X
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

‘হাইব্রিড’ ভয়ংকর

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৩

হারুন উর রশীদ আওয়ামী লীগে এখন বহিরাগত আর অনুপ্রবেশকারী সাফ প্রকল্প চলছে। আর এই ফাঁকে কাউয়া ও হাইব্রিড প্রকল্প কিছুটা হলেও চাপা পড়ে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগে যারা তৃণমূলে কাজ করেন, তারা কিন্তু আতঙ্কিত হাইব্রিড নিয়ে। আর এই আতঙ্ক কী কারণে, তা সবিস্তারে বলছি। তৃণমূলের সঙ্গে আমার কথোপকথনের কিছু খণ্ডচিত্র তুলে ধরলে আশা করি তা স্পষ্ট হবে।
চিরিরবন্দরের এক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে আমার কথা হয় গত সপ্তাহে। তিনি হাইব্রিডের যে সংজ্ঞা দেন, তাতে আমি অবাক হয়ে যাই। তার মতে, আওয়ামী লীগে হাইব্রিড হলেন তারা, যারা আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন। সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাদের কেউ রাস্তা থেকে রাজপ্রাসাদে উঠেছেন। আবার কেউ কেউ পুরনো সম্পদকে বহুগুণে বাড়িয়ে নিয়েছেন। ওই নেতা বলেন, এই হাইব্রিডের মধ্যে বহিরাগত যেমন আছেন, তেমনি আগে থেকেই আওয়ামী লীগ করেন এমনও অনেক আছেন। এই হাইব্রিড বিদায় করলেই আওয়ামী লীগ ঝামেলামুক্ত হবে বলে তার ধারণা। 

ঝালকাঠির এক তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান পরিস্থিতিতে খুবই ক্ষুব্ধ-বিরক্ত। তার কথা, ওই জেলার একটি এলাকার আওয়ামী লীগের এমপিই নাকি বহিরাগত, অনুপ্রবেশকারী। আর সহজ হিসেবে তিনি তার অবস্থান শক্ত করতে অনুপ্রবেশকারীদেরই দলে ভিড়িয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে আসীন করেছেন। ফলে মূল আওয়ামী লীগাররা কোণঠাসা। তাই স্থানীয়  আওয়ামী লীগে এখন বহিরাগতদের জয়-জয়কার। তাহলে অনুপ্রবেশকারী দূর হবে কীভাবে? ওই নেতা ও তার অনুসারীদের সম্পদ বাড়ানোর যে হিসাব পাওয়া যায়, তাতে তাদের অধিকাংশই এখন হাইব্রিড।

এখন প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগে বহিরাগতরা ঢুকলো কীভাবে? অনুপ্রবেশকারীরা কি আওয়ামী লীগকে জোর করে দখল করে নিয়েছে? ফেনীর এক আওয়ামী লীগ নেতা আমাকে তার জবাব দিয়েছেন। তার কথা হলো, নির্বাচনের আগে অনেকেই জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে, ফুল দিয়ে এমপি সাহেবের, মন্ত্রী সাহেবের বায়াত গ্রহণ করেছেন। আর ভোটের রাজনীতিতে তারা তাদের গ্রহণও করেছেন। এখন তারা কেন আওয়ামী লীগ হবেন না? ভোটের জন্য আওয়ামী লীগে স্বাগত জানিয়ে ভোটের পর ফেলে দেওয়া তো অনৈতিক। আর আওয়ামী লীগ যদি সুবিধা পায়, তাহলে তারাইবা পাবেন না কেন? এই বৈষম্য করা তো ঠিক না।
সবাই কি স্বেচ্ছায় আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন? ব্যাপারটা সবক্ষেত্রে সেরকম ঘটেনি। কেউ চাপের মুখে, কেউবা মামলা থেকে রেহাই পেতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এটা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যেরও অভিযোগ আছে। এমপি সাহেব বা মন্ত্রী মহোদয় হয়তো জানেন না। কিন্তু তারই অনুসারী কোনও কোনও হাইব্রিড নেতা তার আরও কাছে যাওয়ার জন্য এক হাজার লোকের একটি মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। তিনি দু’ধারী তলোয়ারের মতো দু’দিকে কেটেছেন। যাদের যোগদান করিয়েছেন, তাদের কাছ থেকেও সুবিধা নিয়েছেন। আবার নেতার কাছ থেকেও নিয়েছেন। এই ধরনের নেতারা হাইব্রিডের একটা ভালো উদাহরণ। আর দলীয় কোন্দলে বহিরাগতদের দলে নিয়ে গ্রুপ ভারী করার কথা তো সবার জানা।
তাহলে এবার কিছু সিদ্ধান্তে আসা যায়—১. আওয়ামী লীগে যারা যোগ দিয়েছেন, তারা জোর করে আওয়ামী লীগে ঢোকেননি।
২. তাদের যোগদান করিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারাই।
৩. এই যোগদান পর্বে নানা স্বার্থের হিসাব ছিল।
৪. আর আওয়ামী লীগের শুধু তৃণমূল নয়, ওপরেও বহিরাগত ও অনুপ্রবেশকারী আছেন।
৫. বহিরাগত আর অনুপ্রবেশকারীদের দলে এনেছেন হাইব্রিড নেতারা।

এবার চিরিরবন্দরের আওয়ামী লীগ নেতার দেওয়া হাইব্রিডের সংজ্ঞা থেকে একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে আসতে পারি। তা হলো—আওয়ামী লীগে নতুন যারা এসেছেন, তাদের মধ্যেও হাইব্রিড আছেন। আর যারা পুরনো আওয়ামী লীগ, তাদের মধ্যেও আছেন। তারা শুধু আওয়ামী লীগের জন্য কেন, যেকোনও দলের জন্য ক্ষতিকর। কারণ তারা দল করেন, দল বদলান শুধু স্বার্থের জন্য। তারাই দলের নাম ব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় গড়েন। কোনও নৈতিকতার ধার ধারেন না। তারাই আওয়ামী লীগে কথিত বহিরাগত, অনুপ্রবেশকারী ও কাউয়া সমস্যার জন্য দায়ী।
তাহলে এবার কি আপনাদের চোখের সামনে আওয়ামী লীগে কারা প্রকৃত অর্থেই অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিড, তা ভেসে উঠছে? দেশের সাধারণ মানুষও এখন এই সংজ্ঞা মেনে তাদের নাম বলে দিতে পারবে না। আওয়ামী লীগের সংকটে এদের পাওয়া যাবে না, আমি নিশ্চিত।
আওয়ামী লীগ যে তালিকা করেছে, তাতে ২০০৮ সালের পর যারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন, তারা আছেন। এই সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি। তারা সবাই কি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন? না তা হবেন না। আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া নতুন সংজ্ঞায়, দলে নতুন এলেই তারা অনুপ্রবেশকারী নয়। যাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধিতা, মানবতাবিরোধী অপরাধের  অভিযোগ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এবং আওয়ামী লীগের চেতনাবিরোধী কাজের অভিযোগ আছে, তারা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। তাদের তালিকা প্রকাশ করে বলে দেওয়া হবে তারা আওয়ামী লীগের কেউ নন।
তাই যদি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট—আওয়ামী লীগের দরজা বন্ধ নয়। কেউ চাইলে কোনও সময় আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারেন। তৃণমূলের নেতারাও আমাকে বলেছেন, ভালো মানুষ দলে যোগ দিলে তাতো দলের জন্যই ভালো। সবাইকে বহিরাগত, অনুপ্রবেশকারী বলা ঠিক না। ভালো মানুষ অনুপ্রবেশকারী হয় কীভাবে!
আমিও মনে করি তৃণমূল নেতারা ঠিকই বলছেন। তাই আওয়ামী লীগের উচিত হাইব্রিডদের তালিকা করা। তাদের তালিকা প্রকাশ করে বলে দেওয়া যে, তারা আওয়ামী লীগের কেউ না। এটা করতে পারলেই বহিরাগত, কাউয়া, অনুপ্রবেশকারী—এইসব সমস্যার সমাধান হবে। আওয়ামী লীগও ঝামেলামুক্ত হবে। আওয়ামী লীগ কি সেটা করবে?
লেখক: সাংবাদিক
ই-মেইল:[email protected]

/এমএমজে/এমএনএইচ/

অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৩০

মো. আখতার হোসেন জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রতি বছর বিশ্বের অগণিত মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিভিন্ন দেশে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অভিবাসন তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটেও অভিবাসনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আশির দশকের শুরু থেকেই দেশের কর্মসংস্থান সংকট মোকাবিলায় ও দারিদ্র্য বিমোচনে অভিবাসন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কোভিড-১৯ ও লকডাউনের প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন চরম সংকটের মুখোমুখি, তখন অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা ভর করেছে দেশের অভিবাসন খাতেও।  

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’র (বিএমইটি) তথ্যমতে, গত বছর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১,৭৫২.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্চ-মে মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও জুন থেকে এর ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা করোনাভাইরাসের অভিঘাত থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসী শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশসহ প্রায় মোট ১৬৮টি দেশে বসবাস করছেন। তারা মূলত বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং চুক্তি শেষে দেশে ফিরে আসেন।

প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণের কোনও যথাযথ প্রক্রিয়া নেই বলে প্রতি বছর কতজন দেশে ফিরছেন এর সঠিক সংখ্যা বের করা বেশ কঠিন।

তবে, করোনা বৈশ্বিক মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অন্য যেকোনও বছরের তুলনায় গত বছর দেশে ফেরত আসা প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আইওএম’র হিসাব অনুসারে, গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসে প্রায় চার লাখ প্রবাসী শ্রমিক কোভিড-১৯ এর কারণে দেশে ফেরত আসেন। কোভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে বেশিরভাগ দেশে লকডাউন ঘোষণা করায় এবং জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ অভিবাসী শ্রমিকদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ঋণদায়গ্রস্ত এবং দেশে তারা বেকার অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাই, বিদেশে যেমন তারা কষ্টে দিনযাপন করছিলেন, দেশে এসেও তারা পড়েছেন এক দুর্দশাপূর্ণ পরিস্থিতিতে। আইওএম’র গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ফেরত আসা ৭৫ শতাংশ প্রবাস শ্রমিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বিদেশে ফেরত যেতে আগ্রহী।

সেক্ষেত্রে আমাদের দরকার প্রবাস ফেরত এই শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি কাঠামোভিত্তিক রি-স্কিলিং ও আপস্কিলিং প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা, যেটি পরবর্তীতে দক্ষতার বিচারের মাপকাঠিতে প্রবাসে চাকরি নিশ্চিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।

দক্ষতার বিচারে বাংলাদেশ থেকে সাধারণত তিন রকমের অভিবাসন হয়– দক্ষ, স্বল্প দক্ষ এবং অদক্ষ। সাধারণত আমাদের দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, পরিবহন, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাজ, স্বাস্থ্য সেবা, ঘরের কাজসহ স্বল্প দক্ষ ও নিম্ন উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত থাকায় যেকোনও ধরনের অর্থনৈতিক অভিঘাতে তারা সমস্যার সম্মুখীন হন। করোনায় বেশিরভাগ দেশে এসব কাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক প্রবাসী শ্রমিকই চাকরি হারিয়েছেন।

বিদেশ গমন করা অধিকাংশ শ্রমিকই কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়া বিদেশে যান। অথচ ছয় মাস কিংবা এক বছরের একটি প্রশিক্ষণ বিদেশে তাদের পারিশ্রমিক দুই থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। তাই দেশে ফেরত আসা শ্রমিকরা যাতে ফের বিদেশ গমনের পর অধিক উপার্জন করতে পারেন, সেজন্য বহির্বিশ্বের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী যেসব খাতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন, সেসব খাতে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, করোনা পরিস্থিতি শ্রমবাজারের রূপ অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি নির্ভরতা ও উদ্ভাবন এবং নতুন দক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। কোভিড-১৯ যেমন কাজের ক্ষেত্রকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করেছে, একইসাথে অনেক নতুন সুযোগও সৃষ্টি করেছে। দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই ভাষাগত দক্ষতা ও প্রযুক্তি জ্ঞান কম থাকায় তারা বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হন।

এসব ক্ষেত্রে বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রম পরিস্থিতি আরও সুসংহত করা যেতে পারে। এছাড়া, অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, অটোমোবাইল ও ডিজিটাল খাতের কাজে বিদেশে অধিক চাহিদা থাকায়, তাদের এসব কাজ সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রদান করার ব্যাপারে নজর দেওয়া যেতে পারে। আমাদের নারী প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশই বিদেশে ঘরের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের যদি ভারতের কেরালা, ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের মতো নার্সিং কোর্স করানো হয়, অথবা দক্ষভাবে গৃহপরিচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে তা তাদের জন্য যেমন মঙ্গলজনক হবে, তেমনি আমাদের সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামোও সুনিশ্চিত হবে।

অভিবাসীদের জন্য বৈশ্বিক মহামারি সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার কয়েক ধাপে নগদ সহায়তাসহ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও এর মাত্র পাঁচ শতাংশ প্রবাস ফেরত শ্রমিকরা কাজে লাগিয়েছেন। প্রবাসীদের সহায়তার প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনায় সুফল পেতে তাই নীতিনির্ধারকদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করা জরুরি।  আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরির ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কাকে উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে। এসব দেশ, বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ তাদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে এগিয়ে আসতে পারে।

করোনাকালীন ও পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই। তাই, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি ও নতুন সম্ভাবনাময় বাজার অনুসন্ধান একসঙ্গে দুটোই চালিয়ে যেতে হবে। আর এটা করা সম্ভব হবে বহুমুখী অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই।

লেখক: সিনিয়র সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ‎গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

চিকিৎসার সুযোগ ‘উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র জন্য ইতিবাচক হবে

২৩ নাগরিকের বিবৃতিচিকিৎসার সুযোগ ‘উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র জন্য ইতিবাচক হবে

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কথা বলে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কথা বলে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune