X
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

ভারতীয় গরু আর বাংলাদেশি চাকরি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:১৬

হারুন উর রশীদ আমাদের কাছে ভারতীয় গরু বেশ ‘পছন্দের’। তাই গুলির মুখেও বাংলাদেশের গরু ব্যবসায়ীরা ভারতে যান। চেষ্টা করেন গুলি খেয়ে হলেও দু-চারটা গরু নিয়ে আসতে। তাতে তাদেরও কিছু লাভ হয়। আর আমরাও ভারতীয় গরুর মাংসের স্বাদ পাই। কিন্তু ভারতীয়রা বাংলাদেশের কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন তা কি আপনার জানা আছে?
জানা না থাকলে আমি বলে দেই। তাদের পছন্দের শীর্ষে আছে বাংলাদেশের চাকরি। আর ভারতীয় যারা এখানে চাকরি করেন তাদের ১০ ভাগেরও বৈধতা নেই। আমরা অনেক মানবিক। কারণ ভারতে যাওয়া বাংলাদেশের গরু ব্যবসায়ীরা গুলির মুখে পড়ে প্রাণ হারালেও অবৈধ ভারতীয়রা কিন্তু কোনও প্রতিরোধের মুখে পড়ছেন না। এমনকি আমরা তাদের বেতন তাদের দেশেই পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেই। ফলে মানি লন্ডারিংয়ের দায়ও তাদের ওপর ফেলা যাবে না। তারা আসেন ট্যুরিস্ট ভিসায়, থাকেন ট্যুরিস্ট ভিসায়। আর যদি কখনও দেশে ফিরে যান তাহলেও ভ্রমণ করেই ফিরে যান। কারণ সঙ্গে করে কিছু নিয়ে যান না। আগেই নিজের দেশে তাদের প্রাপ্য পেয়ে যান। এই কথাগুলো আমার নিজের নয়। যারা বাংলাদেশের জব মার্কেট নিয়ে খোঁজ রাখেন তাদের।






ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গত সপ্তাহে বাংলাদেশে বিদেশিদের চাকরির বাজার নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তা সরকারি হিসাব, প্রকৃত হিসাব নয়।  আর তাতে বলা হয়েছে বাংলাদেশে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার বিদেশি কাজ করেন। এই বিদেশিদের মধ্যে বৈধভাবে কাজ করেন ৯০ হাজার। ১ লাখ ৬০ হাজারের কোনও বৈধতা নেই। আর কথিত বৈধদের মধ্যে ৫০ ভাগ কোনও অনুমতি ছাড়াই ট্যুরিস্ট ভিসায় কাজ করেন। বিদেশিরা বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পাচার করেন। বাংলাদেশে কাজ করেন ৪৪ দেশের নাগরিকরা। শীর্ষে কারা আছেন? টিআইবির জবাব ভারতীয়রা।
টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমি ব্যক্তিগতভাবে তৈরি পোশাক কারখানার কয়েকজন মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। কথা বলেছি তথ্যপ্রযুক্তি এবং সেবাখাতের কয়েকজনের সঙ্গে। এর আগেও আমি এই বিদেশি কর্মীদের নিয়ে প্রতিবেদনের কাজ করেছি। তাতে জানা যায়, বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ১০ লাখের মতো বিদেশি নাগরিক কাজ করেন। টিআইবির প্রতিবেদনে এই তথ্যটি আসে সংবাদমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে। তাদের ছোট একটি অংশ বাংলাদেশের উন্নয়ন খাতে কাজ করেন। বাকিরা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, শিল্প ও সেবাখাতে আছেন। এই ১০ লাখের মধ্যে কমপক্ষে ৫ লাখ ভারতীয় নাগরিক। আর তাদের ৯০ ভাগেরই বাংলাদেশে কাজ করার কোনও বৈধতা নেই। বাংলাদেশে চীন, শ্রীলঙ্কা এমনকি নেপালের নাগরিকরাও বেসরকারি চাকরির বাজার দখল করে আছেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় আমরা শত শত নেপালি নাগরিককে দেখেছি, যারা এখানে অবৈধভাবে কাজ করতেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতেই এখন এক লাখ ভারতীয় কাজ করেন। তারা ডিজাইন থেকে হিসাব বিভাগ সবখানেই আছে। কেন আছেন? তাদের এখন কি খুব প্রয়োজন? আসলে প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বায়িং হাউজের কৌশলে ভারতীয় নাগরিকদের রাখতে বাধ্য হন পোশাক কারখানার মালিকরা। বায়িং হাউজগুলোতে ভারতীয়দের দাপট। তারা অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রকও। তাই পোশাক কারখানায় ভারতীয়দের কাজ দেওয়া যেন বাধ্যতামূলক। আবার তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও আটকে দিয়েছে ভারত। তাদের সফটওয়্যার আনলে তাদের লোক আনতে হবে। তাদের প্রযুক্তি আনলে তাদের পরিচালক আনতে হবে। আর ট্রাভেল এজেন্সিগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখুন, সেখানেও একই অবস্থা। এমনকি বিজ্ঞাপন নির্মাণ থেকে শুরু করে টিভি অনুষ্ঠান তৈরি করতেও ভারতীয়দের আনতে হয়। তারা প্রযুক্তি নিয়ে আসে, সঙ্গে চাকরীপ্রার্থী। উপায় নেই!
আমার এক অর্থনীতিবিদ বন্ধু বললেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয়, শাড়ি সাজিয়ে রাখতে ভারতীয়, মার্কেটিংয়ে ভারতীয় এমনকি হিসাব রাখতেও ভারতীয়। তার কথা এর পেছনে প্রয়োজনীয়তার চেয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখার কৌশটি আসল। আর আমাদের নীতির কারণে তারা সুযোগ পাচ্ছে। তাদের বের করে দিতে আইনি পদক্ষেপও নেই।
কিন্তু ভারত কি এই সুযোগ দেয়?  অন্য কোনও দেশ দেয়? দেয় না। গত বছরের একটি ঘটনা বলি। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাদের ভারতের ব্যুরো অফিসের বাংলা ডেস্কে কয়েকজন ডেস্ক এডিটর নেওয়ার বিজ্ঞাপন দেয়। বাংলাভাষী যে কারও আবেদনের সুযোগ ছিল। আমার জানামতে বাংলাদেশ থেকেও অনেকে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশি কেউ চাকরি পাননি। যারা চাকরি পেয়েছেন তারা সবাই ভারতীয়। এর কারণ হলো, ভারতের আইনে তাদের দেশে কোনও কাজের দক্ষ লোক থাকলে বাইরের কোনও দেশ থেকে লোক নেওয়া যাবে না। ভারতে যেহেতু বাংলাভাষী রয়েছেন, তাই বাংলাদেশের কেউ চাকরি পাননি। ভারতের মতো এ ধরনের আইন তো আমাদের দেশেও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কি তা করছি? এ ধরনের আইন তো দূরের কথা, যারা অবৈধভাবে আছেন, তাদেরই ভদ্রভাবে বিদায় করার কোনও উদ্যোগ কি সরকার নিচ্ছে?
অনেকে বলবেন ব্যবসা, শিল্প ও সেবাখাতে আমাদের দক্ষ লোকের অভাব আছে। এটা আংশিক সত্য। কিন্তু পুরো সত্য হলো আমরা কিছু বলতে পরছি না। কিছু করতে পারছি না।
২৭ লাখ বেকারের দেশ বাংলাদেশ। আর এই দেশে চাকরির বাজারে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করছে ভারতীয়সহ বিদেশিরা। একই দক্ষতা নিয়ে তারা বাংলাদেশিদের চেয়ে ৪-৫ গুণ বেশি বেতন পান। বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীরা এখন বছরে গড়ে রেমিট্যান্স পাঠান ১৬ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আমরা কি জানি আমাদের দেশ থেকে বিদেশিরা বছরে ৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স নিয়ে যায়? এটা কিন্তু বৈধ চ্যানেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব। অবৈধভাবে কত যায়?
শুরুতেই গরুর জন্য আমাদের সীমান্তে গরু ব্যবসায়ীদের ‘জীবনদানের’ কথা বলেছিলাম। আমরা গরু আনার জন্য গুলি খাই। কিন্তু দেশের বেকার যুবকদের চাকরি রক্ষার জন্য একটু ঘাম ফেলতেও রাজি নই।  কোনও অভিযান চালাতেও আমাদের ভয় লাগে! আমরা এমন কেন?
লেখক: সাংবাদিক
ই-মেইল:[email protected]

/এমএমজে/

অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৩০

মো. আখতার হোসেন জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রতি বছর বিশ্বের অগণিত মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিভিন্ন দেশে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অভিবাসন তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটেও অভিবাসনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আশির দশকের শুরু থেকেই দেশের কর্মসংস্থান সংকট মোকাবিলায় ও দারিদ্র্য বিমোচনে অভিবাসন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কোভিড-১৯ ও লকডাউনের প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন চরম সংকটের মুখোমুখি, তখন অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা ভর করেছে দেশের অভিবাসন খাতেও।  

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’র (বিএমইটি) তথ্যমতে, গত বছর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১,৭৫২.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্চ-মে মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও জুন থেকে এর ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা করোনাভাইরাসের অভিঘাত থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসী শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশসহ প্রায় মোট ১৬৮টি দেশে বসবাস করছেন। তারা মূলত বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং চুক্তি শেষে দেশে ফিরে আসেন।

প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণের কোনও যথাযথ প্রক্রিয়া নেই বলে প্রতি বছর কতজন দেশে ফিরছেন এর সঠিক সংখ্যা বের করা বেশ কঠিন।

তবে, করোনা বৈশ্বিক মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অন্য যেকোনও বছরের তুলনায় গত বছর দেশে ফেরত আসা প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আইওএম’র হিসাব অনুসারে, গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসে প্রায় চার লাখ প্রবাসী শ্রমিক কোভিড-১৯ এর কারণে দেশে ফেরত আসেন। কোভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে বেশিরভাগ দেশে লকডাউন ঘোষণা করায় এবং জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ অভিবাসী শ্রমিকদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ঋণদায়গ্রস্ত এবং দেশে তারা বেকার অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাই, বিদেশে যেমন তারা কষ্টে দিনযাপন করছিলেন, দেশে এসেও তারা পড়েছেন এক দুর্দশাপূর্ণ পরিস্থিতিতে। আইওএম’র গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ফেরত আসা ৭৫ শতাংশ প্রবাস শ্রমিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বিদেশে ফেরত যেতে আগ্রহী।

সেক্ষেত্রে আমাদের দরকার প্রবাস ফেরত এই শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি কাঠামোভিত্তিক রি-স্কিলিং ও আপস্কিলিং প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা, যেটি পরবর্তীতে দক্ষতার বিচারের মাপকাঠিতে প্রবাসে চাকরি নিশ্চিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।

দক্ষতার বিচারে বাংলাদেশ থেকে সাধারণত তিন রকমের অভিবাসন হয়– দক্ষ, স্বল্প দক্ষ এবং অদক্ষ। সাধারণত আমাদের দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, পরিবহন, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাজ, স্বাস্থ্য সেবা, ঘরের কাজসহ স্বল্প দক্ষ ও নিম্ন উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত থাকায় যেকোনও ধরনের অর্থনৈতিক অভিঘাতে তারা সমস্যার সম্মুখীন হন। করোনায় বেশিরভাগ দেশে এসব কাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক প্রবাসী শ্রমিকই চাকরি হারিয়েছেন।

বিদেশ গমন করা অধিকাংশ শ্রমিকই কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়া বিদেশে যান। অথচ ছয় মাস কিংবা এক বছরের একটি প্রশিক্ষণ বিদেশে তাদের পারিশ্রমিক দুই থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। তাই দেশে ফেরত আসা শ্রমিকরা যাতে ফের বিদেশ গমনের পর অধিক উপার্জন করতে পারেন, সেজন্য বহির্বিশ্বের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী যেসব খাতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন, সেসব খাতে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, করোনা পরিস্থিতি শ্রমবাজারের রূপ অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি নির্ভরতা ও উদ্ভাবন এবং নতুন দক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। কোভিড-১৯ যেমন কাজের ক্ষেত্রকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করেছে, একইসাথে অনেক নতুন সুযোগও সৃষ্টি করেছে। দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই ভাষাগত দক্ষতা ও প্রযুক্তি জ্ঞান কম থাকায় তারা বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হন।

এসব ক্ষেত্রে বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রম পরিস্থিতি আরও সুসংহত করা যেতে পারে। এছাড়া, অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, অটোমোবাইল ও ডিজিটাল খাতের কাজে বিদেশে অধিক চাহিদা থাকায়, তাদের এসব কাজ সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রদান করার ব্যাপারে নজর দেওয়া যেতে পারে। আমাদের নারী প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশই বিদেশে ঘরের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের যদি ভারতের কেরালা, ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের মতো নার্সিং কোর্স করানো হয়, অথবা দক্ষভাবে গৃহপরিচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে তা তাদের জন্য যেমন মঙ্গলজনক হবে, তেমনি আমাদের সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামোও সুনিশ্চিত হবে।

অভিবাসীদের জন্য বৈশ্বিক মহামারি সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার কয়েক ধাপে নগদ সহায়তাসহ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও এর মাত্র পাঁচ শতাংশ প্রবাস ফেরত শ্রমিকরা কাজে লাগিয়েছেন। প্রবাসীদের সহায়তার প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনায় সুফল পেতে তাই নীতিনির্ধারকদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করা জরুরি।  আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরির ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কাকে উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে। এসব দেশ, বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ তাদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে এগিয়ে আসতে পারে।

করোনাকালীন ও পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই। তাই, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি ও নতুন সম্ভাবনাময় বাজার অনুসন্ধান একসঙ্গে দুটোই চালিয়ে যেতে হবে। আর এটা করা সম্ভব হবে বহুমুখী অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই।

লেখক: সিনিয়র সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ‎গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

চিকিৎসার সুযোগ ‘উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র জন্য ইতিবাচক হবে

২৩ নাগরিকের বিবৃতিচিকিৎসার সুযোগ ‘উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র জন্য ইতিবাচক হবে

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কথা বলে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কথা বলে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune