X
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

এতিম শিশুদের জন্য যুবলীগ কর্মীর ঈদ উপহার

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২০, ১২:৫৬

পুরো রোজার মাসে প্রায় ১২ হাজার অসহায়দের মাঝে খাবার ও ঈদ উপহার বিতরণ করার পর এবার এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটালেন যুবলীগ কর্মী ও ব্যবসায়ী কামরুল হাসান লিংকন। ঈদ উল আজহা উপলক্ষে ১১০ জন এতিম শিশুকে দিয়েছেন ঈদ উপহার। জয়ধ্বনি ফাউন্ডেশন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় ৫টি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে  পাঞ্জাবি, পায়জামা ও টুপি উপহার দিয়েছেন। এছাড়া ঈদের দিন তাদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।


লিংকন জানান, মানুষ মানুষের জন্যই। পুরো রমজান মাসে প্রায় ১২ হাজার পথশিশু, অসহায় ও দুস্থ মানুষের খাবার ও ঈদ উপহারের ব্যবস্থা করার পর আমার এই কর্মযজ্ঞ চলমান রেখেছি। রোজার ঈদের দিন ৬০০ মানুষের মাঝে খাবার ও শিশুদের জন্য নতুন কাপড় বিতরণ করেছি আমার শুভাকাঙ্খীদের সহযোগিতায়। এবার এতিম শিশুদের জন্য সামান্য কিছু উদ্যোগ নিলাম। এই কাজে অনেকেই আমাকে সহায়তা করেছে। মানুষের প্রতি এই মানবিক উদ্যোগ করোনাভাইরাসের কারণে চলমান সংকটকালীন সময় থেকে উত্তরণ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন বলে জানান কামরুল হাসান লিংকন।


উল্লেখ্য, কামরুল হাসান লিংকন পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। সেই সঙ্গে তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র জেনারেল বডি সদস্য।

/এসও/এনএ/

সম্পর্কিত

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

অক্সিজেন লাগবে, অক্সিজেন?

অক্সিজেন লাগবে, অক্সিজেন?

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২০:৫৬

ঈদের সারা দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস সংগ্রহ করেছেন সাঈদ রিমন। পেশায় নিজে একজন বস্ত্র প্রকৌশলী। কিন্তু তিনি কেন এভাবে মাংস সংগ্রহ করেছেন? জবাবে রিমন জানালেন, এই মাংস রান্না করে তিনি করবেন মেহমানদারি। তার মেহমানের তালিকায় আছে ছিন্নমূল, দরিদ্র ও অসহায় মানুষগুলো। গতবছরও একইভাবে মাংস সংগ্রহ করে তা  রান্না করে খাইয়েছিলেন প্রায় হাজারখানেক অসহায় মানুষকে।

ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই নিজের উদ্যোগ ‘গোশত টোকাই’-এর পক্ষ থেকে ফেসবুকে পোস্ট করে জানালেন তিনি মাংস সংগ্রহ করবেন। কেউ যদি দিতে চায় তবে ছুটে যাবেন তার কাছে। এজন্য একটি সিএনজিকে ভ্রাম্যমাণ বুথ হিসেবে তৈরিও রেখেছিলেন। দিনভর ঘুরে সংগ্রহ করেছেন ৭০ কেজি মাংস।

হাস্যোজ্জ্বল এ তরুণ বরাবরই নিজেকে ব্যস্ত রাখেন সামাজিক কাজে। জনসচেতনতা লক্ষ্যে গত পাঁচ বছর ধরে নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

ওদের খাওয়ার মাঝেই শান্তি খুঁজে পান রিমন

সাঈদ রিমন বলেন, মাংস টোকাই'র এবারের যাত্রাটা একটু কঠিনই ছিল। কোরবানির গোশত নেওয়ার পর তা সংরক্ষণ করে রান্না করাটা বেশ ঝামেলার। প্রায় ছয় শ’ জনের রান্নাবান্নার কাজ করেছি আমরা মাত্র দুজন- আমি ও বাবুর্চি সজীব ভাই। যারা মাংস দান করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

রিমনের এ উদ্যোগের নাম গোশত টোকাই

শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় রান্না। গরুর মাংস আর পোলাও রান্না শেষে করা হলো প্যাকেট। এরপর টংগী জংশন, এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে অসহায়দের মাঝে করা হয় বিতরণ।

 

/সিএ/এফএ/

সম্পর্কিত

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

অক্সিজেন লাগবে, অক্সিজেন?

অক্সিজেন লাগবে, অক্সিজেন?

পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে গাড়িচালক-হেলপাররা

পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে গাড়িচালক-হেলপাররা

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ১৫:১১

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস  ইঞ্জিনিয়ার্স (আই ই ই ই)। প্রকৌশলী ক্ষেত্রের সবচেয়ে বড় সংগঠন এটি। মূলত গবেষণা, নেটওয়ার্কিং ও প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করে বিশ্বব্যাপী। বিশ্বের ১৬০টি দেশের প্রায় ৪ লাখ সদস্য রয়েছে আইআইআইই'র। আর এমন বড় সংগঠন থেকে এবার ‘উইমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (ডাব্লিউআইই)’-এ বর্ষসেরা শিক্ষার্থী হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের সৈয়দা সাদিয়া হোসেইন। প্রকৌশল পেশায় লিঙ্গসমতা আনায় ‘উইমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর পথচলা শুরু। এ বিভাগে আলাদা করে প্রায় বিশ হাজার সদস্য রয়েছেন।

নিজেদের কাজ ও প্রতিভার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে যারা অংশ নেন তারাই মূলত এ পুরস্কার পান। বাংলাদেশে উইমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ২০টি শাখা রয়েছে। সৈয়দ সাদিয়া বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস শাখার চেয়ারপারসন হিসেবে কাজ করেছেন।

আই ই ই ই বিউপি শাখার চেয়ারপারসন থাকাকালীন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মোট ১৬টি প্রতিযোগিতা ও কর্মশালার আয়োজন করেছেন সাদিয়া। শিক্ষার্থীদের প্রকৌশলী হতে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনাও করেছেন। করোনা আক্রান্ত ও ভুক্তভোগীদের জন্য তহবিল যোগাড় করার মতো সামাজিক কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

বিউপি থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন সাদিয়া। কাজ করছেন একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে।

/এফএএন/এফএ/

সম্পর্কিত

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

অক্সিজেন লাগবে, অক্সিজেন?

অক্সিজেন লাগবে, অক্সিজেন?

পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে গাড়িচালক-হেলপাররা

পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে গাড়িচালক-হেলপাররা

যুক্তরাষ্ট্রে শতভাগ স্কলারশিপে পিএইচডির সুযোগ

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ২০:২২

অদম্য ইচ্ছাশক্তির সঙ্গে পরিশ্রম আর একমুঠো একাগ্রতা; স্বপ্নজয়ের ফর্মুলা এটাই। আর এর সুবাদেই প্রশংসায় ভাসছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ১৪তম ব্যাচের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী মো. গোলাম আজম।

দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার রণগাঁও ইউনিয়নের পুরাতন পাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিক্ষার্থী মাস্টার্স শেষ না করতেই যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পূর্ণ স্কলারশিপে পেয়েছেন পিএইচডি করার অফার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- লুইসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমা ও টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি।

তিনটি থেকে আজম বেছে নিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমা। চলতি বছরের আগস্টেই পাড়ি জমাবেন পিএইচডি করতে। গবেষণার বিষয় ডেভেলপমেন্ট জিনেটিক্স। আজমের মুখেই শোনা যাক সফলতার বৃত্তান্ত-

যখন আমার জন্ম তখন গ্রামের অর্ধেকেরও বেশি পরিবার ছিল দিনমজুর। তিনবেলা খেতে পারাই ছিল বিশাল ব্যাপার। বাবা কৃষক, মা ঘর সামলান। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে আমি তৃতীয়।

আমার পড়াশোনায় হাতেখড়ি রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুলে। স্কুল বলতে বড় হলঘরের মতো একটা রুম। কঞ্চির বেড়া দেওয়া সেই স্কুলের ছাদ টিনের। ঝড়ে প্রায়ই উড়ে যেত সেই চাল। স্যারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমরাও সেগুলো মেরামত করতাম। একটি রুমেই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস হতো। আমাদের বাড়িঘরও ছিল তেমন। ছিল না বিদ্যুৎ। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কুপি আর হারিকেন জ্বালিয়ে পড়েছি।

পরে ভর্তি হলাম গ্রামের অপর প্রান্তের মহেশপুর আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এলাকায় আদিবাসীদের সংখ্যা বেশি বলেই এমন নাম। সাঁওতালরা ছিল বেশি। শিক্ষকদের অর্ধেকই ছিলেন আদিবাসী। তাদের কথা এখনও মনে পড়ে। স্কুলে যাওয়াটা ছিল মজার একটা কাজ। পরীক্ষায় ফার্স্ট হতাম বলে স্যারদের অন্যরকম অ্যাটেনশন পেতাম। কিন্তু বেশি মজা পেতাম সহপাঠীদের সঙ্গে ক্ষেতের আইল ধরে হেঁটে স্কুলে যেতে।

ইন্টারে ভর্তি হলাম উপজেলার সেতাবগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে। বুয়েট, কুয়েট বা চুয়েটে পড়বো এমন স্বপ্ন দেখব কী, ঠিকমতো নামই শুনিনি। খেয়াল ছিল মেডিক্যালের দিকে। দিনাজপুর শহরে গেলাম কোচিং করতে। কিন্তু চান্স পেলাম না।

এরপর সুযোগ পাই হাজী দানেশের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে। তখনও বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিস্তারিত জানতাম না। সেকেন্ড ইয়ারের দিকে এক সিনিয়রের কাছে ধারণা পেলাম। নিজেই তথ্য সংগ্রহ করলাম। আগ্রহ জন্মালো গবেষণায়। কারণ ছিল দুটি। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ছিল। আর বিজ্ঞানী ও গবেষক পরিচয়টাকে অন্যসব কিছুর চেয়ে বড় মনে হতো।

নিজ বিভাগের সামনে আজম

পথ দেখানোর কাজটি করলেন আমাদের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদেরই রাশিদুল ইসলাম স্যার। আগ্রহ দেখে স্যার আমাকে ল্যাবে কাজ করার সুযোগ দিলেন। স্যারের সঙ্গে কাজ করতে করতেই মনে হচ্ছিল জীবন মোড় নিচ্ছে নতুন দিকে।

এমনও হয়েছে টানা রাত ১২টা পর্যন্ত ল্যাবে কাজ করেছি। হলে গিয়ে ঘণ্টাখানেক পড়াশোনা করে তারপর ঘুম। পরদিন ভোর সাতটায় আবার কাজ। রাশেদ স্যারের তখন তিন থেকে চারজন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিল। যেচে তাদের কাজগুলোও নিজের ঘাড়ে নিতাম। পরদিন সকালে হয়তো ক্লাস টেস্ট, সবাই পড়তে ব্যস্ত, আর আমি মাছের স্যাম্পল কালেকশন করতে গিয়েছি ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরের বাজারে। যদিও ওই সেমিস্টারে সিজিপিএ-৪ পেয়েছিলাম।

দুই সম্বল
২০১৮ সালের জুনে গ্রাজুয়েশন শেষ করি। হাতে দুটো সম্বল- সিজিপিএ ৩ দশমিক ৯১ ও চারটি পাবলিকেশনস। ওই বছরের জুলাই থেকে পরের বছরের জানুয়ারি জিআরই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই ঢাকায় এসে। পেলাম ২৯৯। হতাশ হলাম খানিকটা।

পরের বছর জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএস ইন ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স প্রোগ্রামে ভর্তি হই। প্রথম সেমিস্টার শেষ হলো জুনে। জুলাই মাস ফ্রি ছিলাম। ভাবলাম বসে না থেকে আইইএলটিএস করি। একমাসের প্রস্তুতিতে ৭ দশমিক ০ পেলাম। দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হলো। সিজিপিএ পেলাম ৪। ওই সময় বাকৃবিতে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার ছিল। এমএস-এর থিসিসের কাজটা প্রেজেন্ট করার জন্য ওরাল প্রেজেন্টেশনের রেজিস্ট্রেশন করে রেখেছিলাম। ফাইনাল শেষে সবাই যখন ছুটি কাটাচ্ছে, তখন রাত জেগে প্রেজেন্টেশনের স্লাইড বানাচ্ছিলাম। জীবনের প্রথম সেমিনারে দ্বিতীয় সেরা ওরাল প্রেজেন্টেশন পুরস্কার পেয়েছিলাম।

ইচ্ছা ছিল ২০২০ সালের জুনে ডিফেন্স দিয়ে ইউএএ তে পিএইচডির আবেদনের প্রক্রিয়াটা শুরু করার। কিন্তু করোনা সেই প্ল্যান ভেস্তে দিল। ঘরবন্দি সময়টায় একমাস শুয়ে বসেই গেল।

পরের দুই মাস আবার জিআরই পড়া শুরু করলাম। এর মধ্যে শুনলাম মহামারির কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় জিআরই স্কোরের চাহিদা তুলে দিচ্ছে। ২০২০-এর জুলাই থেকে প্রফেসরদের ইমেইল করা শুরু করলাম। রিপ্লাইও পেতে থাকলাম।

দুই মাসে ৮৫০ ইমেইল
জুলাই-আগস্ট দুই মাসে প্রায় ৮৫০ জন প্রফেসরকে ই-মেইল করেছি। গ্রামে নেটওয়ার্ক বেশ দুর্বল। কোনও প্রফেসর ভিডিও কলে কথা বলতে চাইলে এক কিলোমিটার দূরে অন্য কারও বাড়িতে যেতে হতো ওয়াইফাই কানেকশন পেতে। এমনকি বিদ্যুৎ না থাকায় একদিন লুইসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসরের সঙ্গে ১০ কিলোমিটার দূরের শহরে গিয়ে কথা বলে আসতে হয়েছে।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখে প্রথমেই ওই ইউনিভার্সিটি থেকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ-এর অফার পাই। এরপর অফার আসে ইউনিভার্সিটি অফ ওকলাহোমা ও টেক্সাস টেক থেকে। তিনটিতেই শতভাগ স্কলারশিপে পিএইচডি প্রোগ্রামের অফার। এখন গবেষণা করে দেশের জন্য কী করতে পারি, সেটার জন্যই মুখিয়ে আছি।’

/এফএ/

অক্সিজেন লাগবে, অক্সিজেন?

আপডেট : ১৫ মে ২০২১, ০২:০৮

করোনা পরিস্থিতিতে যখন কোনও নিয়ম না মেনে মানুষ ছুটছে বাড়ির দিকে, তখন একটি ঘোষণা ঘুড়ে বেড়াচ্ছে ফেসবুকে- ‘বিনামূল্যে জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা বন্ধ থাকবে না। যেহেতু অসুস্থতার কোনও দিন নেই, তাই আগের মতো সারাদেশেই নিরবচ্ছিন্ন সেবা অব্যাহত থাকবে ইন শা আল্লাহ! যে যেখানে থাকুন সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন। অন্ধকার কেটে যাক সে প্রত্যাশায়।’ ঘোষণাটি বিনামূল্যে জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা দিচ্ছেন যারা তাদের।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী গতবছর থেকে বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহের কাজ করে আসছেন সারাদেশে। এখন পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি মানুষকে অক্সিজেন সেবা দিয়েছেন। ১১৪ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে এ কাজ এখনও ঠিকঠাক চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

ঈদের সময়ও জরুরি এই সেবা চালু থাকবে বলে জানান সাদ। কীভাবে কাজটি চালানো হয় জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোভিড পরিস্থিতি শুরুর পরে আমরা জানতে পারি, এই রোগে সবাইকে হাসপাতালে নিতে হবে এমন নয়। অক্সিজেনের সাপোর্ট বাসায় দেওয়া গেলে রোগীর জন্য ভালো। একদিকে বাসায় থাকতে পারবে, আরেকদিকে হাসপাতালে গিয়ে আরও সংক্রমণের শঙ্কাও থাকছে না। ফলে কারও অক্সিজেন লাগলে তাকে ১৪ দিনের জন্য একটা সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে দিতে পারি কিনা, সেই আগ্রহ থেকেই এ কাজ শুরু করি।

এখন আর ১৪ দিনের জন্য একজনকে সিলিন্ডার দিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে সাদ বলেন, গত এপ্রিলে আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় কেটেছে। তখন আমরা প্রয়োজনের দিক বিবেচনা করে সাতদিনের জন্য অক্সিজেনের ব্যবস্থা করার চিন্তা করি। শুধু সিলিন্ডার নয়, সঙ্গে আনুষাঙ্গিক যা লাগে সেসবও দেওয়া হয় বিনামূল্যে।

এতো বড় কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে যে অর্থ দরকার সেটার যোগান আসছে কোথা থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুরু করেছিলাম নিজেদের ও পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে। পরে যখন দেখলাম সংক্রমণের সময় দীর্ঘ হচ্ছে, তখন অনেকের সহযোগিতা নিয়েছি। কিন্তু সরাসরি টাকা লেনদেনের সুযোগ নেই। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে তাকে সিলিন্ডার দিতে হবে বা সিলিন্ডার রিফিল করে দিতে হবে। কিংবা ন্যাজাল ক্যানুলা, অক্সিজেন মাস্ক বা এমনি মাস্ক কিনে আমাদের সহযোগিতা করতে পারেন। শুরুতে বলেছিলাম যতোদিন সংক্রমণ থাকবে সহযোগিতা চালিয়ে যাবো। ফলে এই ঈদের সময়ও যখন সব বন্ধ থাকে তখনও যেন কেউ অক্সিজেনের অভাব বোধ না করেন তাই আমাদের জয় বাংলা অক্সিজেন কার্যক্রম অব্যাহত থাকছে।’

এই উদ্যোগে যারা আছেন তারা মূলত ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে এসেছেন উদ্যোগটি সফল করে তুলেতে।

সাদ বলেন, ‘আমাদের সীমিত সামর্থে যতোটুকু কুলোয় করছি। আপনারা যারা অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত পণ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে চান তারা বললেই আমাদের প্রতিনিধিরা গিয়ে সেগুলো সংগহ করে নেবে।’

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে গাড়িচালক-হেলপাররা

পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে গাড়িচালক-হেলপাররা

পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে গাড়িচালক-হেলপাররা

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ১৩:৪৪

লকডাউনের কারণে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে চাঁদের গাড়িচালক ও হেলপাররা। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলেনি কোনও ধরনের সাহায্য।

জেলা পরিবহন মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়,  পুরো জেলায় চাঁদের গাড়ি ও পিকআপ রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০। আর চালক ও হেলপার সব মিলে জড়িত আছে প্রায় হাজার খানেক পরিবার। 

চাঁদের গাড়ি

চাঁদের গাড়ি চালক হানিফ, খোরশেদ আলম, রিমন ত্রিপুরা, সুমন চাকমা ও মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল দেবনাথ জবলেন, লকডাউনের কারণে পর্যটক না আসায় তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে।  পর্যটন খোলা না হলে এবং লকডাউন চলমান  থাকলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে।

গতবছর  পর্যটন বন্ধ হওয়ার পর সরকারিভাবে প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে ত্রাণ সামগ্রী পেলেও এবছর কোনও সাহায্য  এখনও পাইনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান এসব গাড়ির মালিক,  চালক ও হেলপাররা।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। 

 

 

/এসটি/

সম্পর্কিত

নারী নির্যাতন ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কাজ করতে আগ্রহী রিমু

নারী নির্যাতন ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কাজ করতে আগ্রহী রিমু

সর্বশেষ

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের ৪১৩ গ্রাম প্লাবিত

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের ৪১৩ গ্রাম প্লাবিত

ট্রেনে তৃতীয় ধাপে ২০০ মে. টন অক্সিজেন দেশে পৌঁছেছে

ট্রেনে তৃতীয় ধাপে ২০০ মে. টন অক্সিজেন দেশে পৌঁছেছে

পেটের চর্বি কমাতে যা খাবেন

পেটের চর্বি কমাতে যা খাবেন

বন্ধু দিবসে নকশীকাঁথার নতুন গান

বন্ধু দিবসে নকশীকাঁথার নতুন গান

বনবিড়াল পিটিয়ে হত্যাকারী সেই ব্যক্তি আটক

বনবিড়াল পিটিয়ে হত্যাকারী সেই ব্যক্তি আটক

রাশিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন নৌবাহিনী প্রধান

রাশিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন নৌবাহিনী প্রধান

ডোবায় মিললো শিশুর হাত-পা বাঁধা লাশ 

ডোবায় মিললো শিশুর হাত-পা বাঁধা লাশ 

‘লকডাউন কনটিনিউ’র সুপারিশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের

‘লকডাউন কনটিনিউ’র সুপারিশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের

কারবারিরা লেনদেন করছে ভার্চুয়াল মুদ্রায়

মাদক ভয়ংকর-৫কারবারিরা লেনদেন করছে ভার্চুয়াল মুদ্রায়

একাধিক মামলা হচ্ছে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে

একাধিক মামলা হচ্ছে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে

ভারতের আরও দুই ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত

ভারতের আরও দুই ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত

করোনা মোকাবিলায় লকডাউন কোনও সমাধান নয়: জিএম কাদের

করোনা মোকাবিলায় লকডাউন কোনও সমাধান নয়: জিএম কাদের

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

যুক্তরাষ্ট্রে শতভাগ স্কলারশিপে পিএইচডির সুযোগআজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

অক্সিজেন লাগবে, অক্সিজেন?

অক্সিজেন লাগবে, অক্সিজেন?

পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে গাড়িচালক-হেলপাররা

পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে গাড়িচালক-হেলপাররা

একবছরে করোনায় মৃত্যু ১২১, একমাসে ৩৩

একবছরে করোনায় মৃত্যু ১২১, একমাসে ৩৩

বর্জ্য থেকে তেল-গ্যাস, সঙ্গে জৈবসারও

বর্জ্য থেকে তেল-গ্যাস, সঙ্গে জৈবসারও

তথ্যচিত্র নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি তরুণী

তথ্যচিত্র নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি তরুণী

একজন তরুণ অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাতার গল্প

একজন তরুণ অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাতার গল্প

হাতে তৈরি চকলেট ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে ‘জয়ী’

হাতে তৈরি চকলেট ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে ‘জয়ী’

© 2021 Bangla Tribune