X
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮

সেকশনস

তিউনিসিয়ার তরুণরা কেন আইএস’র দিকে ঝুঁকছে?

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:৫১

IS যেকোনও জাতির মানুষদের চেয়ে তিউনিসিয়ান তরুণদের মধ্যে সুন্নিপন্থী সশস্ত্র সংগঠন আইএস-এর দিকে ঝোঁকার প্রবণতা বেশি। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সমাজতাত্ত্বিকরা দেশটির তরুণদের ওপর গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের গবেষণা থেকে দেখা যায়, তিউনিসিয়ার বিপ্লব নিয়ে তরুণদের মোহভঙ্গ হওয়া ও রাষ্ট্র থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন বোধ করা এবং বড় ধরনের প্রান্তিকীকরণের কারণেই এমনটা ঘটছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এইসব তথ্য।

এ বছর ইন্টারন্যাশনাল অ্যালার্ট নামের একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ৮০০ তরুণের মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করে। ওই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯৫ শতাংশের মতামত ছিল, তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও পুলিশকে অবিশ্বাস করে। এই জরিপের ফলাফল অনুযায়ী দুর্নীতির আধিক্য, স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মীদের অনুপস্থিতি এবং জনগণের ক্রমাগত প্রান্তিকীকরণের কারণেই রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস ও বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়।

বিপ্লবের পরেই বাড়ে হতাশার পরিমাণ

বিশিষ্ট সমাজতাত্ত্বিক এবং তিউনিসিয়ার তরুণদের ওপর পরিচালিত ওই গবেষণার একজন সহ-গবেষক ওলফা লামলিওম মিডল ইস্ট আইকে জানান, যে অঞ্চলে তারা গবেষণা পরিচালনা করেছেন, বিপ্লবের ৪ বছর পরও সেখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা খুবই সীমিত। স্বাস্থ্য বীমা, সামাজিক কল্যাণ, প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো কিংবা সাংস্কৃতিক ও অবসর কেন্দ্রের কোনও ব্যবস্থা নেই। যা তাদের চরমপন্থার দিকে ঝুঁকতে প্ররোচিত করছে।

তিউনিসিয়ার তরুণরা

তবে দারিদ্র্য কিংবা সুযোগ-সুবিধার অভাবই একমাত্র কারণ নয়। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর তিউনিসিয়ার স্বচ্ছল পরিবারের তরুণরাও চরমপন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সিরিয়ায় আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে গেছে। একই পরিবারের ছয় তরুণেরও সিরীয় যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে এনেছে মিডল ইস্ট আই। কারণ হিসেবে তারা তুলে এনেছে তিউনিসিয়ান নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের আচরণের প্রশ্ন। একজন শিক্ষকের বরাতে তারা জানায়, সেখানে বিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ে একজন নিচু স্তরের প্রশাসনিক কর্মীও এতোটাই ক্ষমতাবান যে, সন্তানের সামনে বাবাকে তারা অকারণে লাঞ্ছিত করতে পারত। সেখানে আইনের শাসনের কোনও বালাই ছিল না। ছিল দুর্নীতির রমরমা। এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে পেরেছিল আইএস।

২০১১ সাল থেকে মুক্ত সীমান্তের সুযোগ নিয়ে হাজার হাজার তিউনিসিয়ান তরুণ ইউরোপ-সিরিয়া-লিবিয়ায় চলে যেতে থাকে। জাতিসংঘের হিসেবে, আইএসের হয়ে যুদ্ধ করা বিদেশি যোদ্ধাদের মধ্যে তিউনিসিয়ানরাই সংখ্যা এবং অনুপাতের দিক থেকে সবচে বেশি। তাদের হিসেব মতে, সিরিয়া ও লিবিয়ায় যুদ্ধ করা তিউনিসিয়ান নাগরিকের সংখ্যা ৫ হাজার ৫শ জন। আর সিএনএন-এর হিসেবে যুদ্ধ করতে যেতে চান, এমন ৮ হাজার ৮শ জনকে আটকে দেওয়া হয়েছে সীমান্তে। বিপ্লবের পরেও এদের রক্ষার তেমন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তরুণদের কর্মসংস্থান, আত্মমর্যাদা, তাদের জন্য বিশেষ কোনও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যায়নি। তাই তারা দেশ ছেড়ে চরমপন্থাকেই আশ্রয় করছে।

পুলিশি সহিংসতা: সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আরেক বাধা

বিপ্লবের পরেও তিউনিসিয়ার পুলিশি ব্যবস্থায় সংস্কার হয়নি। পুলিশি নির্যাতন তিউনিসিয়ার এক সাধারণ ঘটনা। তরুণরা সব সময় পুলিশের ভয়ে ভীত থাকে। তারা নিজেদের গৃহবন্দি বোধ করে। একদিকে সশস্ত্র অ্যাকটিভিস্ট, অন্যদিকে পুলিশ; এই দুই আতঙ্ক তরুণদের আচ্ছন্ন করে রাখে। একজন সমাজকর্মী মিডল ইস্ট আইকে জানান, পুলিশের ভয়ে কেউ কিছু বলতে চায় না। এমনকি যারা পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন, তারাও সে সম্পর্কে কিছু বলতে চায় না।

তিউনিসিয়া

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ তাদের ২০১৫ সালের জুলাইয়ের রিপোর্টে দেখিয়েছে, প্রতিদিনের পুলিশি ব্যবস্থাই এমন যে সেখানকার নাগরিকরা প্রচণ্ড অবমাননার শিকার হন। পুলিশ আর জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক অবন্ধুত্বপূর্ণ এবং বৈরী, যাকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় একটি বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে সংস্থাটি।

প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি এলাকাগুলো যখন সন্ত্রাসবাদের প্রসূতি

তিউনিসিয়ার প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে সন্ত্রাসবাদ জেঁকে বসার সুযোগ পায়। দ্বীপাঞ্চলগুলোর প্রান্তিকীকরণ এই সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করেছে। বিপ্লবকালীন বিদ্রোহের সময়ে পুলিশি দমননীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে নিজ নিজ অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটায় নাগরিকেরা। এতে ক্ষমতার একটা সমতা প্রতিষ্ঠিত হলেও এর কারণে পুলিশ-নাগরিক সংঘর্ষ বেড়ে যায়। বিপ্লবের পর থেকে বহু পুলিশ স্টেশন গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিপ্লবের পরে ২০১২ সাল থেকে তিউনিসিয়ার কাসেরিন অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী আর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বহু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এখানকার পাহাড়ি অঞ্চল ও আলজেরিয়া সীমান্ত কাসেরিনকে সন্ত্রাসবাদীদের উর্বর ভূমিতে পরিণত করেছে। একইসঙ্গে এটি তিউনিসিয়ার সবচে দরিদ্র অঞ্চল। এখানে তরুণদের বেকারত্ব সবচে বেশি, উচ্চশিক্ষিতের পরিমাণ ৩ শতাংশের বেশি নয় আর ৬০ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যবীমা নেই। যদিও সেখানে এখনও কিছু পরিমাণে দেশপ্রেমের বোধ আছে, কিন্তু তাদের প্রান্তিকীকরণ জনগণকে এটা ভাবতে প্ররোচিত করছে যে, সরকার কেবল বড়লোকদের জন্যই।

কাসেরিন অঞ্চল

এর পাশাপাশি গত ৫ বছরে বেড়েছে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা। সেখানকার ৫টি জেলার উপর পরিচালিত একটি গবেষণাও তাই বলেছে, এই নিরাপত্তাহীনতার বোধই সন্ত্রাসবাদ, দায়িত্বহীনতা আর দারিদ্র্যকে প্রকট করছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ভয়ঙ্কর বাস্তবতাতেই সেখানকার তরুণরা আইএস-এর দিকে ঝুঁকছে।

/বিএ/এএ/

সর্বশেষ

মেজর অব. মান্নান দম্পতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদ

মেজর অব. মান্নান দম্পতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদ

দোহার ও নবাবগঞ্জের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ থাকবে

দোহার ও নবাবগঞ্জের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ থাকবে

লিবিয়া সংকট নিয়ে বার্লিনে বিশ্ব শক্তিগুলোর বৈঠক

লিবিয়া সংকট নিয়ে বার্লিনে বিশ্ব শক্তিগুলোর বৈঠক

ভারতকে হারিয়ে টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড

ভারতকে হারিয়ে টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড

মুশফিক না থাকলেও সমস্যা হয়নি আবাহনীর

মুশফিক না থাকলেও সমস্যা হয়নি আবাহনীর

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় তৎপর বিএনপি, এত দেরিতে কেন?

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় তৎপর বিএনপি, এত দেরিতে কেন?

বোঝার উপায় নেই নারায়ণগঞ্জে চলছে লকডাউন

বোঝার উপায় নেই নারায়ণগঞ্জে চলছে লকডাউন

ব্রাজিল-কলম্বিয়া ম্যাচ কখন, দেখবেন কোথায়

ব্রাজিল-কলম্বিয়া ম্যাচ কখন, দেখবেন কোথায়

‘সীমান্তবর্তী দেশ থেকে এলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন আবশ্যক’

‘সীমান্তবর্তী দেশ থেকে এলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন আবশ্যক’

প্রি-পেইড গ্রাহকের ঘাড়ে ডিজিটাল মিটারের ৩ বছরের বিল

প্রি-পেইড গ্রাহকের ঘাড়ে ডিজিটাল মিটারের ৩ বছরের বিল

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নৌকা উপহার পেলেন জেলেরা

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নৌকা উপহার পেলেন জেলেরা

জিম্বাবুয়ে সিরিজ চ্যালেঞ্জিং হবে: প্রধান নির্বাচক

জিম্বাবুয়ে সিরিজ চ্যালেঞ্জিং হবে: প্রধান নির্বাচক

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

লিবিয়া সংকট নিয়ে বার্লিনে বিশ্ব শক্তিগুলোর বৈঠক

লিবিয়া সংকট নিয়ে বার্লিনে বিশ্ব শক্তিগুলোর বৈঠক

বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ছাড়লেন ওয়ারেন বাফেট

বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ছাড়লেন ওয়ারেন বাফেট

ইথিওপিয়ায় বিমান হামলা, ৮০ বেসামরিক নাগরিক নিহত

ইথিওপিয়ায় বিমান হামলা, ৮০ বেসামরিক নাগরিক নিহত

উ. কোরিয়ায় কলার কেজি ৩ হাজার তিনশ’ রুপি

উ. কোরিয়ায় কলার কেজি ৩ হাজার তিনশ’ রুপি

কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার হামলার ঘটনা ভুয়া, দাবি ব্রিটেনের

কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার হামলার ঘটনা ভুয়া, দাবি ব্রিটেনের

লস্কর ই তইয়্যেবা নেতার বাড়ির কাছে বিস্ফোরণ, নিহত ৩

লস্কর ই তইয়্যেবা নেতার বাড়ির কাছে বিস্ফোরণ, নিহত ৩

জাপানের চিড়িয়াখানায় জায়ান্ট পান্ডার যমজ শাবকের জন্ম

জাপানের চিড়িয়াখানায় জায়ান্ট পান্ডার যমজ শাবকের জন্ম

রাশিয়ার তাড়া খেয়ে পালালো ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ

রাশিয়ার তাড়া খেয়ে পালালো ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ

পশ্চিমবঙ্গে আটক কে এই চীনা অনুপ্রবেশকারী?

পশ্চিমবঙ্গে আটক কে এই চীনা অনুপ্রবেশকারী?

খাশোগির খুনিদের প্রশিক্ষণ দেয় যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সংবাদমাধ্যম

খাশোগির খুনিদের প্রশিক্ষণ দেয় যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সংবাদমাধ্যম

© 2021 Bangla Tribune