X
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

সিনেমা সমালোচনা

কাঠবিড়ালী: ছবিটির নাম হতে পারতো ‘কাঠঠোকরা’

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:১৭

‘কাঠবিড়ালী’ নামটি সার্থক নয়, বরং ছবিটির নাম হতে পারতো ‘কাঠঠোকরা’। একটা সরল, সতেজ ভালোবাসার সম্পর্ককে পরকীয়া নামক কাঠঠোকরার খুঁটে খুঁটে নষ্ট করে ফেলার গল্প ‘কাঠবিড়ালী’।
এ ছবি প্রযুক্তি-বর্জিত বাংলার কোনও এক গ্রামের এক জোড়া মানুষের গল্প। এ গল্পে নৌকা আছে, ঢেউ আছে, নদী আছে, দু’কূল ভাসিয়ে তার বয়ে চলা আছে। জলের বুকে জাল ফেলে মাছ ধরা আছে। চোখ জুড়ানো সবুজ ক্ষেত আছে। ক্ষেতের শুকনো আইল ধরে ছুটে চলা আছে।
আরও আছে এক জোড়া চঞ্চল মন- হাসু আর কাজল! যারা রেললাইনে উড়ে বেড়ায় ডানা ছড়িয়ে। কাঠের পাটাতনের সেতুর নিচে দাঁড়িয়ে নাকে নাক ঘষে। পাটক্ষেতের নাভিতে বিছানা সাজিয়ে স্বপ্ন দেখে বাসরের। হাসু আর কাজলের প্রেমের বাগানে একটাই ছিল চোরকাঁটা, হাসুর সরলতা। কুলহীন, ধনহীন হাসু বড্ড বোকা। নিজের সামান্য জমিটুকুও কথার চিড়েতে ভিজে তুলে দেয় প্রতিবেশীর হাতে। রাত-বিরেতে গ্রামের পথে বিড়ি টেনে ঘুরে বেড়ায়। একমাত্র বন্ধু আনিসকে নিয়ে গ্রামের ঘিঞ্জি থিয়েটারে রগরগে সিনেমা দেখে। তার চালচুলোহীন জীবনে একমাত্র পুঁজি বলতে রূপসী কাজলের প্রেম।
তার দিকেও চোখ পড়েছিলো মাতবরের সবেধন পুত্রমণি আসগরের। বাবা কৌশলে তাকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দিলে হাসু আর কাজলের সংসার সাজাতে আর কোনও বাধাই থাকে না। কাজল সুন্দরী হলেও লোভী নয়। মাকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। গরিব, অপরিচ্ছন্ন, এমনকি ট্যারা হাসুকে বিয়ে করতে তার মন আটকায় না। সে পারতো আসগরের মতো লম্পটকে বিয়ে করে পায়ের ওপর পা তুলে খেতে। সে বেছে নিয়েছিলো ঘুঁটে কুড়োনির জীবন। ভেবেছিলো হাসুর ভালোবাসার জোয়ারে তার যৌবনের দু’কূল ভাসবে।
ভুল চোখে স্বপ্ন এঁকেছিলো কাজল। হাসু শুধু বৈষয়িক দিক থেকেই দেউলিয়া নয়, যৌবনের প্রারম্ভেই সে হারিয়ে ফেলেছে তার সামর্থ্য। নববিবাহিত স্ত্রীকে হাসু পরম আকর্ষণে জড়িয়ে ধরলেও তাতে কাজলের ‘রাতের ঘুম শেষ’ হয়ে যায়। হাসু বাজারের তেল-মালিশ কিনে এনেও বৈবাহিক সম্পর্কের শেষরক্ষা করতে পারে না। তার প্রেমের গাছে ততদিনে যে বাসা বেঁধে ফেলেছে আনিস নামের এক কাঠঠোকরা! অসুন্দরী, অক্ষম, অসুস্থ স্ত্রীর কাছে সুখ না পেয়ে যে সুখ খুঁজে বেড়ায় পরস্ত্রীর কাছে। কাজল ও আনিস এই দুই অতৃপ্ত শরীর গোপনে, গভীরে মিলে গেলে গ্রামের সজল প্রকৃতিতে এসে লাগে ইটভাটার গনগনে আগুনের আঁচ। কীভাবে একটা রোমান্টিক গল্প টানটান থ্রিলারের চেহারা নেয়, সেটুকু দর্শকরা দেখে নেবেন সিনেমা হলে গিয়ে।
‘কাঠবিড়ালী’ নির্মাতা নিয়ামুল মুক্তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। প্রথম হাঁটতে গেলে একটা শিশু যেভাবে পড়ে গিয়েও খিল খিল করে হেসে ওঠে, মুক্তার ছবিতেও আছে এমনই এক নির্মাতা-শিশুর হোঁচট খাওয়া আনন্দ। গহিন, গ্রামীণ জীবনে রক্ত হিম করা রহস্য গল্প আমাদের রুপালি পর্দায় বিরল। আর সেই গল্প বলার ভঙ্গি যদি হয় প্রচলিত থ্রিলারের মেজাজ এড়িয়ে, তবে আমাদের মগজের মনিটরে ভেসে ওঠে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার থ্রিলার কাঠামো।
দক্ষিণের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে প্রচুর থ্রিলার ছবি হয়। সেসব গল্পের নায়ক দেখতে বদখত, কখনও কখনও নায়িকাও প্রচলিত অর্থে সুন্দরী থাকে না, কিন্তু অপরাধই হয়ে ওঠে সেসব গল্পের প্রধান চরিত্র। গ্রামের শান্ত, স্থির, নিস্তরঙ্গ জীবনে অপরাধের চোরা স্রোত কীভাবে বয়ে যায়, দক্ষিণের ছবিতে এমন গল্প দেখে আমরা অভিজ্ঞ হয়েছি। কিন্তু এ দেশের বড় পর্দায় এমন কোনও গল্প যে উঠে আসতে পারে, তা প্রথম ভেবেছেন নিয়ামুল মুক্তা। তার কাঁচা হাতে একটা বড় প্রয়াস তিনি নিয়েছেন। মুক্তার এই সাহসিকতা চোখে পড়ারই মতো।

মুক্তা তার ‘কাঠবিড়ালী’কে ঠিক ঠিক জায়গায় নিয়ে ফেলেছেন। অবারিত সৌন্দর্যের এক লীলাভূমিকে তিনি বানিয়েছেন তার গল্পের পটভূমি, যেখানে মানুষের চেয়ে প্রকৃতিই তার ক্যামেরায় আকর্ষণীয় হয়ে ধরা পড়েছে বেশি। এত আশ্চর্য সুন্দর সুন্দর লোকেশনে তিনি দৃশ্য ধারণ করেছেন, যা দর্শকদের হা করে গিলতে হয়েছে। লোকেশন নির্বাচনে নির্মাতা ছিলেন অনায়াস ও আন্তরিক; কিন্তু প্রকৃতির ঐশ্বরিক রূপে তিনি সংযম হারিয়েছেন।
প্রকৃতিকে গল্পের একটা চরিত্র হিসেবে দাঁড় করানোর বদলে বিজ্ঞাপনচিত্রের মতো চাকচিক্যময় ফ্রেমিং দিয়ে দর্শকদের আবিষ্ট করে রাখতে চেয়েছেন। বিশাল মাঠ, উঁচু গাছ, বর্ষার জল তার গল্পের পটভূমিকে দর্শকদের কাছে প্রতিষ্ঠিত করেছে, কিন্তু এই প্রকৃতিকে গল্পের গাঁথুনির সঙ্গে জুড়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন নির্মাতা। অথচ নদীর পাড়ের কুঁড়েঘর, হেঁসেল, মেঠোপথ, রেলসেতু, এগুলো দৃশ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি না করে হয়ে উঠতে পারতো একেকটি চরিত্র।
নয়ন সুখকর অথচ গল্পের সঙ্গে আত্মীয়তা পাতানোয় ব্যর্থ ও বিচ্ছিন্ন দৃশ্যে ‘কাঠবিড়ালী’ পূর্ণ। চিত্রগ্রাহক তার ক্যামেরার কেরামতি দেখাতে যতটা ব্যস্ত ছিলেন, ততটা ব্যর্থ ছিলেন গল্পের প্রবাহের সঙ্গে তার শটগুলো জুড়ে দিতে। সম্ভবত, সম্পাদনার টেবিলে সম্পাদককে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়েছে নয়নাভিরাম প্রকৃতিতে ধারণ করা দৃশ্যগুলোকে একের পর এক সাজাতে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আলাদা আলাদা দৃশ্যে যতখানি প্রাণবন্ত, পুরো ছবির মেজাজের সঙ্গে কিন্তু তার ততখানি একাত্মতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। গল্পে গান এসেছে বেশ কয়েকবার, সেগুলোর কোনোটাই চিত্রনাট্যের দাবি মেটাতে আসেনি, এসেছে দর্শকদের কানের আরাম দিতে। একইভাবে শ্রুতিমধুর ছিল না সংলাপ। ত্রুটিহীন আঞ্চলিক সংলাপে বাস্তবতা ছিল, ছিল না তেজ ও তীক্ষ্ণতা।
গল্পের প্রথমার্ধে পরিচালকের ছিল অহেতুক তাড়াহুড়া। তিনি দৃশ্যের পর দৃশ্য দেখিয়ে চলেছেন, চরিত্ররা আসছে, যাচ্ছে, সংলাপ আওড়াচ্ছে, প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে; কিন্তু গল্পের কোথাও পৌঁছানোর কোনও তাড়া নেই। এক চরম অসারতা গল্পের শরীরজুড়ে। যা ছন্দায়িত হয় আরামদায়ক চেয়ারে আসীন দর্শকদের শরীরেও। এককথায় বলতে গেলে, ছবির এক-তৃতীয়াংশ দৈর্ঘ্যে ছিল ছন্দহীনতা। অথচ যে মুখর প্রকৃতিকে পটভূমি করেছিলেন নির্মাতা, দর্শকদের মন-মগজ-আত্মাকে তিনি ডুবিয়ে দিতে পারতেন হাসু আর কাজলের অনবদ্য প্রেমের ও কামের গল্পে।

প্রকৃতিকে তিনি ব্যবহার করেছেন বিচ্ছিন্নভাবে, চরিত্রগুলোর সঙ্গে এর কোনও ধরনের সমঝোতা ছাড়াই। শুধু ব্যতিক্রম ছবির শেষভাগ। তখন হাসু, কাজল, বিলকিসের বেদনার গল্পে প্রকৃতিও হয়ে উঠেছিলো সমব্যথী। ইটভাটার চূড়ায় বসে হাসু যখন বলে, ‘জিনিস যত যত্নেরই হোক- নষ্ট হয়ে গেলে কাছে রাখতে নেই’, কেবল তখনই গল্পের মোচড় বোঝা যায়। বোঝা যায়, নির্মাতা কোনও গরিব পতি-বিবির গল্প দেখাতে এতক্ষণ সময় ধরে দর্শকদের তাড়া করে ফিরছেন না, তার গল্পের মূল চরিত্র অপরাধ। অবশ্য রহস্যের গন্ধ প্রথম দৃশ্যেই দর্শকদের ভেতরে গেঁথে দিয়েছিলেন নির্মাতা।

কিন্তু যে গতিতে ছবির গল্প এগোতে পারতো, যে ছন্দে বইতে হতো এরকম একটা ক্রাইম থ্রিলারকে, সেই গতি সেই ছন্দ ছবিজুড়ে ছিল না। চরিত্রগুলোকে মনে হয়েছে একটা আরোপিত গল্পের ক্রীড়নক। নির্মাতার সুতোর টানে তারা চলছেন, বলছেন, খেলছেন। কিন্তু চিত্রনাট্যের স্বাভাবিক ছন্দ ও গতির অভাবে চরিত্রগুলো ভেতর থেকে না যতখানি প্রকাশিত, তারচেয়ে বেশি সাবলীল অভিনয়ে প্রস্ফুটিত।
অভিনয় শিল্পীদের মধ্যে অর্চিতা স্পর্শিয়া ছাড়া আর কোনও পরিচিত শিল্পী ছিলেন না। তাতে ভালোই হয়েছে, চরিত্রগুলোকে ‘চরিত্র’ মনে হয়েছে। কোনও একটা বিশেষ চরিত্রের প্রতি নির্মাতার পক্ষপাত ছিল না। প্রতিটি চরিত্রই তার বশীভূত ছিল। তারা স্বাভাবিক অভিনয় করে গেছেন। কারও অভিনয়ে মাত্রাহীনতা ছিল না। প্রধান নারী চরিত্র বলে একটু বেশি দৃষ্টি কেড়েছেন স্পর্শিয়া। তার রূপ আছে, চরিত্রের রূপান্তরেও তিনি ছিলেন যথাযথ।
ছবিতে অভিনয়শিল্পীর সংখ্যা কম। গ্রামের বিশালতা ক্যামেরায় যেভাবে দর্শকদের দেখিয়েছে, সেভাবে গ্রামের চরিত্রগুলো ক্যামেরার সামনে আসেনি। হাতেগোনা কিছু চরিত্রকে আঁকড়েই গল্প এগিয়েছে। গল্পের কোনও একটা চরিত্রকে ভালো কিংবা মন্দের মাপকাঠিতে মাপেননি নির্মাতা। প্রতিটি চরিত্রই ছিল অল্প-বিস্তর ধূসর। আর এটাই স্বাভাবিক নয় কি? দুই শিল্পীর সঙ্গে নির্মাতা মুক্তা (বামে)
ভালোবেসে বিয়ে করা হাসুর বিদায়বেলায় কাজলের চোখের জল যেমন মিথ্যে নয়, তেমনই মিথ্যে নয় তার শরীরে জ্বলতে থাকা কামের আগুনও। আসগর যেমন গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তরুণীর খুনে হাত রক্তে লাল করতে পিছপা হয়নি, তেমনই কাজলকে পাওয়ার জন্য মিথ্যে নয় তার ছটফটানি। পুলিশ অফিসারকে দেখা যায় উৎকোচ নিতে দারুণ কৌশলী, আবার শেষে খুনির কোমরে বেড়ি পরাতেও তার হাত অকম্পিত।
পুলিশ অফিসার আর হাসুর শেষ দৃশ্যের সংলাপ থেকেই একটি প্রশ্ন চলে যায় নির্মাতার কাছে। গল্পের শেষে খুনিকে নিপুণ হাতে প্রমাণ লোপাট করতে দেখা যায়নি। খুনিও নয় কোনও সতর্ক সিরিয়াল কিলার। বরং প্রমাণ রেখে যাওয়াই ছিল তার জন্য স্বাভাবিক। তারপরও পুলিশ অফিসার কেন বলে ‘শুধু প্রমাণ নেই’ তাই তিনি খুনিকে ধরতে পারলেন না! তিনি কি খুনির কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের কোনও চেষ্টা করেছেন? কে খুন করেছে, এটা তিনি তার প্রবৃত্তি দিয়ে অনুভব করেছেন, তারপরও পুলিশ অফিসার কেন খুনিকে আইনের আওতায় আনলেন না?
এসব ত্রুটির পরও ‘কাঠবিড়ালী’র গল্প শেষদিকে দর্শকদের একটা ধাক্কা দিতে সক্ষম হয়। এই ধাক্কাটা না থাকলে দর্শকরা অতৃপ্ত হয়েই থিয়েটার ছাড়তেন। রহস্য গল্পের ধর্ম অনুযায়ী রহস্যের জাল যেভাবে বিছানোর প্রয়োজন ছিল, সেভাবে না বিছিয়ে, একটা প্রেমের গল্পের মোড়কে, রহস্যটুকু চেপে রেখে, গল্প বলেছেন নির্মাতা। হয়তো এটা দর্শকদের মস্তিষ্ককে অপ্রস্তুত রেখেছে বলেই শেষ ধাক্কাটা প্রবল হয়েছে। কিন্তু গল্পের পরিণতি কি খুব অস্বাভাবিক ছিল? নির্মাতা কি নতুন কোনও পরিণতি আমাদের দেখাতে পেরেছেন? এমন পরিণতিই কি নিষিদ্ধ প্রেমের গল্পে দেখে আমরা অভ্যস্ত নই? এসব প্রশ্নের চিত্তাকর্ষক উত্তর পাওয়া যাবে না জানি, তবু একজন নতুন নির্মাতা গতানুগতিক পথে না হেঁটে ভিন্ন ঘরানায় চলার এই চেষ্টাকে সাধুবাদ না জানানোর সুযোগ কই!

কাঠবিড়ালী: রিভিউ রেটিং- ৬/১০

পরিচালক: নিয়ামুল মুক্তা

প্রযোজক: নিয়ামুল মুক্তা

কাহিনিকার: নিয়ামুল মুক্তা

চিত্রনাট্যকার: মুহাম্মদ তাসনিমুল হাসান তাজ

শ্রেষ্ঠাংশে:

অর্চিতা স্পর্শিয়া, আসাদুজ্জামান আবীর, সাইদ জামান শাওন, শিল্পী সরকার অপু, একে আজাদ সেতু, শাহরিয়ার ফেরদৌস সজীব, হিন্দোল রায়, তানজিনা রহমান তাসনিম প্রমুখ

সুরকার: ইউসুফ হাসান অর্ক

সংগীত পরিচালক: ইমন চৌধুরী

চিত্রগ্রাহক: আদিত্য মনির

সম্পাদক: আশিকুর রহমান সুজন

প্রযোজনা: চিলেকোঠা ফিল্মস

পরিবেশক: জাজ মাল্টিমিডিয়া

মুক্তি:

প্রথম প্রদর্শনী, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯

দেশজুড়ে মুক্তি, ১৭ জানুয়ারি ২০২০

দৈর্ঘ্য: ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট ১১ সেকেন্ড

ভাষা: বাংলা

লেখক: সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র সমালোচক

/এমএম/

সম্পর্কিত

‌‘ইত্যাদি’ এবার মেট্রোরেলের ডিপোতে!

‌‘ইত্যাদি’ এবার মেট্রোরেলের ডিপোতে!

নিশো-মেহজাবীনের ‘ঘটনা সত্য’ প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা

নিশো-মেহজাবীনের ‘ঘটনা সত্য’ প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা

ডাকবাক্সের প্রেমে ডুবে শ্রাবণ্যর ফেরা...

ডাকবাক্সের প্রেমে ডুবে শ্রাবণ্যর ফেরা...

নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? 

নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? 

‌‘ইত্যাদি’ এবার মেট্রোরেলের ডিপোতে!

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ২১:৪৫

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে ঢাকার উত্তরায় দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মেট্রোরেল লাইন-৬ এর ডিপোতে! 

গত ১৬ জুলাই দেশের প্রথম দূর-নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক মেট্রোরেলের প্রথম গন্তব্যস্থলের সুবিশাল ওয়ার্কশপে ধারণ করা হয় এই পর্বটি। করোনার কারণে এই প্রথম স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠানে কোনও দর্শককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সেই হিসাবে এটিই হচ্ছে ‘ইত্যাদি’র দর্শকশূন্য প্রথম অনুষ্ঠান। 

অনুষ্ঠানটির জনক হানিফ সংকেত জানান, মেট্রোরেলের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে নির্মাণ করা আলোকিত মঞ্চে এই ধারণ অনুষ্ঠান চলে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে গান রয়েছে দুটি। খ্যাতিমান গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের কথায়, মনোয়ার হোসেন টুটুলের সুরে সাবিনা ইয়াসমিন গেয়েছেন একটি দেশাত্মবোধক গান। গানটির কোরিওগ্রাফিতে অংশগ্রহণ করেছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানির ক’জন স্থপতি ও প্রকৌশলী।

সম্প্রতি সিলেট অঞ্চলের একটি গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। তৈরি হয়েছে ধূমজাল। ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্বে সেই গানটির প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সেই চিকিৎসকদের, যাদের নৃত্যে গানটি আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেয়েছে। 

পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে শিল্পী তসিবাকে। সংগৃহীত কথা ও সুরে ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্বে তসিবার জন্য একটি গান নতুনভাবে রেকর্ড করা হয়। গানটির র‌্যাপ অংশ গেয়েছেন মাহমুদুল হাসান। সংগীতায়োজন করেছেন তরুণ সংগীত পরিচালক নাভেদ পারভেজ। গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত নৃত্যশিল্পীরা।

হানিফ সংকেত বলেন, ‘শেকড়ের সন্ধানে আমরা সবসময়ই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রচারবিমুখ, জনকল্যাণে নিয়োজিত মানুষদের তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি গত প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে অচেনা-অজানা বিষয় ও তথ্যভিত্তিক শিক্ষামূলক প্রতিবেদন প্রচার করে আসছে। আর সেই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বে আমাদের স্বপ্নের মেট্রোরেলের ইতিহাস, অগ্রগতি, বিভিন্ন কারিগরি দিক, সুবিধাসমূহের ওপর রয়েছে তিনটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন।’

রয়েছে নাটোরের বড়াই গ্রাম উপজেলার প্রকৌশলী মোঃ আমিন উল্লাহর আরেকটি উদ্বুদ্ধকরণ প্রতিবেদনও।

থাকছে গ্রীসে ধারণকৃত অলিম্পিক স্টেডিয়ামের প্রায় ৩ হাজার বছরের পুরানো ইতিহাস থেকে বর্তমান ইতিহাস।

এবারের ‘ইত্যাদি’তে কোনও আমন্ত্রিত দর্শক না থাকার পরও করা হয়েছে দর্শক পর্ব। কিন্তু দর্শক ছাড়া কিভাবে দর্শক পর্ব? মামা তথা অভিনেতা আব্দুল কাদেরের মৃত্যুর পর ভাগ্নে আফজাল শরীফকে এই প্রথম দেখা যাবে। কিন্তু সেখানে তার ভূমিকা কী থাকবে? এই সব প্রশ্নেরই উত্তর পাওয়া যাবে ৩০ জুলাই প্রচার প্রতীক্ষিত ‘ইত্যাদি’তে।

নিয়মিত পর্বসহ এবারও রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু সরস অথচ তীক্ষ্ণ নাট্যাংশ। এবারও ‘ইত্যাদি’র শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম।

এবারের ‘ইত্যাদি’তে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন- মাসুম আজিজ, আমিরুল হক চৌধুরী, সোলায়মান খোকা, জিয়াউল হাসান কিসলু, শবনম পারভীন, আফজাল শরীফ, সুভাশিষ ভৌমিক, আমিন আজাদ, কামাল বায়েজিদ, লাভলী ইয়াসমিন, লিনা, নিপু, জামিল হোসেন, জিয়াউল হক পলাশ, শামীম, আনন্দ খালেদ, সজল, সাজ্জাদ সাজু, গুলশান আরা, নজরুল ইসলাম, সুবর্ণা মজুমদার, ইমিলা, তিন্নি, ইরা, আসমা, মতিউর রহমান, রিমু, নিসা, তানিয়া, পাপিয়াসহ অনেকে। পরিচালকের সহকারী হিসাবে ছিলেন যথারীতি রানা ও মামুন। 

গণমানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এই পর্বটি একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচার হবে আগামী ৩০ জুলাই, শুক্রবার-রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। 

‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন যথারীতি হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

/এমএম/

সম্পর্কিত

নিশো-মেহজাবীনের ‘ঘটনা সত্য’ প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা

নিশো-মেহজাবীনের ‘ঘটনা সত্য’ প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা

ডাকবাক্সের প্রেমে ডুবে শ্রাবণ্যর ফেরা...

ডাকবাক্সের প্রেমে ডুবে শ্রাবণ্যর ফেরা...

নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? 

নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? 

দাঁড়াতে পারছেন না শুভ, বিছানায় এক সপ্তাহ

দাঁড়াতে পারছেন না শুভ, বিছানায় এক সপ্তাহ

নিশো-মেহজাবীনের ‘ঘটনা সত্য’ প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ২২:৩৯

ঈদুল আজহার বিশেষ নাটক ‘ঘটনা সত্য’ নিয়ে দিনভর চলেছে আলোচনা। আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত এই নাটকটির মূল বার্তাটি ছিল এমন- পাপ করলে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। নাটকে নিশো-মেহজাবীনের পাপের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা না থাকলেও তুমুল বিতর্কের জন্ম দেয় প্রায়শ্চিত্ত নিয়ে। দেখা যায়, চুরি করে জীবন নির্বাহ করা দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় ‘বিশেষ শিশু’!

সমাজকর্মী তথা দর্শকের মন্তব্য, এই নাটকের মাধ্যমে কুসংস্কার প্রচার করা হয়েছে। প্রমাণের চেষ্টা হয়েছে, বিশেষ শিশু জন্ম নেওয়া মানেই বাবা-মায়ের পাপের ফসল! আশার কথা, এমন অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভি নাটকটিকে প্রত্যাহার করে নেয় ইউটিউবসহ অনলাইনের সব মাধ্যম থেকে।

সঙ্গে নাটকটির সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার পক্ষ থেকে প্রকাশ্য ক্ষমা চেয়ে নেন নাটকটির প্রধান দুই শিল্পী আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরীসহ নির্মাতা রুবেল হাসান, নাট্যকার মঈনুল সানু এবং প্রযোজক এস কে সাহেদ আলী।     

তারা মনে করেন, দর্শকদের অভিযোগটির ভিত্তি রয়েছে। এবং এটি তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। ‘ঘটনা সত্য’ নাটকের নাট্যকার, পরিচালক, শিল্পী এবং কলাকুশলীদের পক্ষ থেকে প্রযোজক এস কে সাহেদ আলী পাপ্পু গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এই অনভিপ্রেত ঘটনাটির জন্য। 

তার ভাষায়, ‘আপনাদের অনেকেই জানিয়েছেন, এ নাটকের মাধ্যমে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটির সাথে আমরা সহমত পোষণ করছি। বিষয়টি একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। যারা আমাদের এ বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন, সবাইকে অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে জানাই, প্রথম বার্তা পাবার পরপরই আমরা উপলব্ধি করি, অসাবধানতাবশত নাটকে আমরা ভুল একটি বার্তা দিয়েছিলাম। এরপর সঙ্গে সঙ্গেই নাটকটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিই।’

নাটকের দুই প্রধান শিল্পী আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘প্রত্যেক বাবা-মা ও সন্তানের প্রতি আমাদের ভালোবাসা জানাই। সেই সাথে, ভবিষ্যতে এমন নাটক করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যা সঠিক বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দেয় এবং দর্শকদের সঠিক পথে পরিচালিত করে। পুরো কাজটির সঙ্গে জড়িত সবার পক্ষ থেকে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা চাইছি।’

উল্লেখ্য, ‘ঘটনা সত্য’ নাটকটি সিএমভি’র ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয় গতকাল ২৪ জুলাই। সেটি আজ (২৫ জুলাই) দুপুর নাগাদ প্রত্যাহার করা হয়। নাটকটি প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় চাইল্ড ফাউন্ডেশনসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শক।

‘ঘটনা সত্য’র গল্পে দেখা গেছে, বিলকিছ ও মুকুল পাশাপাশি দুটি ফ্ল্যাটের গৃহপরিচারিকা ও গাড়ির ড্রাইভার। তারা সব সময় এটা সেটা চুরি করে, কাজে ফাঁকি দেয়, মিথ্যা বলে! এতে মালিক পক্ষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়। শুধু তা-ই নয়, কাজের মেয়ে বিলকিছ বাজার থেকে সস্তা ও পচা সবজি কিনে আনে, ফ্রিজে রাখা খাবার এঁটো করে রাখে, বাসায় রাখা অন্যের কসমেটিকস নিজে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে, অপচয় করে। অন্যদিকে মুকুলও মিথ্যা বলে, ডিউটি বাদ দিয়ে অন্যত্র যাত্রী বহন করে, লুকিয়ে গাড়ির তেল বিক্রি করে। ঘটনাক্রমে বিলকিছ ও মুকুলের সম্পর্ক প্রণয়ে রূপ নেয়, গড়ায় বিয়েতে। জন্ম হয় একটি বাচ্চা। চিকিৎসক জানান, বাচ্চাটি স্বাভাবিক নয়- বিশেষ শিশু। বিলকিছ ও মুকুল ধরে নেয়, এটি তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত! 

/এমএম/এমওএফ/

সম্পর্কিত

শেফ চরিত্রে নিশো, সঙ্গে মেহজাবীন

শেফ চরিত্রে নিশো, সঙ্গে মেহজাবীন

কাজ আদায়ের জন্য কান্না জুড়ে দেন মেহজাবীন!

কাজ আদায়ের জন্য কান্না জুড়ে দেন মেহজাবীন!

অপূর্বর ভুল চিকিৎসায় ক্ষুব্ধ মেহজাবীন!

অপূর্বর ভুল চিকিৎসায় ক্ষুব্ধ মেহজাবীন!

ডাকবাক্সের প্রেমে ডুবে শ্রাবণ্যর ফেরা...

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ২১:১১

শ্রাবণ্য তৌহিদা চিঠি কিংবা ডাকবাক্সের যুগ ফুরিয়েছে, চলছে অন্তর্জাল দাপট। যোগাযোগ এখন অপেক্ষাহীন মুহূর্তের মতো। চিঠির আবেদন তবে কি ফুরালো? 

এমন প্রশ্নের অনুসন্ধান করতে নির্মিত হলো ঈদ নাটক ‘প্রিয় ডাকবাক্স’। আর এতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় সঞ্চালক শ্রাবণ্য তৌহিদা। প্রায় ৫ বছর পর এবারের ঈদে মোট ৩টি নাটকে কাজ করেছেন তিনি। সঙ্গে ঈদ বিশেষ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা তো ছিলোই। 

রুদ্র হকের গল্প ও চিত্রনাট্যে শ্রাবণ্যর ‘প্রিয় ডাকবাক্স’ নাটকটি নির্মাণ করেছেন মাহমুদ দিদার। ঈদের সপ্তম দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে এটি, জিটিভিতে।

রাজধানীর উত্তরায় পোস্ট অফিসসহ বিভিন্ন লোকেশনে চিত্রায়িত হয়েছে নাটকটি। এতে আরও অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, খায়রুল বাশার, আজম খান, তুহিন চৌধুরী, ফাহি তানু প্রমুখ।

নাট্যকার রুদ্র হক বলেন, ‘এই সময়ের দুই তরুণ-তরুণী, যারা জানে না চিঠি কিভাবে লিখতে হয়, ডাকবাক্সে চিঠি ফেললে কেমন করে তা পৌঁছায় প্রাপকের হাতে! প্রতিমুহূর্তে ফেসবুক, ইন্সটা তথা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে বুঁদ হয়ে থাকতে থাকতে প্রেমটাও একঘেঁয়ে হয়ে ওঠে তাদের কাছে। সম্পর্কের মাঝে দূরত্বই যখন কাম্য হয়ে ওঠে, ঠিক তখন তারা সন্ধান পায় চিঠির। ডাকপিয়ন আর ডাকবাক্সের। মুঠোফোন থেকে দূরে সরে ডাকবাক্স, চিঠি আর সেই ল্যান্ডফোনের প্রেমে ডুবে যাওয়ার গল্প এটি।’

‘প্রিয় ডাকবাক্স’র একটি দৃশ্যে শ্রাবণ্য বহুল আলোচিত সিনেমা ‘বিউটি সার্কাস’ ও ওয়েব সিরিজ ‘পঁচিশ’ মুক্তির ব্যস্ততার মাঝেই ‘প্রিয় ডাকবাক্স’ নির্মাণ করেছেন মাহমুদ দিদার। তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত নিজের গল্পের বাইরে কাজ করি না। এই প্লটটি খুব সময়োপযোগী বলে নির্মাণে আগ্রহী হয়েছি। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।’

এদিকে উপস্থাপনায় দারুণ জনপ্রিয় শ্রাবণ্য তৌহিদা পাঁচ বছর পর অভিনয়ে ফেরার পর তিনটি নাটকের দুটিই লিখেছেন রুদ্র হক আর একটি ইমদাদুল হক মিলন। 

শ্রাবণ্য বললেন, ‘‘শুধু ভক্তদের জন্য আর গল্পের প্রেমে পড়ে অভিনয় করেছি আবার। অনেক অফার পেলেও গল্প ও স্ক্রিপ্ট মনমতো না হওয়ায় আগ্রহ জাগে না। এবার জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের গল্পে একটি ও কবি রুদ্র হকের গল্পে দুটি নাটক করেছি। প্রতিটি গল্পই নারী প্রধান চরিত্র। বিশেষ করে ‘ভাঙনের পর’ ও ‘প্রিয় ডাকবাক্স’ নাটক দু’টিতে খুবই চ্যালেঞ্জিং ক্যারেক্টার ছিলো আমার। নিজের সবটুকু দিয়ে কাজগুলো করেছি।”

আজ (২৫ জুলাই) জিটিভিতে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে ‘ভাঙনের পর’ নাটকটি। রাইসুল তমালের নির্মাণে এতে শ্রাবণ্যর নায়ক ইরফান সাজ্জাদ।

এবারের ঈদে শ্রাবণ্যর অন্য নাটকটি হলো ‘বিয়ের কয়েকদিন আগে’। নির্মাণ করেছেন নূর আনোয়ার হোসেন। এর গল্প লিখেছেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। এতে শ্রাবণ্যর বিপরীতে ছিলেন আব্দুন নূর সজল। এটি প্রচার হলো ঈদের দ্বিতীয় দিন বিটিভিতে। ‘ভাঙনের পর’ নাটকের শুটিংয়ে নাট্যকার রুদ্র হক ও শ্রাবণ্য তৌহিদা

/এমএম/

নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? 

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৬:৫৯

ছবি নয়, বাস্তব দুনিয়াতেই সর্বাধিক আলোচনায় আছেন টলিউড তারকা শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। গত এক বছরে ব্যক্তিগত ঘটনায় বহুবার পত্রিকার শিরোনামে উঠেছেন তিনি।
 
মূলত সম্পর্কের টানাপড়েনে টলিপাড়ায় তাকে নিয়ে আলোচনা লেগেই আছে। তৃতীয় স্বামী রোশন সিংয়ের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের মতো বিষয়ে উত্তপ্ত আলোচনা তো ছিলই, সঙ্গে যোগ হয়েছে তার নতুন প্রেমিক, ব্যবসায়ী অভিরূপ নাগ চৌধুরীর নামও।

তাই সবাই ধরেই নিয়েছিলেন হ্যাটট্রিক পর্ব পার করে এবার চতুর্থবারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন তিনি। তবে নতুন খবর হলো, বিয়ের আগেই সেই সম্পর্কে ধরেছে ফাটল। 
 
সম্প্রতি শ্রাবন্তীর করা এক পোস্ট দ্বিধায় ফেলেছে ভক্তদের। প্রশ্ন- এবার কি নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও বিচ্ছেদ হতে চলেছে শ্রাবন্তীর?

নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ছবি শেয়ার করে নায়িকা লিখেছেন, ‘কখনও কখনও একা থাকাই সবচেয়ে ভালো…’।

তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই খোলাসা করেননি শ্রাবন্তী। কিন্তু মানসিকভাবে যে মোটেও ভালো নেই, সেটা বোঝা যাচ্ছে বলে মনে করছে ভারতীয় মিডিয়া।

সূত্র: ইনস্টাগ্রাম, আজতাক

/এম/এমএম/এমওএফ/

সম্পর্কিত

‌‘ইত্যাদি’ এবার মেট্রোরেলের ডিপোতে!

‌‘ইত্যাদি’ এবার মেট্রোরেলের ডিপোতে!

নিশো-মেহজাবীনের ‘ঘটনা সত্য’ প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা

নিশো-মেহজাবীনের ‘ঘটনা সত্য’ প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা

ডাকবাক্সের প্রেমে ডুবে শ্রাবণ্যর ফেরা...

ডাকবাক্সের প্রেমে ডুবে শ্রাবণ্যর ফেরা...

দাঁড়াতে পারছেন না শুভ, বিছানায় এক সপ্তাহ

দাঁড়াতে পারছেন না শুভ, বিছানায় এক সপ্তাহ

দাঁড়াতে পারছেন না শুভ, বিছানায় এক সপ্তাহ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ২০:২০

‘মিশন এক্সট্রিম’ চলচ্চিত্রের জন্য বডি ট্রান্সফরমেশন করেছিলেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। দিন-রাত পরিশ্রম করে নিজের শরীরের নতুন লুক আনলেও পড়েছিলেন পায়ের ইনজুরিতে। মাস খানেক ভোগার পর সুস্থ হলেও আবারও পুরনো ক্ষত জেগে উঠেছে। 

মূলত ঈদের দু’দিন আগে থেকে তিনি দাঁড়াতে পারছিলেন না ঠিকমতো। সেই থেকে একরকম বিছানায় পড়ে আছেন সুঠামদেহি এ তারকা। 

দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চললেও পায়ের অবস্থা স্বাভাবিক হচ্ছে না। আর সে কারণে এবার এমআরআই করালেন তিনি। যার ফল জানা যাবে আগামী ২৮ জুলাই।

শুভ গতকাল (২৪ জুলাই) রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে এমআরআই করেন। 

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জাহাঙ্গীর সাহেব দেড়ঘণ্টা সময় নিয়ে পরীক্ষাটা করেছেন। কারণ, বিষয়টা খুবই ভোগাচ্ছে আমাকে। গত প্রায় এক সপ্তাহ থেকে আমি দাঁড়াতেই পারছি না। সারাটা দিন বিছানায় থাকতে হচ্ছে। নড়াচড়াতেও সমস্যা হচ্ছে।’

এদিকে জানা যায়, ইনজুরি বিশেষজ্ঞ দেবাশীষ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন  শুভ। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জন্য কাজ করেন। ক্রিকেটারদের ইনজুরি ও শুভর ইনজুরি প্রায় একই ধরনের বলে আপাতত মনে হচ্ছে তার।

আগামী ২৯ তারিখে এমআরআই’র রিপোর্ট দেখে তিনি পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেবেন।

শুভ বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যা বললেন, সেরকম যদি হয়, তাহলে বড় সময় ধরে রিহ্যাবিলিটেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এখন যে অবস্থা, আস্তে আস্তে কিওর করা ছাড়া আর সম্ভব নয়।’

শুভ সর্বশেষ ‘বঙ্গবন্ধু’ চলচ্চিত্রের শুটিং করেছেন। গত এপ্রিলে ৩ মাসের কাজ শেষে মুম্বাই থেকে দেশে ফেরেন তিনি। 

/এম/এমএম/এমওএফ/

সম্পর্কিত

শুভর নতুন লুকে চমকে গেলেন অনেকে

শুভর নতুন লুকে চমকে গেলেন অনেকে

মুম্বাই থেকে ফিরে ‘বঙ্গবন্ধু’র অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন শুভ

মুম্বাই থেকে ফিরে ‘বঙ্গবন্ধু’র অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন শুভ

সর্বশেষ

উল্কার ঝলকে আলোকিত নরওয়ে!

উল্কার ঝলকে আলোকিত নরওয়ে!

বিদ্যুতের অভিযোগ সেল নিয়ে জানা নেই গ্রাহকের

বিদ্যুতের অভিযোগ সেল নিয়ে জানা নেই গ্রাহকের

ভারী বৃষ্টিপাতের পর লন্ডনে আকস্মিক বন্যা

ভারী বৃষ্টিপাতের পর লন্ডনে আকস্মিক বন্যা

ব্যবসায়ীর কাছে ২ কোটি টাকা দাবি, পরিদর্শক বদলি এসআই বরখাস্ত

ব্যবসায়ীর কাছে ২ কোটি টাকা দাবি, পরিদর্শক বদলি এসআই বরখাস্ত

পাথরের ধাক্কায় বিধ্বস্ত সেতু, ৯ পর্যটক নিহত

পাথরের ধাক্কায় বিধ্বস্ত সেতু, ৯ পর্যটক নিহত

কবিরাজের পানিপড়া খেয়ে নিস্তেজ শিশুকে টয়লেটে ফেলে দেন মা

কবিরাজের পানিপড়া খেয়ে নিস্তেজ শিশুকে টয়লেটে ফেলে দেন মা

ভারতের কাছে টি-টোয়েন্টিতেও হারে শুরু শ্রীলঙ্কার

ভারতের কাছে টি-টোয়েন্টিতেও হারে শুরু শ্রীলঙ্কার

পুড়ে গেছে ৩৬টি বসতঘর, বেঁচে আছে কবুতরগুলো

পুড়ে গেছে ৩৬টি বসতঘর, বেঁচে আছে কবুতরগুলো

অক্সিজেন কারখানায় অভিযানে শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ

অক্সিজেন কারখানায় অভিযানে শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ

মেয়র আইভীর মায়ের মৃত্যু

মেয়র আইভীর মায়ের মৃত্যু

ভালো খেলতে পারাকেই বড় করে দেখছেন সৌম্য 

ভালো খেলতে পারাকেই বড় করে দেখছেন সৌম্য 

স্কুলশিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ

স্কুলশিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

‌‘ইত্যাদি’ এবার মেট্রোরেলের ডিপোতে!

‌‘ইত্যাদি’ এবার মেট্রোরেলের ডিপোতে!

নিশো-মেহজাবীনের ‘ঘটনা সত্য’ প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা

নিশো-মেহজাবীনের ‘ঘটনা সত্য’ প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা

ডাকবাক্সের প্রেমে ডুবে শ্রাবণ্যর ফেরা...

ডাকবাক্সের প্রেমে ডুবে শ্রাবণ্যর ফেরা...

নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? 

নতুন প্রেমিকের সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল? 

দাঁড়াতে পারছেন না শুভ, বিছানায় এক সপ্তাহ

দাঁড়াতে পারছেন না শুভ, বিছানায় এক সপ্তাহ

পর্নো ছবির প্রস্তাব পেয়েছিলেন এই তারকারাও!

পর্নো ছবির প্রস্তাব পেয়েছিলেন এই তারকারাও!

সৃজিতের নির্মাণে আড়াই মিনিটের রহস্যময় বাঁধন (ভিডিও)

সৃজিতের নির্মাণে আড়াই মিনিটের রহস্যময় বাঁধন (ভিডিও)

বিচ্ছেদের পর যে কারণে আবারও ভাইরাল আমির-কিরণ

বিচ্ছেদের পর যে কারণে আবারও ভাইরাল আমির-কিরণ

টিভিতে উল্লেখযোগ্য যত নাটক-টেলিছবি-স্বল্পদৈর্ঘ্য...

ঈদের পঞ্চম দিনটিভিতে উল্লেখযোগ্য যত নাটক-টেলিছবি-স্বল্পদৈর্ঘ্য...

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

© 2021 Bangla Tribune