X
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৮:০১

Muhammed Zafar Iqbal১.

বছরের এই সময়টা মনে হয় দীর্ঘশ্বাসের সময়, এই সময়টিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলো হয়। খুব সহজেই সব বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটা ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারত কিন্তু তারপরও শুধু কিছু বাড়তি টাকা উপার্জন করার জন্য প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। বছরের এই সময়টাতে দেশের ছেলে-মেয়েরা একেবারে দিশেহারা হয়ে দেশের এক মাথা থেকে অন্য মাথায় পাগলের মতো ছুটে বেড়ায়। পরীক্ষার সময় কিছু জাল-পরীক্ষার্থী ধরা পড়ে, কিছু হাই-টেক নকলবাজ ধরা পড়ে। যে কয়জন ধরা পড়ে, তার তুলনায় নিশ্চিতভাবেই অনেকে ধরা পড়ে না—সেটি নিয়ে খুব ব্যস্ত হওয়ারও কিছু নেই। মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হওয়ার পরও সরকার বা কর্মকর্তারা চোখ বুজে থেকেছেন। বড় অন্যায় দেখেও যদি চোখ বুজে থাকি, তাহলে কিছু ‘সৃজনশীল’ নকলবাজ যদি পুরো ভর্তি প্রক্রিয়াকে কাঁচকলা দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যায়, তাহলে সেটা নিয়ে হই-চই করার কী আছে? আমরা তো রাষ্ট্রীয়ভাবেই ঠিক করে নিয়েছি লেখাপড়া একটা গুরুত্বহীন বিষয়।

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শুরু হয়। সেটি আমার জন্য সব সময়েই একটা মন খারাপ করা বিষয়। সব বিশ্ববিদ্যালয়েই দুই-একটি বিষয় হচ্ছে, ‘কাঙ্ক্ষিত’ বিষয়, সবাই এই বিষয়গুলো পড়তে চায়। যারা সেই বিষয়গুলো পড়তে পারে না তাদের দেখে মনে হয়, তাদের জীবন বুঝি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেল! কাজেই ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অল্প কিছু ছাত্রছাত্রী ছাড়া অন্য সবাই আবিষ্কার করে, তারা যে বিষয় পড়ার স্বপ্ন দেখেছিল, সেই বিষয়টি পায়নি, ফলাফলের ক্রমানুসারে তার হাতে কোনও একটি বিষয় ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়টি পড়ায় তাদের আগ্রহ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের লেখাপড়া হওয়া উচিত আনন্দ এবং উত্সাহময়, এখানে জ্ঞানের চর্চা হবে এবং জ্ঞানের সৃষ্টি হবে। কিন্তু আমরা দেখি বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী নিরানন্দ একটা পরিবেশে কোনওভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছে! যে ছেলে-মেয়েগুলো এই পরিবেশে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে এবং একটা ডিগ্রি নিয়ে বের হতে পারে, আমি সবসময় তাদের স্যাল্যুট জানাই। আমি আজকাল সবসময় জোর গলায় সবাইকে বলি, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুমের ভেতরে একজন ছাত্র বা ছাত্রী যেটুকু শেখে, তার চাইতে অনেক বেশি শেখে ক্লাসরুমের বাইরে। এই দেশে আমি প্রায় বিশ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার সঙ্গে যুক্ত আছি, আমার অভিজ্ঞতা খুব কম হয়নি। আমি মোটামুটিভাবে যথেষ্ট গুরুত্ব নিয়ে বলতে পারি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আমরা এখনও ঠিক করে মূল্যায়ন করতে পারি না! একজন ছেলে বা মেয়ের অনেক ধরনের বুদ্ধিমত্তা থাকে, আমরা তার মাঝে শুধু কাগজে-কলমে লেখাপড়ার বুদ্ধিমত্তাটা যাচাই করি, তার যে আরও নানারকম বুদ্ধিমত্তা আছে, সেগুলোর খোঁজ নিই না। আমি মোটামুটি অবাক হয়ে আবিষ্কার করেছি যে, আমার অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর ভেতর যারা পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল করেছে, সত্যিকারের জীবনে তারাই আবার সত্যিকারের সাফল্য দেখিয়েছে, সেটি পুরোপুরি সত্যি নয়। ক্লাসরুমে একেবারে গুরুত্বহীন ছাত্রটি, যাকে কখনও ভালো করে লক্ষ করিনি, সে অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা দলের নেতৃত্ব দিয়ে সবাইকে চমত্কৃত করে দিচ্ছে—এই ঘটনাটি এতবার ঘটেছে যে, আমি পরীক্ষার ফলাফল বিষয়টিতে উত্সাহ হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছি। আমি নিজের অজান্তেই এখন আমার ছাত্রছাত্রীদের ভেতর লেখাপড়ার বুদ্ধিমত্তার বাইরে অন্য বুদ্ধিমত্তাগুলো খুঁজে বেড়াই।

 

২.

আমাদের দেশের সবচেয়ে উত্সাহী এবং আগ্রহী ছেলেমেয়েগুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি হয়। দেশে এখন একশ থেকে বেশি পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দুটোরই পড়াশোনার পদ্ধতি মোটামুটি একরকম। সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু-কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে আমরা যখন পড়াশোনা করেছি, তখন তিন বছর পর একটা ফাইনাল পরীক্ষা হতো বিষয়টি চিন্তা করেই এখন আতঙ্কে আমার গায়ের লোম দাঁড়া হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার তিন বছর পর যদি পরীক্ষা দিতে হয়, তাহলে প্রথম দুই বছর গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ালে কারও কিছু বলার থাকে না। তৃতীয় বছরে এসে প্রথমবার কী কী বিষয়ে লেখাপড়া হয়, সেগুলো একটু খোঁজখবর নিতে শুরু করেছি এবং পরীক্ষার ঠিক তিন মাস আগে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে পড়ালেখা শুরু করেছি। সেই পড়ালেখা ছিল এক ধরনের ভয়ঙ্কর অমানবিক লেখাপড়া—খাওয়া ঘুম এবং প্রাকৃতিক কাজ ছাড়া এক মুহূর্তের জন্য পড়ার টেবিল থেকে না উঠে যে টানা পড়াশোনা করা সম্ভব, সেটি এখন আমার নিজেরও বিশ্বাস হয় না। আমার মনে আছে, সময়মতো খাওয়া এবং ঘুম হওয়ার কারণে অনার্স পরীক্ষার্থী আমাদের সবার স্বাস্থ্য ভালো হয়ে গিয়েছিল এবং দরজা-জানালা বন্ধ করে চব্বিশ ঘণ্টা অন্ধকার ঘরে বসে থাকার কারণে ইটের নিচে চাপা পড়ে থাকা ঘাসের মতো আমাদের গায়ের রং ফর্সা হয়ে গিয়েছিল!

আমরা যখন পড়াশোনা করেছি তখন স্নাতক ডিগ্রি দেওয়া হতো তিন বছর পর সেটাকে বলা হতো অনার্স ডিগ্রি। তারপর এক বছর লেখাপড়া করে একজন মাস্টার্স ডিগ্রি পেয়ে যেত। মোটামুটি চার বছরেই লেখাপড়া শেষ—সেশন জ্যামের কারণে সেটা হয়তো মাঝে মাঝে আরও বেড়ে যেত। মিলিটারি শাসনের সময় মনে হয় লেখাপড়ার গুরুত্ব ছিল সবচেয়ে কম তাই সেশন জ্যাম ছিল সবচেয়ে বেশি। তিন-চার বছরের লেখাপড়া করতে সাত-আট বছর লেগে যেত।

আমি দেশে আসার পর তিন বছরের স্নাতক ডিগ্রিটা পাল্টে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি করে ফেলার পরিবর্তনটুকু নিজের চোখে দেখেছি। সত্যি কথা বলতে কি, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ব্যাচটি তিন বছরে তাদের স্নাতক ডিগ্রি শেষ করেছিল। এর পরের বছর থেকে সবাই চার বছরে তাদের স্নাতক ডিগ্রি নিতে শুরু করেছে। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশের সঙ্গে মিল রেখে এই পরিবর্তনটুকু করা হয়েছিল এবং আমি নিশ্চিতভাবে জানি, তখন আমরা সবাই মিলে ঠিক করেছিলাম এই চার বছরের স্নাতক বা ব্যাচেলর ডিগ্রি হবে চূড়ান্ত বা টার্মিনাল ডিগ্রি। অর্থাৎ চার বছর পড়াশোনা করে ডিগ্রি নিয়ে সবাই কাজকর্মে ঢুকে যাবে। আগেও চার বছর লেখাপড়া করে কর্মজীবন শুরু করে দিত। নতুন নিয়মেও সবাই চার বছর লেখাপড়া করে কর্মজীবনে ঢুকে যাবে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মাস্টার্স করার কোনও প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর অন্য সব দেশের সঙ্গে মিল রেখে মাস্টার্স করবে শুধু যারা শিক্ষকতা করবে বা গবেষণা করবে সেই ধরনের ছাত্রছাত্রী। কিন্তু এক ধরনের বিস্ময় নিয়ে আবিষ্কার করলাম, কেমন করে জানি চার বছরের স্নাতক বা ব্যাচেলরস ডিগ্রিটাকে চূড়ান্ত (টার্মিনাল) ডিগ্রি হিসেবে বিবেচনা না করে মাস্টার্স ডিগ্রিকেই টার্মিনাল ডিগ্রি হিসেবে ধরে নেওয়া হলো। চাকরি-বাকরির বিজ্ঞাপনে আবার সবাই মাস্টার্স ডিগ্রি চাইতে শুরু করল এবং ছাত্রছাত্রীরা তাদের ব্যাচেলর ডিগ্রির পর আবার এক বছর, দেড় বছর কিংবা দুই বছরের একটা মাস্টার্স ডিগ্রির জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়ে যেতে বাধ্য হলো। একজন মানুষের জন্যে এক বছর দুই বছর অনেক দীর্ঘ সময়, আমরা অনেক ছাত্রছাত্রীর জীবন থেকে অবিবেচকের মতো এই সময়টুকু কেড়ে নিতে শুরু করলাম। আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত ছেলে-মেয়েরা যত তাড়াতাড়ি লেখাপড়া শেষ করে কর্মজীবনে ঢুকে যাবে, তাদের জন্যে সেটা ততই মঙ্গল কিন্তু আমরা অবিবেচকের মতো সেটা হতে দিচ্ছি না। পাশ্চাত্যের অনেক দেশের অনুকরণ করে আমরা তিন বছরের স্নাতক ডিগ্রিকে চার বছরের স্নাতক করেছি। এর সঙ্গে সঙ্গে সেই সব দেশের মতো চার বছরের ডিগ্রিটাকেও চূড়ান্ত ডিগ্রি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত ছিল। আমরা সেটা করিনি। সে কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপরেও অনেক বাড়তি চাপ পড়েছে যেটা আমরা প্রতি মুহূর্তে টের পাই।

 

৩.

ঠিক কী কারণ জানা নেই, আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন পাস করে চাকরি পাব কি না, সেই বিষয়টা নিয়ে একেবারেই কোনও মাথাব্যথা ছিল না। আমাদের যার যে বিষয় পড়ার শখ, সেই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছি। দেশ তখন মাত্র স্বাধীন হয়েছে অর্থনীতি বলে কিছু নেই। সেই সময়ে চাকরি-বাকরি নিয়ে আমাদের অনেক ব্যস্ত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু আমরা মোটেও ব্যস্ত হইনি। মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার আগে আমাদের স্যারেরা খুব পরিষ্কার করে বলে দিয়েছিলেন, ‘দেখো বাবারা এই সাবজেক্টে পড়ে কিন্তু তোমরা কোনও চাকরি-বাকরি পাবে না’—সেটা শুনেও আমাদের উত্সাহে কোনও ভাটা পড়েনি, কারণটা কী, এখনও আমি বুঝতে পারি না।

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় একজন ছাত্রছাত্রী কোন্ বিষয়ে পড়ছে, সেটা নিয়ে যত উদ্বিগ্ন থাকেন, তার চাইতে শতগুণ বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন তাদের অভিভাবকেরা। আমি অনেকবার দেখেছি ছেলে-মেয়েরা তাদের পছন্দের বিষয় না পড়ে অনেক সময়েই বাবা-মায়ের চাপে পড়ে অন্য বিষয়ে ভর্তি হয়ে যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো সময়টুকু লম্বা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাটিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাটানোর কথা নয়, আগ্রহ এবং উত্সাহ নিয়ে সময় কাটানোর কথা।

এক সময় এই দেশের অল্প কিছু মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও ছিল একেবারে হাতেগোনা, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা যেরকম বেড়েছে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও বেড়েছে। আমি যতদূর জানি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা থেকে বেশি। এই বিশাল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে ঠিক করে লেখাপড়া করানো এখন খুবই জরুরি।

পৃথিবীর নানা দেশে নানা ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় আছে এবং তাদের অনেকগুলোই খুবই চমত্কারভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের নানা ধরনের পদ্ধতি চেষ্টা করে একটা সফল পদ্ধতি বের করার প্রয়োজন নেই, যে পদ্ধতিগুলো ইতোমধ্যে ভালোভাবে কাজ করেছে সেগুলোই আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু করে দেওয়া যায়। আমি এরকম দুটো বিষয়ের কথা উল্লেখ করতে পারি।

প্রথমটি হচ্ছে দুটি ভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি নেওয়া। আমাদের স্বীকার করে নিতেই হবে কোনও-কোনও বিষয়ের ডিগ্রি থাকলে চাকরি-বাকরি পাওয়া সহজ হয়। ছাত্রছাত্রীদের সেই বিষয়ে পড়ার অনেক আগ্রহ থাকে, যারা এই বিভাগে ভর্তি হতে পারেনি তাদেরও এই বিষয়ে ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যায়। কাছাকাছি দুটি বিষয়ের জন্যে বিষয়টি খুবই সহজ, তার জন্যে ছাত্রছাত্রীদের শুধু বাড়তি কিছু কোর্স নিতে হয়। নিজেদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়েই ছেলে-মেয়েদের পক্ষে দ্বিতীয় একটি বিভাগে ডিগ্রি নেওয়া সম্ভব। আমি যতদূর জানি আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্ততপক্ষে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদ্ধতিটি চালু আছে।

দ্বিতীয় বিষয়টি এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে একটু নতুন হলেও আমার ধারণা, এটি খুবই প্রয়োজন। একজন ছাত্র কোন বিষয়ে পড়াশোনা করবে সেই সিদ্ধান্তটি ভর্তির সময়ে না নিয়ে এক কিংবা দুই বছর পরে নেওয়া। সব ছাত্রছাত্রীকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক কিছু বিষয়ে কোর্স নিতে হয়। ছাত্রছাত্রীরা যদি প্রথম এক বা দুই বছর সেই কোর্সগুলো নিতে থাকে তাহলে সে বুঝতে পারে কোন বিষয়টাতে লেখাপড়া করা তার জন্যে বাস্তবসম্মত। ভর্তি পরীক্ষায় আমরা আসলে একজন ছাত্র বা ছাত্রীর সঠিক মূল্যায়ন করতে পারি না। এক বা দুই বছর সে যদি অনেকগুলো মৌলিক কোর্স নিয়ে নেয় তখন তার ফলাফল থেকে সেই ছাত্রছাত্রীর প্রকৃত সামর্থ্য কিংবা দুর্বলতাগুলো ধরে ফেলা যায়। তখন ছাত্র বা ছাত্রীটিকে কোনও একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ করে দিলে সেটি ছাত্রছাত্রীদের জন্যে ভালো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যেও ভালো।

আমি যে দুটি বিষয়ের কথা বলেছি এর দুটিই কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশেই চালু আছে এবং ছেলে-মেয়েরা এই পদ্ধতিতে বেশ ভালো ভাবেই পড়াশোনা করে আসছে। যেহেতু আমাদের লেখাপড়ার পদ্ধতি মাঝে মাঝেই পরিবর্তন করতে হয় তাই এ ধরনের বড় একটা পরিবর্তন করার সাহস করা খুব কি কঠিন?

৪.

পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মাঝে মাঝে র্যাংকিং করা হয়, অর্থাৎ কোনটা সবচেয়ে ভালো বা এক নম্বর, কোনটা দুই নম্বর এভাবে তালিকা করা হয়। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কখনও সেই তালিকায় আসে না, কিংবা এলেও সেটা এত নিচে থাকে যে আমরা সেটা দেখে না দেখার ভান করি! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেকগুলোই তালিকার একেবারে ওপরের দিকে আছে এবং আমরা ধরেই নিতে পারি যে তাদের লেখাপড়ার পদ্ধতি নিশ্চয়ই অসাধারণ।

মজার ব্যাপার হচ্ছে আমি যুক্তরাষ্ট্রের খুব বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ একজন ইঞ্জিনিয়ারের একটা লেখা পড়ে খুবই অবাক হয়েছিলাম। তিনি লিখেছেন যে, ‘আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পদ্ধতি হচ্ছে জঘন্য এবং কুৎসিত! ছেলেমেয়েরা কিছুই শিখে না এবং জানে না। তারপরও আমরা এই সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হওয়া ছেলে-মেয়েদের খুব আগ্রহ নিয়ে চাকরি দেই একটি মাত্র কারণে। সেটি হচ্ছে এরকম জঘন্য এবং কুৎসিত একটা পদ্ধতিতে তারা টিকে গেছে এবং বের হয়েছে। নিশ্চয়ই তারা অসাধারণ তা না হলে তারা কেমন করে এই কুৎসিত পদ্ধতি থেকে বের হতে পারল? যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা কিছুই শিখে আসে না তাই চাকরি দেওয়ার পর আমরা তাদের প্রয়োজনীয় বিষয় শেখাই এবং তারা তখন সত্যিকারের কাজের মানুষ হয়।

সেই বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারের কথা পড়ে আমি হাসি চেপে রাখতে পারিনি। আবার একই সঙ্গে এক ধরনের সান্ত্বনা পেয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যেও আমরা নিশ্চয়ই একই কথা বলতে পারব! আমাদের ছেলে-মেয়েদের বেলায় আমরা আরও নতুন কথা যোগ করতে পারব, তাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া শিক্ষকদের কাছে পড়তে হয়, ছাত্র রাজনীতির ধাক্কা সামলাতে হয়, অনেককে প্রাইভেট টিউশনি করে খরচ চালাতে হয়। কাজেই সেশন জ্যামের পীড়ন সহ্য করে শেষ পর্যন্ত তারা যখন বের হয় তখন তারা সবাই নিশ্চয়ই এক ধরনের অসাধারণ ছেলে-মেয়ে!

তাই আমি আমার সব ছাত্রছাত্রীকে মনে করিয়ে দেই ক্লাসরুমের ভেতরে তারা যেটুকু শিখবে তার থেকে অনেক বেশি শিখবে ক্লাসরুমের বাইরে! ম্যাক্সিম গোর্কির একটি বইয়ের নাম ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়’ (My Universities) এটি একটি অসাধারণ বই যেখানে তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন।

মজার ব্যাপার হচ্ছে ম্যাক্সিম গোর্কি কিন্তু কখনও কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেননি, এই পৃথিবীটাই ছিল তার বিশ্ববিদ্যালয়।

 

লেখক: কথাসাহিত্যিক, শিক্ষক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সম্পর্কিত

‘টিকা’ টিপ্পনী

‘টিকা’ টিপ্পনী

শুভ জন্মদিন, নির্মূল কমিটি

শুভ জন্মদিন, নির্মূল কমিটি

আমাদের আয়শা আপা

আমাদের আয়শা আপা

২০২০, আমাদের মুক্তি দাও

২০২০, আমাদের মুক্তি দাও

ঘটনা সত্য এবং ক্ষতি সামান্য নয়

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ১৬:৩০

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা আমাদের গ্রামীণ সমাজের মোড়ল আর ইউটিউবের ওয়াজকারীদের নিয়ে অনেক কথা আছে। তাদের অধিকাংশই আধুনিক শিক্ষা থেকে অনেক দূরে রয়েছেন। তারা নানা অবৈজ্ঞানিক কুসংস্কার চর্চা করেন। তাদের শিক্ষিত করে তুলতে না পারলে কুসংস্কারের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন, এমন সব বুলি আমরা প্রায়ই উচ্চারণ করি।

গ্রামীণ মোড়ল সমাজ অশিক্ষিত, ওয়াজকারীদের দুরভিসন্ধি আছে। কিন্তু যারা নাটক লিখে, নাটকে অভিনয় করে, নাটক পরিচালনা করে এবং যারা প্রচার করে তারা তো শিক্ষিত, তারা আধুনিক। কিন্তু তারাও যখন নাটকের মাধ্যমে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন– প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম নেয় বাবা-মায়ের ‘পাপ কর্মের ফলে’, তখন তাদের শিক্ষা নিয়ে যেমন প্রশ্ন ওঠে, প্রশ্ন ওঠে পুরো সমাজের নৈতিক অবস্থান নিয়ে।

ঈদের অনুষ্ঠানমালায় এই নাটকটি একটি চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে, পরবর্তীতে ইউটিউবে আপলোড হয়েছে এবং সমালোচনার মুখে এটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু ‘ঘটনা সত্য’ নাটকের নাট্যকার, পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী এবং কলাকুশলীদের পক্ষ থেকে যে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে এদের মনমানসিকতার স্তর আরও ভালোভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

তারা বলছেন, এটি অসাবধানতাবশত ঘটেছে। তাহলে ধরে নিই আমাদের নাট্যজগতের লোকজন নাটক লিখেন, প্রচার করেন নাটকে অভিনয় করে অসাবধানে? দায়িত্বশীল জায়গা থেকে সংশ্লিষ্টরা যে অন্যায় বার্তা সমাজকে দিয়েছেন এর জন্য শুধু দুঃখ প্রকাশই যথেষ্ট? অভিনয় শিল্পীসংঘ জানিয়েছে, নাটকটির আপত্তিকর সংলাপের বিষয়ে জানতেন না এর প্রধান দুই শিল্পী আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। আশ্চর্য হতে হয় বৈকি!  

টেলিভিশনে নাটক মানুষ দেখে না, তাই টিভি নাটকে প্রচারের পরপরই সেটিকে ইউটিউবে তুলে ধরার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আবার কিছু নাটক বা টেলিফিল্ম বা সিরিজ শুধু ইউটিউবেই প্রচারিত হয়। এমন তড়িঘড়ি ব্যবস্থাপনায় নাটকে কোন বার্তা কীভাবে যাচ্ছে সেটা দেখার ফুরসত কোথায়? মাথার ভেতর থাকে শুধু ‘ভিউ’ কত হলো বা হবে সে চিন্তা। ভিউ যত বেশি আয় তত বেশি। তাই কী বার্তা যায়, কী বক্তব্য থাকে সে নিয়ে ভাবনার সময়ই তো নেই আসলে। মনোজগতে এক নতুন উপনিবেশের নাম – ডিজিটাল ভিউ – অর্থাৎ মানুষকে গোগ্রাসে গেলাতে হবে এবং সেটা করতে পারলেই টাকা আর টাকা।

আমরা নাটকের মানুষদের একসময় যতটা সংবেদনশীল দেখেছি সেই সময় গত হয়েছে। বেশ অনেক দিন হয় কমেডি নাটকের নামে চলছে ভাঁড়ামি আর অশ্লীলতা। ইউটিউবে পুরনো নাটকগুলো দেখি আর ইদানীংকার কিছু দেখি। মনে হবে যন্ত্রণা দেখছি। এসবের অনেকগুলোকে নাটক বলা যায় কিনা সেটা নিয়ে দ্বিধায় পড়তে হয়। টিভি নাটকে একসময় মান ছিল, কারণ সেগুলো প্রিভিউ হয়ে প্রচার হতো। অবাধ ডিজিটাল ভুবনে সেসবের কোনও বালাই নেই। কিন্তু একটা চ্যানেল কী করে এই নাটকটি প্রচার করলো, কোথায় তার প্রিভিউ সিস্টেম?  

ইউটিউব একটি স্বাধীন জায়গা, এখানে অশ্লীলতাকে, ভাঁড়ামিকে পুঁজি করে ‘বেশি ভিউয়ের’ নামে একটি প্রজন্মের চিন্তাভাবনা, রুচিকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। এই নাটক প্রমাণ করলো শুধু অশ্লীলতা নয়, এখন শুরু হয়েছে কুসংস্কার প্রচার, অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রচার, পশ্চাৎপদতা প্রচার। এ ছাড়া আঞ্চলিক ভাষার নামে যা প্রচারিত হয় তার অনেকগুলোও চরম মানহানিকর সেই ভাষার মর্যাদার বিবেচনায়।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর ৩৭-এর ৪ ধারা বলছে, ‘কোন ব্যক্তি পাঠ্যপুস্তকসহ যেকোনও প্রকাশনা এবং গণমাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে নেতিবাচক, ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর ধারণা প্রদান বা নেতিবাচক শব্দের ব্যবহার বা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যঙ্গ করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হইবে এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’  

এবং আরও বেশি অবাক হওয়ার কথা এই যে, নাটকের পক্ষ-বিপক্ষ সংস্কৃতি জগতের লোকজন সব লেখায়, বলায় - বলে চলেছেন ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ যা আমাদের আইন পরিপন্থী। কাউকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বলার অধিকার আইন কাউকে দেয়নি। বলা হচ্ছে, বলতে হবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশুর বেলায় প্রতিবন্ধী শিশু এবং তারা স্বাভাবিক আমাদের মতোই।  

এই নাটক নিঃসন্দেহে প্রতিবন্ধিতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পিতা-মাতাকে ব্যঙ্গ করেছে। দেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা খুব কম নয়। এটা ঠিক যে, উপযুক্ত অবকাঠামোর অভাবে প্রতিবন্ধীরা এখনও শাসক বা বিরোধী কোনও দলের কাছে ভোট রাজনীতির অঙ্গ হয়ে উঠতে পারেননি। ভোট ব্যাংক হিসেবে আকর্ষক নন বলে তারা অবহেলিত। ভোট রাজনীতির অঙ্গ হয়ে উঠতে না পারা রাজনৈতিক দলের অবহেলার কারণ, এমন কথা তর্কের খাতিরে মেনে নিলেও, রাজনৈতিক সমাজের বাইরে যে নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে সংস্কৃতি জগতের মানুষ, তারা এতটা নেতিবাচক মানসিকতা প্রকাশ করতে পারেন? এর কারণটা অনুসন্ধান করাটা জরুরি।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কোথায় আমরা প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিকরণে সাম্য বা সমতার নিশ্চয়তা বিধানের প্রচেষ্টা নেবো, তা নয়, উল্টো তাদের নিয়ে ব্যঙ্গ করছি।

অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কারকে যারা ফিরিয়ে আনতে চায় তাদের চিনে নিতে হবে। মানুষের মধ্যে থেকে অন্ধবিশ্বাস দূর করতে ভূমিকা রাখে নাটক, চলচ্চিত্র, গান। এটা আমাদের সারা জীবনের লড়াই। এ লড়াই এখন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। যারা শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চা করেন তারা ভাববেন। কিন্তু লড়াইটা আসলে বৃহত্তর সমাজের।  

লেখক: সাংবাদিক

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

করোনার উৎসব

করোনার উৎসব

আগুন লাগাই স্বাভাবিক

আগুন লাগাই স্বাভাবিক

মহামারি ছড়াচ্ছে দ্রুত অথচ প্রচেষ্টার গতি কম

মহামারি ছড়াচ্ছে দ্রুত অথচ প্রচেষ্টার গতি কম

তাপস-খোকন দ্বন্দ্ব কেন?

তাপস-খোকন দ্বন্দ্ব কেন?

হেপাটাইটিস: অপেক্ষার সময় নেই

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ১৩:৫৭

ডা. এ এইচ এম রওশন ‘হেপাটাইটিস চিকিৎসায় আর বিলম্ব নয়। করোনার সন্ধিক্ষণেও প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজন করে মানুষ হেপাটাইটিস জটিলতায় মারা যাচ্ছেন।’ হেপাটাইটিস বা লিভারের-ইনফেকশন অনেক কারণেই হয়ে থাকে। স্বল্পকালীন হেপাটাইটিস (যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হেপাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, হেপাটাইটিস-ডি, বা হেপাটাইটিস-ই দিয়ে হয়) সাধারণত কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই ভালো হয়ে যায় কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী বা ক্রনিক হেপাটাইটিস (যা সাধারণত হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি দিয়ে হয়) থেকে লিভারের সিরোসিস ও ক্যানসার নামক দুটি মারাত্মক অবস্থায় হতে পারে।

ক্রনিক হেপাটাইটিস এই দুটি ভাইরাস ছাড়াও ফ্যাটি লিভার, উইলসনস-ডিজিজ সহ আরও কিছু কারণে হতে পারে। সিরোসিস, লিভারের ক্রনিক হেপাটাইটিসের অপরিবর্তনীয় চূড়ান্ত অবস্থা। সারা পৃথিবীতে ২০১০ সালে ১০ লাখের বেশি মানুষ লিভার সিরোসিসে মৃত্যুবরণ করছে যা সময়ের সাথে বাড়ছে। অন্যদিকে লিভারের ক্যানসার সাধারণত সিরোসিসের পরে হয়, তবে সরাসরি হেপাটাইটিস থেকেও হতে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীর সকল মৃত্যুর মধ্যে কারণ হিসেবে লিভার ক্যানসারের অবস্থান তৃতীয়। ২০১৭ সালে সারা পৃথিবীতে ৯,৫০,০০০ নতুন মানুষ লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে এবং একই সময়ে ৮০০,০০০ মানুষ এই রোগে মারা গেছে যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং এই সংখ্যা ১৯৯০ সাল থেকে দ্বিগুণ হয়েছে। লিভারের এই রোগসমূহের প্রধানতম কারণ হলো হেপাটাইটিস-‘বি’, বা ‘সি’ ভাইরাস সংক্রমিত হেপাটাইটিস।

বাংলাদেশেও এই রোগ এবং সংক্রমণ কম নয়। ২০১৮ সালের ওয়ার্ল্ড হেলথ প্রোফাইল অনুযায়ী বাংলাদেশে লিভার রোগে মৃত্যু বরণ করেছে মোট ২৩,১৪৫ জন যা মোট মৃত্যুর শতকরা ২.৯৮ ভাগ। অন্য গবেষণায় দেখা গেছে, এ দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে ৫.৪% এর শরীরে হেপাটাইটিস-‘বি’ এবং ০.২-১% এর শরীরে হেপাটাইটিস-‘সি’ ভাইরাস আছে। এ দেশে হেপাটাইটিস-‘বি’, লিভারের সিরোসিস ও ক্যানসার রোগের প্রধান কারণ (যথাক্রমে ৬০% ও ৬৫%)। হেপাটাইটিস-‘সি’ ও বাংলাদেশ লিভার সিরোসিস (৩০%) ও লিভার ক্যানসারের (১৭%) অন্যতম কারণ।

এ ভাইরাস দুটি সাধারণত ভাইরাস বহনকারী বা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, রক্তরস অথবা অন্য যে কোনও ধরনের শারীরিক রসের মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে অন্যজনে ছড়ায়। এছাড়া অপারেশনে ব্যবহৃত সকল প্রকার যন্ত্রপাতি, ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, যৌন মিলনে, বিশেষ করে সমকামিতায় এবং একই ক্ষুর বা ব্লেড ব্যবহার করা, সেলুনের মাধ্যমেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। গর্ভবতী মায়ের শরীরে হেপাটাইটিস-‘বি’ ভাইরাস থাকলে প্রসবকালীন সময়ে সন্তানের শরীরে সংক্রমণ হতে পারে।

নিরাময় ও চিকিৎসা: স্বল্পকালীন হেপাটাইটিস সাধারণত লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়। তবে, হেপাটাইটিস ‘এ’- এর কার্যকরী টিকা আছে যার দুটি ডোজ দিয়ে ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস প্রতিরোধ করতে রক্ত বা রক্তের যে কোনও উপাদান সংবহনের পূর্বে তাতে ভাইরাস আছে কিনা পরীক্ষা করে নিতে হবে। সব রকমের অপারেশন সহ রোগ নির্ণায়ক ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত সকল যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আগে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। ইঞ্জেকশনের জন্য একবার ব্যবহার করা হয় এমন সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে এবং নিরাপদ যৌন আচরণ করতে এবং অবশ্যই সমকামিতা পরিহার করতে হবে এবং যতটা সম্ভব অনিরাপদ সেলুন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব ব্যবস্থা অবলম্বন করে হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণ কমানো সম্ভব।

যেহেতু দুটি ভাইরাসই সংক্রমিত হওয়ার পর লিভারের অপরিবর্তনীয় অবস্থা তথা লিভার সিরোসিস বা ক্যানসার হতে অনেক সময় লাগে, তাই কোনোরকম লক্ষণ না থাকলেও যে কেউ শরীরে হেপাটাইটিস-বি এর উপস্থিতি অগ্রিম পরীক্ষা করে শনাক্ত হলে চিকিৎসা নিয়ে ভাইরাসের মারাত্মক পরিণতি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারে। অপর দিকে হেপাটাইটিস-সি পাওয়া গেলে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ, হেপাটাইটিস-সি নিরাময়ে বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ শতকরা ৯৫ থেকে ৯৯ ভাগ কার্যকরী।

হেপাটাইটিস-বি প্রতিরোধে কার্যকরী টিকা আছে, যার তিনটি ডোজ সঠিক ভাবে নিয়ে এই ভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। এই টিকা জন্মের সময় থেকে যে কোনও বয়সেই নেওয়া যায়। তবে নেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে শরীরে কখনও হেপাটাইটিস-বি সংক্রমিত হয় নাই।

এমনিভাবে যে কোনও ব্যক্তি শারীরিক কোনও লক্ষণ না থাকলেও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাস দুটির উপস্থিতি জেনে চিকিৎসা অথবা টিকা নিয়ে এই ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট হেপাটাইটিস রোগ এবং তা থেকে উৎপন্ন লিভারের সিরোসিস বা ক্যানসার হওয়া থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে।

আর সন্তান জন্মের সময়ে এই ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত করতে প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলার রক্তে এই ভাইরাস আছে কিনা পরীক্ষা করতে হবে। হেপাটাইটিস পাওয়া গেলে অবস্থা বিশেষে চিকিৎসা দিয়ে এবং না পাওয়া গেলে অন্তস্বত্তা মহিলাকে নির্ধারিত সময়ে দুটি টিকা দিয়ে এই ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা কমানো যায়। মনে রাখতে হবে, এসব ক্ষেত্রে প্রসবকালীন সময়ে সাধারণ জীবাণুমুক্তকরণ ছাড়াও কিছু অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে যেন মায়ের রক্ত বাচ্চার শরীরে না যায়। আর মা হেপাটাইটিস-বি পজেটিভ হলে জন্মের সময়েই নবজাতককে হেপাটাইটিস-বি টিকার প্রথম ডোজ এবং একই দিনে অন্য হাত বা পায়ের মাংস পেশীতে হেপাটাইটিস-বি এর অ্যান্টিবডি ইনজেকশন দিয়ে প্রসবকালীন সংক্রমণ কমানো যায়।

তাই আসুন ২০২১ সালের ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসে’ আমরা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হেপাটাইটিস-‘বি’ এবং ‘সি’, এর অবস্থা জানি।

হেপাটাইটিস-‘বি’ না থাকলে টিকা নেই। হেপাটাইটিস-‘বি’ বা ‘সি’, যে কোনোটি পাওয়া গেলে যথাযথ চিকিৎসা নেই। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করি। গর্ভবতী মায়ের হেপাটাইটিস পরীক্ষা করি এবং সংক্রমণ প্রতিহত করণের সব ব্যবস্থা নেই। সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে হেপাটাইটিস নিরাময়ে সম্পৃক্ত করি।

লেখক: অধ্যাপক, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড প্যানক্রিয়াটিক ডিসঅর্ডারস (জিএইচপিডি) বিভাগ, বারডেম, ঢাকা।

/এসএএস/

সম্পর্কিত

ঘটনা সত্য এবং ক্ষতি সামান্য নয়

ঘটনা সত্য এবং ক্ষতি সামান্য নয়

‘আমি রাজনীতি করা মেয়ে, আমি কিন্তু ভদ্র না’

‘আমি রাজনীতি করা মেয়ে, আমি কিন্তু ভদ্র না’

পেগাসাস আতঙ্ক বিশ্বজুড়ে, নীরব বাংলাদেশ

পেগাসাস আতঙ্ক বিশ্বজুড়ে, নীরব বাংলাদেশ

নিউক্লিয়ার বর্জ্যে তো কেউ মরছে না

নিউক্লিয়ার বর্জ্যে তো কেউ মরছে না

‘আমি রাজনীতি করা মেয়ে, আমি কিন্তু ভদ্র না’

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ১৮:৫৪
রুমিন ফারহানা এতদিন গর্বের সঙ্গে বলে এসেছি, আমি হলিক্রস স্কুল, ভিকারুননিসা নূন কলেজের ছাত্রী। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক অনাদিকাল থেকেই অম্লমধুর। বোর্ড পরীক্ষার রেজাল্ট, এক্সট্রা কারিক্যুলার অ্যাকটিভিটিজ, বিশেষ করে বিতর্কসহ সব ক্ষেত্রে এই দুই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিযোগিতা। তাই হলিক্রস স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে একই কলেজে তিন মাস ক্লাস করার পর যখন ঘোষণা দিলাম আমি কলেজ বদলাবো তখন স্বভাবতই প্রচণ্ড অবাক হয়েছিলেন বাবা-মা। আমার মা তখন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের প্রথম নারী মহাপরিচালক। বাংলাদেশের সব মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজ মায়ের সরাসরি অধীনস্থ ছিল। ভিকারুননিসাও তার ব্যতিক্রম নয়।
 
আমার জেদের কারণে বাধ্য হয়ে আম্মা ফোন দেন ভিকারুননিসার তৎকালীন অধ্যক্ষ হামিদা আলীকে। হামিদা আলী আপাকে শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয় করতো না, এমন কেউ ছিল না। আম্মা তার সরাসরি বস হওয়া সত্ত্বেও বিনীতভাবে আপা বলে দেন, ভর্তির সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে, এখন আর সময় নেই, যদি না কোনও ছাত্রী কলেজ পরিবর্তন করে। আমার ভাগ্য সুপ্রসন্নই বলতে হবে, তার মাস খানেকের মাথায় আম্মা আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি যদি চাই কলেজ বদলাতে পারি। হামিদা আলী জানিয়েছেন সিট ফাঁকা হওয়ায় এখন আমাকে তিনি নিতে পারবেন।

পাঠক আশা করি একটা বিষয় লক্ষ করেছেন, আর সব কলেজের মতোই ভিকারুননিসা কলেজও ছিল আমার মায়ের সরাসরি অধীনস্থ। হামিদা আপা খুব ভালো জানতেন এসএসসিতে আমার অতি ভালো ফলাফল সম্পর্কে। তিনি জানতেন আমি আমার মায়ের একমাত্র সন্তান। তারপরও তিনি তার দায়িত্ব পালন করে আমার মায়ের অনুরোধকে নাকচ করে দিয়েছিলেন। আমার মা-ও ন্যূনতম কোনও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেননি। সিট খালি হয়েছে, তারপর আমি ভর্তি হতে পেরেছি। আজকের দিনে ভাবা যায় এই কথা?

হলিক্রস আর ভিকারুননিসার পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। হলিক্রস মিশনারি প্রতিষ্ঠান, ছাত্রী সংখ্যা সীমিত, নিয়ম-কানুন অতিমাত্রায় কড়া, শুধু পড়াশোনা না, একজন মানুষের জীবন গঠনে যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই হলিক্রস শিখিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অন্তত তখন পর্যন্ত তা-ই ছিল, এখন কী অবস্থা জানি না। সেই তুলনায় ভিকারুননিসায় ছাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি, সবকিছুতেই হলিক্রসের তুলনায় একটা ঢিলেঢালা ভাব। একটা কথা জোর দিয়ে বলতে পারি, ১০ বছরে হলিক্রস আমাকে যেমন ঋণী করেছে, দেড় বছরের কলেজ জীবনে ভিকারুননিসা তার চেয়ে কম ঋণী করেনি। আমার জীবন গড়ে দিয়েছে এই দু’টি প্রতিষ্ঠান।

আজকে যখন ফেসবুকে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের অডিও ভাইরাল হলো, তখন তার উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ, বাক্য, বাচনভঙ্গি আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করেছে। কী নোংরা, কী ভীষণ নোংরা পুরো কথোপকথন। একটি জাতীয় দৈনিক তাদের কথোপকথনটির পুরোটা প্রকাশ করেছে। এই কথোপকথন এতটাই অশ্লীল যে পত্রিকাটিকে পুরো রিপোর্টে অসংখ্য ‘ডট’-এর ব্যবহার করতে হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের সাবেক ছাত্রী হিসেবে অনেকের চাইতে আঘাত আমাকে একটু বেশিই করেছে। আমার সময়ের অধ্যক্ষ হামিদা আলী, যিনি সারা দেশের মানুষের কাছে শ্রদ্ধার ও সম্মানের ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তার সঙ্গে বর্তমান অধ্যক্ষের তুলনা করলে গোটা বাংলাদেশের অবক্ষয়ের একটা চিত্র স্পষ্ট হয়ে যায়।  

কথোপকথনটিতে এটা স্পষ্ট তার বিরুদ্ধে কিছু মানুষ অভিযোগ করেছেন এবং সেটা তদন্তের জন্য কমিটি তৈরির চেষ্টা হয়েছে। কলামের আলোচনার খাতিরে ধরে নিলাম তার বিরুদ্ধে অন্যায় অভিযোগ করা হয়েছে। তো সেই সমস্যা সমাধান তিনি যেভাবে সমাধান করতে চেয়েছেন, সেটা দেখিয়ে দেয় ক্ষমতার দম্ভ এই দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কীভাবে প্রবেশ করেছে।
 
ওনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের উত্তর ওনার পিস্তল, যার দ্বারা কেউ তার পেছনে লাগলে তাকে তিনি কেবল প্রতিষ্ঠান না, দেশছাড়া করবেন এবং তার গোষ্ঠী উদ্ধার করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আর কোনও... বাচ্চা তদন্ত কমিটি করলে আমি কিন্তু দা দিয়ে কোপাবো তারে সোজা কথা’; ‘আমার ... আছে। আমার বাহিনী আছে। আমার ছাত্রলীগ আছে, যুবলীগ আছে, আমার যুব মহিলা লীগ আছে। কিন্তু কিচ্ছু লাগবে না। কাপড় খুইলা রাস্তার মধ্যে পিটাব’; ‘আমি কিন্তু একদম, আমি কিন্তু গুলি করা মানুষ। রিভলবার নিয়া ব্যাগের মধ্যে হাঁটা মানুষ। আমার পিস্তল বালিশের নিচে থাকতো। সারা রাত পিস্তল আমার বালিশের নিচে থাকত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনও চিন্তা করি না। কারণ, আমি নিজেই শক্তিশালী। কোনও... কথায় আমি চলি না। কোনও... বাচ্চার কথায় আমি চলি না। আমি নিজেই কিন্তু শক্তিশালী। দলটার আমি প্রেসিডেন্ট ছিলাম। মনে রাইখেন এই দলটা এখন সরকারে। যতদিন এই দলটা আছে ততদিন আমার পাওয়ার আছে। আমি কিন্তু ... বাচ্চাদের লেংটা করে রাস্তার মইধ্যে পিটাইতে পারবো। আমার লাগবে না, আমার দলের মেয়েদের ডাকলে দলের ছেলেও লাগবো না। মেয়েরাই ওর চুল-দাড়ি ছিঁইড়া প্যান্ট খুলে নামাইয়া দিবে’।

ওনার এই কথোপকথনটি অনেক বিষয় সামনে নিয়ে আসে।

১। যেকোনও নিয়োগে এখন অত্যাবশ্যকীয় যোগ্যতা ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়। শুধু দলীয় পরিচয় থাকলেই হবে না, তাকে ক্যাডার পালার যোগ্যতা এবং মানসিকতা থাকতে হবে। নিকট অতীতে ভিসিদের ক্ষেত্রেও আমরা তা-ই দেখেছি।

২। এই সরকার দীর্ঘকাল তার কর্তৃত্বপরায়ণ শাসন চালানোর অবশ্যম্ভাবী ফল ফলেছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রতিটি স্তরে তৈরি হয়েছে ভীষণ রকম অসহনশীলতা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান চরম কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠছেন।      

৩। কোনও পদধারীর বিরুদ্ধে কারও নিয়মতান্ত্রিক কোনও অভিযোগ করা এবং সেটার তদন্ত চাইবার অধিকার নেই সেই প্রতিষ্ঠানের কারও। একটা জবাবদিহিহীন সরকারের মানসিকতা ‘চুইয়ে পড়ে’ নীতিতে  ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি স্তরে।

৪। সরকার তার ক্ষমতার স্বার্থে ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রমাগত দুর্বল করেছে। কিন্তু আমরা এটা দেখলাম ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার সঙ্গে কোনও সরাসরি যোগসূত্র নেই এমন প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার ভেঙে ফেলছে।

৫. ভিকারুননিসার ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। গত কয়েক বছরে সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নগ্ন দলীয়করণের মাধ্যমে ভেঙে ফেলার যে মহোৎসব চলছে, এটা তারই ধারাবাহিকতা মাত্র।  

৬. কথোপকথনের একপর্যায় তিনি বলছিলেন ‘আমি রাজনীতি করা মেয়ে, আমি কিন্তু ভদ্র না’। আবার হুমকি দিচ্ছিলেন আগের রূপে ফিরে যাওয়ার। এই ক্লাসের বাইরে কি আর একজনও আওয়ামী-ভক্ত পাওয়া যায়নি যিনি যোগ্য? নাকি এই ক্লাসের হওয়াটাই একমাত্র যোগ্যতা? কথায় উঠে এসেছে উনি শিক্ষামন্ত্রীর ‘প্রিয় পাত্রী’। এই তাহলে তাদের প্রিয় হওয়ার মাপকাঠি!

৭. উনি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার, ওনার চাকরি করার কথা কোনও সরকারি কলেজে। ওনাকে ভিকারুননিসায় দেওয়া হলো কেন? বাণিজ্যের সুযোগ ভালো?

আমি রাজনীতিতে আসি আমার বাবার মৃত্যুর পরে। উনি চেয়েছিলেন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করি। ওনার মতের বিরুদ্ধে যখন আইন পেশায় গেলাম, ওনার প্রত্যাশা ছিল আমি যেন অন্তত বিচারপতি হই। সেই সবকিছুর মুখে ছাই দিয়ে আজকে রাজনীতিকে জীবনের মূল লক্ষ্য করেছি দেখলে উনি কী ভাবতেন কে জানে। উনি যখন রাজনীতি করেছেন তখনও রাজনীতিতে এমন মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হয়নি। সৎ, যোগ্য, মেধাবী বহু মানুষ তখনও রাজনীতিতে ছিলেন। মনে প্রশ্ন জাগে, আজ একজন কলেজের অধ্যক্ষের মুখে ‘আমি রাজনীতি করা মেয়ে, আমি কিন্তু ভদ্র না’ উক্তি শুনলে তিনি আমার রাজনীতি করাটাকে কীভাবে দেখতেন?

সামনের সময়টা ‘আই হেইট পলিটিক্স’ প্রজন্মের। একটা প্রজন্ম জন্মেছে, বেড়ে উঠেছে এবং প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে এই আবহে। রাজনীতির স্খলন শুরু হয়েছে তারও বেশ আগেই, যদিও এখনকার মতো এত সর্বনাশা ছিল না। আজ সমাজে রাজনীতি একটা ডেরোগেটরি শব্দ, আর রাজনীতিবিদরা ঘৃণ্য মানুষ। আশপাশে কান পাতলেই ফিসফিসানি শুনি - ভদ্রলোক কি রাজনীতি করে? কেউ সামনে কখনও ঠাট্টাচ্ছলে বলেও ফেলে। তখন এমন স্টেরিওটাইপ করার বিরুদ্ধে বড় গলায় প্রতিবাদ করি। এই প্রতিবাদের ‘বড় গলা’ কিছুটা ছোট তো হলোই। একজন রাজনীতি করা মানুষ কাউকে যাচ্ছেতাই হুমকি দেওয়ার জন্য নিজেকে ‘ভদ্র না’ প্রমাণ করতে হয় আর সেটার কারণ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন রাজনীতিকেই। জানি এই অধ্যক্ষের উক্তিটি সব রাজনীতিবিদের দিকেই যাবে ‘ভদ্রলোক কি রাজনীতি করে?’-এর প্রমাণ হিসেবে।
 

লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি দলীয় হুইপ

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

আশ্রয়ণ প্রকল্প: দুর্নীতি কি আর্থিক নাকি ‘তেলবাজি’র?

আশ্রয়ণ প্রকল্প: দুর্নীতি কি আর্থিক নাকি ‘তেলবাজি’র?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আপনি দয়া করে চুপ থাকুন!

স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আপনি দয়া করে চুপ থাকুন!

‘কাজকাম না থাকলে খাওনও নাই’

‘কাজকাম না থাকলে খাওনও নাই’

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা এনজিও’কে দেওয়া যৌক্তিক নয়

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা এনজিও’কে দেওয়া যৌক্তিক নয়

পেগাসাস আতঙ্ক বিশ্বজুড়ে, নীরব বাংলাদেশ

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ১৬:২০

আনিস আলমগীর ইন্টারনেট দুনিয়ায় এর থেকে বড় কেলেঙ্কারি আর আসেনি। তবু অনেক লোক এখনও বুঝতে পারছে না কী হচ্ছে নেট দুনিয়ায়। কী এই পেগাসাস স্ক্যাম। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো তার মোবাইল পরিবর্তন করে ফেলেছেন। কারণ, এই কেলেঙ্কারিতে তার নাম উঠে এসেছে শিকার হিসেবে। বিশ্বের অনেক দেশে এখন এই পেগাসাস স্ক্যাম নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে এখনও পেগাসাস নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই। সম্ভবত আমরা অনেকে বিগত কয়েক বছরে ফোন ফাঁসের ঘটনায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

এতটা অভ্যস্ত হয়েছি যে ফোন ফাঁস যেন কোনও ব্যাপারই না। যেমন এই মুহূর্তে রাজধানী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গে এক অভিভাবকের ফোন ফাঁস নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা প্রিন্সিপাল ম্যাডাম একজন শিক্ষক হয়ে কীভাবে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন সেটা নিয়ে মজে আছি। কিন্তু সরল বিশ্বাসে তিনি একজন অভিভাবক নেতার সঙ্গে ফোনে আলাপ করছেন, সেই লোক সেটা রেকর্ড করে খণ্ডিত আকারে বাজারে ছেড়ে দিয়েছে এবং বাংলা ট্রিবিউনের রিপোর্টে দেখলাম গর্বভরে স্বীকারও করছেন। সেই লোকের কী সাজা হওয়া উচিত কেউ একবারও চিন্তা করছি না, উচ্চারণও করিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার দুর্বলতা হচ্ছে এটিই– আপনাকে গড্ডালিকা প্রবাহে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে, এককেন্দ্রিক চিন্তা করতে শেখাবে। এখানে সবাই ঘুরে ভাইরাল আর ট্রেন্ডের পেছনে।

ভারতে প্রতিদিন এখন শিরোনাম হিসেবে দখল করে আছে পেগাসাস কেলেঙ্কারি। কারণ, সেখানকার প্রায় ৩০০ সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, আমলা এবং রাজনীতিবিদের নাম উঠে এসেছে পেগাসাস কাণ্ডে। পেগাসাস দিয়ে এদের কারও ওপর গোয়েন্দাগিরি করা হয়েছে, কারও ওপর গোয়েন্দাগিরির চেষ্টা হয়েছে এবং কেউ কেউ সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

এখন পরিষ্কার করা দরকার পেগাসাস কী। ‘পেগাসাস’ শব্দটা এসেছে গ্রিক মিথোলজি থেকে। সাদা রঙের ঘোড়া, যার পাখা আছে, তাকে ডাকা হয় পেগাসাস। কিন্তু নেট দুনিয়ায় আলোচিত আজকের পেগাসাস এসেছে একটি স্পাইওয়্যার হিসেবে। এটা এমন মারাত্মক একটি সফটওয়্যার, যেটা আপনার ফোনে যদি কেউ ভরে দিয়ে থাকে তাহলে আপনার ফোনে রাখা সব তথ্যভাণ্ডার চলে যাবে অন্যের হাতে। আপনার ফোনে ঢুকে কথা রেকর্ড করতে পারবে, জিপিএস ট্র্যাক করে আপনার লোকেশন জেনে নিতে পারবে, গোপনে আপনার ক্যামেরা অন করতে পারবে, মেসেজ পড়তে পারবে, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দেখতে পারবে, সব পাসওয়ার্ড জেনে নিতে পারবে। এক কথায় আপনার সবকিছুই চলে যাবে তার হাতে। সে কারণেই পেগাসাসকে বলা হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে খতরনাক সফটওয়্যার।

প্রশ্ন আসে পেগাসাস আপনার ফোনে আসবে কী করে? আপনার বাঁচার উপায় কী? আগে আমরা দেখতাম এ জাতীয় স্পাইওয়্যার ফোনে বা পিসিতে পাঠানো হতো ম্যাসেঞ্জার বা ইমেইলে কোনও লিংক পাঠিয়ে। সেখানে ক্লিক করলেই সক্রিয় হয়ে যেত। কিন্তু এখন আর সেটা দরকার নেই। আপনার ফোন নম্বর জানা থাকলেই যথেষ্ট। আপনাকে একটা ফোন করবে কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেবে। ফোন না ধরলেও এটা কাজ করবে। তাতেই সম্ভব পেগাসাস আপনার ফোনে সক্রিয় হয়ে যাওয়া। বাঁচতে পারবেন কীভাবে? বাঁচার উপায় নেই। যদি ফোন নম্বর একান্ত লোকদের দিয়ে থাকেন আর লোকেশন হাইড করার জন্য ভিপিএন ব্যবহার করে থাকেন- হালকা রক্ষা পাবেন। তবে গ্যারান্টি নেই।

এই পেগাসাস সফটওয়্যারটি বানিয়েছে একটি ইসরায়েলি কোম্পানি-এনএসও। যেটি তার তিন মালিকের নামের অদ্যক্ষর। কিনতে আনুমানিক ৪ কোটি টাকার মতো খরচ পড়বে, আর প্রতি ১০ জনের ফোনে ইনস্টল করতে ৫ কোটি করে গুনতে হতে পারে। প্রশ্ন আসে এমন সফটওয়্যার বানানোর কী দরকার ছিল? এনএসও দাবি করছে তারা পেগাসাস সৃষ্টি করেছে যাতে করে সরকারি গোয়েন্দা বিভাগ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এটা ব্যবহার করে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে পারে। মেক্সিকো সরকার দাবি করছে যে তারা এই পেগাসাস ব্যবহার করে সেখানকার ড্রাগ লর্ড এল চাপোকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে এই ধরনের স্পাইওয়্যার থাকলে দুনিয়াটা অনেক সুন্দর করা যেত।

কিন্তু আপনার ভাবনা ভুল। দুনিয়া কাঁপানো কোনও বড় টেরোরিস্টের নাম ফাঁস হওয়া তালিকায় পাবেন না। ভালো কাজের প্রযুক্তি ব্যবহারের চেয়ে অপব্যবহার বেশি হয়- সেটি আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। যে মেক্সিকোর উদাহরণ দিলাম সেই মেক্সিকোর একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মেক্সিকো সরকার এটি ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই মেক্সিকান সাংবাদিক সরকারের কিছু আর্থিক কেলেঙ্কারি ফাঁস করে দিয়েছিল। এখানেই শেষ নয়। এরপর ওই সাংবাদিক খুন হয়েছেন।

আবার দেখেন সৌদি নাগরিক ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাশোগি কাহিনিটাও ঘটেছিল এই পেগাসাস ব্যবহার করে। সৌদি যুবরাজ পেগাসাস ব্যবহার করেছেন জামাল খাশোগির হবু স্ত্রীর ফোনে, খাশোগির মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই তার হবু স্ত্রীর ফোন হ্যাক করে এই স্পাইওয়্যার প্রবেশ করানো হয়েছিল। সে কারণেই তারা জামালের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছিলেন। সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আরও আগেও এসেছিল, তিনি অ্যামাজন চিফ জেফ বেজোসের ফোন হ্যাক করেছিলেন। এটাও পেগাসাস কাহিনি।

বর্তমান সময়ে পেগাসাস কলঙ্ক ফাঁসের কাজটি করেছে ফ্রান্সভিত্তিক একটি এনজিও ‘ফরবিডেন স্টোরিজ’। তারা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল থেকে। তারা ৫০ হাজার ফোন নম্বর তালিকাভুক্ত করে বলেছে যে এসব নম্বর সেসব সাংবাদিক, পলিটিক্যাল লিডার, আমলা এবং অ্যাকটিভিস্টসহ বিশ্বের নানা জনের, যাদের কারও কারও ফোনে পেগাসাস প্রবেশ করানো হয়েছে,  হওয়ার চেষ্টা হয়েছে বা তারাই টার্গেট।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৭টি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান কোলাবরেশনের মাধ্যমে এই লেটেস্ট ঘটনা ফাঁস হয় অতি সম্প্রতি। এসব মিডিয়ার মধ্যে রয়েছে রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট, জার্মানির ডিসাইড, ফ্রান্সের লে মন্ডে, ইসরায়েলের হারেটজ, মেক্সিকোর প্রোকেসো, হাঙ্গেরির ডিরেক্ট থার্টিসিক্স। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এটি প্রকাশে সহায়তা করেছে এবং কানাডাভিত্তিক দ্য সিটিজেন ল্যাব স্বাধীন সংস্থা হিসেবে তা রিভিউ করে মতামত দিয়েছে, যে পদ্ধতিতে এই ইনভেস্টিগেশন হয়েছে, পেগাসাস স্পাইওয়্যার আইডেন্টিফাই করার ক্ষেত্রে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যে ফরেনসিক মেথড ব্যবহার করেছে, সেটা সঠিক ছিল। ফরবিডেন স্টোরিজ ১১টি দেশে এনএসও’র ক্লায়েন্টকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছে।

এসব দেশের মধ্যে রয়েছে, সৌদি আরব, বাহারাইন, ইউএই, আজারবাইজান, কাজাকিস্তান, টোগো, রুয়ান্ডা, মরক্কো, মেক্সিকো, হাঙ্গেরি ও ইন্ডিয়া। ডেমোক্র্যাসি ইনডেক্স অনুযায়ী এসব দেশের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি উন্নত নয় এবং সবচেয়ে উন্নত যে দেশটি এখানে আছে সেটি হচ্ছে ইন্ডিয়া। তার র‌্যাংকিং ৫৩ আর সবচেয়ে খারাপ সৌদি আরবের, তার র‌্যাংকিং ১৫৬। যে ৫০ হাজার লোককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল তাদের মধ্য থেকে এক হাজারকে ইতোমধ্যে আইডেন্টিফাই করা হয়েছে এবং তাদের অনেকের ফোন ফরেনসিক এক্সামিনেশনের জন্য দেওয়া হয়েছিল এবং সবক’টিতেই পেগাসাসের অস্তিত্ব প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ভারতের ৩০০ জনের নাম এসেছে পেগাসাস লিস্টে। তার মধ্যে বিরোধী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সিবিআই প্রধান, প্রধান বিচারপতি, ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের নামও এসেছে। রাফায়েল কেলেঙ্কারিতে বিজেপি সরকারের নড়বড়ে অবস্থা ছিল। এই মামলার রায়ের আগে প্রধান বিচারপতির রঞ্জন গগৈর বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের অভিযোগ এনেছিল এক নারী। তার ফোনেও পেগাসাস দেওয়া হয়েছিল। রঞ্জন গগৈ ওই কেলেঙ্কারির কয়েক মাস পর রাফায়েল মামলায় বিজেপি সরকারকে ক্লিনচিট দিয়েছিল। তাহলে ভারতে পেগাসাস কেলেঙ্কারির পেছনে কে আছে সেটা স্পষ্ট ভারতীয়দের কাছে।

দৈনিক ভাস্কর পত্রিকা পেগাসাস নিয়ে একটা বড় প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। ক’দিন পরে তাদের অফিসে ইনকাম ট্যাক্স কর্তারা হানা দিয়েছে। এই স্ক্যান্ডেলের ইনভেস্টিগেশন হওয়া উচিত বলে ভারতের স্বাধীন মিডিয়াগুলো মত প্রকাশ করছে কিন্তু সরকার এটাকে উপেক্ষা করে যাচ্ছে। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার তদন্ত করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। হাঙ্গেরি, ইসরায়েল, ফ্রান্স তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। মোদির সমর্থকরা প্রচার করছে যে উন্নয়নের গতি থামিয়ে দেওয়ার জন্য এটা মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত। এই অন্ধদের বুঝাবে কে ‘তোদের’ উন্নয়নের গতি থামানোর ষড়যন্ত্রের কারণে তাহলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকেও ফোন বদল করতে হচ্ছে!

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ইরাক ও আফগান যুদ্ধ-সংবাদ সংগ্রহের জন্য খ্যাত।
[email protected]

 

 

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

তালেবান উত্থানে একঘরে ভারত

তালেবান উত্থানে একঘরে ভারত

কারখানার আগুনের দায় তাহলে কার?

কারখানার আগুনের দায় তাহলে কার?

টিকা ছাড়া লকডাউন-শাটডাউনে কাজ হবে না

টিকা ছাড়া লকডাউন-শাটডাউনে কাজ হবে না

তারেক জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

তারেক জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

নিউক্লিয়ার বর্জ্যে তো কেউ মরছে না

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ২১:০৮

কাজী জাহিন হাসান আমাকে মাঝেমধ্যেই যে কথাটা শুনতে হয়- ‘কী করে আপনি নিউক্লিয়ার জ্বালানিকে সমর্থন করছেন? ধরা যাক, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট নিরাপদে পরিচালনা করা যাচ্ছে, তবু এর তেজস্ক্রিয় বর্জ্যগুলোকে একনাগাড়ে সংরক্ষণ করে যাওয়াটা নিতান্তই অসম্ভব।’

সত্যিটা হলো, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের কারণে কেউ মারা যাচ্ছে না। এরচেয়ে ঢের দুশ্চিন্তার কারণ হওয়া উচিত ফসিল ফুয়েল তথা জীবাশ্ম জ্বালানির বর্জ্য (দূষণ)। যেটার কারণে বছরে বিস্ময়কর হারে মারা যাচ্ছে মানুষ।

একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে বছরে ৩৩ লাখ টন কয়লা পোড়াতে হয়। এতে বছরে চার লাখ ৯০ হাজার টন বিষাক্ত ছাই ও ৬৯ লাখ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড তৈরি হচ্ছে। এই পাহাড়সম কয়লার ছাই ফেলে রাখা হয় খোলা জায়গায় এবং যা অবধারিতভাবেই মিশে যাচ্ছে আশপাশের নদীনালায়। পরিমাণ দেখেই বোঝা যায়, এ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কোথাও সংরক্ষণ করা আদৌ সম্ভব নয়।

নিউক্লিয়ার জ্বালানির নিরাপত্তা

অপরদিকে, একটি এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট (প্রথাগত লাইট-ওয়াটার রিয়েকটর ব্যবহার করে) থেকে বছরে ৩০ টন নিউক্লিয়ার বর্জ্য (ব্যবহার করা জ্বালানি) তৈরি হয়। তুলনামূলক বিচারে যার পরিমাণ অনেক কম এবং এটি যেন না ছড়ায় সেই জন্য এটাকে বেশ সাবধানে সংরক্ষণও করা হয়।

এই ব্যবহৃত জ্বালানি তথা ‘স্পেন্ট ফুয়েল’টাকে পানির নিচে একটি ‘স্পেন্ট ফুয়েল পুল’-এ অন্তত এক বছর রাখা হয় (শীতল করতে)। এরপর এটাকে ‘ড্রাই কাস্ক’ তথা ইস্পাতের তৈরি সিলিন্ডারে রাখা হয়। ওই সিলিন্ডারের চারপাশে আবার কনক্রিটের দেয়াল ও নিষ্ক্রিয় গ্যাস থাকে। ওই গ্যাস কোনোভাবেই ওই বর্জ্যের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। অন্য কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য এতটা সাবধানতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয় না।

রাশিয়া ও ফ্রান্সে নিউক্লিয়ার জ্বালানি রিসাইকেল করা হয়। এতে বর্জ্যের আয়তন কমে আসে। সেটাকেও অবশ্য ভালোভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে কয়লার ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি। বছরে পৃথিবীতে কয়লা পোড়ানো হয় ৮০০ কোটি টন। যাতে বছরে তৈরি হয় ১২০ কোটি টন কয়লার ছাই।

সময়ের পরিক্রমায় নিউক্লিয়ার বর্জ্য কম বিপজ্জনক হয়ে আসে। কিন্তু কয়লা পোড়ানো ছাইয়ের বিষাক্ত ধাতুগুলো (সিসা, পারদ, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম) আজীবনই বিষাক্ত থেকে যায়।

দুঃখজনক হলেও সত্য, কয়লার মধ্যেও প্রাকৃতিকভাবে যৎসামান্য তেজস্ক্রিয় উপাদান থাকে। এতে কয়লার ছাইয়ের যে পাহাড় তৈরি হয়, ওটাও কিন্তু তেজস্ক্রিয়!

কয়লার ছাই উন্মুক্ত জায়গায় রাখা হয়। আর তা নদীনালার মাধ্যমে বড় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে যেতে থাকে। সেই হিসাবে একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র কিন্তু নিউক্লিয়ার প্লান্টের চেয়েও বেশি তেজস্ক্রিয় দূষণ তৈরি করে।

বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউজ এফেক্ট

এটা ঠিক যে, ছাইয়ের চেয়েও আমাদের কয়লাসৃষ্ট বায়ুদূষণ নিয়েই বেশি ভাবতে হবে। কেননা, বায়ুদূষণের কারণে বছরে মারা যাচ্ছে ৪০ লাখ মানুষ। বেশিরভাগ দূষণই হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে। কয়লাই এর জন্য বেশি দায়ী।

সুতরাং, নিউক্লিয়ার জ্বালানির বর্জ্য যে কয়লার বর্জ্যের চেয়ে বেশি নিরাপদ, এটাই শেষ কথা নয়।

প্রাকৃতিক গ্যাসকেও অনেক সময় ‘ক্লিন’ জীবাশ্ম জ্বালানি গণ্য করা হয়। তথাপি, জলবায়ুতে যদি আপনি এর প্রভাব বিবেচনা করেন, তবে বুঝতে পারবেন এই গ্যাস কিন্তু কয়লার চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। দুটোই কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে। তবে গ্যাসের সুবিধা হলো এটি কয়লার মতো বিষাক্ত ছাই তৈরি করে না।

আবার গ্যাসের একটি অসুবিধা হলো এর পাইপলাইন লিক করলে মিথেন বের হতে থাকে। গ্রিনহাউজ এফেক্টে যার প্রভাব কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়েও মারাত্মক।

খাদ্য সংকট ও সমুদ্রের স্তর বৃদ্ধি

গ্রিনহাউজ গ্যাস বিবেচনায় নিউক্লিয়ার জ্বালানির চেয়ে ফসিল ফুয়েল তথা জীবাশ্ম জ্বালানি বেশি বিপজ্জনক। আর এটাও পরিষ্কার যে গ্রিনহাউজ গ্যাস দূষণের কারণে বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলসহ নিচুভূমির অনেক দেশ স্থায়ীভাবে তলিয়ে যাবে।  

জলবায়ু ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকলে বাংলাদেশের মতো অনেক মৌসুমি জলবায়ুর দেশ তখন পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করতে পারবে না। মানুষও জলসীমার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শহরমুখী হতে থাকবে।

ভূমি হারানো বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো হবে নিঃস্ব। তাদের খাদ্যের জোগান দিতে আমাদের খাদ্য আমদানি ও রেশনের দিকে যেতে হবে। বিশ্ব যদি এভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে থাকে, তবে খাদ্য সংকট ও রেশনিং হয়ে যাবে নৈমিত্তিক ঘটনা।

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বাঁচার উপায় কী?

একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে দরিদ্র দেশগুলোর জ্বালানির জন্য বাস্তবিক অর্থে দুটি পথ খোলা- নিউক্লিয়ার জ্বালানি বা জীবাশ্ম জ্বালানি। সৌর বা বায়ুকল এখানে কদাচিৎ দেখা যায়। ওই দুটো ব্যবস্থা এসব দেশের শহরাঞ্চল বা শিল্পকারখানার চাহিদানুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জোগান দিতে পারবে না।

এ ছাড়া সোলার ও বায়ুকলগুলো দিনের মাত্র ৩০ ভাগ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। বাতাসের গতি সব সময় থাকে না, আবার রাতে থাকে না সূর্যের আলো। যেসব পরিষেবায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করা হয়, দেখা যায় সেগুলোতেও ৭০ শতাংশ সময় ব্যাকআপ পাওয়ার প্লান্ট ব্যবহার করা হয় (যেগুলো সচরাচর তেল বা গ্যাসে চলে)।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি কখনোই জীবাশ্ম জ্বালানির জায়গা নিতে পারবে না

আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা চাইলে এখনও জীবাশ্মকে বাদ দিয়ে নিউক্লিয়ার জ্বালানির মাধ্যমে বিপর্যয় এড়াতে পারি। পরবর্তী প্রজন্মের নিউক্লিয়ার প্লান্টগুলো (মলটেন সল্ট রিয়েকটর ও সোডিয়াম কুলড ফাস্ট রিয়েকটর) যে ব্যবহৃত নিউক্লিয়ার বর্জ্য তৈরি করবে, সেগুলো বড়জোর পরবর্তী কয়েক শতাব্দী বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে, সহস্র বছর নয়।

এরমধ্যে নতুন কিছু রিয়েকটরের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যেগুলোতে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এই রিয়েকটরগুলো যত দ্রুত সম্ভব তৈরি করা দরকার। ব্যবহৃত জ্বালানিকে বর্জ্য হিসেবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ফেলে না রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।   

ভবিষ্যৎটা নিউক্লিয়ার

নিউক্লিয়ার শক্তিসমৃদ্ধ দেশগুলো (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অন্যরা) এখন অন্য দেশগুলোতে পরবর্তী প্রজন্মের নিউক্লিয়ার রিয়েকটর তৈরি করতে পারে। তারা চাইলে নিউক্লিয়ার জ্বালানি নবায়নের একচেটিয়া ব্যবসাও করতে পারে।

ব্যবহৃত নিউক্লিয়ার জ্বালানিতে থাকে প্লুটোনিয়াম, যা আলাদা করে নিউক্লিয়ার অস্ত্রে ব্যবহার করা যায়। নিউক্লিয়ার জ্বালানি রিসাইকেল করার কাজটা তাই সেসব দেশেরই করা উচিত যাদের হাতে ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং যারা কিনা স্বভাবতই চাইবে এক্ষেত্রে নিজের সুবিধাজনক অবস্থানটা ধরে রাখতে (পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসার কমানোর মাধ্যমে)। নিউক্লিয়ার জ্বালানি নবায়নের এই একচেটিয়া বাণিজ্যের মাধ্যমেই পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো বিশ্বের জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করতে চলেছে।

জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর ১০০০ মেগাওয়াটের যে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো তৈরি হচ্ছে, এগুলোর প্রতিটি আগামী অন্তত ৪০ বছর চালু থাকবে এবং এই সময় একেকটি কেন্দ্র ১৩ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছাড়বে। আর তাই, প্রতিটি দেশেরই উচিত জীবাশ্ম জ্বালানি বাদ দিয়ে নতুন নকশার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া।

পরিশেষে, এখন আমরা যেটাকে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বলছি, সেটাই কিন্তু ভবিষ্যতের জ্বালানি।

 

লেখক: চেয়ারম্যান, টু-এ মিডিয়া লিমিটেড

 

/এফএ/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

পারমাণবিক বিদ্যুতেই ভবিষ্যৎ

পারমাণবিক বিদ্যুতেই ভবিষ্যৎ

গলিত-লবণের চুল্লি: বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ?

গলিত-লবণের চুল্লি: বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ?

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

কিউকম ও রানার এর মধ্যে ব্যবসায়িক চুক্তি

কিউকম ও রানার এর মধ্যে ব্যবসায়িক চুক্তি

বলপূর্বক কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না: যুক্তরাষ্ট্র

বলপূর্বক কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না: যুক্তরাষ্ট্র

বিলের মাঝখানে উপহারের ঘর, ডুবলো পানিতে

বিলের মাঝখানে উপহারের ঘর, ডুবলো পানিতে

নতুন রূপে ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের’ পথ চলা

নতুন রূপে ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের’ পথ চলা

পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৯ ওভারের ম্যাচটিও শেষ হলো না

পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৯ ওভারের ম্যাচটিও শেষ হলো না

দেয়ালেও করোনাভাইরাস, সাতক্ষীরা মেডিক্যালের ল্যাব বন্ধ

দেয়ালেও করোনাভাইরাস, সাতক্ষীরা মেডিক্যালের ল্যাব বন্ধ

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় পরিবেশমন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় পরিবেশমন্ত্রীর

সেই লাকী আক্তারের কণ্ঠে কন্যা ও কান্নার গল্প (ভিডিও)

সেই লাকী আক্তারের কণ্ঠে কন্যা ও কান্নার গল্প (ভিডিও)

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

খালাস শেষে অক্সিজেন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পথে শেষ ট্যাংকলরিটি

খালাস শেষে অক্সিজেন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পথে শেষ ট্যাংকলরিটি

ভারতকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সমতা

ভারতকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সমতা

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune