X
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

যেভাবে চলবে গণপরিবহন

আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ১৭:১৬

গণপরিবহন করোনা সংক্রমণ রোধে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৩১ মে থেকে দেশের সব রুটে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল শুরু হবে। তবে এসব পরিবহন পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা রয়েছে। এ অবস্থায় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা সরকারের নির্দেশনা মেনেই গণপরিবহন পরিচালনা করবেন। যদিও সার্বিক পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা তা কতটা মানবে তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধিতে একটির পর একটি আসন ফাঁকা রাখার নির্দেশনা থাকায় ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। 

বাস, ট্রেন ও লঞ্চ পরিচালনায় কারিগরি টিমের নির্দেশনা:

গত ২৮ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য ৮ জন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গণপরিবহন পরিচালনা ক্ষেত্রে কমিটি এরইমধ্যে বেশ কিছু কারিগরি নির্দেশনা তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, স্টেশনগুলাতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সংরক্ষণ, জরুরি পরিকল্পনা প্রণয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্র স্থাপন, প্রতিটি ইউনিটের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কর্মীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অবস্থা নথিভুক্ত করতে হবে। অসুস্থতা অনুভবকারীদের সঠিক সময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। নিরাপত্তা এবং জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতি মানসম্মত করতে হবে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। মাস্ক, গ্লাভস ও জীবাণুনাশক মজুত থাকতে হবে। কর্মীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অবস্থা নথিভুক্ত করতে হবে। যারা অসুস্থতা অনুভব করবে তাদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা দিতে হবে।

স্টেশনে আগত যাত্রীদের তাপমাত্রা মাপার জন্য স্টেশনে ইনফ্রারেড থার্মোমিটার রাখতে হবে। যথাযথ শর্তাবলি মেনে একটি জরুরি এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। যেসব যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা ৩৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকবে তাদের ওই জরুরি এলাকায় অস্থায়ী কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে এবং প্রয়োজন মতো চিকিৎসা দিতে হবে। পোস্টার ও ইলেকট্রনিক স্ক্রিনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যজ্ঞান পরিবেশন জোরদার করতে হবে। মাঝারি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা দিয়ে যাতায়াত করা ট্রেনে টিকিটের মাধ্যমে যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও যথাসম্ভব যাত্রীদের আলাদা বসার ব্যবস্থা করতে হবে।

পরিবহনে বায়ু চলাচল পদ্ধতি যেন স্বাভাবিক থাকে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যথাযথ তাপমাত্রায় বায়ু চলাচলের জন্য পরিবহনের জানালা খুলে দিতে হবে। চলাচলের স্থানগুলো পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। টয়লেটগুলোতে তরল সাবান থাকতে হবে। সম্ভব হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং হাত জীবাণুনাশক যন্ত্র স্থাপন করা যেতে পারে। যাত্রীদের অপেক্ষা করার স্থান, বাস কম্পার্টমেন্ট ও অন্যান্য এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

প্রতিবার বাস, ট্রেন বা লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার আগে সিট, কেবিন, পরিবহনের মেঝে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। জনগণের জন্য ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলো পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করতে হবে। সিট কাভারগুলোকে প্রতিনিয়ত ধোয়া, পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যাত্রীদের অপেক্ষা করার স্থানে মাস্ক, গ্লাভস ও জীবাণুমুক্তকরণ দ্রব্যাদির পর্যাপ্ত মজুত থাকতে হবে। সব পরিবহনে হাতে ধরা থার্মোমিটার থাকতে হবে। যথাযথ স্থানে একটি জরুরি এলাকা স্থাপন করতে হবে। যেখানে সন্দেহজনক উপসর্গ আছে এমন যাত্রীদের অস্থায়ী কোয়ারেন্টিনে রাখা যাবে। যাত্রী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে।

যাত্রীদের অনলাইনে টিকিট কেনার পরামর্শ দিতে হবে। সারিবদ্ধভাবে ওঠা এবং নামার সময়ে যাত্রীদের পরস্পর থেকে এক মিটারেরও বেশি দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। যাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতন করার জন্য রেডিও, ভিডিও ও পোস্টারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করতে হবে।

তবে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে এখনো পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত হতে পারেনি পরিবহন মালিকরা।

যা বলছেন পরিবহন মালিকরা:

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা এই বিষয়গুলো মেনে গণপরিবহন পরিচালনা করবেন। তবে বিষয়টি কতটা মানা যাবে তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। এজন্য সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। আর যেহেতু একটি বাদ রেখে অপর আসন বিক্রির নির্দেশনা রয়েছে সে হিসেবে যাত্রীসংখ্যা অর্ধেকের চেয়েও কম হবে। সে কারণে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি করেছেন পরিবহন মালিকরা। তারা বলেছেন, যাত্রী যেহেতু অর্ধেকে নেমে যাবে তাই ভাড়াও দ্বিগুণ করতে হবে। আর এ নিয়ে আগামীকাল বিআরটিএ’র সঙ্গে বাস মালিক এবং বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে লঞ্চ মালিকদের বৈঠক হবে। সেখানে ভাড়াসহ সার্বিক বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ শঙ্কা প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরিবহন পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি পালনের যেসব নির্দেশনা দেওয়া হবে তা মেনেই পরিবহন পরিচালনা করা হবে। কিন্তু সেই নির্দেশনা দেশের সাধারণ মানুষ ও পরিবহনের চালক-হেল্পার এবং মালিকরা কতটা পালন করতে পারবে সে বিষয়টি নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে। এরপরেও আমরা কঠোরভাবে বিষয়টি পালন করার চেষ্টা করবো। আর এ বিষয়ে  শুক্রবার বিকালে বিআরটিএ’র সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সেখানে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হবে।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাকেশ ঘোষ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে সেভাবেই পরিবহন পরিচালনা করা হবে। স্বাস্থ্যবিধিতে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো পুরোপুরি পালন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারকে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। আমরা লাভ চাই না। অন্তত যাতে মালিক-শ্রমিকরা লোকসানে না পড়ে।

যেসব দায়িত্ব পালন করবে সিটি করপোরেশন

নগরীর বাস টার্মিনালগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি পালনের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) নিতাই চন্দ্র সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনা শনাক্তের শুরুর দিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে ডিটিসিএ একটা মিটিং করেছে। সেখানে কীভাবে পরিবহন পরিচালনা করতে হবে তা বিস্তারিত বলে দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে স্বাস্থ্যবিধিও প্রণয়ন করা হয়েছে। এখানে মূল কাজগুলো পরিবহন মালিকদেরই করতে হবে। আমরা শুধু এনফোর্সমেন্টটাই নিশ্চিত করবো। আর আমাদের জীবাণুনাশক ছিটানো অব্যাহত রয়েছে। যেসব স্থানে জীবাণুনাশক ছিটাতে হবে সেসব স্থানে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

যেভাবে পরিচালিত হবে ট্রেন

এদিকে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ মে থেকে অল্প সংখ্যক ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। এজন্য এরইমধ্যে একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। এসব ট্রেনে একটি করে সিট ফাঁকা রেখে টিকিট বিক্রি করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সংখ্যা কমিয়ে দুটি গ্রুপে ভাগ করে ট্রেন পরিচালনা করা হবে। এরমধ্যে প্রথম ‘ক’ গ্রুপে রাখা ট্রেনগুলো ৩১ মে থেকে পরিচালনা করা হবে। এই ট্রেনগুলো হচ্ছে- ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, ঢাকা-সিলেট রুটে কালনী এক্সপ্রেস, ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, ঢাকা-রাজশাহী রুটে বনলতা এক্সপ্রেস, ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে লালমনি এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে উদয়ন/পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-খুলনা রুটে চিত্রা এক্সপ্রেস।

আর ‘খ’গ্রুপে রাখা ট্রেনগুলো ৩ জুন থেকে পরিচালনা করতে সুপারিশ করা হয়েছে। এই ট্রেনগুলো হচ্ছে, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার রুটে তিস্তা এক্সপ্রেস, ঢাকা-বেনাপোল রুটে বেনাপোল এক্সপ্রেস, ঢাকা-চিলাহাটি রুটে নীলসাগর এক্সপ্রেস, খুলনা-চিলাহাটি রুটে রূপসা এক্সপ্রেস, খুলনা-রাজশাহী রুটে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, রাজশাহী-গোয়ালন্দঘাট রুটে মধুমতি এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে মেঘনা এক্সপ্রেস, ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-নোয়াখালী রুটে উপকূল এক্সপ্রেস। তবে ট্রেনে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

ট্রেন চালুর বিষয়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে কিছু আন্তনগর ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগে যে রুটে পাঁচটি আন্তনগর ট্রেন চলতো, সেই রুটে এখন দুটি ট্রেন চলবে। সেক্ষেত্রে একটা সিট বাদ দিয়ে টিকিট বিক্রি করা হবে। এভাবে আমরা দুই সপ্তাহ ট্রেন চালিয়ে দেখবো। তারপর সরকার থেকে নতুন কোনও নির্দেশনা এলে আমরা আবার বিষয়টি বিবেচনা করব।’

যেভাবে চলবে লঞ্চ

একই নিয়ম অনুসরণ করে পরিচালিত হবে লঞ্চ। এজন্য দেশের বড় বড় লঞ্চগুলোর প্রবেশপথে এরইমধ্যে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা হয়েছে। তবে ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্তসাপেক্ষে আগামী ৩১ মে থেকে স্বল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়ে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই লঞ্চও চলবে। তবে শর্ত পরিপালনের বিষয়সহ নানাদিক দিয়ে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান।’ এই সময়ে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও ওই বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা সরকারের কোনও আদেশ অমান্য করতে পারবো না। তাই আগামী ৩১ মে রবিবার থেকে লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি কতটা মানাতে পারবো, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান আমি নিজেই। কারণ, ফেরিতে চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাধারণ মানুষের ঘরে ফেরার দৃশ্য দেখেছি।’ 

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চালালে ধারণ ক্ষমতার পাঁচ ভাগের একভাগ যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি তো প্রাসঙ্গিক। তাই এ বিষয়টি নিয়েও শুক্রবারের বৈঠকে আলোচনা হবে।’

 

/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

এক কোটি ২১ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

এক কোটি ২১ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় কত শনাক্ত, কত মৃত্যু

৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় কত শনাক্ত, কত মৃত্যু

‘জনসাধারণকে লকডাউন মানানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’

‘জনসাধারণকে লকডাউন মানানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ২৩:৩০

দেশে সোমবার (২৬ জুলাই) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৪৭ জন। গত দেড় বছরের করোনা মহামারিকালে একদিনে এত মৃত্যু আর দেখেনি বাংলাদেশ। এর আগের দিন ২৫ জুলাই ২২৮ জনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। ঈদের ছুটির আগের দিন ২০ জুলাই ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ঈদের দিন মারা যান ১৭৩ জন, ২২ জুলাই ১৮৭ জন, ২৩ জুলাই ১৬৬ জন এবং ২৪ জুলাই মারা যান ১৯৫ জন। এছাড়া জুলাই মাসের শুরু থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই মৃতের সংখ্যা দুইশ’র বেশি বা দুইশ’র কাছাকাছি ছিল। মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঘোষিত ‘কঠিন’ জুলাই মাস।

মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যে গত ২৪ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ছাড়ায়। আর শেষ এক হাজার মৃত্যু ছাড়াতে অর্থ্যাৎ ১৮ থেকে ১৯ হাজার মৃত্যু ছাড়াতে সময় নেয় মাত্র পাঁচ দিন। তার আগে গত ১৯ জুলাই মৃত্যু ১৮ হাজার ছাড়ায়।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চে প্রথম তিন জন করোনা আক্রান্ত রোগীর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। তার ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু কথাও জানায় অধিদফতর। মার্চে অনিয়মিত হলেও চার এপ্রিল থেকে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়।

বিশ্বে যেসব দেশে করোনায় দৈনিক মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হচ্ছে, সেই তালিকায় বর্তমানে দ্বাদশ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

করোনার ভয়াবহতার মধ্যেই ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিধিনিষেধ শিথিল করেছিল সরকার। ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধও দেওয়া হয়েছে। তবে বিধিনিষেধ শিথিলে কোরবানির পশুর হাট, শপিং মল, মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি মোটেও মানা হয়নি। অনেকেই ঢাকা থেকে বাস, ট্রাক, লঞ্চে গাদাগাদি করে ঈদ করতে গেছেন গ্রামে। ঈদ শেষে ২৩ জুলাই ঢাকায় ফিরেছেনও তারা। এমনকি কঠোর বিধিনিষেধের তৃতীয় দিন রবিবারও (২৫ জুলাই) ঢাকায় ফিরেছেন অনেকে। ফেরি, বাসে ছিল না স্বাস্থ্যবিধির বালাই। গণমাধ্যমের খবর বলছে, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে এখনও পদ্মা পার হচ্ছে মানুষ। আর এতে করে দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে মৃত্যুও নতুন রেকর্ড গড়ছে।

এদিকে, দেশের আট বিভাগের মধ্যে সাত বিভাগেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির নমুনা থেকে জিনোম সিকোয়েন্সে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা (জিআইএসএআইডি) অনুযায়ী, দেশের সাতটি বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৫০টি নমুনায় ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বি-১৬১৭ পাওয়া গেছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণে জর্জরিত এখন পুরো দেশ। গত আট দিনে মারা গেছেন এক হাজার ২৮৯ জন এবং শনাক্ত হয়েছেন ৭৫ হাজার ৯৬১ জন। ইতোমধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, বর্তমান সংক্রমণে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টই বেশি।

করোনায় শূন্য মৃত্যু লক্ষ্যমাত্রা রেখে কাজ করা দরকার মন্তব্য করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় কেন এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে মৃত্যু হচ্ছে তার পর্যালোচনা দরকার, তাতে অন্তত কিছু মৃত্যু কমানো সম্ভব হতো বা হবে। একইসঙ্গে মৃত্যু কমানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠন করা পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটি করোনায় মৃত্যু কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে জানিয়ে বলেছিল, করোনায় শূন্য মৃত্যুর টার্গেট নিয়ে কাজ করতে হবে। আর এ জন্য গত ১৭ জুন তারা একটি লিখিত প্রতিবেদন দেন, যেখানে কাজটি কীভাবে করতে হবে তার কিছু দিকনির্দেশনা ছিল।

কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না, যদি হতো তাহলে মৃত্যু কমানো যেত বলে জানান পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবু জামিল ফয়সাল।

‘সংক্রমণ বেশি হলে মৃত্যুও বেশি হবে’ এটাই নিয়ম মন্তব্য করে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরার্মশক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে ভ্যারিয়েন্ট দেশে ছড়াবে বেশি, সেটা যদি অধিক মাত্রায় ক্ষতিকারক হয় তাহলে মৃত্যু বেশি হবে।’

‘সেইসঙ্গে রাজধানীর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলো করোনায় মৃত্যু ঠেকাতে প্রস্তুত নয়। আমরা গত দেড় বছরেও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা বাড়াতে পারিনি, ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ নেই। যখন জটিল রোগীদের আইসিইউ দরকার হয় তখন তাদের ঢাকায় পাঠাতে হয়। ঢাকার হাসপাতালগুলোতেও আইসিইউ পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও যারা পাচ্ছেন, কিন্তু সেটা শেষ মুহূর্তে। আর শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা দিয়ে আসলে রোগীকে বাঁচানো যায় না’—বলেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘সেইসঙ্গে বর্তমানে যে লকডাউন দেওয়া হচ্ছে সেটা নন-মেডিক্যাল লকডাউন। এই নন-মেডিক্যাল লকডাউন দিয়ে মেডিক্যাল ব্যবস্থায় কোনও উন্নতি করা সম্ভব না। তাতে করে রোগী শনাক্তের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু বাড়বে এবং সেটাই হচ্ছে।’

‘লকডাউন না মেনে শহর থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে শহরে ফিরেছে মানুষ। আর এতে করে শনাক্তের সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যু’ জানিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ও এই হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে দায়িত্বপালনকারী চিকিৎসক ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাছান চৌধুরী মারুফ বলেন, ‘রোগীরা শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসছে। আর যে রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসবে তার মৃত্যু অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি, যে রোগী ‘আর্লি’ হাসপাতালে আসবে তার চেয়ে। বেশি সময় ধরে শরীরে অক্সিজেনের অভাব থাকলে তার ফিরে আসার সম্ভাবনা কমে যায়।’

অধিক সংক্রমণ এবং টেস্ট না করার প্রবণতার কারণে মৃত্যু বাড়ছে জানিয়ে ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাছান চৌধুরী বলেন, ‘টেস্ট না করালে করোনা শনাক্ত হচ্ছে না। শনাক্ত না হওয়ার কারণে রোগী ধরা পড়ছে না এবং যখন ধরা পরছে তখন আর চিকিৎসার কিছু থাকে না।’

‘জেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, এ কারণে রোগীরা সেখানে চিকিৎসা পাচ্ছেন না’—বলেন আরেকটি করোনা হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক। ‘এ কারণে ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে বেশি’—নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন তিনি।

 

/জেএ/আইএ/

সম্পর্কিত

এক কোটি ২১ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

এক কোটি ২১ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

করোনা নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠক মঙ্গলবার

করোনা নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠক মঙ্গলবার

৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় কত শনাক্ত, কত মৃত্যু

৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় কত শনাক্ত, কত মৃত্যু

এক কোটি ২১ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ২২:৩২
document

দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর থেকে সোমবার (২৬ জুলাই) পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে এক কোটি ২০ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭৩ ডোজ। এরমধ্যে এক ডোজ নিয়েছেন ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩০ জন এবং দুই ডোজ নিয়েছেন ৪৩ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ জন। এগুলো অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার ফর্মুলায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড, চীনের তৈরি সিনোফার্ম, ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাকসিন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের টিকাদান বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। কেবল সোমবার  টিকা দেওয়া হয়েছে মোট ২ লাখ ২১ হাজার ৫৩৬ জনকে।      

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এ পর্যন্ত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৩৩ জন।  দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৬ জন। জানা যায়, কোভিশিল্ড প্রথম ডোজ নেওয়া ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৩৩ জনের মধ্যে সাড়ে ১৪ লাখের মতো মানুষের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে সংকট। এদের অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকারই দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। কেননা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও দুই কোম্পানির দুই ডোজের টিকা গ্রহণের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি।  

পাশাপাশি সোমবার ফাইজারের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ১২ জনকে। আর এখন পর্যন্ত এই টিকা দেওয়া হয়েছে মোট ৫০ হাজার ৫২৩ জনকে।

এছাড়া সিনোফার্মের দেওয়া হয়েছে এ পর্যন্ত  ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৮১ ডোজ। এরমধ্যে সোমবার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৫৯  হাজার জনকে, আর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৪৭৮ জনকে।

মডার্নার টিকা এ পর্যন্ত মোট দেওয়া হয়েছে মোট ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৫০ ডোজ, আর সোমবার দেওয়া হয়েছে ৫৮ হাজার ৪৬ ডোজ।

সারা দেশে টিকার জন্য এ পর্যন্ত মোট নিবন্ধন করেছেন ১ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ৪৪৭ জন।

 

/এসও/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় কত শনাক্ত, কত মৃত্যু

৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় কত শনাক্ত, কত মৃত্যু

করোনা নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠক মঙ্গলবার

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ২৩:৪১

করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার আবারও জরুরি বৈঠকে বসছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে এই সভা।

সোমবার (২৬ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লকডাউন দিয়ে রাখলেও সংক্রমণ-মৃত্যু কোনোটিই কমছে না। এই পরিস্থিতিতে করণীয় কী, তা ঠিক করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সচিব জানিয়েছেন, চলমান ‘কঠোর লকডাউন’ ৫ আগস্ট  পর্যন্ত চলবে। সংক্রমণ কমাতে বিশেষজ্ঞরা লকডাউনের পক্ষে বললেও তা আবার মানুষকে জীবিকার সংকটে ফেলছে। বিষয়টি নিয়েও সরকারকে ভাবতে হচ্ছে।

চলমান লকডাউনের মেয়াদ ৫ আগস্টের পর আবারও বাড়ানো হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের সভায় বিষয়টি ফাইনাল হবে।

 

/এসআই/এফএএন/এমওএফ/

সম্পর্কিত

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় কত শনাক্ত, কত মৃত্যু

৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় কত শনাক্ত, কত মৃত্যু

একদিনে ঢাকা বিভাগেই শনাক্ত প্রায় ৮ হাজার

একদিনে ঢাকা বিভাগেই শনাক্ত প্রায় ৮ হাজার

জোড়া রেকর্ড: মৃত্যু ২৪৭, শনাক্ত ১৫ হাজার

জোড়া রেকর্ড: মৃত্যু ২৪৭, শনাক্ত ১৫ হাজার

আদালতের আদেশে সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন স্থগিত করলো ইসি

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ২০:০৭

আদালতের রায় অনুযায়ী সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ইসি থেকে নির্বাচন স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সেই অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম-সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিশন নির্বাচন স্থগিত করেছে। সিদ্ধান্তটি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়ে দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা সিলেট জেলা প্রশাসক কাজী এম এমদাদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নির্বাচন স্থগিতে কমিশনের নির্দেশনা পেয়েছি এবং সেই অনুযায়ী ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার দুপুরে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে আগামী ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিতের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশনা পাওয়ার পর ফাইল নোট উপস্থাপনের মাধ্যমে কমিশন নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ ওই সময় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, আদালতের আদেশের বিষয়টি তারা জেনেছেন। কমিশন এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে তারা তা বাস্তবায়ন করবে। সংবিধান অনুযায়ী এ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইসির হাতে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে।

/ইএইচএস/এমআর/

সম্পর্কিত

যে কারণে করোনার ঝুঁকিতে উপনির্বাচন

যে কারণে করোনার ঝুঁকিতে উপনির্বাচন

আরপিও’র বাংলা পাঠ প্রকাশ

আরপিও’র বাংলা পাঠ প্রকাশ

রাজনৈতিক দলগুলো শর্ত মানছে তো? জানতে চায় ইসি

রাজনৈতিক দলগুলো শর্ত মানছে তো? জানতে চায় ইসি

করোনাকালে ভোটের বিপক্ষে জেলা প্রশাসন, অনড় ইসি

করোনাকালে ভোটের বিপক্ষে জেলা প্রশাসন, অনড় ইসি

৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় কত শনাক্ত, কত মৃত্যু

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ১৮:৫৪

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৯১ জন। গত দেড় বছরের মহামারিকালে একদিনে এত রোগী আর শনাক্ত হয়নি। একইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৪৭ জন। একদিনে এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যু।

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ১৫ হাজার ১৯১ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন সাত হাজার ৯৫৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৯৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে দুই হাজার ৪৬৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯০৮ জন, রংপুর বিভাগে ৬৭৮ জন, খুলনা বিভাগে এক হাজার ১৮৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৮৪১ জন এবং সিলেট বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ৫৬৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৪৭ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মারা গেছেন ৭২ জন। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের ৬১ জন, রাজশাহী বিভাগের ২১ জন, খুলনা বিভাগের ৪৬ জন, বরিশাল বিভাগের ১২ জন, সিলেট বিভাগের ১৪ জন, রংপুর বিভাগের ১৬ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের মারা গেছেন পাঁচ জন।

 

/জেএ/আইএ/

সম্পর্কিত

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

এক কোটি ২১ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

এক কোটি ২১ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

সর্বশেষ

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন আজ

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন আজ

নাভালনি ও তার ঘনিষ্ঠদের ওয়েবসাইট ব্লক করলো রাশিয়া

নাভালনি ও তার ঘনিষ্ঠদের ওয়েবসাইট ব্লক করলো রাশিয়া

লকডাউনে কাদের মির্জার চা-চক্রের আয়োজন

লকডাউনে কাদের মির্জার চা-চক্রের আয়োজন

ভারত থেকে তিন মাসে ফিরলেন সাড়ে ৬ হাজার বাংলাদেশি

ভারত থেকে তিন মাসে ফিরলেন সাড়ে ৬ হাজার বাংলাদেশি

ময়মনসিংহে ৩৪০ মামলায় আড়াই লাখ টাকা জরিমানা আদায়

ময়মনসিংহে ৩৪০ মামলায় আড়াই লাখ টাকা জরিমানা আদায়

আনজাম মাসুদের সঙ্গে এবার ১৪ জন কণ্ঠশিল্পী!

আনজাম মাসুদের সঙ্গে এবার ১৪ জন কণ্ঠশিল্পী!

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

রণক্ষেত্র আসাম-মিজোরাম, কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের আহ্বান

রণক্ষেত্র আসাম-মিজোরাম, কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের আহ্বান

টেকনাফের প্রধান সড়কে বন্যহাতি

টেকনাফের প্রধান সড়কে বন্যহাতি

আমেরিকায় যাওয়ার আগে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার’ ডাক কাদের মির্জার

আমেরিকায় যাওয়ার আগে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার’ ডাক কাদের মির্জার

৪৬ আফগান সেনাকে আশ্রয় দিলো পাকিস্তান

৪৬ আফগান সেনাকে আশ্রয় দিলো পাকিস্তান

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

এক কোটি ২১ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

এক কোটি ২১ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় কত শনাক্ত, কত মৃত্যু

৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় কত শনাক্ত, কত মৃত্যু

‘জনসাধারণকে লকডাউন মানানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’

‘জনসাধারণকে লকডাউন মানানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’

একদিনে ঢাকা বিভাগেই শনাক্ত প্রায় ৮ হাজার

একদিনে ঢাকা বিভাগেই শনাক্ত প্রায় ৮ হাজার

করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ প্রথম টার্গেট

করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ প্রথম টার্গেট

জোড়া রেকর্ড: মৃত্যু ২৪৭, শনাক্ত ১৫ হাজার

জোড়া রেকর্ড: মৃত্যু ২৪৭, শনাক্ত ১৫ হাজার

মোবাইল থেকেই দেওয়া যাবে আয়কর রিটার্ন

মোবাইল থেকেই দেওয়া যাবে আয়কর রিটার্ন

করোনায় এখন আর মানুষের ভীতি নেই: তথ্যমন্ত্রী

করোনায় এখন আর মানুষের ভীতি নেই: তথ্যমন্ত্রী

গার্মেন্ট কারখানা খুলে দেওয়ার চিন্তা সরকারের নেই: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

গার্মেন্ট কারখানা খুলে দেওয়ার চিন্তা সরকারের নেই: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

© 2021 Bangla Tribune