X
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

জিডিপি’র ওপর ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ২০:৩৬

জিডিপি

মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মহামারি করোনাকালে যেখানে বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশে কোনও প্রবৃদ্ধিই হচ্ছে না, সেখানে বাংলাদেশ ৮ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি আশা করছে। যদিও ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির এমন আশা পৃথিবীর আর কোনও দেশই করছে না বলে জানিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বছরে পৃথিবীর কোনও দেশই ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে না। কিন্তু অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের সরকার ঠিকই দেখাবে ৮ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি। এর আগে টানা তিন মাস লকডাউনের কারণে সবকিছু বন্ধ থাকার পরও গত অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ।’ বিগত কয়েক বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যেভাবে তেজিভাব নিয়ে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, সে তুলনায় কর্মসংস্থান বাড়ছে না।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলা শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে ২০১৫ সালেই।

জাতিসংঘের হিসাবে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের সিঁড়িতে পা দেবে ২০২৪ সালে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, ২০২০ সালে পঞ্জিকাবর্ষে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আইএমএফ বলছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে এক হাজার ৮৮৮ ডলার, একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হবে এক হাজার ৮৭৭ ডলার। আইএমএফের বরাত দিয়ে মাথাপিছু জিডিপির বিষয়ে অনেকেই বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসাও করছেন।

তবে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে পূর্বাভাস দিয়েছে, বাংলাদেশ সে পথেই যাবে। তার মতে, এখন কোনও প্রবৃদ্ধিই হবে না, প্রবৃদ্ধি শুরু হবে মূলত আগামী বছরের মার্চের পর থেকে।’ তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের চিত্র বলছে, আমরা এখনও নেগেটিভ জায়গায় আছি। গত ছয় মাসে কারও বেতন বাড়েনি। মানুষের আয় বাড়েনি। রফতানি খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, তারা নতুন অর্ডার  পাচ্ছেন না। আগের অর্ডারের পণ্য রফতানি হচ্ছে এখন। নতুন কোনও দেশে শ্রমিক যাচ্ছেন না। নতুন করে কোনও শ্রমিক ভিসা পাচ্ছেন না।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ১ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক মনে করে, আগামী  অর্থবছর (২০২১-২২) তা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। গত ৮ অক্টোবর এই পূর্বাভাস দেয় বিশ্বব্যাংক। আহসান এইচ মনসুর জানান, গত সাত-আট বছরে জিডিপিতে রেমিট্যান্স এর অংশ ৮ শতাংশ থেকে কমতে কমতে ৫ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। একইভাবে জিডিপিতে রফতানির রেশিও ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এমন অবস্থায় প্রবৃদ্ধি যত বাড়িয়ে দেখানোই হোক না কেন, ভেতরের অবস্থা ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দৃষ্টিতে  বর্তমানে  মানুষের পকেটে টাকা নেই। দেশের মানুষের আয় বাড়ছে না, অথচ জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় ব্যয় ঠিকই বেড়ে গেছে।

এমন অবস্থায়  আইএমএফের পূর্বাভাসে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ‘করোনাকালে যেখানে অনেক দেশের নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি, সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটা যেমন বড় দিক, তেমনই এই সময়ে মানুষের আয় বাড়ছে না। অথচ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। অনেকে কাজ হারিয়েছেন। অনেকে এখনও কাজ পাচ্ছেন না। দারিদ্র‌্যের হার বেড়েছে। বৈষম্য বেড়েছে। এগুলো ভাববার বিষয়। ফলে মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেললেও আমাদের আত্মতৃপ্তির কিছু নেই। কারণ, ভারতকে পেছনে ফেললেও শ্রীলঙ্কার থেকে বাংলাদেশ অনেক পেছনে রয়েছে। একইভাবে মালদ্বীপ ও ভুটান থেকেও আমরা পিছিয়ে রয়েছি। অনেকেই ভারতের কথা বলছেন, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার আরও তিন দেশ শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটানের কথা কেউ বলছেন না। অথচ এই তিনটি দেশ আমাদের চেয়ে ওপরে রয়েছে। তিনি মনে করেন, ভারতকে পেছনে ফেলার কথা না ভেবে বরং নিজেদের দক্ষতা যোগ্যতা বাড়ানো যায় কীভাবে, সেটা দেখা দরকার।

এদিকে বাংলাদেশের কর-জিডিপি হার গোটা বিশ্বের মধ্যে নিম্নতম পর্যায়েই রয়েছে। কর-জিডিপি’র হার নেপাল, এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের চেয়েও বাজে অবস্থায় রয়েছে। অথচ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হার ঠিকই  বাড়ছে।  বিষয়টি নিয়ে আহসান এইচ মনসুরের মন্তব্য হলো— এক কথায় মানুষের পকেটে টাকা নেই। যে কারণে সরকারের আয় কমে গেছে। কিন্তু তারপরও সরকার প্রবৃদ্ধি বাস্তবের চেয়ে বেশি দেখানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি বাস্তবের চেয়ে বেশি দেখালে জিডিপিতে ট্যাক্সের অংশ কমে যায়। হচ্ছেও তাই। জিডিপির হার বাস্তবের চেয়ে বেশি দেখালে জিডিপিতে রফতানির অংশ কমে যায়। আমদানির অংশ কমে যায়। বাস্তবে সেটিই হচ্ছে।’

আইএমএফের প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরে মাত্র ২২টি দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হবে। ওই ২২টি দেশের একটি বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, মাথাপিছু জিডিপি হলো দেশগুলোর সমৃদ্ধি নির্ধারণের একটি বিশ্বব্যাপী পরিমাপ এবং একটি দেশের সমৃদ্ধি বিশ্লেষণে অর্থনীতিবিদরা জিডিপির পাশাপাশি মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি ব্যবহার করেন। কোনও দেশের জিডিপি দেশটির মোট জনসংখ্যার হিসাব দিয়ে ভাগ করে এটি গণনা করা হয়।

বাংলাদেশ এবং ভারত উভয়ের চলতি মূল্যে জিডিপির হিসাব করা হয়েছে। আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইওর) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার পরে দক্ষিণ এশিয়ায় করোনা মহামারির কারণে ভারত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তান এবং নেপালের মাথাপিছু জিডিপির তুলনায় এগিয়ে থাকবে ভারত। তবে বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপ ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকবে।

আইএমএফ আগামী বছরে ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের আভাস দিয়েছে, এতে ২০২১ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারত সামান্য ব্যবধানে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাবে। ডলারের হিসাবে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ২০২১ সালে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হবে, বিপরীতে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে ভারতে মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াবে ২ হাজার ৩০ ডলার, বাংলাদেশের হবে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার।

এদিকে আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বিশ্বের শীর্ষ তিন দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকবে শুধু গায়ানা ও দক্ষিণ সুদান।

এদিকে সরকারের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, করোনায় মানুষের আয় কমেছে ২০ শতাংশ। বিবিএস বলছে, করোনার আগে গত মার্চ মাসে প্রতি পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা। আগস্টে কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪৯২ টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ মাসের ব্যবধানে পরিবারপ্রতি আয় কমেছে প্রায় চার হাজার টাকা।

অন্যদিকে বেসরকারি দুটি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, করোনার প্রভাবে দেশের ৭০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের আয় কমে গেছে।  সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জরিপে দেখা গেছে, করোনাকালে দেশে নতুন করে এক কোটি ৬৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের তথ্য বলছে, আয় কমে যাওয়ার কারণে দেশের মানুষ গত বছরের মতো এবার সরকারকে কর দিচ্ছে না। একইভাবে ব্যবসা করে গত বছরের মতো তারা সরকারকে ভ্যাটও দিচ্ছে না। এনবিআরের তথ্য মতে, গত বছরের জুলাই ও আগস্ট এই দুই মাসে আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে সরকারের আয় হয়েছিল ৮ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা। এই বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে সরকার এই খাত থেকে তার চেয়ে ১০৫ কোটি টাকা কম রাজস্ব আহরণ করেছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকার আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে রাজস্ব আহরণ করেছে ৮ হাজার ৮০২ কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্যে জানা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় এই বছরের প্রথম দুই মাসে স্থানীয় পর্যায়ে মূসক বা ভ্যাট থেকেও আদায় কমেছে ২৮০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এনবিআরের হিসাবে, এই অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট থেকে আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর গত বছরের একই সময়ে ভ্যাট থেকে আদায় হয়েছিল ১১ হাজার ৬৩২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

মূলত, গত মার্চ থেকে বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ শুরু হয়। এরপর এপ্রিল ও মে মাসে বাস, ট্রাক, ট্রেন, ব্যক্তিগত গাড়িসহ সব ধরনের যান চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। একইভাবে ট্রলার-লঞ্চ চলাচলও বন্ধ ছিল। বিমানও চলেনি। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে খুব একটা বের হননি।  অথচ এই খাতের জিডিপি বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, গত অর্থবছরের (২০১৯-২০) মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বাস, ট্রাক, ট্রেন—এসবের মূল্য সংযোজন আগের বছরের চেয়ে ৪ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা বেড়েছে। নৌযান চলাচলে বেড়েছে ২৪৬ কোটি টাকা। আর বিমান চলাচলে বেড়েছে ৫১ কোটি টাকা। একইভাবে ২৬ মার্চ থেকে পর্যটন এলাকায় হোটেল-মোটেল বন্ধ থাকার পরও বিবিএসের হিসাবে, বছর শেষে হোটেল-রেস্তোরাঁর অবদান জিডিপিতে বেড়েছে ৫০৯ কোটি টাকা। করোনার কারণে যদিও ওই তিন মাস নির্মাণ খাত বন্ধ ছিল। তবে বিবিএস বলছে, বিদায়ী অর্থবছরে জিডিপিতে নির্মাণ খাতের মূল্য সংযোজন বেড়েছে ৭ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। জিডিপিতে নির্মাণ খাতের অবদান প্রায় ৮ শতাংশ। গত অর্থবছরে নির্মাণ খাতের অবদান ছিল ৮৮ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাকালে ফ্ল্যাট বিক্রি তেমন একটা হয়নি। কিন্তু বিবিএস বলছে, আবাসন খাতের অবদান বেড়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলেছে, বিদায়ী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ।

কৃষি, শিল্প ও সেবা—এই তিনটি খাত নিয়ে জিডিপি গণনা করা হয়। করোনার কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। এই খাতের প্রবৃদ্ধি অর্ধেকে নেমে গেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা কমে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়েছে।  আগের  বছর যেখানে শিল্প উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ শতাংশের বেশি। গত অর্থবছরে তা নেমে  ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ১১ শতাংশে নেমেছে। জিডিপিতে অর্ধেক অবদান সেবা খাতের, প্রায় ৫১ শতাংশ। এ খাতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ হয়েছে।

গত চার বছর ধরেই জিডিপির অনুপাতে ২৩ শতাংশের ঘরেই বেসরকারি বিনিয়োগ আটকে আছে। বিবিএসের হিসাবে, জিডিপির অনুপাতে সার্বিক বিনিয়োগ এখন ৩১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত চলতি মূল্যে ৮ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা বেসরকারি বিনিয়োগ। বাকি ২ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা সরকারি বিনিয়োগ।

 

 

/এপিএইচ/এমএমজে/

সম্পর্কিত

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ২০:১৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ২৩০ জন, যা দেশে করোনা মহামারিকালে দৈনিক শনাক্তে রেকর্ড। একদিনে এত রোগী এর আগে শনাক্ত হননি। শনাক্তদের মধ্যে কেবল ঢাকা বিভাগের রয়েছেন ৮হাজার ২৭১ জন।

বুধবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অধিদফতরের তথ্যমতে, শনাক্তের এই রেকর্ডের দিনে দেশে এপর্যন্ত করোনা আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে,  গত ২৪ ঘণ্টায় কেবলমাত্র ঢাকা বিভাগেই শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ২৭১ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে ৬২৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিন হাজার ৩০৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯১৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫৭ জন, খুলনা বিভাগে ৮৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৮৫৪ জন এবং সিলেট বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ৭৩৬ জন।

ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায় শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ২৬৯ জন, ফরিদপুরে ১৬১ জন, গাজীপুরে ৩০৩ জন, গোপালগঞ্জে ৯১ জন, কিশোরগঞ্জে ১২২ জন, মাদারীপুরে ৯৯ জন, মানিকগঞ্জে ১৯২ জন, মুন্সীগঞ্জে ১৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০০ জন, নরসিংদীতে ১৮১ জন, রাজবাড়ীতে ১২৪ জন, শরীয়তপুরে ২০১ জন  এবং টাঙ্গাইল জেলায় শনাক্ত হয়েছেন ১৯৫ জন।

ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৪৪০ জন, নেত্রকোনায় ৮৮ জন, জামালপুরে ৩২ জন, আর শেরপুর জেলায় শনাক্ত হয়েছেন ৬৬ জন।

চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় শনাক্ত হয়েছেন ৯১৫ জন, কক্সবাজারে ৩২৬ জন, বান্দরবানে ৩১ জন, রাঙামাটিতে ৮৩ জন, খাগড়াছড়িতে ৪৯ জন, ফেনীতে ১৯৪ জন, নোয়াখালীতে ২৫১ জন, লক্ষ্মীপুরে ৭০ জন, চাঁদপুরে ২২৯ জন, কুমিল্লায় ৮৫৩ জন  এবং ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে শনাক্ত হয়েছেন ৩০২ জন।

রাজশাহী বিভাগে রাজশাহী জেলায় ২১৮ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৫ জন, নাটোরে ৮০ জন, নওগাঁতে ৩১ জন, পাবনাতে ২০৯ জন, সিরাজগঞ্জে ১৯৮ জন, বগুড়াতে ১০৬ জন ও জয়পুরহাটে শনাক্ত হয়েছেন ৩০ জন।

রংপুর বিভাগে রংপুর জেলায় ১৮৬ জন, পঞ্চগড়ে ৭৬ জন, নীলফামারীতে ৬৪ জন, লালমনিরহাটে ২৪ জন, কুড়িগ্রামে ৭৬ জন, ঠাকুরগাঁয়ে ৭৭ জন, দিনাজপুরে ৬৯ জন, আর গাইবান্ধায় ৮৫ জন শনাক্ত হয়েছেন।

খুলনা বিভাগের মধ্যে বাগেরহাট জেলায় ৫৭ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৫৪ জন, যশোরে ৬৫ জন, ঝিনাইদহে ৭৬ জন, খুলনা জেলায় ১৭৬ জন, কুষ্টিয়াতে ২২৭ জন, মাগুরাতে ৬০ জন, মেহেরপুরে ৪৮ জন, নড়াইলে ৩৮ জন ও সাতক্ষীরাতে শনাক্ত হয়েছেন ৬৫ জন।

বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরিশাল জেলায় ২৮৮ জন, পটুয়াখালীতে ১৬৮ জন, ভোলাতে ১৭৬ জন, পিরোজপুরে ৬৯ জন, বরগুনায় ৭২ জন ও ঝালকাঠিতে শনাক্ত হয়েছেন ৮১ জন।

সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৪১ জন, সুনামগঞ্জে ১১৬ জন, হবিগঞ্জে ৫৪ জন এবং মৌলভীবাজার জেলায় শনাক্ত হয়েছেন ২২৫ জন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩৭ জন। এদের নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।

 

 

 

/জেএ/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এডিপির ৪৪টি প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৫ ভাগ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ২০:০৯

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এগুলোর মধ্যে এডিপিভুক্ত ৪৪টি এবং নিজস্ব অর্থায়নের ১০টি প্রকল্প। ৫৪টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টি প্রকল্প সমাপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে এডিপিভুক্ত নয়টি এবং নিজস্ব অর্থায়নের দুটি। এডিপিভুক্ত ৪৪টি প্রকল্প  বাস্তবায়নের অগ্রগতি শতকরা ৯৫ ভাগ এবং নিজস্ব অর্থায়নে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি শতকরা ৬৩ ভাগ।  ৫৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের  সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৮৮ ভাগ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে অগ্রগতি ছিল ৮৪.৭৩ ভাগ। ২০২১-২২ অর্থবছরে এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ৪,০১৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থ ২,৮৮৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ১,১৩২ কোটি টাকা।

বুধবার (২৮ জুলাই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায়  (জুম সভা) এসব তথ্য জানানো হয়। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি জুম  বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, সংস্থা প্রধানগণ এবং সংশ্লিষ্টরা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বিশেষ করে চট্টগ্রাম, মোংলা বন্দর ও স্থলবন্দর ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে; অনেক কাজ হয়েছে।  বেনাপোল ও চট্টগ্রাম বন্দরের ক্রাইসিস ফেস করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথ সচল রেখে চেইন অব সাপ্লাই ধরে রেখেছিলাম। কোভিড-১৯-কে মাথায় রেখেই প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃচ্ছতাসাধন নীতি অবলম্বন করতে হবে। টেন্ডার জাতীয় কার্যক্রম এখন থেকেই শুরু করতে হবে; যাতে শুষ্ক মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধন হয়।

এডিপিভুক্ত ৪৪টি প্রকল্পের  মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ১৯টি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি,  বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সাতটি, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের দু’টি, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের একটি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের দুটি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি)  দুটি, নৌপরিবহন অধিদফতরের একটি এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের আটটি প্রকল্প ।

নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ১০টি প্রকল্পের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাঁচটি, বিআইডব্লিউটিসি’র তিনটি, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি এবং পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি প্রকল্প।

/এসআই/এমআর/

সম্পর্কিত

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ২০:১১

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসে রাজাকার পুত্রের দুঃসাহস দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা হতভম্ব হই, যখন দেখি রাজাকার-পুত্ররা দম্ভের সঙ্গে চিৎকার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলছে, আমি রাজাকার পুত্র। স্বাধীনতার মাত্র ৫০ বছরের মধ্যে এ রাজাকারের পুত্র-সন্তানরা কীভাবে এ দুঃসাহস পায়; যারা বাংলার মাটিতে দুই লাখ নারীর সম্ভ্রম হরণ করেছে, লাখ লাখ মানুষকে খুন করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে। এ গণহত্যার দোসররা মাত্র ৫০ বছরের মধ্যে আস্ফালন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটি কোটি মানুষের সামনে বলে তারা রাজাকার পুত্র। এ দম্ভ চূর্ণ করতে হবে দেশের সাধারণ মানুষকেই।’

বুধবার (২৮ জুলাই) পুলিশ সদর দফতর থেকে ভার্চুয়ালি নোয়াখালী জেলা পুলিশ নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য ‘নির্ভীক’, নবনির্মিত সুধারাম মডেল থানা, সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ লাইন্স নারী ব্যারাক ভবন উদ্বোধন এবং ‘মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ নোয়াখালী জেলা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পূর্বসূরিরা যে দেশটিকে আমাদের জন্য উপহার দিয়েছেন, তাদের যে অনবদ্য আত্মত্যাগ, সে আত্মত্যাগের মর্যাদা ধরে রাখার অন্যতম উপায় হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা। এটি একটি ঐতিহাসিক দায়, একটি ঐতিহাসিক কর্তব্য।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ দেশের মানুষ যে দুর্নিবার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছিল, আমাদের সেই অহংকারের জায়গাগুলোকে আরও সুসংহত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এই ধরনের পুস্তক, ভাস্কর্য হতে পারে অন্যতম নিয়ামক, যাতে আমরা কখনও ইতিহাস বিস্মৃত না হই।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের যে অবদান, ভূমিকা রয়েছে তা দুটি কারণে ডকুমেন্টেড হওয়া দরকার। একটি হলো জাতির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ হিসেবে এবং অপরটি হলো বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ইতিহাস, ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে।’

আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি যে যেখানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, যেখা‌নে যে বীরত্বগাথা র‌চিত হয়েছে, তা তুলে আনতে হবে। বাঙালি জাতির উত্তরণের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের যে ভূমিকা রয়েছে তা ডকুমেন্টেড হতে হবে। একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে এগুলোকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে ডকুমেন্টেড করতে হবে, যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এর মর্যাদা অনুভব করতে পারে, অহংকার করতে পারে, একটা মর্যাদাবান জাতি হিসেবে নিজেদের তৈরি করতে পারে।’ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে সবাইকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি।

এ সময় নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সভাপতি হাবিবুর রহমান, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা নোয়াখালী জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার শহীদ আব্দুল হাকিমের মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

পুলিশ সদর দফতরে অতিরিক্ত আইজি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত আইজি এস এম রুহুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি মো. মাজহারুল ইসলাম, এটিইউ’র অতিরিক্ত আইজি মো. কামরুল আহসান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে আইজিপি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য ‘নির্ভীক’, নোয়াখালী জেলা পুলিশের নবনির্মিত সুধারাম মডেল থানা, সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ লাইন্স নারী ব্যারাক ভবন ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন। তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ-নোয়াখালী জেলা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রকাশিত বইটি সম্পাদনা করেছেন মো. আলমগীর হোসেন। গবেষণায় ছিলেন একেএম গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ, আবু নাছের মঞ্জু ও মো. এনায়েত করিম।

 

/জেইউ/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ১৯:২৮

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাবেক একান্ত সচিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক মুখ্য সচিব  মুক্তিযোদ্ধা ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের  মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২৮ জুলাই) এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা  বলেন, ‘সাবেক সিএসপি সৈয়দ আব্দুস সামাদ রাঙ্গামাটির এডিসি থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে মুজিবনগর সরকারে যোগদান করেছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও  উল্লেখ করেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, দক্ষ, সাহসী এবং কর্তব্যপরায়ণ একজন সরকারি কর্মকর্তা।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদ বুধবার (২৮ জুলাই) বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে বারিধারায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

 

/পিএইচসি এপিএইচ/

সম্পর্কিত

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ২০:০৮

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩৭ জন। তাদের নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো। এর আগে গত ১৯ জুলাই করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ১৯ হাজার ছাড়ায়। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৩৭ জনকে নিয়ে দেশে মোট মারা গেলেন ২০ হাজার ১৬ জন।

আজ দেশে করোনায় নতুন রোগী শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ২৩০ জন, যা দেশে করোনা মহামারিকালে দৈনিক শনাক্তে রেকর্ড। একদিনে এত রোগী এর আগে শনাক্ত হননি। গত ২৬ জুলাই একদিনে শনাক্ত হয়েছিলেন ১৫ হাজার ১৯২ জন, যা আজকের আগে ছিল সর্বোচ্চ শনাক্ত। আজকের শনাক্ত হওয়া ১৬ হাজার ২৩০ জনকে নিয়ে দেশে করোনা শনাক্ত ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেলো। দেশে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হলেন ১২ লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জন। 

গত ১৮ জুলাই মোট রোগীর সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। সে হিসাবে সর্বশেষ গত ১০ দিনে এক লাখ রোগী শনাক্ত হলেন।

বুধবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৫৬ হাজার ১৫৭টি, আর পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৭টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৫৮৮টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ১৫৭টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০ লাখ ১৫ হাজার ৪৩১টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১২ শতাংশ, আর এখন পর্যন্ত  ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৬৫ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৩৭ জনের মধ্যে পুরুষ ১৪৯ জন, আর নারী ৮৮ জন। দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত পুরুষ মারা গেলেন ১৩ হাজার ৬২৭ জন এবং নারী ছয় হাজার ৩৮৯ জন।

২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে আছেন একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭৮ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১১ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের রয়েছেন ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৬২ জন, রাজশাহী বিভাগের ২১ জন, খুলনা বিভাগের ৩৪ জন, বরিশাল বিভাগের ৯ জন, সিলেট বিভাগের ১৮ জন, রংপুর বিভাগের ১৬ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের সাত জন।

২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৬৭ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৫৭ জন এবং বাড়িতে ১৩ জন।

 

 

/জেএ/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

সর্বশেষ

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

ছাগল ধর্ষণ নিয়ে পাকিস্তানে তোলপাড়

ছাগল ধর্ষণ নিয়ে পাকিস্তানে তোলপাড়

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এডিপির ৪৪টি প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৫ ভাগ

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এডিপির ৪৪টি প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৫ ভাগ

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের শঙ্কা, আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ শতাধিক মানুষ

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের শঙ্কা, আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ শতাধিক মানুষ

জ্বালানি ১০৪ আর বিদ্যুৎ ৯৭ ভাগ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে

জ্বালানি ১০৪ আর বিদ্যুৎ ৯৭ ভাগ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে

রাজশাহীতে বিক্রি হয়নি ৭৩ হাজার কোরবানির পশু

রাজশাহীতে বিক্রি হয়নি ৭৩ হাজার কোরবানির পশু

করোনা কবলিত মালয়েশিয়ায় বিধিনিষেধ শিথিলে ক্ষোভ

করোনা কবলিত মালয়েশিয়ায় বিধিনিষেধ শিথিলে ক্ষোভ

লকডাউনে বিয়ের আয়োজন, বর-কনের বাবার জরিমানা

লকডাউনে বিয়ের আয়োজন, বর-কনের বাবার জরিমানা

কার্ভাডভ্যান চাপায় প্রাণ গেলো ব্যাংক কর্মকর্তার

কার্ভাডভ্যান চাপায় প্রাণ গেলো ব্যাংক কর্মকর্তার

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

অডিশন দিয়েও বলিউডে আসেননি ক্রেইগ, কারণ?

অডিশন দিয়েও বলিউডে আসেননি ক্রেইগ, কারণ?

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

করোনায় নারী মৃত্যু বেড়েছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

করোনায় নারী মৃত্যু বেড়েছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

একনেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনসংখ্যার ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে জরুরি উদ্যোগ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনসংখ্যার ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে জরুরি উদ্যোগ

একটা ‘রোডম্যাপ’ খুব জরুরি

একটা ‘রোডম্যাপ’ খুব জরুরি

© 2021 Bangla Tribune