X
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১১ আষাঢ় ১৪২৮

সেকশনস

করোনা মোকাবিলা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১০ জুন ২০২০, ২০:২৫

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো) করোনাভাইরাস মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য যা যা করণীয়, তা করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একদিকে যেমন করোনা মোকাবিলা করবো। পাশাপাশি দেশে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন যাতে চলে, মানুষ যেন কষ্ট না পায়, তার জন্য যা যা করণীয় আমি করে যাবো।’

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অনেক দেশ সংসদে বাজেট দিতে না পারলেও বাংলাদেশ তা দিচ্ছে বলেও তিনি এসময় উল্লেখ করেন।

নিজের জীবন নিয়ে কোনও চিন্তা করেন না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জন্ম যখন হয়েছে মরতেই হবে। তাই গুলি খেয়ে মরি, বোমা খেয়ে মরি, করোনাভাইরাসে মরি, অসুস্থ হয়ে মরি— এখন কথা বলতে বলতেও মরে যেতে পারি। মৃত্যু যখন অবধারিত, তখন মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি ভয় কখনও পাইনি, পাবো না। আল্লাহ জীবন দিয়েছে, জীবন আল্লাহ একদিন নিয়ে যাবে, এটাই আমি বিশ্বাস করি। মানুষকে কিছু কাজ দেয় সেই কাজটুকু করতে হবে। আল্লাহর লিখিত আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে, যতক্ষণ এই কাজটুকু শেষ না হবে ততক্ষণ কাজ করে যাবো। কাজ শেষে আমিও চলে যাবো। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আমি এখানে বেঁচে থাকার জন্য আসিনি। জীবনটা বাংলার মানুষের জন্য বিলিয়ে দিতে এসেছি। এখানে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভয়ের কী আছে?’

করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের মধ্যে একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সবকিছুতে একটা অচলাবস্থা চলছে। পাশাপাশি মৃত্যু এসে হানা দিচ্ছে। অবশ্য এখানে সুস্থতার সংখ্যা অনেক বেশি। তারপরেও মানুষের ভেতর কেমন একটা আতঙ্ক বিরাজমান।’

করোনাভাইরাসের কাছে বিশ্বের শক্তিধর দেশের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কাছে বিশ্বের যে যতই শক্তিধর হোক, যতই অর্থশালী হোক, অস্ত্রের শক্তিশালী হোক— কোনও শক্তি কাজে লাগছে না। মনে হচ্ছে করোনাভাইরাসটাই সবচেয়ে শক্তিশালী। আর  প্রকৃতি যেন তার প্রতিশোধ নিচ্ছে। এমন একটা বিষয় আমার কাছে মনে হয়।’

করোনাভাইরাসের কারণে সমাজের অনেকেই মৃত্যুবরণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের প্রশাসন যেভাবে ওটা বন্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী, আনসার ভিডিপি বিজিবি, সাংবাদিক প্রত্যেকে প্রতিনিয়ত জনগণের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’

করোনাভাইরাস এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেলেছে, মানুষের মধ্যে একটা দূরত্ব নিয়ে এসেছে। তবে এটা ঠিক সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়াতে পরিবারের সঙ্গে থাকার একটা সুযোগ করে দিয়েছে। জানিনা, সব জিনিসের ভালো-মন্দ দিক থাকে।’

করোনাভাইরাসের কারণে অনেকে কর্মহীন হয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘যারা ছোটখাটো কাজ করতো, দিন আনে দিন খায়, তারা প্রত্যেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এসব মানুষের খবর নিয়ে তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছানো, এজন্য নগদ টাকার ব্যবস্থা করা, এতিমখানা-মসজিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক তাদেরকে আমার ত্রাণ তহবিল, জাকাতের টাকাসহ নানাভাবে সহায়তা করেছি। আমরা মানুষকে খুঁজে খুঁজে বের করে সাহায্যটা দিয়েছি। সমাজের অগোচরে থেকে যাওয়া বিশাল জনগোষ্ঠীর কষ্ট-দুঃখটা যাতে একটু লাঘব করা যায়, সেই চেষ্টাটুকু করে যাচ্ছি।’

তিনি জানান, প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসকের কাছে আলাদাভাবে ফান্ড দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে যেন সহযোগিতা করা হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণকালে আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের নেতাকর্মীরা যে যতটুকু পেরেছে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিত্তশালীদের সাহায্য করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সাহায্য করেছে।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো— করোনাভাইরাসে মারা গেলে আত্মীয়-স্বজন আপনজন ফেলে চলে যায়। সেই লাশ টানে পুলিশবাহিনী। তারা নিয়ে কবর দিচ্ছে। জানাজা পড়ছে। সেখানে ভয়ে কোনও আপনজন থাকছে না। মানুষের মৃত্যুর পর এ ধরনের অমানবিক আচরণ করবে এটা খুবই দুঃখজনক।’

বোরো মৌসুমে কৃষকদের ধান কাটতে ছাত্রলীগ সহযোগিতা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ছাত্রলীগ-যুবলীগ মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ দাফন ও আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে আপনজনেরা লাশ ফেলে যায়, সেখানে ছাত্রলীগ-যুবলীগ মানবিকতা দেখিয়েছে এতেই আমি আশাবাদী।’

‌ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘একদিকে করোনাভাইরাস অপরদিকে এলো ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমরা ২৪ লাখ মানুষকে শেল্টারে নিয়ে আসি। গৃহপালিত পশুপাখি আমরা শেল্টারের নেওয়ার ব্যবস্থা করি। প্রত্যেককে খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিই। এসবই করা হয় করোনাভাইরাসের নিয়ম মেনে। আম্পানে হয়তো অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে আমরা জান বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি।’

নিজের শিক্ষক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর প্রসঙ্গে শেক হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের যেসব বুদ্ধিজীবী বেঁচে ছিলেন তাদের মধ্যে তিনি একজন। আমি প্রধানমন্ত্রী হই আর যা-ই হই শিক্ষক শিক্ষকই। তাকে আমি সবসময় শিক্ষকের মর্যাদাই দিয়ে এসেছি। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর আমি চেষ্টা করেছি, সবসময় খোঁজখবর নিয়েছি। চিকিৎসার সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু বয়স পার হয়ে গিয়েছিল। পরিচিত মানুষ আজ  হারিয়ে গেছে সত্যি কষ্ট হয়। আজ  কাকে রেখে কার কথা বলবো।’

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা প্রতিবাদ করেছিলেন, তাদের অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই সময় ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান পটলকেও হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিল।’

 

/ইএইচএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

হাসপাতাল থেকে যেমন এসেছেন ‌‘তেমনই’ আছেন খালেদা জিয়া

হাসপাতাল থেকে যেমন এসেছেন ‌‘তেমনই’ আছেন খালেদা জিয়া

বেসরকারি পর্যায়ে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদন দিচ্ছে সরকার

বেসরকারি পর্যায়ে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদন দিচ্ছে সরকার

বিদেশ থেকে আনা মোবাইল ফোন নিবন্ধন করতে হবে যেভাবে

বিদেশ থেকে আনা মোবাইল ফোন নিবন্ধন করতে হবে যেভাবে

ইউজিসির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে শোক

ইউজিসির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে শোক

পোশাক শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

পোশাক শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

‘২০২৫ সালের মধ্যে সরকারের সব সেবা ডিজিটাল হচ্ছে’

‘২০২৫ সালের মধ্যে সরকারের সব সেবা ডিজিটাল হচ্ছে’

আইনজীবীদের টিকা দেওয়া নিয়ে রুলের শুনানি ২৭ জুন

আইনজীবীদের টিকা দেওয়া নিয়ে রুলের শুনানি ২৭ জুন

নাশকতার মামলায় বৈমানিককে জামিন দেননি হাইকোর্ট

নাশকতার মামলায় বৈমানিককে জামিন দেননি হাইকোর্ট

চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হলো আরও ২৯৭৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম

চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হলো আরও ২৯৭৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম

কোভিশিল্ডের টিকা এক কোটি ১ লাখ ডোজ শেষ

কোভিশিল্ডের টিকা এক কোটি ১ লাখ ডোজ শেষ

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য: তারেকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ২৮ জুন

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য: তারেকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ২৮ জুন

৪ মাস পর হাসপাতাল ছাড়লেন ৮০ বছরের রাবেয়া বেগম

৪ মাস পর হাসপাতাল ছাড়লেন ৮০ বছরের রাবেয়া বেগম

সর্বশেষ

ডিএনএ টেস্টে প্রমাণ হয়নি কন্যাশিশুর বাবা কনস্টেবল শাওন

ডিএনএ টেস্টে প্রমাণ হয়নি কন্যাশিশুর বাবা কনস্টেবল শাওন

মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়ায় লালমনিরহাট পৌরসভায় কঠোর বিধিনিষেধ

মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়ায় লালমনিরহাট পৌরসভায় কঠোর বিধিনিষেধ

মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন কত?

মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন কত?

দেশে পাকিস্তানি সৈন্যের অস্তিত্ব নেই

দেশে পাকিস্তানি সৈন্যের অস্তিত্ব নেই

বার্ধক্য রুখবে কোলাজেন স্মুদি

বার্ধক্য রুখবে কোলাজেন স্মুদি

বিজেপিতেই আস্থা রাখছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা

বিজেপিতেই আস্থা রাখছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা

বোমাবর্ষণের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

বোমাবর্ষণের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

টিশার্টে নকশি কাঁথা

টিশার্টে নকশি কাঁথা

মোদিকে চিঠি মমতার

মোদিকে চিঠি মমতার

হাসপাতাল থেকে যেমন এসেছেন ‌‘তেমনই’ আছেন খালেদা জিয়া

হাসপাতাল থেকে যেমন এসেছেন ‌‘তেমনই’ আছেন খালেদা জিয়া

কোন দিকে মোড় নিচ্ছে রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের বিবাদ?

কোন দিকে মোড় নিচ্ছে রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের বিবাদ?

বেসরকারি পর্যায়ে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদন দিচ্ছে সরকার

বেসরকারি পর্যায়ে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদন দিচ্ছে সরকার

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

‘মহামারি রোগ গোপন করাও একটি অপরাধ’

‘মহামারি রোগ গোপন করাও একটি অপরাধ’

© 2021 Bangla Tribune