X
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

বিজয়ের মাসে ইসলামি পত্রিকাগুলো যেমন

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:১৪

দেশে নিবন্ধিত জাতীয় দৈনিক, মাসিক, সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোর মধ্যে ইসলামি ঘরানার বেশ কিছু পত্রিকাও রয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই মাসিক বা দ্বি-মাসিক ভিত্তিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়। মূলত ধর্মকে উপজীব্য করে জীবনযাপন ভাবনার নানা বিষয়বস্তু উঠে আসে এসব পত্রিকায়। মাসিক সাময়িকী হিসেবে মূলধারার অন্য পত্রিকাগুলো যেখানে সংশ্লিষ্ট মাসের জাতীয় দিবসগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংখ্যা সাজানোর পরিকল্পনা করে ধর্মীয় আবরণের এসব পত্রিকায় জাতীয় দিবসগুলোকে উপেক্ষা করা হয় ততটাই। যাও দু’চারটা লেখা প্রকাশ হয় কোনও কোনও পত্রিকায়, তাতে ইতিহাসের উপাদানের চেয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিতর্কিত বিশ্লেষণ অহরহই চোখে পড়ে।

বিষয়টি বিশ্লেষণে এমন বেশ কিছু ধর্মভিত্তিক মাসিক পত্রিকার ডিসেম্বর সংখ্যা সংগ্রহ করে দেখা গেছে, মুক্তিকামী জাতির সবচেয়ে আবেগের দিন বিজয় দিবস এসব পত্রিকায় একেবারেই অনালোচিত, উপেক্ষিত। আর এক দুটিতে বিজয় দিবস নিয়ে যে লেখা প্রকাশিত হয়েছে তাতে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা,  জাতির জনকসহ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ অনেকটা দায়সারা গোছের। কোনও কোনওটাতে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গের উল্লেখই নেই। এসব পত্রিকায় উপেক্ষিত সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধা আলেমদের কথাও। তবে পাকিস্তান কিংবা ভারতের সমস্যা নিয়ে পত্রিকাগুলোকে বেশ উচ্চকিত হতে দেখা যায়। 

 

রাজধানীর খ্যাতনামা জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মুহাম্মদপুর মাদ্রাসা থেকে গত ২৫ বছর ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে মাসিক রাহমানী পয়গাম। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক।

রাহমানী পয়গামের ডিসেম্বর সংখ্যাটির প্রচ্ছদে জায়গা পেয়েছে তিনটি রচনার শিরোনাম। প্রথমটি সাংবাদিক মাওলানা লিয়াকত আলীর ‘অস্থিরতাই কি পাকিস্তানের নিয়তি’ শীর্ষক পর্যালোচনা। এছাড়াও রয়েছে ঘুষ প্রসঙ্গ নিয়ে একটি লেখা ও পত্রিকার সহকারী সম্পাদক মুহাম্মদ এহসানুল হকের ভারতের বাবরি মসজিদের রায় নিয়ে আরেকটি লেখা।

মাওলানা লিয়াকত আলী তার রচনায় পাকিস্তানের বর্তমান অস্থিরতা, দেশটিতে জমিয়তনেতা মাওলানা ফজলুর রহমানের আজাদী লংমার্চসহ আন্তর্জাতিক আগ্রহ ধরে ধরে বিশ্লেষণ করেছেন।

রাহমানী পয়গামের অন্যতম একটি প্রচ্ছদ রচনা ঘুষ নিয়ে। মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীনের এই রচনায় বাংলাদেশের ঘুষব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। লেখার শেষ দিকে লেখক প্রশ্ন রেখেছেন, ’১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। এই দিনে বিজয়ের স্মৃতিচারণ হবে। উড়বে স্বপ্নের বেলুন। রাজনৈতিক ভাষণে ওম পাবে পেঁয়াজের সঙ্গে নেচে কেঁদে ক্লান্ত শীতল জনজীবন। সেতুর বিলাসে উন্নয়ন পাবে নতুন নাম। কিন্তু সাধারণ নাগরিকের অধিকার কতটা নিশ্চিত হলো ৫০ বছর বয়স্ক বাংলাদেশে—সেই জরিপটাও কি হবে?’’

বিজয়ের মাসে রাহমানী পয়গাম সম্পর্কে জানতে চাইলে পত্রিকাটির সহকারী সম্পাদক মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, ডিসেম্বর মাসে স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা থাকে না বিষয়টা এমন নয়। কিছু লেখা তো থাকেই। তবে দেশ নিয়ে, মাতৃভূমি নিয়ে লেখার ধরন ভিন্ন থাকে। স্বাধীনতার ঊনপঞ্চাশ বছরে দেশ কতটুকু এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন কোথায় আছে- এ বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।’

তিনি বলেন, ‘রাহমানী পয়গামের এ সংখ্যায় বিজয় দিবস নিয়ে একটা লেখা আছে। দেশের সকল স্তরে ঘুষ এর মহামারি নিয়ে লেখা আছে। এ ক্ষেত্রে আমি আরেকটা বিষয় নিয়ে বলতে চাই, আমাদের দুর্ভাগ্য হলো আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে পারলেও ঐক্যমতের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা করতে পারিনি। সরকার বদল হলেই ইতিহাস বদলে যায়, এটা অনেক বড় ব্যর্থতা।’

১৯৮৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রকাশিত হচ্ছে মাসিক কিশোরকণ্ঠ (নিবন্ধন নতুন কিশোরকণ্ঠ নামে)। ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি সারাদেশে স্কুল ও কলেজগুলোতে পাঠানো হয়। ছাত্রদের শিবিরে যুক্ত করতে এই পত্রিকাটি বহুদিন ধরেই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে বলে জানান সংগঠনের কয়েকজন নেতা।  পত্রিকা পরিচালিত হয় কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের ব্যানারে।

চলতি ডিসেম্বর সংখ্যায় ‘তোমরাই গড়বে বাসযোগ্য পৃথিবী ’ শিরোনামে মূল রচনা লিখেছেন রবিউল কমল। তার লেখায় ‘বীরের জাতি হিসেবে বাঙালির আত্মপ্রকাশের দিন ১৬ ডিসেম্বর’ কথাটির উল্লেখ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তবে কয়েক পৃষ্ঠার এই লেখায় কোথাও উল্লেখ নেই, যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে কার বিরুদ্ধে।

পত্রিকাটির তরফে প্রাপ্ততথ্য, ২০০২ সালে সরকারি রেজিস্ট্রিভুক্ত হয় কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশন। আর পত্রিকার রেজিস্ট্রেশন হয় ২০০৪ সালের মার্চ মাসে। তখন পত্রিকাটির অফিসিয়াল নাম হয়ে যায় “নতুন কিশোরকণ্ঠ”। কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশন থেকে ২০০৮ সালে সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক মাসিক পত্রিকা “কারেন্ট ইস্যু” ও কার্টুন মাসিক “নয়া চাবুক” বের করা হয়। পত্রিকা দু’টির প্রকাশনা আপাতত বন্ধ আছে।

কিশোরকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মু. রাজিফুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টা হচ্ছে কিশোরকণ্ঠ একটি শিশু-কিশোরভিত্তিক পত্রিকা। ডিসেম্বর সংখ্যায় মূল রচনা রাখা হয়েছে শিশুরা কীভাবে বিজয়ের উপলব্ধি করতে পারে, সে বিষয়টিকে সামনে রেখেই একটি প্রচ্ছদ রচনা লেখা হয়েছে। বর্তমান সংখ্যার শেষের দিকেও বিজয় দিবস সংক্রান্ত লেখা রয়েছে। বিজয় দিবস আমাদের অর্জন, আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আজকের দিনের তরুণ প্রজন্মের কাছে এই বার্তাই আমরা দিতে চেয়েছি।’

রাজিফুল হাসান আরও বলেন, ‘আমাদের পত্রিকা শিশু-কিশোরভিত্তিক। গল্পভাষার মধ্য দিয়েই তাদের সামনে কন্টেন্ট তুলে ধরি আমরা। আর মূল রচনা থেকে পরিকল্পিতভাবে কোনও বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন কোনও ব্যাপার এখানে নেই। অন্যান্য বিষয়গুলোতে খেয়াল করলে দেখা যাবে কিশোরকণ্ঠের কন্টেন্ট শিশু উপযোগী।’

প্রসঙ্গত, কিশোরকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারি সেক্রেটারি  মতিউর রহমান আকন্দ (১৯৯৮-১৯৯৯), সিলেট মহানগর আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল (২০০২), ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির  মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (২০০৪-২০০৫), ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি  ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মাসুদ (২০০৬-২০০৭) প্রমুখ।  ২০১০ সাল থেকে কয়েক বছর কবি আল মাহমুদও পত্রিকাটির উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য  ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (১৯৮৪-১৯৮৫),  নায়েবে আমির  আ ন ম শামসুল ইসলাম (১৯৮৬-১৯৮৭), সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (১৯৯৩)সহ অনেকে। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত, বর্তমানে জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মন্জুও (২০০২) পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন।

ইসলামি ঘরানার সর্বাধিক প্রচারিত মাসিক পত্রিকার নাম মাসিক মদীনা। ৫৫ ধরে নিয়মিত এই প্রকাশনার মূল উদ্যোক্তা প্রয়াত মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। বর্তমানে তার ছেলে আহমদ বদরুদ্দীন খান পত্রিকাটির সম্পাদক।

ডিসেম্বর সংখ্যায় ইসলামি আইন-কানুন, বিধি-বিধান সংক্রান্ত রচনা ঠাঁই পেয়েছে মদীনায়। ইসলামি অর্থনীতির আধুনিক রূপ, ধর্ষণের কারণ ও প্রতিকার, আল কোরানের পরিভাষায় সাফল্য-ব্যর্থতা ও মৃত্যু সম্পর্কিত রচনা দিয়ে সাজানো হয়েছে সংখ্যাটি।

বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধ বা এ সংক্রান্ত কোনও লেখা মদীনায় ছাপা না হলেও এর সম্পাদকীয়তে বর্তমান কওমি আলেম সমাজের সাম্প্রতিক কিছু তৎপরতা নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে।

গত অক্টোবরে সরকারিভাবে হজ্বে যাওয়ায় দেশের আলেমদের একটি অংশের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে এর সম্পাদকীয়তে। আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘আমাদের বর্তমান শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরামের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের অসহনীয় নির্লিপ্ততা ও  ব্যক্তিত্বহীন মানসিকতা দৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, আমাদের তরুণ আলেম সমাজ ও ভবিষ্যত কয়েক প্রজন্মের আলেম সমাজে নিজেদের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবেন না।’

মাসিক মদীনার সম্পাদক আহমদ বদরুদ্দীন খান তার লেখায় অভিযোগ করেছেন, ‘দৃশ্যত যাদের বিশাল অংকের অর্থ আয়ের কোনও বৈধ উপায় জানা নেই, অথচ তারা আজ রাজকীয় হালে জীবন-যাপন করছেন। দামি গাড়ি হাঁকিয়ে চলছেন।’

চট্টগ্রামের আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপত্র মাসিক মুঈনুল ইসলাম। এবারে সংখ্যায় বিজয় উদযাপন নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বিজয় উদযাপনে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে রচনাটি লিখেছেন ইমরান রিশদীন।

বহুল প্রচারিত পত্রিকা ‘মাসিক আদর্শ নারী’। এর ডিসেম্বর সংখ্যায় পত্রিকাটিতে জায়গা পেয়েছে প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনী, বিপিএল সংক্রান্ত লেখা। এছাড়া পত্রিকাটির নিয়মিত মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কিত লেখা তো আছেই। পাকিস্তানের তারিক জামিল ও ওয়াজ-মাহফিলে নারী বক্তাদের নিয়ে সতর্কতামূলক রচনা রয়েছে। তবে এতে নেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোনও রচনা।

ছাত্রশিবির প্রভাবিত বাংলাদেশ মাদরাসা কল্যাণ পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়েছে দ্বিমাসিক মাদ্রাসা পত্রিকা। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের এই ইস্যুটিতে মহানবীর হিলফুল ফুযুল, সাহাবায়ে কেরাম নিয়ে রচনা রয়েছে। এতে বাংলাদেশের ৪৮ বছর নিয়ে ‘প্রকৃত বিজয় আসেনি’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত। এ লেখায় দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চাওয়া-পাওয়া বিশ্লেষণ করেছেন নিবন্ধকার। পত্রিকাটির উপদেষ্টামণ্ডলীতে পাঁচজন ব্যক্তির নাম রয়েছে। তারা হলেন, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা ক্বারী আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য, তামিরুল মিল্লাতের প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ যাইনুল আবেদীন, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী প্রমুখ।

ভারতের মাওলানা কালিম সিদ্দিকীর তত্ত্বাবধানে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে ‘আরমোগান’ মাসিক পত্রিকা। চলতি ডিসেম্বর মাসের সংখ্যায় বাবরি মসজিদের রায়, মতাদর্শের উদারতা, ধর্মীয় দলগুলোর মতানৈক্য, প্রতিকার ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি বিষয়ক রচনা স্থান পেলেও পত্রিকাটিতে নেই বাংলাদেশের বিজয় দিবস নিয়ে কোনও লেখা। রাজধানীর মালিবাগের মাকতাবাতুস সালাম নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

ধর্মভিত্তিক পত্রিকাগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে রচনা প্রকাশে দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে জানতে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা হয় কয়েকজন আলেমের। 

এর মধ্যে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীর সাবেক প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাসিক মুঈনুল ইসলামে আমি ২৩ বছর কাজ করেছি। এই ২৩ বছর সময়ের প্রতি বছরই ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও ডিসেম্বরে ভাষা, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় ও প্রবন্ধ-নিবন্ধ নিয়মিতই গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। এক্ষেত্রে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কোন বাধা বা প্রতিবন্ধকতা একেবারেই ছিল না।’

বর্তমানে একটি অনলাইন পত্রিকা সম্পাদনাসহ হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর আমির মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর প্রেস সচিব হিসেবে কাজ করছেন মুনির আহমেদ। তার মন্তব্য, ‘মাসিক মদীনা, আদর্শ নারী, মুঈনুল ইসলাম, আল-কাওসার, আত-তাওহীদ, দাওয়াতুল হক’সহ দেশে কয়েক ডজন মাসিক ইসলামি পত্রিকা রয়েছে। এসব পত্রিকার প্রকাশনা ও প্রচারের অনুমতি প্রাপ্তির সময় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরে এমন অঙ্গীকার নেওয়া হয়ে থাকে যে, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ধর্মীয় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও বিষয়বস্তু ছাড়া রাজনৈতিক দল ও রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কোনও লেখা প্রকাশ করা হবে না।‘

মাসিক ইসলামি পত্রিকাগুলোতে মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস, মুক্তিযুদ্ধ ও ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন নিয়েও রচনা, কবিতা, সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয় দাবি করে এই সম্পাদক বলেন, ডিসেম্বর বা মুক্তিযুদ্ধের ওপর রচনা কিংবা লেখা প্রকাশ খুব কম হওয়ার বিষয়ে আমি দ্বিমত পোষণ করি।’

তার ভাষ্য, এসব পত্রিকার পাঠকদের তরফ থেকে ধর্মীয় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণমূলক বিষয়বস্তুর লেখা দিয়ে পত্রিকা সাজানোর একটা চাপ থাকে। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক ও অন্যান্য বিষয়ের জন্য বাজারে প্রচুর পত্রিকা আছে। তাই এসব পত্রিকা ক্রয় করা হয় ধর্মীয় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের জন্য।’

তিনি দাবি করেন, শক্তিশালী দেশ ও আদর্শ সমাজ গঠনে এসব পত্রিকার প্রচেষ্টা ও ভূমিকাকে খাটো করে দেখবার সুযোগ নেই।

মাসিক নবধ্বনির নির্বাহী সম্পাদক সালাউদ্দীন জাহাঙ্গীর জানান, তাদের পত্রিকাটির ডিসেম্বর সংখ্যা প্রকাশনার বিষয় দিয়ে সাজানো হলেও নভেম্বর সংখ্যাটি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানির ওপর করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাওলানা গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, মাসিক পত্রিকাগুলোতে বিজয় দিবস প্রসঙ্গে লেখা প্রকাশিত হয়। আমি নিজে আদর্শ নারীতে কাজ করেছি, ক্বাবার পথে পত্রিকায় কাজ করেছি। আমি নিজেও স্বাধীনতার ওপর সংখ্যা করেছি। বিষয়টি নেতিবাচক হিসেবে কেউ নেয় না, মাসআলা-মাসায়েলের দিকে ঝোঁক বেশি থাকে, সে কারণে নজর কম দিতে পারে অনেকে। আর অনেকে হয়তো ভেবে থাকেন, বিজয় তো হয়েছেই।’

জানতে চাইলে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক (নিবন্ধন) তাজকিয়া আকবারী বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার সময় তো আমরা পর্যবেক্ষণ করে থাকি। এখন পরে কী পরিস্থিতি ঘটে, এটা নিয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো।’

/টিএন/

সম্পর্কিত

ঘূর্ণিঝড়ের মাঝেই যেভাবে উদ্ধার হলেন ১৩ জেলে

ঘূর্ণিঝড়ের মাঝেই যেভাবে উদ্ধার হলেন ১৩ জেলে

বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকার পাঁচ দিন পর ১৩ জেলে উদ্ধার

বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকার পাঁচ দিন পর ১৩ জেলে উদ্ধার

ভুটান ও ভারতের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি স্মরণে ডাকটিকিট অবমুক্ত

ভুটান ও ভারতের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি স্মরণে ডাকটিকিট অবমুক্ত

মোনাশ কলেজের স্টাডি সেন্টার কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

মোনাশ কলেজের স্টাডি সেন্টার কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

ঘূর্ণিঝড়ের মাঝেই যেভাবে উদ্ধার হলেন ১৩ জেলে

ঘূর্ণিঝড়ের মাঝেই যেভাবে উদ্ধার হলেন ১৩ জেলে

বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকার পাঁচ দিন পর ১৩ জেলে উদ্ধার

বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকার পাঁচ দিন পর ১৩ জেলে উদ্ধার

ভুটান ও ভারতের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি স্মরণে ডাকটিকিট অবমুক্ত

ভুটান ও ভারতের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি স্মরণে ডাকটিকিট অবমুক্ত

মোনাশ কলেজের স্টাডি সেন্টার কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

মোনাশ কলেজের স্টাডি সেন্টার কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

অর্থপাচারকারীদের বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট

অর্থপাচারকারীদের বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট

কোনও দুর্নীতিকেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

কোনও দুর্নীতিকেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

জেমসের মামলায় বাংলালিংকের চার জনের জামিন

জেমসের মামলায় বাংলালিংকের চার জনের জামিন

টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ চরমে

টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ চরমে

নিম্নচাপ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি 

নিম্নচাপ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি 

সর্বশেষ

ফের একদিনে নতুন রোগী ২৫০ ছাড়িয়ে

ফের একদিনে নতুন রোগী ২৫০ ছাড়িয়ে

শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি

শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নারী উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্ক ‘হার ই-ট্রেড’ আয়োজন করেছে প্রদর্শনীর

নারী উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্ক ‘হার ই-ট্রেড’ আয়োজন করেছে প্রদর্শনীর

নাগাল্যান্ড ইস্যুতে উত্তপ্ত ভারতের পার্লামেন্ট, দুঃখ প্রকাশ করলেন অমিত শাহ

নাগাল্যান্ড ইস্যুতে উত্তপ্ত ভারতের পার্লামেন্ট, দুঃখ প্রকাশ করলেন অমিত শাহ

© 2021 Bangla Tribune