X
বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

স্বর্গরাজ্যে ঝরনা দর্শন

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ১৯:৪৫

বোরহিল ঝরনা থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত কেউ ঘোরাঘুরির কথা বললে সহসা না করতে পারি না। ছোট ভাই নাট্যকার সাজিন আহমেদ বাবুকে নিয়ে একরাতে উঠে পড়লাম সিলেটের বাসে। খুব ভোরে সিলেট পৌঁছে চলে এলাম ডাউকি পোর্টে।
২০-২৫ মিনিটের মধ্যেই দুই দেশের ইমিগ্রেশনে আনুষ্ঠানিকতা শেষের পর একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে ফেললাম। প্রথমে চেয়েছিলাম, একবারে তিন-চার দিনের জন্য গাড়ি নেবো। কিন্তু ইমিগ্রেশন অফিসের পাশে থাকা ট্যাক্সিচালকরা একজোট হয়ে আছে মনে হলো। একজন অন্যজনের চেয়ে ভাড়া বেশি চায়। তাছাড়া তাদের সুবিধামতো রুটের পরিকল্পনা জানাচ্ছে।
এ সময় পেছন থেকে দুই তরুণ ডাক দিলো। তারাও মেঘালয় ঘুরে দেখতে এসেছে। আমাদের মতোই তিন-চার দিনে ঘুরে দেখার ইচ্ছা তাদের। দু’জনই বুয়েট থেকে পাস করে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানিতে চাকরি করছে। একজনের নাম পঙ্কজ, অন্যজন প্রদীপ। পরিচয় পর্ব শেষে তারা প্রস্তাব দিলো, একসঙ্গে ঘোরা যায় কিনা। তাহলে খরচ কমে আসবে। আমি সাজিনের দিকে তাকালাম। ও চোখের ইশারায় জানালো, আমি যা ভালো মনে করি। তাদের সঙ্গে কথা বলে বেশ স্বতঃস্ফূর্ত মনে হয়েছে। তাই দেরি না করে প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলাম। একটু হেঁটে ডাউকি বাজার থেকে ট্যাক্সি নেওয়ার পরামর্শ দিলো তারা।
আমরা হাঁটা শুরু করতেই ট্যাক্সিচালকদের একটু টনক নড়লো। কয়েকজন আমাদের কাছে এগিয়ে এলো। দামে বনে যাওয়ায় একজনকে ঠিক করে নিলাম সেদিনের জন্য। সে আমাদের চারটি স্পট দেখিয়ে স্নোনেংপেডেং ভিলেজে নামিয়ে দেবে বিকালে।
গাড়িতে উঠে বসলাম। ডাউকি বাজার থেকে ডলারকে রুপিতে বদলে সিম কিনে বোরহিল ঝরনা দেখতে চলে গেলাম। ততক্ষণে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। প্রথমে ভেবেছিলাম, বৃষ্টি একটু কমলে গাড়ি থেকে নামবো। কিন্তু বৃষ্টির গতি ক্রমে বাড়ছে। আমাকে বাসা থেকে বলে দেওয়া হয়েছে বৃষ্টিতে না ভেজার জন্য। একটু ভিজলেই আমার জ্বর আসে। হাসির মতো বৃষ্টিতে ভেজাও যে সংক্রামক তা জানা ছিল না! বৃষ্টির স্বর্গীয় রূপ দেখে লোভ সামলাতে না পেরে রেইনকোট পরে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। আমার দেখাদেখি অন্যরাও নামলো। ভরপুর বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেই বৃষ্টি কমে এলো।
ক্রাং সুরি ঝরনা গাড়ি ঘুরিয়ে এলাম উমক্রেম ঝরনায়। এখানে নেমে কয়েকটা ছবি তুলে আমরা রওনা দিলাম ক্রাং সুরি ঝরনার দিকে। যেতে যেতে পথের দু’পাশ দেখে মুগ্ধ না হওয়ার কোনও উপায় নেই! ক্রাং সুরি ঝরনা পৌঁছাতেই দুপুর। গত রাতের ভ্রমণের ধকল এবং আজকের ঘোরাফেরার ক্লান্তিতে খিদেয় পেট চো-চো করছে। এক ধাবায় গিয়ে খাবার অর্ডার করে জানতে চাইলাম, কতক্ষণ লাগবে?

খাসিয়া তরুণী গালে টোল পড়া হাসি দিয়ে বললো, ‘১০ মিনিট!’

১৫ মিনিট পরে আবারও জিজ্ঞেস করা হলো, আর কতক্ষণ?
আবারও খাসিয়া তরুণী হাসিতে টোল ফেলে উত্তর দিলো, ‘১০ মিনিট!’
সময়মতো খাবার না পেয়ে মেজাজ তিরিক্ষি। সাজিন বলল, ‘ভাই, একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন? এরা এককথার মানুষ! ১৫ মিনিট আগেও বলছে ১০ মিনিট। এখনও বলছে তাই। কথার নড়চড় নাই। এটা কিন্তু ইতিবাচক!’

অবশেষে শেষ হলো কাঙ্ক্ষিত ১০ মিনিট! দুটো চিকেন থালি ও দুটো ফিস থালি অর্ডার করা হয়েছিল। ভাত পেটচুক্তি। কেউ কারও দিকে না তাকিয়ে দ্রুত খাওয়া সেরে নিলাম। ভালো খাওয়ার পরে পান-মসলা হলে মন্দ হয় না! তাই একেকজন একেকটা স্থানীয় পান-মসলার প্যাকেট ছিড়ে খেতে নিতেই বাঁধলো বিপত্তি। একে তো ঝালে জিভ পুড়ে যাচ্ছিল, তার ওপর একেক প্যাকেটের দাম শুনে ভ্রু কপালে ওঠার দশা। আমরা জানালাম, এত দাম দিয়ে নেবো না!
খাসিয়া তরুণীর মা এবার এন্ট্রি নিলো, ‘প্যাকেট ছিড়েছো! না নিয়ে যাবে কই!’
আমরা কথা না বাড়িয়ে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি খেয়েছো?
ড্রাইভার বললো, ‘পরে খাবো। তোমরা ঝরনা দেখে আসো।’

আমরা ট্যাক্সিচালকের হাতে পান-মসলার প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে ক্রাংসুরি ঝরনা দেখতে গেলাম। পার্কিং এরিয়ায় গাড়ি থেকে নেমে প্রায় ৪০০ মিটারের মতো নিচে গেলে উপভোগ করা যায় অপরূপ ঝরনার নীল জল। পেট পুরে খাওয়ার কারণে সবারই একটু তন্দ্রার মতো লাগছিল। মনে হচ্ছিল, ঝরনার পাশে একটু ঘুমিয়ে নিলে বেশ হতো। এখানে জিপ লাইনিংয়ের ব্যবস্থা আছে। সাজিন ও পঙ্কহের ইচ্ছা থাকলেও লম্বা সিরিয়ালের কারণে তা পারলো না। কীভাবে ঘণ্টাখানেক সময় পেরিয়ে গেলো বুঝে ওঠার আগেই যাওয়ার তাড়া। বৃষ্টির পূর্বাভাস পাচ্ছি। দেরি না করে গাড়িতে গিয়ে উঠলাম। আমাদের এবারের গন্তব্য স্নোনেংপেডেং। পথে ট্যাক্সিচালকের সঙ্গে আমরা আলাপ জমিয়ে ফেললাম। সে কথা দিলো, কালও আমাদের সঙ্গে ডিউটি দেবে।

স্নোনেংপেডেং গ্রামে উমগট নদীর ঝুলন্ত ব্রিজে লেখক কাকচক্ষু নদীর গ্রাম স্নোনেংপেডেং

যে নদীটি স্বপ্নে দেখেছি, সেটা চোখের সামনে দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। সারারাত জার্নি করে ঢাকা থেকে তামাবিল বন্দর হয়ে পরদিন সারাদিন ঘোরাঘুরি করে আমরা যখন উমগট নদীর পাড়ে এসে পৌঁছালাম তখন শেষ বিকাল। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। থাকার কোনও জায়গা বুকিং দেওয়া ছিল না। ভেবেছিলাম, পেয়ে যাবো। কিন্তু এসে দেখি জায়গা নেই। আমাদের ট্যাক্সিচালক বললো, ‘তোমরা ঠ্যালা সামলাও। আমাকে বিদায় করো।’

মানুষ চোখে সর্ষে ফুল দেখে। আমরা দেখছিলাম সূর্যমুখী, রক্তজবাসহ রঙিন ফুলের সাদাকালো সংস্করণ! তবে মুখে কেউই স্বীকার করিনি। ভাবটা এমন, এই ঝিঁঝিঁ ডাকা গ্রামে উঁচু পাথরের ঢিবিতে হেলান দিয়ে দিব্যি রাত কাটিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু কথায় আছে– যদি থাকে নসিবে, আপনাআপনি আসিবে। আমাদের কাছে দারুণ একটি কাঠের বাংলো ধরনের হোম স্টে’র অফার নিয়ে এলো মন মোহো। খাসিয়া তরুণ। আজ রাতের মতো এখানেই আমরা থাকবো বলে ঠিক করলাম। ট্যাক্সিচালক কাল ভোরে আসবে বলে বিদায় নিলো।
বোরহিল ঝরনা বাংলোর ঘরের জানালা খুললে পাহাড়ঘেঁষা উমগট নদী দেখা যায়। আমরা ফ্রেশ হয়ে চারপাশ ঘুরে দেখতে বেরিয়ে পড়লাম। রাতের বেলা পাহাড়ঘেরা নির্জন নদীটাকে কেমন রূপকথার গল্পের মতো মনে হচ্ছিল। একটা ভুতুড়ে পরিবেশ। অন্য কোনও জগতে এসে পড়েছি যেন! ঝুলন্ত ব্রিজ বেয়ে দুব্র এদিক-ওদিক করতেই খিদে পেয়ে গেলো। একটা রেস্তোরাঁয় গিয়ে আরাম করে বসতেই ওরা জানালো, খাবার নাই!

কেন নাই? এখনও তো রাত ৯টাও বাজেনি।

ওরা জানালো, এখানে রাতে খেতে হলে আগে থেকে অর্ডার দিয়ে রাখতে হয়। সেই হিসেবে রান্না হয়। আমরা আগে অর্ডার দেইনি বলে খাবার পাবো না! মানুষের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমাদের মাথায় হাতুড়ি পড়লো! সারারাত কি তাহলে না খেয়ে থাকতে হবে? এক দোকান থেকে কলা-বিস্কুট খেয়ে মেজাজ ঠান্ডা করলাম। এখন খিদে মেটাবো কীভাবে ভাবতেই বাংলোর মালিকের কথা মনে পড়লো। তাকে ফোন করে এখনই আসতে বললাম। খুব জরুরি।
সে ছুটে এলো একটু পরে। তাকে বললাম, আমাদের রাতের খাবার চাই। ভাত আর নদীর মাছ খাবো।
সে হেসে বললো, ‘এখন সম্ভব না!’

আমরা টেবিলে বাড়ি মেরে বললাম, আমরা তোমার বাংলো ভাড়া নিয়েছি। তোমার মেহমান। আমাদের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব তোমার না? আজ রাতে না খেয়ে আমাদের কেউ যদি মারা যায়, সেই দায় কে নেবে?
সাজিন বলল, ‘তার ওপর আমরা তিনজন বিয়েও করিনি! তুমি বুঝতে পারছো, ব্যাপারটা কতটা অমানবিক হবে?’
আমাদের কথায় বাংলোর মালিকের মনে হয় এবার একটু মন গললো। সে বললো, ‘ব্যবস্থা হবে। তবে সময় লাগবে দুই ঘণ্টা।’

কেন? নদী থেকে মাছ ধরে রান্না করতে হবে?
বাংলো মালিক হেসে চলে গেলো। আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দুই ঘণ্টা কখন শেষ হবে সেই চিন্তায় পড়ে গেলাম। রাতের খাবারটা দেরিতে হলেও খুব তৃপ্তি নিয়ে খেতে পেরেছি। ভাত, নদীর তাজা মাছের সঙ্গে আলু ভাজা আর ডাল। প্রতিটি আইটেম যেন অমৃত। রান্না করেছে বাংলো মালিকের মেয়ে। সাজিনকে বললাম– ভাই, এই অঞ্চলে বিয়ে করে ফেলো।

উমক্রেম ঝরনা মোরগের ডাকে সকাল আসে– এমন লাইন গল্প উপন্যাসে অনেক পড়েছি। কিন্তু বাস্তবে এমন স্নিগ্ধ সকাল আর দেখিনি! আহা! পরদিন ঠিক এভাবেই ঘুম ভাঙলো। মাথার পাশের জানালাটা খুলে দিয়ে মনে হলো, এখানে এভাবে টানা কয়েক বছর কাটিয়ে দিলেও ক্লান্তি আসবে না। রোদ ঝলমলে মন ভালো করা সকালটা এলোমেলো করে দিলো ট্যাক্সিচালক। সে এলো না। আমরা কয়েকবার তার নম্বরে ফোন দিলাম। ধরলো না! এখন কী করা!
গ্রামে কয়েকটি গাড়ি পেলেও চালকরা আকাশচুম্বি ভাড়া চাইলো। অবশেষে ঠিক হলো, আমরা একটা গাড়ি নিয়ে আপাতত ডাউকি বাজারে যাবো। ওখান থেকে আরেকটা গাড়ি ভাড়া করে দ্বিতীয় দিনের পরিকল্পনামাফিক যাত্রা শুরু করবো।

আমাদের আজকের লক্ষ্য ডাউকি থেকে চেরাপুঞ্জি যাওয়া। পথে মাওলিনং গ্রাম, নোহওয়েট লিভিং রুট ব্রিজ, সেভেন সিস্টার্স ঝরনা দেখবো।

মেঘালয়ের মাওলিনং গ্রাম
মাওলিনং গ্রামে থাইলং নদীর ওপরে এই লিভিং রুট ব্রিজ। গ্রামটির আলাদা খ্যাতি আছে। এটি এশিয়ার পরিচ্ছন্নতম গ্রাম হিসেবে সুপরিচিত। এখানে ফাইকাস ইলাস্টিকা নামে বিশেষ প্রজাতির রাবার গাছ দেখা যায়। এসব রাবার গাছের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে মূল শেকড় থেকে বের হওয়া শাখা-প্রশাখা মাটির ওপরে উঠে আসে এবং ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। আদিবাসীরা ফাইকাস ইলাস্টিকা বৃক্ষের এই বৈশিষ্ট্যকে পুঁজি করে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তৈরি করে এসব জীবন্ত সেতু। নদীর দু’প্রান্তের দুটি গাছের সেতুকে পরস্পরের দিকে জুড়ে দেওয়া হয়। এটি প্রায় ১৫ বছর ধরে চলতে থাকা একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। কংক্রিটের আধুনিক সময়ে এসেও এই সেতুগুলো বয়সের সঙ্গে আরও বেশি টেকসই এবং মজবুত হতে থাকে। গোটা প্রক্রিয়ায় ছোটবড় নানান জীবন্ত শেকড়ের বন্ধনে এটি আশ্চর্য রকমের সেতু। প্রকৃতির চলনকে স্বাভাবিক রেখেই মানুষ নিজের প্রয়োজনে তাকে ব্যবহার করে গেছে। সেদিন একজন বলেছিল, অপব্যবহার কী তা তো হরহামেশাই দেখতে পাই। কিন্তু সদ্ব্যবহার কী? এই লিভিং রুট ব্রিজ হতে পারে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

সেভেন সিস্টার্স ঝরনা গ্রামে দুপুরের খাবার সেরে আমরা রওনা হলাম চেরাপুঞ্জির পথে। আমরা চেয়েছিলাম, নোহকালিকাই ঝরনা দেখে যেতে। কিন্তু ড্রাইভার বললো, এখন সেখানে কুয়াশা থাকবে। তার চেয়ে কাল ভোরে গেলে ভালো দেখা যাবে। ড্রাইভার ওদিকে যেতে চাইছে না বুঝে সেভেন সিস্টার্স ঝরনার উদ্দেশে গেলাম। চারপাশে উঁচু-উঁচু সবুজ পাহাড়। সেগুলোর মাথায় উড়ছে সাদা মেঘ। যেন ইচ্ছে হলেই সেই মেঘ ধরা যাবে! পাহাড়ের চূড়ায় মজমাইনং থাইমা ইকো-পার্ক মূলত সেভেন সিস্টার্স ঝরনারই পাহাড়। পাহাড়ের মাঝ দিয়েই সেভেন সিস্টার্স ঝরনার পানি গড়িয়ে নিচে পড়ছে। সেজন্য এই ঝরনা দেখতে হয় অন্য পাহাড় থেকে। তবে পার্কের কোণে দাঁড়িয়ে আশেপাশের পাহাড়, পাহাড়ের গায়ে লেগে থাকা তুলোর মতো সাদা মেঘ আর নিচে দুই পাহাড়ের মাঝের ভাঁজ দেখার অনুভূতি অন্যরকম। দেখতে দেখতে কখন যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে টেরই পাইনি। ড্রাইভার আমাদের চেরাপুঞ্জি শহর এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চলে যাবে।

সেই কৈশোরে বইতে পড়েছিলাম, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের এলাকা চেরাপুঞ্জি। পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে গাড়ি ওপরের দিকে উঠেই চলেছে। চেরাপুঞ্জি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার একটি শহর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮৬৯ ফুট উঁচু। কিছুদূর যাওয়ার পর একটু শীত-শীত করতে লাগলো। রাতের অন্ধকার গাঢ় হওয়ার আগেই আমরা পৌঁছে গেলাম ছিমছাম শহরটাতে। প্রথম দেখায় প্রেমে পড়া বলতে একটা কথা আছে। চেরাপুঞ্জি প্রথম দেখেই আমার তেমন মনে হলো। এখানে বেশিরভাগ বাড়িতেই ‘হোম স্টে’র ব্যবস্থা রয়েছে। দুটি বাড়ি দেখে আমরা একটি খাসিয়া বাড়িতে থাকার বন্দোবস্ত করে ফেললাম। হোটেলে থাকার চেয়ে এটাই আমাদের কাছে বেশি আরামদায়ক মনে হয়েছে। চেরাপুঞ্জিকে বাংলায় বলা যায় কমলা দ্বীপ, এর নামের অর্থ অনুসরণ করেই। কমলা ছাড়া এখানে আরও আছে প্রচুর পান-সুপারির গাছ। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে চেরাপুঞ্জি সোজাসুজি কুড়ি কিলোমিটারেরও কম। অথচ রাতের নির্জন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল, রূপকথার এক স্বর্গরাজ্যে হারিয়ে গেছি।
পরদিনের জন্য গাড়ি ঠিক করে ফেললাম। এখানে বেশিরভাগ রেস্তোরাাঁয় শুকর রান্না হয় বলে আমাদের দলের লোকজন কেউ ভাত খেতে চাইলো না। স্থানীয় বাজার থেকে কলা, গাজর, কেক কিনে আনা হলো রাতের খাবারের জন্য। আমি একটা চিকেন মোমো খেয়ে আরেকটা অর্ডার দিলাম।

পরদিন ভোরের আলো ফুটতেই আমাদের গাড়ি প্রস্তুত। গত দুই দিনের ড্রাইভারদের চেয়ে এই ড্রাইভারকে আমাদের বেশ পছন্দ হয়ে গেলো। তার নাম ববি। সে আজ আমাদের নুকায়কালী ফলস, উই সাডং, ডাইন্থলেন ফলস, এলিফেন্ট ফলস দেখিয়ে শিলং পুলিশ বাজারে নামিয়ে দেবে, এমনটা ঠিক হলো।

নোহকালিকাই ঝরনা শিলং-চেরাপুঞ্জির অন্যতম দর্শনীয় স্থান হলো নোহকালিকাই ঝরনা। এর উচ্চতা ১ হাজার ১৭০ ফুট। এটি ভারতের বৃহত্তম ঝরনাগুলোর অন্যতম। খাঁড়া পাহাড় থেকে সোজাসুজি পড়ছে ঝরনার পানি। তাই পানি পড়ার স্থানটি দেখতে নীল রঙের পুকুরের মতো।

এলিফ্যান্ট ফলস বা হাতি ঝরনা। এই ঝরনার পানি প্রবাহিত হয় তিনটি স্তরে। দূর থেকে দেখতে অনেকটা হাতির শুঁড়ের মতো বাঁকানো মনে হয়। সেজন্যই হয়তো এর নাম এলিফ্যান্ট ফলস। এই ঝরনার নাম এত শুনেছি, কিন্তু দেখার পরে আমাদের কাছে একেবারেই ভালো লাগেনি! ব্যাপারটা অনেকটা কাচ্চি বিরিয়ানি দেখিয়ে শুকনা ভাত খাওয়ানোর মতো। অন্য ঝরনাগুলো এত নৈসর্গিক যে, এটি সেগুলোর ধারেকাছেও নেই!

এলিফ্যান্ট ফলস শিলং পুলিশ বাজারে পৌঁছাতে দুপুর হলো। উত্তরপূর্ব ভারতীয় রাজ্য মেঘালয়ের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর শিলং। একসময় এটি ‘প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড’ নামে পরিচিত ছিল। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে শহরটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এরপর এটি পুনরায় গড়ে তোলা হয়। ভারতের স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশ পরিবারদের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় পাহাড়ি বিনোদন কেন্দ্র ছিল। এখানে এখনও প্রচুর ব্রিটিশ ধাঁচে নির্মিত কান্ট্রি হাউস দেখতে পাওয়া যায়। প্রায় ৬ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত শিলংয়ের আশেপাশে দর্শনীয় অনেক জায়গা রয়েছে।
আমাদের আজকেই শেষ রাত। কাল সকালে দেশে ফিরবো। তাই ঠিক করা হলো, কোথাও ঘুরতে না গিয়ে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করা হবে। আমরা যা দেখেছি তাতে আমাদের পয়সা উসুল। কিন্তু পরিবারের মানুষগুলো তো এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পেলো না! তাই তাদের জন্য কিছু কেনা কর্তব্য। এখানে একদম গুলিস্তানের মতো রাস্তার ওপর জামা-কাপড় থেকে শুরু করে কাঁচাবাজার সবই বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু পরিবেশটা মেলার মতো।
কিনতে কিনতে খিদে পেলে দাঁড়িয়ে একটু মাংস ভাজা খেয়ে নেওয়া যায়। রাতে যখন হোটেলে ফিরলাম, আক্ষরিক অর্থে আমরা ফকির। ভাগ্যিস, হোটেল বিল পরিশোধ করা ছিল। পরদিন ভোরে ডাউকি বর্ডার পৌঁছাতে যে গাড়ি ভাড়া করলাম, তার চালককে আগে লাইটলুম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দেখিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলো। আকাশ আর মাটি যেন এক জায়গায় এসে মিশেছে ভোরের কুয়াশা ঢাকা লাইটলুম গ্রামে।

লাইটলুম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ফিরতি পথে মনটা বারবার উদাস হয়ে যাচ্ছিল। প্রকৃতি বারবার আমাদের শ্রেণি-বৈষম্যহীন ভালোবাসার চাদরে গ্রহণ করে আর আমরা আমাদের প্রয়োজনে সভ্যতা বিকাশের নামে প্রকৃতিকে নষ্ট করে চলেছি। একবারও কি ভাবছি, এর ফল কতটা ভয়াবহ?

প্রয়োজনীয় তথ্য ও যেভাবে যাওয়া
শিলং যেতে চাইলে ভিসার আবেদনে ডাউকি বর্ডার উল্লেখ করতে হবে। যাওয়ার আগে সোনালী ব্যাংকে ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর দিয়ে নিন। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র, এনওসি লেটারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের একাধিক ফটোকপি সঙ্গে রাখুন। কারণ তামাবিল সীমান্তে কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র দেখতে চাইবে। এছাড়া হোটেল ভাড়াসহ বিভিন্ন কাজেও লাগতে পারে। দেশ থেকে যাওয়ার সময় টাকা বা ভারতীয় রুপি না নিয়ে ডলার নিন।

ঢাকা থেকে এসি বা নন-এসি বাসে চড়ে সিলেট যাওয়া যায়। সিলেট শহরের কদমতলী থেকে সিএনজি কিংবা প্রাইভেট কারে তামাবিল যেতে সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। ইমিগ্রেশন পার হয়ে শেয়ারে ও রিজার্ভ ট্যাক্সি অথবা গাড়ি পাওয়া যায়। প্রতিদিন ভাড়া ২২০০ থেকে ২৮০০ রুপি।
শিলং-চেরাপুঞ্জির বেশিরভাগ দর্শনীয় স্থানে প্রবেশমূল্য দিতে হবে ১০-২০ রুপি। এছাড়া স্টিল ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করলে তার জন্যও দিতে হবে ২০-৫০ রুপি।

থাকার জন্য পর্যাপ্ত হোটেল, গেস্ট হাউস বা কটেজ আছে। রুম ভাড়া ১০০০ রুপি থেকে বিভিন্ন দামের।
ক্রাং সুরি ঝরনা দেখতে যাওয়ার পথে লেখক লেখক: নাট্যকার



/জেএইচ/

সম্পর্কিত

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ১৪:৪০

করোনার আগ্রাসনে গেল বছর বিশ্বজুড়ে সব কিছুই থমকে গিয়েছিলো। ঘর থেকে বের হওয়াই যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে বিদেশ ভ্রমণ তো দূরের কথা! বিশ্বজুড়ে তাই বড় বড় পর্যটন স্পটগুলো বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে এই করোনার আগ্রাসনকেও বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মালদ্বীপ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এক ট্যুরিস্ট স্পটে পরিণত হয় গত বছর। কীভাবে তা সম্ভব হলো?

মন ভোলানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য মালদ্বীপকে রোমান্সের এক ক্ষেত্র হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তাই কোয়ালিটি টাইম কাটাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানা বয়সী মানুষ ছুটে যান সেখানে। প্রতি বছর মালদ্বীপে প্রায় ২০ লাখ পর্যটক সমাগম হয়। কোভিড নাইনটিনের কারণে গেল বছরে সেই সংখ্যা ৫ লাখে নেমে এলেও  বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন স্পটের তালিকায় ঠিকই উপরের দিকে ছিলো দ্বীপদেশ মালদ্বীপ। বিশ্বের বেশরিভাগ পর্যটন স্পট করোনার কারণে বন্ধ থাকলেও গত বছরের জুলাই মাস থেকেই সব দেশের পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয় মালদ্বীপ। এক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়টা অনেকাংশেই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্য মতে মালদ্বীপের জিডিপিতে ২৮ শতাংশ অবদান রাখে পর্যটন খাত, যা বিশ্বে খুব কম দেশেই দেখা যায়।

করোনার দুঃসময়ে যখন তাহিতি, বালি, ফুকেটের মতো পর্যটন দ্বীপঅঞ্চলগুলো বন্ধ ছিলো, তখন সুযোগটা ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে মালদ্বীপ। কয়েকটি দেশে করোনা সতর্কতা হিসেবে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিলো। যেমন- থাইল্যান্ড ও শ্রীলংকায় গেলে সেখানে হোটেলে দুই সপ্তাহ বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থেকে এরপর দেশ দুটির অন্য স্থানে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো। এক্ষেত্রে মালদ্বীপ কোনও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। শুধুমাত্র পর্যটকদের কোভিড নাইনটিন টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট দেখালেই মিলেছে মালদ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ। অনেক ক্ষেত্রে রিসোর্টে পর্যটকদের করোনা টেস্ট করানো হতো। মালদ্বীপের পর্যটন সংস্থা জানিয়েছে, দ্বীপদেশটির বিশেষ ভৌগলিক অবস্থান করোনাকালেও দেশটির পর্যটন ব্যবসা অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পর্যটকদের বিভিন্ন দ্বীপের রিসোর্টে থাকার যে সুব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে, তাতে সামাজিক দূরত্বের শর্তটাও সহজে বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। অনেক রিসোর্টে প্রাইভেট বোট বা প্লেন ছিলো। এতে করে পর্যটকরা ভিড়ের শংকা থেকেও রেহাই পেয়েছেন।

অনেক রিসোর্ট তুলনামূলক কম খরচে মাসব্যাপী পর্যটকদের থাকার সুযোগও করে দেয়। যেমন ২৮ দিনের জন্য চার সদস্যের পরিবারের কাছ থেকে খাবার, হাই স্পিড ইন্টারনেট ও বেশ কিছু সুবিধাসহ থাকার জন্য ৪২ হাজার ৬০০ ডলারের মতো নেওয়া হতো। এমনকি ‘দ্য অনন্তারা ভেলি’ নামের একটি রিসোর্ট আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দারুণ এক সুযোগ করে দেয়। তাদের প্যাকেজ অনুযায়ী পর্যটকদের এক বছরের জন্য ৩০ হাজার ডলারে থাকার সুযোগ ছিলো। এসব মন ভোলানো অফার বিশ্বের অন্য কোনো পর্যটন কেন্দ্রে করোনাকালে কেউ আর দেয়নি। মালদ্বীপের আরেকটি বড় ইতিবাচক দিক হলো ওয়ার্ল্ড মিটারের তথ্য মতে করোনায় শুরু থেকে গত মাস পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় মারা গেছে মাত্র ৬৪ জন। আর করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজারের মতো মানুষ। তাই প্রকৃতির উদার সৌন্দর্যে ভরা, নিরাপদ পর্যটন স্পট হিসেবে মালদ্বীপকে বেছে নিতে পর্যটকরা খুব বেশি ভাবেননি।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

/এনএ/

সম্পর্কিত

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢেউ: রুম নেই, রাত কাটছে বালিয়াড়িতে

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢেউ: রুম নেই, রাত কাটছে বালিয়াড়িতে

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২১, ১৪:০৫

সময়টা ২০১০ সাল। রফিক সাহেব তার পুরো পরিবার নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার প্ল্যান করছেন অনেকদিন ধরেই। কিন্তু সবার সময়ের মিলটা ঠিক একসাথে হয়ে উঠছিলো না দেখেই যাওয়াটা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু এবার সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে বেশ বড় একটা ছুটি সবাই একসাথেই পেয়েছে, তাই সুযোগটা আর হাতছাড়া করতে চাইছেন না তিনি। পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন বলেই একটু ভালো হোটেল এ উঠতে চাইছেন এবার, যেখানে রুমগুলো বড় এবং নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। 

তিনি কল করলেন তার পরিচিত একটি বড় হোটেলেই। জানতে চাইলেন যে তার ওই তারিখের মধ্যে ভালো কোনও রুম অ্যাভেইলেবল আছে কিনা। হোটেল রিসিপশন থেকে পাওয়া উত্তরটা শুনে কিছুটা হলেও একটু ভড়কে গেলেন। সরকারি এবং সাপ্তাহিক ছুটি পরপর হওয়াতে প্রচুর মানুষ নাকি হোটেল রুমের খোঁজ করছেন এবং যে যেটা অ্যাভেইলেবল পাচ্ছেন, নিয়ে নিচ্ছেন। এমন অবস্থায় রফিক সাহেবের মন মতো রুম পাওয়াটা নাকি বেশ কঠিন হবে। পাওয়া গেলেও, তাকে বেশ অনেকখানি টাকা খরচ করতে হবে। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তিনি জানতে পারলেন যে হোটেলে দুটো রুম রফিক সাহেবকে দেওয়া সম্ভব, কিন্তু পর্যটকদের চাহিদা প্রচুর হওয়াতে তাকে পরিশোধ করতে হবে বেশ চড়া দাম, যা কিনা স্বাভাবিক দামের চেয়ে অনেক বেশি। রুমের সাইজটা কেমন, অন্যান্য কী কী ফ্যাসিলিটি আছে, লেট চেক আউটের ব্যবস্থা করা সম্ভব কিনা, এমন কী রুম নেওয়ার সাথে হোটেলের অন্যান্য কী কী সুযোগ সুবিধা তিনি পাবেন, তার কিছুই তিনি জানতে পারলেন না। তাকে জানানো হল, সব কিছু নাকি রুমে চেকইন করার পর নিজেই বুঝতে পারবেন। খানিকটা সংকোচবোধের পরেও রফিক সাহেব তার পরিবারের কথা চিন্তা করে রুম ২টি বুক করেই ফেললেন, পরে যদি এটাও না পাওয়া যায় এই ভয়ে। 

হোটেলে চেকইন করার পর তো তিনি বেশ বিব্রতই হলেন। যেমনটা তিনি আশা করেছিলেন, রুমগুলো তেমন নয়। এতো বড় হোটেলের রুমগুলোতে তিনি বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা আশা করেছিলেন যার কোনটিই তিনি পাচ্ছেন না প্রচুর পর্যটক হওয়াতে। সি ভিউ রুম তো পাননি, উল্টো যে রুমটা তাকে দেওয়া হয়েছে, সেখানে বারান্দাই নেই কোনও। কিন্তু কিছু করার ছিল না তার এই ব্যাপারে, এই রুম দুটোই নাকি শুধু মাত্র অ্যাভেইলেবল ছিল। 

২০২০ সাল। রফিক সাহেবের ছেলে আদনান তার বাবা-মাসহ পুরো পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে যাবে কক্সবাজার। তার বাবা যাওয়ার দুদিন আগে ওকে জিজ্ঞেস করলেন, হোটেল কিছু ঠিকঠাক করা আছে কিনা। নাকি তিনি তার সেই এজেন্টকে ফোন দিয়ে ব্যবস্থা করে দিতে বলবেন, আদনান তার বাবার কথা শুনে এবার একটু হেসেই ফেললো। অনলাইন ট্র্যাভেল বুকিং প্ল্যাটফর্মগুলো যে ঘরে বসেই হোটেল বুকিং প্রসেসটা কতো সহজ করে ফেলেছে, তা বোধয় বাবা এখনও জানেনই না! 

বাবার সামনেই গো যায়ানের ওয়েবসাইটে লগইন করে প্রথমেই তার চেকইন এবং চেকআউট এর ডেটটা ইনপুট করলো আদনান। যথারীতি কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই ওই দিনগুলোতে পুরো কক্সবাজারে যতগুলো হোটেল গো যায়ানের ইনভেন্টরিতে ছিল, সবগুলো স্ক্রিনে চলে এলো। প্রায় সবগুলো হোটেলেই বেশ ভালো ডিসকাউন্ট গো যায়ানের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় বলেই এখান থেকেই সব ধরনের হোটেল বুকিং করে আদনান। যেহেতু পরিবার নিয়ে যাচ্ছে, তাই ফিল্টার অপশন থেকে আগেই সে ৪ স্টার এবং ৫ স্টার ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে নিয়ে সেই মানের হোটেলগুলো শর্ট লিস্ট করে ফেললো। রফিক সাহেব বেশ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, যে রুমে কি কি ফ্যাসিলিটি আছে সেটা আগে থেকেই দেখে নেওয়া সম্ভব কিনা। আদনান ফোনটা বাবার হাতে দিয়ে ফিল্টার অপশন থেকেই ফ্যাসিলিটি লিস্টটা বের করে বললো কোন কোন সুযোগ সুবিধা তিনি চান, যেন একদম মন মতো সিলেক্ট করে ফেলেন। ব্রেকফাস্ট, সুইমিং পুল, ফিটনেস সেন্টার, লেটচেক আউটসহ আরও কতো রকমের সুযোগ সুবিধার কথা যে সেখানে দেওয়া আছে! রফিক সাহেব বেশ অবাক হলেন দেখে। এরপর নির্ধারিত সুযোগ সুবিধাগুলো সিলেক্ট করে যতগুলো হোটেলে সেসব অ্যাভেইলেবল আছে, তা চলে এলো। সেখান থেকেই একটা হোটেল সিলেক্ট করে আদনান বাবাকে জিজ্ঞেস করলো কী ধরনের রুম তার পছন্দ। রফিক সাহেব বললেন, হোটেলের কোন রুমটা তিনি চাইছেন, সেটাও সিলেক্ট করা সম্ভব? সি ভিউ থেকে শুরু করে হিল ভিউ রুম, টুইন রুম এবং ডিলাক্স কাপল রুম এমনকি জুনিয়র স্যুটও বুক করা সম্ভব নিজের পছন্দ অনুযায়ী ওয়েবসাইট এই। পুরো পরিবার নিয়ে যেন একসাথেই থাকতে পারে, আদনান একটা জুনিয়র স্যুট বুক করে ফেললো এবং সেই সাথে ওয়েবসাইটেই একটি এক্সট্রা বেড দিয়ে দেওয়ার অনুরোধটাও করে দিলো। এবার পেমেন্টের পালা, অনলাইনেই মোবাইলে ব্যাংকিং এবং কার্ড পেমেন্টের মধ্যে ডিসকাউন্ট অফারগুলো একটু দেখে পেমেন্ট কমপ্লিট করতেই ই-মেইলে চলে এলো কনফার্মেশন। এবার সেই মেইলটা বাবাকে দেখিয়েই বললো আদনান, এই ই-মেইলটা রিসিপশনে দেখালেই নাকি কাজ হয়ে যাবে, আর কিছু লাগবে না! রফিক সাহেব তো অবাক! 

দেশ জুড়ে প্রায় ১৫০টিরও বেশি হোটেলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া গো যায়ান এ ইতোমধ্যেই আছে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, কুয়াকাটা ও বান্দরবনের অধিকাংশ ৫ তারকা, ৪ তারকা ও ৩ তারকা হোটেল। রয়্যাল টিউলিপ, সায়েমান বিচ রিসোর্ট, ওশেন প্যারাডাইস, সিগাল হোটেল, লং বিচ, সি ক্রাউন,  দ্য কক্স টুডে, গ্র্যান্ড সুলতান, দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, ফয়েজ লেক, রিসোর্ট আটলান্টিস, ট্রপিকাল ডেইজি, শিকদার রিসোর্ট, রোজ ভিউ, মোমো ইনসহ আরও স্বনামধন্য হোটেল যে কেউ বুক করতে পারবে অনলাইনেই! 

আর অনলাইন পেমেন্টে সকল সুবিধা এবং চমৎকার সব ডিসকাউন্ট নিয়ে গো যায়ানের সাথে পার্টনারশিপে এসেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটি এমেক্স, ইবিএল, ইউসিবি, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, লঙ্কা বাংলা, বিকাশ এবং নগদ। 

হোটেল বুকিং এর অভিজ্ঞতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে গো যায়ান কাজ করে যাচ্ছে ২০১৭ থেকেই। ভ্রমণ পিপাসুদেরকে ভ্রমণে আরও বেশি উৎসাহ দিতেই পুরো ভ্রমণ সংক্রান্ত সকল ব্যবস্থা নিয়ে আসা হয়েছে অনলাইনে, গো যায়ানের ওয়েবসাইটে। 

কোনও ঝামেলা ছাড়াই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যেকোনো হোটেল বুক করতে ক্লিক করুন এখানে এবং সেই সাথে হোটেল সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে ভিজিট করুন বা কল করুন গো যায়ানের হট লাইন নাম্বারে ০৯৬৭৮-৩৩২২১১।

/এনএ/

সম্পর্কিত

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢেউ: রুম নেই, রাত কাটছে বালিয়াড়িতে

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢেউ: রুম নেই, রাত কাটছে বালিয়াড়িতে

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:২৬

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ভ্রমণপ্রিয়রা শুরু করেছেন ঘোরাঘুরি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের পাশাপাশি অনেকে যাচ্ছেন দেশের বাইরেও। যদিও বেশিরভাগ দেশই এখনও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য দুয়ার খোলেনি। তবে আশা করা যায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরতে শুরু করবে পর্যটনশিল্প। ভ্রমণপ্রিয়রা এখন থেকেই আলাদা করে ফেলতে পারেন ভ্রমণ খাত। জেনে নিন ভ্রমণে গেলে কীভাবে লাগাম টেনে ধরবেন খরচের।

  • ট্রিপের চার-পাঁচ মাস আগে টিকিট কেটে ফেলুন। এতে মূল্য বেশ খানিকটা কম থাকে।
  • প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ভ্রমণ খাতে জমা রাখুন। এতে ভ্রমণের সময় অনেকটাই নিশ্চিতে থাকতে পারবেন।
  • কম খরচের ঘুরতে চাইলে কয়েকজন একসঙ্গে ঘোরার পরিকল্পনা করুন। এতে মাথা পিছু খরচ বেশ কিছুটা কমে যায়।
  • বাইরে ঘুরতে গিয়ে বিলাসি পদে মনোযোগ না দিয়ে সেই স্থানের বিশেষ খাবারগুলো পরখ করে দেখুন।
  • বিমানে যাতায়াত করলে ব্যাগের ওজনের দিকে নজর দিন।
  • ভ্রমণে গেলে লোকাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের চেষ্টা করুন। 
  • নতুন কোথাও গেলে কেনাকাটা বাবদ নির্দিষ্ট বাজেট রাখুন। এর বাইরে খরচ করবেন না।
/এনএ/

সম্পর্কিত

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢেউ: রুম নেই, রাত কাটছে বালিয়াড়িতে

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢেউ: রুম নেই, রাত কাটছে বালিয়াড়িতে

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৫:১৭

সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ছুটি যোগ হওয়ায় অবকাশ উদযাপনে দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ছুটেছে মানুষ। এদের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায়।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের ভিড়

সরকারি তিন দিনের ছুটিতে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)  রাত থেকেই পর্যটকের আগমন ঘটে সূর্য উদয় ও সূর্যাস্তের এ বেলাভূমিতে। শীতের শেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নানা বয়সের হাজারও মানুষের পদচারণায় এখন মুখর সকল দর্শনীয় স্পট। আগত পর্যটকরা প্রিয়জনের সঙ্গে সেলফি তোলাসহ সমুদ্রের ঢেউয়ে সাঁতার কেটে হৈ-হুল্লোড় আর আনন্দ উম্মাদনায় মেতেছেন। অনেকেই পছন্দের পণ্য, বস্ত্র, শো-পিস ও শুটকি কেনাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হোটেল মোটেলেও ঠাঁই নেই। একেবারে ঠাসা সেগুলো, বেশিরভাগেরই শতভাগ কক্ষে রয়েছে বুকিং। পর্যটন মৌসুমে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে ব্যাপক পর্যটকের আগমনে কুয়াকাটায় ফিরে এসেছে প্রাণ চাঞ্চল্য।

কুয়াকাটায় সাগর পাড়ে চলছে ঘোরাঘুরি আর সেলফি তোলা

পর্যটক সন্ধ্যা রানি বলেন, আমরা সপরিবারে ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় এসেছি। চাকরিতে একসাথে তিনদিনের ছুটি পাওয়া মুশকিল। ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে এ সুযোগ পেয়েছি। তাই কুয়াকাটায় এসে আনন্দে সময় কাটালাম, বাচ্চারা অনেক আনন্দ করেছে। করোনায় অনেকদিন বন্দি ছিল, এখানে এসে অনেক খুশি । তাছাড়া অনেক কিছু কিনেছি, ভালো লাগছে।

আগত এসব পর্যটকের সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

/টিএন/

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢেউ: রুম নেই, রাত কাটছে বালিয়াড়িতে

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৪৪

মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও সাপ্তাহিক টানা তিন দিনের ছুটিতে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। হঠাৎ পর্যটকের ঢল নামায় হোটেলগুলোতে আগেই বুক হয়ে যায় সবগুলো কক্ষ। বাধ্য হয়ে বাকিদের সৈকতের বালিয়াড়ি ও বাসে রাত্রি যাপন করতে হয়েছে। এ সুযোগে একটি চক্র অসাধু ব্যবসায় নেমেছে। কেউ কেউ সৈকতের আশেপাশে বাসাবাড়িতে রুম ভাড়া দিয়ে আদায় করছে বাড়তি টাকা। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ দাবি করছে, রাতে তারা সৈকতে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে এবং অন্য সমস্যাগুলো  প্রতিরোধে কাজ করছে।

গত বৃহস্পতিবারের পর থেকে কক্সবাজারমুখী হয়ে উঠে বিপুল পরিমাণ পর্যটক। এদিন এবং এরপর শুক্রবারে কক্সবাজারের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল এমনভাবেই ভরে গেছে যে চড়া দামেও রুম পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সৈকতের বালিয়াড়িতে রাত যাপন করছেন বেশিরভাগ পর্যটক। আবার যারা নিজেরা বাস রিজার্ভ করে ভ্রমণে এসেছেন তাদের রাত কেটেছে বাসের ভেতরেই। গভীর রাতেও সৈকতে মশার ভনভনানির মধ্যেও গিজগিজ করছিল পর্যটক।

করোনা পরিস্থিতির পর কক্সবাজারের এমন চিত্র একেবারেই অন্যরকম। হোটেল কক্ষগুলোতে দুই লাখ পর্যটকের সংস্থান হয়, আর তিন দিনের ছুটিতে এসেছেন অন্তত ৬ লাখ। (শনিবারের ছবি)

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান জানান, ‘ছুটিতে কয়েক লাখ পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। হুট করে এত পর্যটকের উপস্থিতি দেখে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে দ্বিগুণ জোরদার করেছে। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও হোটেল-মোটেল জোনে বিরামহীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে। কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে সাদা পোশাকে বিশেষ পুলিশ। সৈকতে তিল ধারণের জায়গাও নেই। এত বিপুল সংখ্যক ভ্রমণকারী গত ৫ বছরের সময়েও একসঙ্গে ভিড় জমাননি।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক শাকের আহমদ জানান, ‘বাড়তি পর্যটকের বাড়তি সেবা। সৈকতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে ট্যুরিস্ট পুলিশের ১২টি ইউনিট কাজ করছে। মাস্ক পরিধানসহ শারীরিক দূরত্ব মানতে প্রচারণার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে অভিযোগ কেন্দ্র চালু, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘আগের মতো শনিবারও কোনও প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুখিম খান বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ পর্যটক কক্সবাজারে এসেছে। শনিবার একদিনেই কমপক্ষে তিন লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। এর আগের দিন শুক্রবারও ছিল একই রকম। কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেলে দুই লক্ষাধিক অতিথি থাকতে পারেন। বাদবাকিদের একটু কষ্ট করে রাত অতিবাহিত করতে হচ্ছে।’

এদিকে হোটেলে সিট না পাওয়ার সুযোগে খাবার হোটেলগুলোও বাড়িয়ে দিয়েছে খাবারের দাম। পর্যটন জোনে রাস্তা মেরামতের কাজ চলমান থাকায় যানজটসহ দিনভর নানা সংকট ও দুর্ভোগে পড়েন অসংখ্য পর্যটক। অনেক ভ্রমণকারী রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন রাত কাটানোর একটি কক্ষের জন্য। সাগর পাড়ের হোটেল-মোটেলে সিট না পেয়ে শহরের ঘিঞ্জি এলাকার নিম্নমানের আবাসিক হোটেলের রুম পর্যন্ত বাড়তি ভাড়ায় পর্যটকরা ভাড়া নিয়ে রাত পোহাতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ঢাকা থেকে আসা মাসুদুল আলম নামের এক পর্যটক জানান, ‘ছুটিতে প্রথমবার কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণে এসেছি। কিন্তু, এখনকার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ঢাকার মতো মানুষের ভিড়। শুক্রবার কক্সবাজার আসলেও এক রাত সৈকতে ঘোরাঘুরি করে কাটিয়ে শনিবার চড়া দামে হোটেলে রুম পেয়েছি। আমার মনে হয় মৌসুমে কক্সবাজার না এসে অফ-সিজনে আসা উচিত।’

ফরিদপুরের শামশুল হক দম্পতি জীবনের প্রথমবার এসেছেন কক্সব্জাারে। তিনি জানান,‘এই প্রথমবার এসে কক্সবাজারকে দেখলাম। এক সাথে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ আর দেখিনি। সৈকতে এত বেশি মানুষ দেখে মনে হচ্ছে এটা ঢেউয়ের সাগর নয় যেন মানুষের সাগর।’

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দিনে এমন উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও রাতে হোটেল মিলছে না চার লাখ পর্যটকের। টানা তিনদিনের ছুটিতে এ অবস্থাঘটেছে করোনার পর।

নারায়ণগঞ্জের রিজভী আহমদ ন্যান্সী বলেন-‘এতদিন করোনার কারণে ঘরে বন্দি জীবন কাটিয়েছি। সাগর পাড়ে এসে মনে হচ্ছে, এখন আমরা মুক্ত পাখির মতো উড়ছি আর ঘুরছি।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই গাড়িতে গাড়িতে দলবেঁধে পর্যটকরা কক্সবাজারে আসতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা কয়েকশ নৈশ কোচ শুক্রুবার ও শনিবার সকালে এসে পৌঁছে কক্সবাজারে। এ কারণেঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অসহনীয় যানজট লেগে যায়। একসঙ্গে প্রচুর সংখ্যক যানবাহন আসায় কক্সবাজার শহরের কয়েক কিলোমিটার দূরে থামিয়েই যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে বাসগুলো। এতে করে পর্যটকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে দলে দলে পর্যটকরা নামেন কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে। দুপুর হতে না হতেই সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলি পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এলাকা ভরে যায় মানুষে মানুষে। এ ছাড়াও হিমছড়ি, ইনানী পাথুরে সৈকত থেকে শফির বিল, পাটুয়ারটেক, মনখালী এবং টেকনাফ সৈকত পুরোটাই  ভ্রমণকারীর মিলন মেলায় পরিণত হয়।

এদিকে, কক্সবাজার সৈকত ছেড়ে ভ্রমণকারীরা পর্যটক জাহাজে চড়ে ছুটছেন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন্স। কক্সবাজার থেকে একটি এবং টেকনাফ থেকে আরও ৭ টি পর্যটক জাহাজসহ সবগুলো জাহাজ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং স্পিড বোটে করে একদিনে কমপক্ষে ১০ হাজার পর্যটক প্রবাল দ্বীপটি ভ্রমণে গেছেন। এছাড়াও কক্সবাজারের ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, মহেশখালী, সোনাদিয়া, মাতারবাড়ি ও কুতুবদিয়াসহ অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও ভিড় করছেন পর্যটকরা।

/টিএন/

সম্পর্কিত

কক্সবাজারে ১০ লাখ পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা

কক্সবাজারে ১০ লাখ পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা

যাত্রা শুরু সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের

যাত্রা শুরু সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের

সর্বশেষ

বুস্টার ডোজ নিয়ে ডব্লিউএইচও’র আহ্বান উপেক্ষা ফ্রান্স ও জার্মানির

বুস্টার ডোজ নিয়ে ডব্লিউএইচও’র আহ্বান উপেক্ষা ফ্রান্স ও জার্মানির

রেসিপি : আলুর পাকোড়া

রেসিপি : আলুর পাকোড়া

সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে: মেয়র আতিক

সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে: মেয়র আতিক

কোনও অত্যাচারের পরিণতি ভালো হয় না: নওশাবা

কোনও অত্যাচারের পরিণতি ভালো হয় না: নওশাবা

বিসিবি অ্যাওয়ার্ড নাইট চালু প্রসঙ্গে যা বললেন পাপন

বিসিবি অ্যাওয়ার্ড নাইট চালু প্রসঙ্গে যা বললেন পাপন

কারখানায় নামাজ আদায় ও টুপি পরতে মানা, শ্রমিকদের ‘বিক্ষোভ’

কারখানায় নামাজ আদায় ও টুপি পরতে মানা, শ্রমিকদের ‘বিক্ষোভ’

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে: ইউজিসি

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে: ইউজিসি

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

শেখ কামালের জন্মদিনে বিসিবিতে মিলাদ ও দোয়া

শেখ কামালের জন্মদিনে বিসিবিতে মিলাদ ও দোয়া

খুলনায় প্রস্তুত ৩০৭ বুথ, টিকা পাবে ৬১৪০০ জন

খুলনায় প্রস্তুত ৩০৭ বুথ, টিকা পাবে ৬১৪০০ জন

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

ভয়ংকর এলএসডি-আইস: যা ঘটেনি সেটাই দেখেন আসক্তরা

সোয়া দুই কোটি টাকা ভ্যাট দিলো গুগল

সোয়া দুই কোটি টাকা ভ্যাট দিলো গুগল

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢেউ: রুম নেই, রাত কাটছে বালিয়াড়িতে

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢেউ: রুম নেই, রাত কাটছে বালিয়াড়িতে

ট্রাভেল এজেন্টদের জন্য এমিরেটসের সরাসরি বুকিং প্ল্যাটফর্ম

ট্রাভেল এজেন্টদের জন্য এমিরেটসের সরাসরি বুকিং প্ল্যাটফর্ম

কক্সবাজারে ১০ লাখ পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা

কক্সবাজারে ১০ লাখ পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা

যাত্রা শুরু সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের

যাত্রা শুরু সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের

ক্যাম্পিংয়ে সঙ্গে রাখবেন যেগুলো

ক্যাম্পিংয়ে সঙ্গে রাখবেন যেগুলো

ঢাকার আশেপাশে ঘোরার ৪ জায়গা

ঢাকার আশেপাশে ঘোরার ৪ জায়গা

© 2021 Bangla Tribune