ত্রী উম্মে হাবিবা বলেন, ‘আমার স্বামী মাদ্রাসাটির শিক্ষক ছিলেন এবং মসজিদের ইমামতি করতেন। ঘটনার রাতে তিনি মাদরাসায় ছিলেন। সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীকে মাদরাসায় ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় হামলার পর হত্যা করে। সন্ত্রাসীরা সবাই আরসার লোক ছিলেন। এর আগেও একাধিকবার তারা আমার স্বামীকে হুমকি দিয়েছিল।’

এইচ ব্লকের রোহিঙ্গা নেতা মো. ইউসুফ বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারে রাখাইনদের হাতে মার খেয়ে আশ্রয়ের জন্য এ দেশে পালিয়ে এসেছিলাম। এখন এখানে এসে রোহিঙ্গাদের মার খেতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আজ সন্ধ্যার পর কী ঘটবে তাও আমাদের অজানা। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এখানে বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।’

এদিকে, শুক্রবার সকাল ১১টায় ক্যাম্পের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু দৌজা চৌধুরী নয়ন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক নাঈমুল হক, ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শিহাব কায়সার খান।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য ক্যাম্প প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থানে থাকবে। ঘটনা তদন্তের পর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে। অনুমান করে কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু দৌজা নয়ন বলেন, ‘একদল দুর্বৃত্তের হামলায় ছয় জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। ক্যাম্পে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি।’

/এফআর/

সম্পর্কিত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা: যুব পরিষদের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে 

পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা: যুব পরিষদের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে 

‘সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে’ কুমিল্লার ঘটনা লাইভে প্রচারের স্বীকারোক্তি

‘সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে’ কুমিল্লার ঘটনা লাইভে প্রচারের স্বীকারোক্তি

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে আরসা, পুলিশ বললো অস্তিত্ব নেই

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে আরসা, পুলিশ বললো অস্তিত্ব নেই

পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা: যুব পরিষদের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে 

পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা: যুব পরিষদের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে 

ভারতে পাচার হওয়ার আড়াই বছর পর দেশে ফিরলো মেয়েটি

ভারতে পাচার হওয়ার আড়াই বছর পর দেশে ফিরলো মেয়েটি

‘সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে’ কুমিল্লার ঘটনা লাইভে প্রচারের স্বীকারোক্তি

‘সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে’ কুমিল্লার ঘটনা লাইভে প্রচারের স্বীকারোক্তি

লোকালয় থেকে উদ্ধার হলো বিশাল এক অজগর

লোকালয় থেকে উদ্ধার হলো বিশাল এক অজগর

রাতে স্ত্রীকে হত্যা করে সকালে মেয়েকে নিয়ে থানায়

রাতে স্ত্রীকে হত্যা করে সকালে মেয়েকে নিয়ে থানায়

পিকআপে করে গরু চুরির সময় ৪ চোর গ্রেফতার

পিকআপে করে গরু চুরির সময় ৪ চোর গ্রেফতার

কুমিল্লার সহিংসতার ঘটনায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

কুমিল্লার সহিংসতার ঘটনায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

সর্বশেষ

মার্কিন ড্রোন হামলায় আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা নিহত

মার্কিন ড্রোন হামলায় আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা নিহত

এখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজএখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ‘ট্রেনিং সেন্টার’ করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে সুইডেন : রাষ্ট্রদূত

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে সুইডেন : রাষ্ট্রদূত

তুষারপাত ও বৈরী আবহাওয়ায় ভারতে ১১ পর্বতারোহীর মৃত্যু

তুষারপাত ও বৈরী আবহাওয়ায় ভারতে ১১ পর্বতারোহীর মৃত্যু

© 2021 Bangla Tribune