X
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

তেঁতুলিয়ায় এবার দিনভর দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৪৯

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে প্রতিবছরের মতো পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার চোখধাঁধানো অপূর্ব সৌন্দর্য। ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশেপাশের জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা দলে দলে ভিড় করছেন এখানে। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই তাদের সংখ্যা বেড়ে চলছে।

গত কয়েক বছর ভোর থেকে সকাল ১০টা এবং বিকাল থেকে সন্ধ্যার আগমুহুর্ত পর্যন্ত তেঁতুলিয়ায় খালি চোখে দৃশ্যমান হয়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা। এবার সাম্প্রতিক বৃষ্টির সুবাদে আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় এবং বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ কম বলে ব্যতিক্রম চিত্র।
প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। সাধারণত তেঁতুলিয়া থেকে চোখে পড়লেও এবার পঞ্চগড়সহ পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার কিছু জায়গা থেকে এর সুউচ্চ চূড়া দৃশ্যমান হচ্ছে।

সূর্যোদয়ের পর ভোরের আকাশের নিচে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া প্রথমে কালচে-লাল দেখায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে রোদের ঝিকিমিকিতে নৈসর্গিক রূপ বদলাতে থাকে। সোনালি ও রুপালি বিচ্ছুরণের দৃশ্যমান হয় মনভোলানো শুভ্র বরফে আচ্ছাদিত পর্বতমালা। বিকালে কোমল সূর্যকিরণে চূড়াটি অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ধরা দেয়।

তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য ঢাকা থেকে আসা ফয়সাল একেক সময় কাঞ্চনজঙ্ঘার একেক রূপ দেখেছেন। তার কথায়, ‘ প্রকৃতি এখানে দারুণ সুন্দরভাবে সেজে আছে। এটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে মনে হচ্ছিল যেন ছুঁয়ে ফেলতে পারবো! অন্যান্য বছর এমন পরিষ্কারভাবে দেখা যায়নি।’

পঞ্চগড়ের আলোকচিত্রী আব্দুল্লাহ আল মারুফ মনে করেন, করোনাভাইরাস মহামারিতে আরোপিত লকডাউনের কারণে এমন হতে পারে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে মেঘমুক্ত আকাশে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা যায়। লকডাউনের কারণে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবং আকাশে মেঘ না থাকায় পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলা থেকে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দীর্ঘক্ষণ দৃশ্যমান হচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

নয়নাভিরাম হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবী হাতছানি চোখ জুড়ানো। তেঁতুলিয়া থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে হলেও হাত বাড়ালেই যেন শ্বেত-শুভ্র হিমালয়! গত ২৯ অক্টোবর থেকে এখানে দৃশ্যমান হয়েছে হিমালয় পর্বতমালার পর্বতশৃঙ্গটি।

বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের বুক চিরে বয়ে যাওয়া মহানন্দা নদীর পাড় থেকে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। ভোরের আলো ফোটার আগে অনেকে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোর আশপাশের এলাকায় জড়ো হচ্ছেন। অপরূপ পর্বতশৃঙ্গের পাশাপাশি চারপাশে সবুজের সমারোহ দেখে মুগ্ধ তারা।

তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য তেঁতুলিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমানের অনুভূতিতে, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে যতবার তাকিয়ে থাকি মন জুড়িয়ে যায়। এর প্রতি টান কখনও কমে না।’

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার সম্পা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোরের আকাশে বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর। তেঁতুলিয়ায় না এলে এটা বোঝা যাবে না।’

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ঠাকুরগাঁও থেকে আসা আরেক শিক্ষার্থী মুশফিরা রহমান উল্লেখ করেছেন, ‘তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে দারুণ লাগে। অন্য কোথাও থেকে এত পরিষ্কার দেখা যায় না এটি। এবার এর সৌন্দর্য আরও বেশি মনোরম মনে হচ্ছে।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকারিয়া রহমান এর আগে চারবার তেঁতুলিয়ায় এলেও পর্বতের দেখা পাননি। তবে পঞ্চম যাত্রায় তার সাধ পূরণ হয়েছে। রংপুরের এই তরুণ ভালো লাগার কথা অল্প কথায় জানিয়েছেন, ‘মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা অপরূপ।’

সুদূর সিলেট থেকে রংপুরে বেড়াতে এসে সজল দাশ শুভ জানতে পারেন– তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। দেরি না করে চলে এসে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখেছেন। বাংলাদেশের এই এলাকা থেকে পর্বতশৃঙ্গটি দেখতে পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন তিনি।

দিনাজপুর থেকে সপরিবারে এসেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশিকা আকবর তৃষা। সূর্যোদয়ের সময় বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করেছেন তিনি। পরে একাধিক স্পটে দাঁড়িয়ে পর্বতশৃঙ্গটির ভিন্ন রূপ দেখেছেন। তার চোখে, ‘এ দৃশ্য অসাধারণ তুলনাহীন। এখানকার প্রকৃতি ও মানুষের আতিথেয়তার জন্যই কাঞ্চনজঙ্ঘা এত সুন্দরভাবে আমাদের কাছে ধরা দিয়েছে।’

সারাবিশ্বের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কাঞ্চনজঙ্ঘা সিকিম রাজ্যের সঙ্গে নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে অবস্থিত। এর উচ্চতা ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার বা ২৮ হাজার ১৬৯ ফুট।

তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখছেন ভ্রমণপিপাসুরা সিকিম ও দার্জিলিং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা সচক্ষে উপভোগ করেছেন রাহী সরকার ও আয়শা সিদ্দিকা। পাঁচ বছর ধরে তেঁতুলিয়া থেকে এটি দেখার অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন ঢাকার এই দম্পতি। তাদের বর্ণনায়, ‘একেক জায়গায় কাঞ্চনজঙ্ঘার একেক রূপ। তেঁতুলিয়ায় নদী বয়ে যাচ্ছে, চারদিকে গ্রামীণ অবয়বে ধানক্ষেতে কাজ করছেন চাষিরা, তার ওপরে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য– সব মিলিয়ে এখান থেকেই আমাদের বেশি ভালো লেগেছে দেখতে।’

ঢাকার আরেক দম্পতি আরিফুল হক সরকার ও ফাতেমা জামান সীমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ট্রাভেলারস গ্রুপের মাধ্যমে তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাওয়ার খবর জেনেছেন। তারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা সরাসরি দেখার উদ্দেশে তেঁতুলিয়ায় আসা। সকাল-বিকাল কাঞ্চনজঙ্ঘার দুর্লভ দৃশ্য দেখেছি। এর সৌন্দর্য বলে বোঝানো যাবে না। আমাদের মনের ইচ্ছেটা পূরণ হয়েছে।’

ঢাকা থেকে সস্ত্রীক এসেছেন মো. শোয়েব। মহানন্দা নদীর পাড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সাধ ছিল তার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খুব কাছ থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখলাম। এ অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ। এখানকার রাস্তাঘাট, প্রকৃতি ও আবহাওয়া সবই অনেক সুন্দর। তবে থাকা-খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা থাকলে আরও ভালো লাগতো।’

একই মন্তব্য করেছেন ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা সানজিদ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালের অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘা সত্যিই অসাধারণ। এখানকার সবকিছুই ভালো। তবে ভালো মানের আবাসিক হোটেল নেই। পরিবার নিয়ে এসে এখানে থাকার সুযোগ নেই।’

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত তেঁতুলিয়ায় আবাসন ও ভালো মানের খাবার হোটেলের অভাবে ভোগান্তিতে পড়েন এমন অনেক পর্যটক। জেলা পরিষদের দুটি ডাকবাংলো, বেরং কমপ্লেক্সসহ সরকারি-বেসরকারি দুয়েকটি আবাসিক হোটেলে স্বল্পসংখ্যক পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা আছে।

আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহ মনে করেন, কাঞ্চনজঙ্ঘার টানে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের রাতযাপনের ইচ্ছা থাকলেও অধিকাংশই সেই সুযোগ পান না। আবাসন সংকট ও ভালো মানের খাবার হোটেলের অভাবে অনেককেই ফিরে যেতে হয় জেলা শহর পঞ্চগড়ে। তার মন্তব্য, ‘পর্যটন মোটেলসহ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখানে ভ্রমণপিপাসুর সংখ্যা বাড়বে। পর্যটক বাড়লে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনই সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।’

আবাসন সংকটের কথা স্বীকার করেছেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাসুদুল হক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তেঁতুলিয়ায় সরকারি ১৪টি কক্ষ রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি দুয়েকটি হোটেল আছে। যদিও বর্তমান চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। তাই পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এখানে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এর কাজ শুরু হলে আশা করি, তেঁতুলিয়ায় রাতযাপন নিয়ে পর্যটকদের আর সমস্যায় পড়তে হবে না।’

তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্যজেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ভৌগোলিক কারণে পঞ্চগড় বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী তেঁতুলিয়া সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। এখানে প্রতিবছরই পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। তার দাবি, সবার সুবিধার্থে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটনবান্ধব স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলছে।

ডিসি’র আশ্বাস, ‘পঞ্চগড়কে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন দফতরে আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। পর্যটকদের আবাসন সুবিধার বিষয়টি নিয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন।’

সাবিনা ইয়াসমিন মানছেন, জেলা পরিষদের দুটি ডাকবাংলো ও তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নারে স্থান সংকুলান হয় না। তিনি বলেন, ‘প্রায়ই এখানে ভিআইপি অতিথিরা আসেন। এজন্য পিকনিক কর্নারের পাশে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ বেরং কমপ্লেক্স নামে আরেকটি ডাকবাংলো গড়ে তোলা হয়েছে। অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এখানে আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। সব মিলিয়ে পরিবেশটা বরাবরের মতো ভ্রমণ উপযোগী। এখানে যে কেউ এসে মানসিক তৃপ্তি নিয়ে ঘুরে যেতে পারেন।’

একই সুরে ট্যুরিস্ট পুলিশ পঞ্চগড় জোনের ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের মন্তব্য, তেঁতুলিয়া শান্তিপূর্ণ উপজেলা। তবুও পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে বেড়াতে পারেন সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান তিনি। গত জুলাইয়ে তেঁতুলিয়ায় ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম চালু হয়েছে। তার কথায়, ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আন্তরিক পরিবেশ থাকায় এলাকাটিতে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।’

তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখছেন ভ্রমণপিপাসুরা পঞ্চগড়ের দর্শনীয় স্থান
অপূর্ব সবুজ নিসর্গ পঞ্চগড়ে রয়েছে সমতল ভূমির চা বাগান। সীমান্ত নদী মহানন্দার পাড়ে বসে সূর্যাস্ত উপভোগের অনুভূতি অন্যরকম। মোগল আমলের স্থাপত্য মির্জাপুর শাহী মসজিদ, বারো আউলিয়ার মাজার, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান বদেশ্বরী মন্দির (সীতার ৫১ পীঠের ১ পীঠ), দেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর রকস মিউজিয়াম, জেমকন গ্রুপের কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের আনন্দধারা, শিশুপার্ক, দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন ভিতরগড় দুর্গনগরী, দেড় হাজার বছরের পুরনো সুবিশাল মহারাজার দীঘি চোখ জুড়ানো। এছাড়া দেখা যায় ভূগর্ভস্থ ও নদী থেকে পাথর উত্তোলন।

যেভাবে আসবেন
ঢাকা থেকে পঞ্চগড় কিংবা তেঁতুলিয়া অথবা বাংলাবান্ধায় সরাসরি দূরপাল্লার কোচ (দিবারাত্রি) যাতায়াত করে। ঢাকা থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, নাবিল পরিবহন, এনা পরিবহন ও শ্যামলীর এসি/নন-এসি বাস রয়েছে। এসব যানবাহনে চড়ে তেঁতুলিয়ায় চলে আসা যায়।

রেলপথে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা বা দ্রুতযান এক্সপ্রেসে চলে আসতে পারেন পঞ্চগড়। রাজশাহী থেকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসে করে আসা যায়। বিকল্প হিসেবে ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর পর্যন্ত আসা যায়। এরপর বাস, মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কারে যাওয়া যাবে তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা।

অ্যাপল ট্যুরিজমের মাহাবুবুল আলম মন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মাগুরমারী চৌরাস্তা থেকে তেঁতুলিয়া বা বাংলাবান্ধা পর্যন্ত গিয়ে পর্যটকরা কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করেন। বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার।

যেখানে থাকতে পারেন
তেঁতুলিয়ায় সরকারি তিনটি ডাকবাংলোর পাশাপাশি আবাসিক হোটেল আছে। ডাকবাংলোয় থাকতে হলে আগেভাগে উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। তিনটি ডাকবাংলোর ৯টি বেডে সর্বোচ্চ ১৮ জন থাকতে পারেন। এখানে ডাকবাংলো বা হোটেল ফাঁকা না পেলে পঞ্চগড়ে যেতে হবে। ডাকবাংলো থেকে দেখা যায় দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, হিমালয়, এভারেস্ট ও কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য।

আরও পড়ুন-

তেঁতুলিয়ায় দেখা যাচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা

‘পঞ্চগড়’ নামটি এসেছে যেভাবে



/জেএইচ/

সম্পর্কিত

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

হলিডে প্যাকেজ ঘোষণা

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১০:৫৮

আগামী ১৯ নভেম্বর ঢাকা থেকে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। বাংলাদেশি পর্যটকদের ন্যূনতম খরচে মালদ্বীপ ঘুরে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে বেসরকারি এই সংস্থা। এসব হলিডে প্যাকেজ চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর আধুনিকতার অপূর্ব মিশ্রণের শহর মালদ্বীপের ভ্রমণকে উপভোগ্য করতে প্রতি জনের জন্য ন্যূনতম ৫৮ হাজার ৯৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্যুর প্যাকেজটিতে দুই রাত তিন দিন থাকা, ঢাকা-মালে-ঢাকা রুটের সকল প্রকার ট্যাক্সসহ এয়ার টিকেট, এয়ারপোর্ট-হোটেল-এয়ারপোর্ট যাতায়াত, সকালের নাস্তাসহ আরও নানান সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।’

ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, ১৯ নভেম্বর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিনদিন ঢাকা-মালে-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। দেশীয় পর্যটন বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় পর্যটকদের বিভিন্ন দেশে স্বল্প খরচে ঘুরে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে ইউএস-বাংলা।

পর্যটকদের সুবিধার্থে ইউএস-বাংলা’র হলিডে প্যাকেজগুলো বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনা সুদে ছয় মাসের ইএমআই সুবিধাও দিচ্ছে।

/সিএ/এমএস/

সম্পর্কিত

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

ঢাকায় ১৪ ডিসেম্বর থেকে এমিরেটসের ফ্লাইট বাড়ছে

ঢাকায় ১৪ ডিসেম্বর থেকে এমিরেটসের ফ্লাইট বাড়ছে

যাত্রী ও কর্মীদের অনুদানে শিশুদের পাশে এমিরেটস এয়ারলাইন ফাউন্ডেশন

যাত্রী ও কর্মীদের অনুদানে শিশুদের পাশে এমিরেটস এয়ারলাইন ফাউন্ডেশন

ঢাকায় ফ্লাইট শুরু করছে ভারতের গো এয়ার

ঢাকায় ফ্লাইট শুরু করছে ভারতের গো এয়ার

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯:১১

ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে আগামী ২১ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এয়ার বাবল চুক্তির অধীনে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। রবিবার (১৭ অক্টোবর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খবরটি জানিয়েছে বেসরকারি এই সংস্থা।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানান, ভিসা সংক্রান্ত সব ধরনের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে এয়ার বাবল চুক্তির অধীনে ভারতে ভ্রমণ করা যাবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেক যাত্রীর কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট থাকা আবশ্যক। এছাড়া কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের পর ভ্রমণকারীদের নিজ খরচে মলিকুলার টেস্ট করাতে হবে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতি বৃহস্পতি ও শনিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে কলকাতায় স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে পৌঁছাবে। একইদিন সকাল ১১টায় কলকাতার নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করবে। ১৬৪ আসনের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে কলকাতা রুটের ফ্লাইট পরিচালিত হবে। 

সব ধরনের ট্যাক্স ও সারচার্জসহ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে কলকাতায় ওয়ান-ওয়ের ন্যূনতম ভাড়া ৭ হাজার ২২৬ টাকা এবং রিটার্ন টিকিটের ভাড়া ১২ হাজার ৭৩৩ টাকা নির্ধারণ করেছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস বর্তমানে সিঙ্গাপুর, ভারতের চেন্নাই, ওমানের মাস্কাট, কাতারের দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এবং চীনের গুয়াংজু রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে ঢাকা-মালে সরাসরি ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। করোনার কারণে ব্যাংকক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ আছে।

অভ্যন্তরীণ রুট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশালে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এছাড়া যশোর থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং সৈয়দপুর থেকে চট্টগ্রামে ফ্লাইট চলছে এই সংস্থার। 

বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, সাতটি ব্র্যান্ড নিউ এটিআর ৭২-৬০০সহ মোট ১৪টি এয়ারক্রাফট রয়েছে।

/সিএ/জেএইচ/

সম্পর্কিত

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

ঢাকায় ১৪ ডিসেম্বর থেকে এমিরেটসের ফ্লাইট বাড়ছে

ঢাকায় ১৪ ডিসেম্বর থেকে এমিরেটসের ফ্লাইট বাড়ছে

যাত্রী ও কর্মীদের অনুদানে শিশুদের পাশে এমিরেটস এয়ারলাইন ফাউন্ডেশন

যাত্রী ও কর্মীদের অনুদানে শিশুদের পাশে এমিরেটস এয়ারলাইন ফাউন্ডেশন

ঢাকায় ফ্লাইট শুরু করছে ভারতের গো এয়ার

ঢাকায় ফ্লাইট শুরু করছে ভারতের গো এয়ার

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ১৪:৪০

করোনার আগ্রাসনে গেল বছর বিশ্বজুড়ে সব কিছুই থমকে গিয়েছিলো। ঘর থেকে বের হওয়াই যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে বিদেশ ভ্রমণ তো দূরের কথা! বিশ্বজুড়ে তাই বড় বড় পর্যটন স্পটগুলো বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে এই করোনার আগ্রাসনকেও বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মালদ্বীপ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এক ট্যুরিস্ট স্পটে পরিণত হয় গত বছর। কীভাবে তা সম্ভব হলো?

মন ভোলানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য মালদ্বীপকে রোমান্সের এক ক্ষেত্র হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তাই কোয়ালিটি টাইম কাটাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানা বয়সী মানুষ ছুটে যান সেখানে। প্রতি বছর মালদ্বীপে প্রায় ২০ লাখ পর্যটক সমাগম হয়। কোভিড নাইনটিনের কারণে গেল বছরে সেই সংখ্যা ৫ লাখে নেমে এলেও  বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন স্পটের তালিকায় ঠিকই উপরের দিকে ছিলো দ্বীপদেশ মালদ্বীপ। বিশ্বের বেশরিভাগ পর্যটন স্পট করোনার কারণে বন্ধ থাকলেও গত বছরের জুলাই মাস থেকেই সব দেশের পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয় মালদ্বীপ। এক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়টা অনেকাংশেই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্য মতে মালদ্বীপের জিডিপিতে ২৮ শতাংশ অবদান রাখে পর্যটন খাত, যা বিশ্বে খুব কম দেশেই দেখা যায়।

করোনার দুঃসময়ে যখন তাহিতি, বালি, ফুকেটের মতো পর্যটন দ্বীপঅঞ্চলগুলো বন্ধ ছিলো, তখন সুযোগটা ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে মালদ্বীপ। কয়েকটি দেশে করোনা সতর্কতা হিসেবে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিলো। যেমন- থাইল্যান্ড ও শ্রীলংকায় গেলে সেখানে হোটেলে দুই সপ্তাহ বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থেকে এরপর দেশ দুটির অন্য স্থানে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো। এক্ষেত্রে মালদ্বীপ কোনও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। শুধুমাত্র পর্যটকদের কোভিড নাইনটিন টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট দেখালেই মিলেছে মালদ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ। অনেক ক্ষেত্রে রিসোর্টে পর্যটকদের করোনা টেস্ট করানো হতো। মালদ্বীপের পর্যটন সংস্থা জানিয়েছে, দ্বীপদেশটির বিশেষ ভৌগলিক অবস্থান করোনাকালেও দেশটির পর্যটন ব্যবসা অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পর্যটকদের বিভিন্ন দ্বীপের রিসোর্টে থাকার যে সুব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে, তাতে সামাজিক দূরত্বের শর্তটাও সহজে বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। অনেক রিসোর্টে প্রাইভেট বোট বা প্লেন ছিলো। এতে করে পর্যটকরা ভিড়ের শংকা থেকেও রেহাই পেয়েছেন।

অনেক রিসোর্ট তুলনামূলক কম খরচে মাসব্যাপী পর্যটকদের থাকার সুযোগও করে দেয়। যেমন ২৮ দিনের জন্য চার সদস্যের পরিবারের কাছ থেকে খাবার, হাই স্পিড ইন্টারনেট ও বেশ কিছু সুবিধাসহ থাকার জন্য ৪২ হাজার ৬০০ ডলারের মতো নেওয়া হতো। এমনকি ‘দ্য অনন্তারা ভেলি’ নামের একটি রিসোর্ট আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দারুণ এক সুযোগ করে দেয়। তাদের প্যাকেজ অনুযায়ী পর্যটকদের এক বছরের জন্য ৩০ হাজার ডলারে থাকার সুযোগ ছিলো। এসব মন ভোলানো অফার বিশ্বের অন্য কোনো পর্যটন কেন্দ্রে করোনাকালে কেউ আর দেয়নি। মালদ্বীপের আরেকটি বড় ইতিবাচক দিক হলো ওয়ার্ল্ড মিটারের তথ্য মতে করোনায় শুরু থেকে গত মাস পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় মারা গেছে মাত্র ৬৪ জন। আর করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজারের মতো মানুষ। তাই প্রকৃতির উদার সৌন্দর্যে ভরা, নিরাপদ পর্যটন স্পট হিসেবে মালদ্বীপকে বেছে নিতে পর্যটকরা খুব বেশি ভাবেননি।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

/এনএ/

সম্পর্কিত

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২১, ১৪:০৫

সময়টা ২০১০ সাল। রফিক সাহেব তার পুরো পরিবার নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার প্ল্যান করছেন অনেকদিন ধরেই। কিন্তু সবার সময়ের মিলটা ঠিক একসাথে হয়ে উঠছিলো না দেখেই যাওয়াটা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু এবার সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে বেশ বড় একটা ছুটি সবাই একসাথেই পেয়েছে, তাই সুযোগটা আর হাতছাড়া করতে চাইছেন না তিনি। পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন বলেই একটু ভালো হোটেল এ উঠতে চাইছেন এবার, যেখানে রুমগুলো বড় এবং নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। 

তিনি কল করলেন তার পরিচিত একটি বড় হোটেলেই। জানতে চাইলেন যে তার ওই তারিখের মধ্যে ভালো কোনও রুম অ্যাভেইলেবল আছে কিনা। হোটেল রিসিপশন থেকে পাওয়া উত্তরটা শুনে কিছুটা হলেও একটু ভড়কে গেলেন। সরকারি এবং সাপ্তাহিক ছুটি পরপর হওয়াতে প্রচুর মানুষ নাকি হোটেল রুমের খোঁজ করছেন এবং যে যেটা অ্যাভেইলেবল পাচ্ছেন, নিয়ে নিচ্ছেন। এমন অবস্থায় রফিক সাহেবের মন মতো রুম পাওয়াটা নাকি বেশ কঠিন হবে। পাওয়া গেলেও, তাকে বেশ অনেকখানি টাকা খরচ করতে হবে। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তিনি জানতে পারলেন যে হোটেলে দুটো রুম রফিক সাহেবকে দেওয়া সম্ভব, কিন্তু পর্যটকদের চাহিদা প্রচুর হওয়াতে তাকে পরিশোধ করতে হবে বেশ চড়া দাম, যা কিনা স্বাভাবিক দামের চেয়ে অনেক বেশি। রুমের সাইজটা কেমন, অন্যান্য কী কী ফ্যাসিলিটি আছে, লেট চেক আউটের ব্যবস্থা করা সম্ভব কিনা, এমন কী রুম নেওয়ার সাথে হোটেলের অন্যান্য কী কী সুযোগ সুবিধা তিনি পাবেন, তার কিছুই তিনি জানতে পারলেন না। তাকে জানানো হল, সব কিছু নাকি রুমে চেকইন করার পর নিজেই বুঝতে পারবেন। খানিকটা সংকোচবোধের পরেও রফিক সাহেব তার পরিবারের কথা চিন্তা করে রুম ২টি বুক করেই ফেললেন, পরে যদি এটাও না পাওয়া যায় এই ভয়ে। 

হোটেলে চেকইন করার পর তো তিনি বেশ বিব্রতই হলেন। যেমনটা তিনি আশা করেছিলেন, রুমগুলো তেমন নয়। এতো বড় হোটেলের রুমগুলোতে তিনি বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা আশা করেছিলেন যার কোনটিই তিনি পাচ্ছেন না প্রচুর পর্যটক হওয়াতে। সি ভিউ রুম তো পাননি, উল্টো যে রুমটা তাকে দেওয়া হয়েছে, সেখানে বারান্দাই নেই কোনও। কিন্তু কিছু করার ছিল না তার এই ব্যাপারে, এই রুম দুটোই নাকি শুধু মাত্র অ্যাভেইলেবল ছিল। 

২০২০ সাল। রফিক সাহেবের ছেলে আদনান তার বাবা-মাসহ পুরো পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে যাবে কক্সবাজার। তার বাবা যাওয়ার দুদিন আগে ওকে জিজ্ঞেস করলেন, হোটেল কিছু ঠিকঠাক করা আছে কিনা। নাকি তিনি তার সেই এজেন্টকে ফোন দিয়ে ব্যবস্থা করে দিতে বলবেন, আদনান তার বাবার কথা শুনে এবার একটু হেসেই ফেললো। অনলাইন ট্র্যাভেল বুকিং প্ল্যাটফর্মগুলো যে ঘরে বসেই হোটেল বুকিং প্রসেসটা কতো সহজ করে ফেলেছে, তা বোধয় বাবা এখনও জানেনই না! 

বাবার সামনেই গো যায়ানের ওয়েবসাইটে লগইন করে প্রথমেই তার চেকইন এবং চেকআউট এর ডেটটা ইনপুট করলো আদনান। যথারীতি কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই ওই দিনগুলোতে পুরো কক্সবাজারে যতগুলো হোটেল গো যায়ানের ইনভেন্টরিতে ছিল, সবগুলো স্ক্রিনে চলে এলো। প্রায় সবগুলো হোটেলেই বেশ ভালো ডিসকাউন্ট গো যায়ানের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় বলেই এখান থেকেই সব ধরনের হোটেল বুকিং করে আদনান। যেহেতু পরিবার নিয়ে যাচ্ছে, তাই ফিল্টার অপশন থেকে আগেই সে ৪ স্টার এবং ৫ স্টার ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে নিয়ে সেই মানের হোটেলগুলো শর্ট লিস্ট করে ফেললো। রফিক সাহেব বেশ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, যে রুমে কি কি ফ্যাসিলিটি আছে সেটা আগে থেকেই দেখে নেওয়া সম্ভব কিনা। আদনান ফোনটা বাবার হাতে দিয়ে ফিল্টার অপশন থেকেই ফ্যাসিলিটি লিস্টটা বের করে বললো কোন কোন সুযোগ সুবিধা তিনি চান, যেন একদম মন মতো সিলেক্ট করে ফেলেন। ব্রেকফাস্ট, সুইমিং পুল, ফিটনেস সেন্টার, লেটচেক আউটসহ আরও কতো রকমের সুযোগ সুবিধার কথা যে সেখানে দেওয়া আছে! রফিক সাহেব বেশ অবাক হলেন দেখে। এরপর নির্ধারিত সুযোগ সুবিধাগুলো সিলেক্ট করে যতগুলো হোটেলে সেসব অ্যাভেইলেবল আছে, তা চলে এলো। সেখান থেকেই একটা হোটেল সিলেক্ট করে আদনান বাবাকে জিজ্ঞেস করলো কী ধরনের রুম তার পছন্দ। রফিক সাহেব বললেন, হোটেলের কোন রুমটা তিনি চাইছেন, সেটাও সিলেক্ট করা সম্ভব? সি ভিউ থেকে শুরু করে হিল ভিউ রুম, টুইন রুম এবং ডিলাক্স কাপল রুম এমনকি জুনিয়র স্যুটও বুক করা সম্ভব নিজের পছন্দ অনুযায়ী ওয়েবসাইট এই। পুরো পরিবার নিয়ে যেন একসাথেই থাকতে পারে, আদনান একটা জুনিয়র স্যুট বুক করে ফেললো এবং সেই সাথে ওয়েবসাইটেই একটি এক্সট্রা বেড দিয়ে দেওয়ার অনুরোধটাও করে দিলো। এবার পেমেন্টের পালা, অনলাইনেই মোবাইলে ব্যাংকিং এবং কার্ড পেমেন্টের মধ্যে ডিসকাউন্ট অফারগুলো একটু দেখে পেমেন্ট কমপ্লিট করতেই ই-মেইলে চলে এলো কনফার্মেশন। এবার সেই মেইলটা বাবাকে দেখিয়েই বললো আদনান, এই ই-মেইলটা রিসিপশনে দেখালেই নাকি কাজ হয়ে যাবে, আর কিছু লাগবে না! রফিক সাহেব তো অবাক! 

দেশ জুড়ে প্রায় ১৫০টিরও বেশি হোটেলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া গো যায়ান এ ইতোমধ্যেই আছে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, কুয়াকাটা ও বান্দরবনের অধিকাংশ ৫ তারকা, ৪ তারকা ও ৩ তারকা হোটেল। রয়্যাল টিউলিপ, সায়েমান বিচ রিসোর্ট, ওশেন প্যারাডাইস, সিগাল হোটেল, লং বিচ, সি ক্রাউন,  দ্য কক্স টুডে, গ্র্যান্ড সুলতান, দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, ফয়েজ লেক, রিসোর্ট আটলান্টিস, ট্রপিকাল ডেইজি, শিকদার রিসোর্ট, রোজ ভিউ, মোমো ইনসহ আরও স্বনামধন্য হোটেল যে কেউ বুক করতে পারবে অনলাইনেই! 

আর অনলাইন পেমেন্টে সকল সুবিধা এবং চমৎকার সব ডিসকাউন্ট নিয়ে গো যায়ানের সাথে পার্টনারশিপে এসেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটি এমেক্স, ইবিএল, ইউসিবি, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, লঙ্কা বাংলা, বিকাশ এবং নগদ। 

হোটেল বুকিং এর অভিজ্ঞতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে গো যায়ান কাজ করে যাচ্ছে ২০১৭ থেকেই। ভ্রমণ পিপাসুদেরকে ভ্রমণে আরও বেশি উৎসাহ দিতেই পুরো ভ্রমণ সংক্রান্ত সকল ব্যবস্থা নিয়ে আসা হয়েছে অনলাইনে, গো যায়ানের ওয়েবসাইটে। 

কোনও ঝামেলা ছাড়াই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যেকোনো হোটেল বুক করতে ক্লিক করুন এখানে এবং সেই সাথে হোটেল সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে ভিজিট করুন বা কল করুন গো যায়ানের হট লাইন নাম্বারে ০৯৬৭৮-৩৩২২১১।

/এনএ/

সম্পর্কিত

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:২৬

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ভ্রমণপ্রিয়রা শুরু করেছেন ঘোরাঘুরি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের পাশাপাশি অনেকে যাচ্ছেন দেশের বাইরেও। যদিও বেশিরভাগ দেশই এখনও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য দুয়ার খোলেনি। তবে আশা করা যায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরতে শুরু করবে পর্যটনশিল্প। ভ্রমণপ্রিয়রা এখন থেকেই আলাদা করে ফেলতে পারেন ভ্রমণ খাত। জেনে নিন ভ্রমণে গেলে কীভাবে লাগাম টেনে ধরবেন খরচের।

  • ট্রিপের চার-পাঁচ মাস আগে টিকিট কেটে ফেলুন। এতে মূল্য বেশ খানিকটা কম থাকে।
  • প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ভ্রমণ খাতে জমা রাখুন। এতে ভ্রমণের সময় অনেকটাই নিশ্চিতে থাকতে পারবেন।
  • কম খরচের ঘুরতে চাইলে কয়েকজন একসঙ্গে ঘোরার পরিকল্পনা করুন। এতে মাথা পিছু খরচ বেশ কিছুটা কমে যায়।
  • বাইরে ঘুরতে গিয়ে বিলাসি পদে মনোযোগ না দিয়ে সেই স্থানের বিশেষ খাবারগুলো পরখ করে দেখুন।
  • বিমানে যাতায়াত করলে ব্যাগের ওজনের দিকে নজর দিন।
  • ভ্রমণে গেলে লোকাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের চেষ্টা করুন। 
  • নতুন কোথাও গেলে কেনাকাটা বাবদ নির্দিষ্ট বাজেট রাখুন। এর বাইরে খরচ করবেন না।
/এনএ/

সম্পর্কিত

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

হলিডে প্যাকেজ ঘোষণা১৯ নভেম্বর থেকে মালে যাবে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

ঢাকা-কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট শুরু ২১ অক্টোবর

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

করোনাকালেও যেভাবে পর্যটনশিল্পে সেরা মালদ্বীপ

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

হোটেল বুকিং হোক আরও সহজে গো যায়ানের সাথে

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

ভ্রমণে খরচ কমানোর ৭ উপায়

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢেউ: রুম নেই, রাত কাটছে বালিয়াড়িতে

কক্সবাজার সৈকতে মানুষের ঢেউ: রুম নেই, রাত কাটছে বালিয়াড়িতে

ট্রাভেল এজেন্টদের জন্য এমিরেটসের সরাসরি বুকিং প্ল্যাটফর্ম

ট্রাভেল এজেন্টদের জন্য এমিরেটসের সরাসরি বুকিং প্ল্যাটফর্ম

কক্সবাজারে ১০ লাখ পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা

কক্সবাজারে ১০ লাখ পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা

যাত্রা শুরু সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের

যাত্রা শুরু সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের

সর্বশেষ

ডোবার পানিতে ঠাণ্ডা হতো মিষ্টির ছানা

ডোবার পানিতে ঠাণ্ডা হতো মিষ্টির ছানা

নয়া পল্টনে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

নয়া পল্টনে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

বাড়ির পাশে ফল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

বাড়ির পাশে ফল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

তবু আগ্রাসী ব্যাটিং ছাড়বে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ

তবু আগ্রাসী ব্যাটিং ছাড়বে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ

আসছে অন-ডিমান্ড টিউটরিং প্ল্যাটফর্ম ‘পড়াই’

নতুন স্টার্টআপআসছে অন-ডিমান্ড টিউটরিং প্ল্যাটফর্ম ‘পড়াই’

© 2021 Bangla Tribune