X
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

ভোটের আড়ালের যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২০, ১৮:০৮

তুষার আবদুল্লাহ স্বপ্ন ভঙ্গের দেশের ভোট নিয়ে এদেশের সবার ঘুম উধাও। আমি জানি ওদেশের আম মানুষ কফি, ডোনাট আর নরম-কঠোর পানীয় নিয়ে মেতে আছে। ভোট নিয়ে তাদের ভাবনা নেই। ডোনাট, বার্গার আর পানীয়ের দাম না বাড়লেই খুশি। কেউ কেউ কান পেতে রাখছে, নতুন অভিবাসী এসে আবার তার কাজে না ভাগ বসায়। এবারের মার্কিন ভোট নিয়ে আফসোস আছে আমার। অতিমারির প্রতি ফুঁসে আছি। যাওয়া হলো না। এমন এক উত্তেজনা ও ঘটনাবহুল ভোটে।
ওখানকার ভোটের প্রচারণা ও ভোটের দিনের প্রতি আমার কোনও আর্কষণ নেই। বাঙালি পাড়ার উত্তেজনার বাইরে ভোট খুবই সাদামাটা। ভোট দিতে যেন নাগরিকেরা যান, সেজন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদবির করতেও দেখেছি স্থানীয় সংগঠনগুলোকে। তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ঘুরে নানা পেশা, বর্ণ ও ধর্মের মানুষের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতার কাছে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা একেবারেই বিবর্ণ। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা ভোট নিয়ে ভাবেন না। কে ভোটে দাঁড়ালো তা নিয়েও মাথাব্যথা নেই। ডেমোক্র‌্যাট এবং রিপাবলিকানের খাতায় যাদের নাম তোলা আছে, তারা তর্ক করেন, সমবেত হন বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও মিলনায়তনে। স্থানীয় গণমাধ্যমেও তারা নিজেদের নিয়ে সোচ্চার থাকেন। ২০১৬ সালে ট্রাম্প যে বছর জিতে এলো—রাজ্যে রাজ্যে ঘুরে শুধু কিছু ফেস্টুন দেখেছি রাস্তার পাশে। দুই প্রার্থী যখন যেখানে গেছেন সেখানে ভিড় ছিল কর্মীদের। এর বাইরে ভোট নিয়ে কথা নেই। বার, রেস্তোরাঁ, মার্কেট, পার্কে কান পেতে দেখেছি, সরাসরি কথা বলেও দেখেছি, তারা ভোট নিয়ে চিন্তিত নন। কাজ, সপ্তাহ শেষে মজুরি পেলেই খুশি। ট্রাম্প, হিলারি–কে এলো তাতে ওদের কিচ্ছু যায় আসে না।

সত্যি কি আসে না? আসলে এই যে ভোট নিয়ে মস্তিষ্ককে ব্যস্ত না করে তোলা, একে আম মার্কিনিদের এক প্রকার প্রতিবাদও বলা যেতে পারে। কারণ তারা জানেন, তাদের ভোটই চূড়ান্ত নয়। জনপ্রিয় বা যাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন নাগরিক সাদা বাড়িতে দেখতে চান, তিনি ওই বাড়িতে প্রবেশ নাও করতে পারেন। সাদা বাড়িতে প্রবেশের চাবি আসলে ইলেক্টোরাল কলেজের মোড়কে কতিপয় দলীয় প্রতিনিধির হাতে। তাদের মন স্থির বা বিগড়ে যাবার ওপর ভরসা করতে হয়। বিগত শতাব্দীতে এই আইনটিও করা হয়েছিল আম মানুষকে হেয় করেই। ভাবা হচ্ছিল, সাধারণ মানুষের নেতৃত্ব নির্বাচনের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা নেই। তাই তাদের হয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করে আসছেন ৫৩৮ জন প্রতিনিধি। এর মধ্যে ২৭০ জনের রায় যিনি পাবেন, তিনি পান সাদা বাড়িতে প্রবেশের চাবি। জনভোট বেশি পেয়েও হিলারি ক্লিনটন নয়,  মার্কিন অধিপতি হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ সালে ভোটের চেয়েও রোমাঞ্চ বোধ করেছি ফলাফল ঘোষণার নিউইয়র্কে  ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভে থেকে।

প্রায় দশদিন ট্রাম্প বিরোধী সেই বিক্ষোভে থেকে এবং একডজন অঙ্গরাজ্য ঘুরে দেখেছি, জেনেছি সেখানকার মানুষগুলো কেমন দূরে সরে যাচ্ছে পরস্পরের থেকে। একের প্রতি অন্যের কী বীভৎস্য ঘৃণা তৈরি হচ্ছে। অভিবাসীদের দেশ আমেরিকা। আদি অভিবাসী যারা, যেমন আইরিশ। জো বাইডেন নির্বাচিত হলে তিনি হবেন আমেরিকার ২৩তম আইরিশ বংশোদ্ভূত প্রেসিডেন্ট। এমন যারা পুরাতন আছেন তারা আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করেছে ৫০ অঙ্গরাজ্যেই। নতুন সইতে পারে না তারা। প্রবল রং বৈষম্যের সঙ্গে আছে ধর্মীয় বৈষম্য। সাধারণের ধারণা থাকতে পারে আমেরিকা নারীচোখে বিশ্ব দেখতে অভ্যস্ত। সমাজের নানা ক্ষেত্রে, এমনকি হিলারিকে দেখেও তাই মনে হতে পারে। গণতন্ত্র, মানবাধিকারের বুলি ও পতাকা উড়ানো আমেরিকা এখনও মানসিকভাবে তৈরি হতে পারেনি রাষ্ট্রের প্রথম নাগরিক হন কোনও নারী। হিলারির নানা কূটনৈতিক দোষ হয়তো ছিল, কিন্তু শুধু নারী বলেই আর তার পক্ষে ক্লিনটনকে নিয়ে আর সাদা বাড়িতে ফেরা হয়নি। ২০১২ তে ভার্জিনিয়াতে  মেট্রোতে সাদা রংয়ের একজন আমার পাশে বসতে চাননি। একই ঘটনা নিউইয়র্কে ঘটেছে ২০১৬ সালে। ২০২০ একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হতো কিনা জানি না। তবে এতটুকু জানি—আয় রোজগার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিন্তায় দূরত্ব বাড়ছে ওদের। অসহিষ্ণু তারা বরাবরই থাকে। এটি অভিবাসীদের জিনগত অসুস্থতা। সেই রোগটাও বেড়েছে ওদের। হয়তো বাইডেনই যাচ্ছেন সাদা বাড়িতে। যতদূর খবর নিয়েছি, খুব সাদা মনের মানুষ নন তিনি। অতীতে ইরাকসহ নানা যুদ্ধ বা আক্রমণে সায় ছিল বা অনুমোদন ছিল তার।  পরবর্তীতে  বড় পুত্রের কর্কট রোগে মৃত্যুর পর তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা যায়। কোনও কোনও অভিযানে নাবোধক অবস্থান ছিল এই অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান ডেমোক্র‌্যাটের। তবে দ্বিধা ও চঞ্চল মন নিয়ে, তিনি ভূ-গোলকের জন্য কতটা উপকারী হবেন বলা মুশকিল।

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

/এসএএস/এমএমজে/

সম্পর্কিত

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

ভোটের হাওয়া লাগলো মাঠে

ভোটের হাওয়া লাগলো মাঠে

গণমাধ্যমে বিভীষণ

গণমাধ্যমে বিভীষণ

শহর কেন গতিহীন?

শহর কেন গতিহীন?

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৩২

তুষার আবদুল্লাহ কতদিনই তো বলেছি, লিখেছি শিক্ষক খুঁজে বেড়াই। শহর-গ্রাম, প্রাথমিক- বিশ্ববিদ্যালয়, দুর্লভ হয়ে উঠছেন শিক্ষক। যদি ‘পদ’ বিবেচনায় বলি সর্বত্র আছেন তাঁরা। পাঠ্যক্রম অনুসারে পাঠদান করে যাচ্ছেন শ্রেণিকক্ষে এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে। এই পদধারী শিক্ষকদের আমার আর দশটা চাকরিজীবীদের মতোই মনে হয়। শিক্ষক বলতে ছোটবেলা থেকে যাদের দেখেছি, তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে হয়নি। দেখেই বুঝে নেওয়া যেত ‘তিনি’ শিক্ষক। শুধু বিদ্যায়তনে নয়, গ্রামে, মহল্লায় যিনি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁকে আমরা চিনি নিতাম তাঁর নৈতিক আচরণ, কথা বলার ভঙ্গী, চলাচলের ঋজুতা, সর্বোপরি ব্যক্তিত্ব দিয়ে।

আজকাল বিদ্যায়তনে গিয়েও চিনে নেওয়া মুশকিল কে শিক্ষক। আমরা যাদের শিক্ষক বলে জেনে এসেছিলাম, তাদের বেশিরভাগই শিক্ষকতার এসেছিলেন, এই পেশাকে ভালোবেসে। তারা জানতেন এই পেশা সমাজের সর্বোচ্চ মর্যাদাপ্রাপ্ত। একই সঙ্গে তাদের ছিল নিজের জ্ঞানকে অন্যের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার স্পিৃহা। সেই সময়ের শিক্ষকরা আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন না। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে নাটক সিনেমায় হেঁয়েলি করেই বলা হতো ‘গরিব স্কুল মাস্টার’। যারা কোচিং, টিউশনিতে বাজিমাত করতে পারেননি, তারা এখনও গরিবের সীমারেখা অতিক্রম করতে পারেননি। আর্থিকভাবে যেমন দারিদ্রের সীমা ডিঙানো যায়নি, তেমনি আবার ধীরে ধীরে শিক্ষকরা সম্মানের জায়গাতে গরিবের সীমানায় ঢুকে পড়েছেন। সমাজের আর্থিক সচ্ছ্লতা যত বেড়েছে, শিক্ষকের সম্মান ও মর্যাদা কমেছে তারচেয়েও বেশি। এর একটি বড় কারণ, শিক্ষকদের একটি বড় অংশের  চাকরি এখন কারখানার শ্রমিকের মতোই মালিকের ইচ্ছের ওপর নির্ভরশীল। শ্রমিক তুল্য পেশায় যোগ্য শিক্ষক দুর্লভ হবেন এটাই স্বাভাবিক।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা দিবসের একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘অন্য কোনও পেশায় কাজ জুটাতে না পেরে অনেকে শিক্ষকতায় এসেছেন।’ কথা সত্য। কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক থেকে শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অবধি একথা নিশ্চিন্তে বলা যেতে পারে।

বিসিএস শিক্ষার বেলাতেও একই কথা। সরকারি স্কুল-কলেজে পড়ার অভিজ্ঞতা আমার নিজেরই আছে। স্কুলের বেলাতে দেখেছি স্কুলটি সরকারি হওয়ার আগে যারা শিক্ষক ছিলেন তাদের সঙ্গে বিসিএস বা সরকারি কোটায় চাকরি প্রাপ্তদের পার্থক্য। এদের শিক্ষক হওয়ার কোনও প্রস্তুতি ছিল না। শিক্ষক হবেন এমন স্বপ্নও ছিল না তাদের। অন্য আর দশটা চাকরি হিসেবে নিয়েছিল এই পেশাকে। তাই তাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি, মেধার দ্যুতি ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ‘শিক্ষক’ এর দূরত্ব অনেক। এখানে একথাও স্বীকার করে নিতে হয় সরকারি কোটা ছাড়া যাদের শিক্ষক হিসেবে পেয়েছি, তাদেরও একটি অংশ নিরুপায় হয়ে এই পেশায় এসেছিলেন। প্রতিষ্ঠাতা, গভর্নিংবডির আত্মীয় পরিজনের কোটায় তারা চাকরি পান। অর্থাৎ জ্ঞানে ও মানসিকতায় তারাও শিক্ষক হবার জন্য তৈরি ছিলেন না। এখনও নেই। পেশাগত ও সাংগঠনিক কাজে বিদ্যায়তনে যেতে হয় নিয়মিত। বেসরকারি ও সরকারি দুই দিকেই দেখেছি বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক সংকট। এবং প্রত্যাশিত শিক্ষকের অনুপস্থিতি।

বেসরকারি ও সরকারি দু জায়গাতেই প্রকৃত শিক্ষকদের স্বাগত জানানোর পরিবেশ নেই। গভর্নিংবডি, প্রতিষ্ঠাতারা শিক্ষকদের সঙ্গে ‘ভৃত্য’ তুল্য আচরণ করেন। তাদের খেয়ালে চাকরি হয়, তাদের খেয়ালে চাকরি যায়। আছে রাজনৈতিক প্রভাবও। রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শন না করলে চাকরি ঝুঁকি মধ্যে পড়ে যায়। এমন বেশ কিছু বিদ্যায়তন দেখেছি যেখানে প্রধানশিক্ষক গভর্নিংবডির সদস্যের সন্তানের সামনে বসারও সাহস পান না।

সরকারি, বেসরকারি উভয়ক্ষেত্রেই দেখেছি সরকারি কর্মকর্তারা শিক্ষকদের সঙ্গে গ্রেড অনুসরণ করে ব্যবহার করেন। তাদের সঙ্গে শিক্ষক সুলভ আচরণ করেন না। আচরণ অধস্তনের মতো।

শিক্ষা দিবসে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকও সত্য ভাষণ দিয়েছেন-শিক্ষকরা রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কথায় উঠ-বস করেন। নিয়োগ টেন্ডার সব কিছুতেই চলেন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আঁতাত করে। ফলে শিক্ষক হিসেবে তাদের নৈতিক অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয় না। ‘শিক্ষক’-এর দেখা পেতে হলে আমাদের এজন্য বিনিয়োগ করতে হবে। শুরু করতে হবে প্রাথমিক থেকে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আর্থিক ও সামাজিক সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের রাজনৈতিক ও গর্ভনিং বডি’র প্রভাবমুক্ত করতে হবেই। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও শিক্ষকদের চাকরি নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। সম্মান ও আর্থিক সচ্ছ্লতা নিশ্চিত না করে আমরা এই পেশাকে জীবনের লক্ষ্য বা পথিকৃৎ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো না। এক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের চেয়ে সরকারের ইচ্ছে ও উদ্যোগ জরুরি।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

/এসএএস/

সম্পর্কিত

ভোটের হাওয়া লাগলো মাঠে

ভোটের হাওয়া লাগলো মাঠে

গণমাধ্যমে বিভীষণ

গণমাধ্যমে বিভীষণ

শহর কেন গতিহীন?

শহর কেন গতিহীন?

উড়ে যাক অসহিষ্ণু বাষ্প

উড়ে যাক অসহিষ্ণু বাষ্প

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নাভিশ্বাসে জনজীবন!

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৪৯

সজীব ওয়াফি বাজারে চালের দাম বেড়েছে। বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য। লাগামছাড়া দামে শহুরে দারিদ্র্য মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। গরিব মানুষের সস্তায় ক্রয়ের শেষ পণ্য মোটা চালের কেজি পৌঁছেছে ৫০ টাকায়। চালের দামের ওপর নির্ভর করছে অন্যান্য জিনিসপত্রের দামের সমীকরণ। পরিণামে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কৃষক, শ্রমিক এবং পেশাজীবীসহ সীমিত আয়ের মানুষ। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। চোখে পড়ছে না সারাদেশে কালোবাজারি ঠেকানোর কার্যক্রম। অধিকন্তু বছরের এই সময়ে বাংলাদেশে চালের দাম বৃদ্ধি নজিরবিহীন এবং উৎকণ্ঠার।

প্রতিটি দেশের অর্থনীতির একটি প্রধানতম মাধ্যম থাকে। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। ধান, পাট, গম, চা ও আখ এখনকার কৃষকের আয়ের অন্যতম কৃষিজ ফসল। উর্বর মাটি আর অনুকূল আবহাওয়া এই বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদনের উৎস। শতকরা ৮০ ভাগ পরিবার কৃষি আয়ের সঙ্গে জড়িত। সেখানে বছর তিনেক আগে থেকে ধানের বাজার মূল্যের চেয়ে উৎপাদন খরচ অতিরিক্ত। এর কারণ, ভারত থেকে চাল আমদানি করা হয় কৃষকের ধান কাটার মৌসুমে। মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা হয় যখন কৃষকের গোলায় ধান ওঠে এবং হাটে নিয়ে বিক্রির সময়। অন্যদিকে চাল আমদানিতে প্রতিবারই আমদানি শুল্ক কমানো হলেও চালের দাম আর কমে না।

পাট শিল্প ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পাটের দাম কমেছে আশঙ্কাজনক। গত বছরে পাটকল পুরোপুরি বন্ধ করায়, পাটের চেয়ে খড়ির দাম এখন বেশি। করোনায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন পাটকল শ্রমিকেরা। লোকসানের মুখোমুখি হতে হয়েছে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাট চাষিদের। চা শ্রমিকদের নেই পর্যাপ্ত মজুরি। চাষি তার ফসল বিক্রি করে স্বপ্ন ছিল– ধারদেনা পরিশোধ করার, পরিবার পরিজন নিয়ে তিন বেলা দু’মুঠো খাবার খাওয়ার।

সরকার সরাসরি কৃষকের থেকে ফসল সংগ্রহ করে না। তারা ফসল সংগ্রহ করে মধ্যস্থ কারবারি থেকে। ফলে কৃষক হারিয়েছে তার ফসলের লাভ। কৃষকের প্রাপ্য লাভ গিয়ে ওঠে পুঁজিপতির গোলায়। একদিকে ফসলের লোকসান, করোনার নাকানিচুবানি; আরেকদিকে নিত্যপণ্যের চড়া দামে কৃষকের হাত অর্থশূন্য হওয়ার পথে। করোনা মহামারিকালীন প্রথমে বাড়ানো হলো গ্যাস-বিদ্যুতের দাম। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লে গাড়ির ভাড়া বাড়বে, সারের দাম বাড়বে, বাড়বে কৃষকের ফসল উৎপাদনে সেচের খরচ। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম রাতারাতি হু হু করে বাড়তে বাধ্য। পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের দামের সমীকরণ নির্ভর করে চালের বাজারের রাজনীতির ওপর।

প্রায় বছর দেড় আগে পৃথিবীজুড়ে মরণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। রূপান্তরিত হয় মহামারির। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও নিতে হয় লকডাউন-শাটডাউনের সিদ্ধান্ত। থমকে দাঁড়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি। শুরু হতে থাকে অর্থনৈতিক মন্দা। অন্যদিকে করোনাকালে নিষিদ্ধ হয়েছে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যম ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান, নাসিমন, করিমন। চাকরির বাজার সংকুচিত হয়েছে মারাত্মক রকমের। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হয়েছে অসংখ্য কর্মী ছাঁটাই। ছোটখাটো অনেক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তি ঘটেছে। বিআইডিএস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, করোনায় বাংলাদেশে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে, আগের হিসাব যোগ করে গরিব মানুষের এই সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ কোটির বেশি। হুঁশিয়ারি দিয়েছে মহামারি বাস্তবতার শিকার হয়ে ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা। মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দুর্নীতির দৌরাত্ম্য। মাইনে না পাওয়া বেসরকারি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাও পার করছেন দুঃসময়। এমনকি প্রণোদনার মাধ্যমে টাকা চলে গেছে মুষ্টিমেয় একটা শ্রেণির হাতে। কৃষক বারবার গুনেছে ফসলের লোকসান। ঠিক এই সময়টাতেই চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়লো। চিনি, সয়াবিন তেল, ডাল, শিশুখাদ্য, শাকসবজি, মাছ-মাংস সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। কারণ হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন করোনায় পরিবহন সংকটের কথা।

শ্রীলঙ্কায় দুর্ভিক্ষ লেগেছে। সেখানকার বাজার পরিস্থিতি মারাত্মক রকমের ভয়াবহ। খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে চরম মাত্রায়। চাল, ডাল, চিনি থেকে শুরু করে শাকসবজি; এমনকি শিশুখাদ্য দুগ্ধজাত পণ্যের দাম মানুষের নাগালের বাইরে। বেড়েছে কেরোসিন তেলের দাম। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বিদেশ থেকে আমদানিতে সংকটে পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে সেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে জরুরি অবস্থা চলমান রেখেছিল স্বয়ং রাষ্ট্রপক্ষ। হাত পাততে হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুয়ারে।

 শ্রীলঙ্কায় কিছু দিন যাবৎ যে জরুরি সংকট শুরু চলমান তার বিশেষ কারণ পুঁজিবাদ, মধ্যস্থ কারবারি। অর্থ চলে গেছে হাতেগোনা কিছু পুঁজিপতির কাছে। ফলে মানুষের আয়ের চেয়ে ক্রয়ক্ষমতার ভারসাম্য হারায়। বিপরীতে মহামারি সংকটের অজুহাতে কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করেছে সেখানকার অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী। মজুতদারি এবং কালোবাজারি কবলে পড়েছে খাদ্য ব্যবস্থা। ঠিক করোনার পূর্ব দিনগুলোতে আমাদের লবণকাণ্ডের মতো, পেঁয়াজ সংকটের মতো। ফলে দিশেহারা হয়েছে খোদ রাষ্ট্র ব্যবস্থা।
 
হঠাৎ করেই বাংলাদেশে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির উপযুক্ত কোনও কারণ হাজির করতে পারেনি ব্যবসায়ী কর্তৃপক্ষ। বরাবরের মতো কৃত্রিম সংকট, সরবরাহে ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলেছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো। অস্বস্তিতে পড়েছে সরকারও। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির কথা চাউর হলেও আসলে তা সত্যি নয়। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম আমাদের চেয়ে অনেক কম। আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতেই বা বৃদ্ধি পাবে কেন! হঠাৎ করে প্রক্রিয়াজাতকরণ কোনও খরচ কি বেড়েছে? আর আন্তর্জাতিক দোহাই দিয়ে বৃদ্ধির কারণ ব্যবসায়ীরা দেখিয়েই যখন থাকবে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তারা কি স্বেচ্ছায় কখনও দাম কমিয়েছে! পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, আমদানি শুল্কে ছাড় এবং ভর্তুকি দিয়েও বাজার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঠেকাতে দেশে কী পরিমাণ ধান হয়, ওই ধান থেকে কী পরিমাণ চাল উৎপাদন হতে পারে, মিল মালিকদের গুদামের ও নিত্যপণ্যের মজুতদারির হিসাব-নিকাশ এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে পড়েছে। জরুরি হয়ে পড়েছে মিল মালিকেরা ধান কত দামে ক্রয় করেছিল এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে কত খরচ হয়েছে সেই হিসাব-নিকাশের।

খাদ্যের অভাবে এই পৃথিবীতে কখনও পণ্যের দাম বাড়াতে হয়নি, সংকট লাগেনি। সংকট লেগেছে মজুতদারদের মজুতদারিতে, আড়তদারিতে। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে মহামারি পরবর্তী আমরা দেখেছি, পৃথিবীজুড়ে একদিকে মানুষ না খেয়ে কঙ্কাল হয়ে মরলো, আরেক দিকে মজুতদার কোম্পানি করলো তাদের পণ্য সমুদ্রে নিক্ষেপ। ৪৩ এবং ৭৪-এর সংকটময় পরিস্থিতি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। এমনকি মজুতদারির কালো প্রভাবের শিকার হয়েছি করোনার আগেই। লোনা পানির দেশে কৃত্রিম সংকট এবং গুজব ছড়িয়ে লবণকাণ্ড ঘটিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা সৃষ্টির চেষ্টা সবারই মনে থাকার কথা। পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে কীভাবে বিপর্যয় নেমে এলো সেটা মজুতদারির জলজ্যান্ত প্রমাণ। বর্তমানে একদিকে করোনা মহামারি, একদিকে ডেঙ্গুর ছোবল, আরেকদিকে পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন এখন ওষ্ঠাগত। এর একমাত্র কারণ আয় কমে সবকিছুর দাম বাড়ায় অর্থ কুক্ষিগত হয়েছে পুঁজিপতির ঘরে। অসাধু ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত মুনাফার লোভ সামলাতে পারছেন না। বিপরীতে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া লোকজন।

মহামারিকালীন এবং তার পরবর্তী পৃথিবী অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আয় এবং ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করতে না পারলে শ্রীলঙ্কার মতো অশুভ দিনের মুখোমুখি হতে পারে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার ভারসাম্য সাধারণ মানুষের অধিকার। টিসিবি পণ্যের সহজলভ্যতা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ করে বাংলাদেশে দুর্নীতি, কালোবাজারি ও মজুতদারি শক্ত হাতে দমন এখন সময়ের প্রয়োজন। পৃথিবীর নাজুক পরিস্থিতিতে কৃষকদের বাঁচিয়ে কৃষিতে মনোযোগী হলে একদিকে যেমন খাদ্যে জোগান আসবে, ঠিক অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটজনক সামঞ্জস্যহীনতা মোকাবিলা সম্ভব। নতুবা আমাদের ভাগ্যে অপেক্ষা করছে চরম বিপর্যয়। শুধু দরকার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা।

লেখক: প্রাবন্ধিক

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

পরীমণি, হলমার্ক ডেসটিনির মতো ঘটনা মনে প্রভাব ফেলে

পরীমণি, হলমার্ক ডেসটিনির মতো ঘটনা মনে প্রভাব ফেলে

তালেবান ফ্যাক্টর: ভারতে যেভাবে দেখা হচ্ছে

তালেবান ফ্যাক্টর: ভারতে যেভাবে দেখা হচ্ছে

চাপ নয়, শিক্ষা হোক আনন্দের

চাপ নয়, শিক্ষা হোক আনন্দের

পরীমণি, হলমার্ক ডেসটিনির মতো ঘটনা মনে প্রভাব ফেলে

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০৭

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ একজন কিশোর-কিশোরী বা তরুণের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অনেক বিষয় নির্ভর করে। প্রথমত, তার বংশানুক্রম বা জেনেটিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ যা মানসিক স্বাস্থ্যের জৈবিক উপাদানগুলোকে নির্ধারণ করে। এটিকে আমরা বলতে পারি সামাজিক ইকোলজিক্যাল সিস্টেমের সবচেয়ে অন্তর্গত অংশ।  মাইক্রোসিস্টেমের পরের স্তরকে বলা যায় মেসো সিস্টেম- একজন ব্যক্তির স্কুল, চারপাশ, ধর্মবিশ্বাস, নিকটতম প্রতিবেশী এই মেসোসিস্টেমের অংশ। এর পরের স্তরকে বলা হয় এক্সোসিস্টেম- পরিবারের দূরবর্তী সদস্য, অর্থনৈতিক অবস্থান, প্রচারমাধ্যম, সামাজিক ঘটনা আর দুর্ঘটনা এই মেসোসিস্টেমের অংশ। আর রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক বড় বড় পরিবর্তন, যেমন- বিশ্বযুদ্ধ, অতিমারি ইত্যাদি হচ্ছে ম্যাক্রোসিস্টেমের অংশ। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির বেড়ে ওঠা আর তার মানসিক বিকাশের পেছনে কেবল পরিবার বা স্কুল নয়, তার চার পাশের সামগ্রিক পরিবেশ প্রভাব ফেলে।

কোনও বাবা-মা যদি মনে করেন আমার সন্তানের সামনে আমি তো কোনও নেতিবাচক কাজ করিনি, কেন তার  মানসিক স্বাস্থ্য বিপন্ন হবে? এর উত্তর হচ্ছে, পরিবারকে ছাপিয়ে চারপাশের ঘটে যাওয়া তাবৎ ঘটনা একজন শিশু বা কিশোরের ওপর প্রভাব ফেলে তার মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে।

অনেক সময় বাবা-মা মনে করে থাকেন, "ও তো ছোট, এগুলোর কী বোঝে?" কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, শিশু কিশোররা তাদের মতো করে চারপাশের ঘটে  যাওয়া ঘটনায় প্রভাবিত হয়। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য চারপাশের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

মার্কিন গবেষক লরেন্স কোহলবার্গ মানুষের নৈতিকতার বিকাশের পর্যায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনটি স্তরের বর্ণনা দেন। জন্ম থেকে প্রথম কয়েক বছর শাস্তি এড়াতে শিশুরা নিয়ম-কানুন মেনে চলে, এরপর বয়ঃসন্ধিতে সে নিজের কাজের স্বীকৃতির জন্য সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে একাত্ম হয়—‘ভালো ছেলে’ বা ‘ভালো মেয়ে’ অভিধায় তারা ভূষিত হতে চায়। আর নৈতিকতার বিকাশের তৃতীয় স্তর—যা শুরু হয় ১৬-১৭ বছর বয়সের দিকে। তখন সে নৈতিকতাকে নিজস্ব ধারণার জগতের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দিতে থাকে। তার ধারণার জগৎ বা জ্ঞানীয় বিকাশ যদি হয় প্রচলিত সমাজ-সংস্কৃতিপন্থী, তবে তার নৈতিকতার চর্চা হয় সমাজ অনুগামী। আর তার ধারণার জগতে যদি সে বিশ্বাস করে এই সমাজ, এই প্রচলিত রীতিনীতি ‘সঠিক নয়’, তখন সে তার চারপাশকে পরিবর্তন করতে চায়। পরিবর্তনের পন্থা হতে পারে প্রচলিত পদ্ধতিতে অথবা তার নিজস্ব বিশ্বাসের মতো করে। এই পরিবর্তনের যেকোনও পথকে সে নিজস্ব যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করে। একজন তরুণের মনোস্তত্ত্ব এখানেই অস্বাভাবিক  মোড় নেয়। প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে তার মধ্যে জন্ম নেয় ভ্রান্ত বিশ্বাস। অস্বাভাবিক আচরণ আর বিশ্বাসকে সে নিজের বলে ভাবতে থাকে।

বয়ঃসন্ধিকাল থেকে পরিণত বয়স, যেমন ২৫-২৬ বছর পর্যন্ত একজন তরুণের মনোজগতের পরিবর্তনটি আশপাশের সবাইকে বুঝতে হবে। এই বয়সে তার মনোজগতের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী, খেয়াল রাখতে হবে যে এই পরিবর্তন যেন ইতিবাচক দিকে হয়। নৈতিকতার বিকাশের পর্যায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোহলবার্গ তিনটি স্তরের বর্ণনা দেন। জন্ম থেকে প্রথম কয়েক বছর শাস্তি এড়াতে শিশুরা নিয়ম-কানুন মেনে চলে, এরপর বয়ঃসন্ধিতে সে নিজের কাজের স্বীকৃতির জন্য সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে একাত্ম হয়—‘ভালো ছেলে’ বা ‘ভালো মেয়ে’ অভিধায় তারা ভূষিত হতে চায়। আর নৈতিকতার বিকাশের তৃতীয় স্তর—যা শুরু হয় ১৬-১৭ বছর বয়সের দিকে। তখন সে নৈতিকতাকে নিজস্ব ধারণার জগতের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দিতে থাকে। তার ধারণার জগৎ বা জ্ঞানীয় বিকাশ যদি হয় প্রচলিত সমাজ-সংস্কৃতিপন্থী, তবে তার নৈতিকতার চর্চা হয় সমাজ অনুগামী। আর তার ধারণার জগতে যদি সে বিশ্বাস করে এই সমাজ, এই প্রচলিত রীতিনীতি ‘সঠিক নয়’, তখন সে তার চারপাশকে পরিবর্তন করতে চায়।

পরিবর্তনের পন্থা হতে পারে প্রচলিত পদ্ধতিতে অথবা তার নিজস্ব বিশ্বাসের মতো করে। এই পরিবর্তনের যেকোনও পথকে সে নিজস্ব যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করে। প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে তার মধ্যে জন্ম নেয় ভ্রান্ত বিশ্বাস। তখন তার মধ্যে নিজেকে শেষ করে ফেলার প্রবণতা দেখা দেয়।

বয়ঃসন্ধিকাল থেকে পরিণত বয়স, যেমন ২৫-২৬ বছর পর্যন্ত একজন তরুণের মনোজগতের এই পরিবর্তনটি আশপাশের সবাইকে বুঝতে হবে।

চারপাশের সব ধরনের ঘটনা দুর্ঘটনা, শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলে। বাবা মা যদি মনে করেন আমার সন্তানের বয়স মাত্র ১৪ বছর, সে পরীমণির গ্রেফতার নিয়ে তার কিছু যায় আসে না, এটা সম্পূর্ণ ভুল। পরীমণি কে? তার গ্রেফতার ন্যায্য না অন্যায্য, তাকে বারবার রিমান্ডে নেওয়া কতটুকু যৌক্তিক সেটা নিয়ে একজন শিশু বা কিশোর তার মতো ব্যাখ্যা গ্রহণ করে।

হলমার্ক কী? ডেসটিনি কী, বা প্রশান্ত হালদার কী প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে সেগুলোও শিশু মনে প্রভাব ফেলে।  এমনকি ওসি প্রদীপের নৃশংসতা কিংবা এস আই আকবরের জিঘাংসাও তার মনোজগতকে পরিবর্তিত করে। পরীমণির গ্রেফতারের মতোই, চারপাশের সব জাতীয় আর আন্তর্জাতিক ঘটনা বা দুর্ঘটনা শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশকে প্রভাবিত করে। কখনও কখনও তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে। এই বিপন্নতার মাত্রা যদি খুব বেশি হয় তখন কিশোর-তরুণেরা আত্ম পরিচয়ের সংকটে ভোগে, যা তাদের কখনও কখনও আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করে। জাতীয় মানসিক  স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৮ সালের এক জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের প্রায় ৫% একবারের জন্য হলেও  আত্মহত্যা করার চিন্তা করেছেন, আর ১.৫% একবারের জন্য হলেও পরিকল্পনা বা চেষ্টা করেছেন!

মনে রাখতে হবে যেকোনও ধরনের মানসিক বিপন্নতা কিংবা আত্মহত্যা প্রবণতার পেছনে চারপাশের পরিবেশ আর ঘটনার প্রভাব রয়েছে। চারদিকের অনিয়ম আর সমস্যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে। তাই যে কারও আত্মহত্যার প্রবণতা বা মানসিক স্বাস্থ্যের বিপন্নতার প্রতিকার করতে হলে সবার আগে তার চারপাশকে পরিবর্তন করতে হবে।

আশপাশের নানা অনিয়ম আর অনৈতিকতাকে পরিবর্তন না করে কিশোর-তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব নয়। সর্বজনীন মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় আর সামাজিক কাঠামোয় পরিবর্তন প্রয়োজন।

শিশু-কিশোর  তথা আমাদের আগামী প্রজন্মের সুষম বিকাশের জন্য কেবল পারিবারিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, রাষ্ট্রীয় নীতি আর সমাজ কাঠামোকে মানবিকীকরণ করা প্রয়োজন।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট।

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

শিক্ষক ও মর্যাদার সংকট

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নাভিশ্বাসে জনজীবন!

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নাভিশ্বাসে জনজীবন!

তালেবান ফ্যাক্টর: ভারতে যেভাবে দেখা হচ্ছে

তালেবান ফ্যাক্টর: ভারতে যেভাবে দেখা হচ্ছে

চাপ নয়, শিক্ষা হোক আনন্দের

চাপ নয়, শিক্ষা হোক আনন্দের

তালেবান ফ্যাক্টর: ভারতে যেভাবে দেখা হচ্ছে

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৪৭

আশিষ বিশ্বাস অভিজ্ঞ বিশ্লেষকরা চরম জটিল ঘটনা সম্পর্কে যে বর্ণনা ব্যবহার করেন, আফগানিস্তানের নিত্য ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের পটভূমি সেটির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়: অনেক সময় ঐতিহাসিক ঘটনাবলির এত দ্রুত উত্থান-পতন ঘটে যে প্রায় তা বোধগম্যতা অস্বীকার করে!

এমনকি স্বাভাবিক সময়ে সংঘাতপূর্ণ সিরিয়া-ইরাক-আফগানিস্তান অঞ্চল নিয়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী করা বিপজ্জনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবু, যখন তালেবান সরকার ক্ষমতায়, একটি নতুন ধারা ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ হচ্ছে, যার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সৃষ্ট পরিস্থিতির সঙ্গে ন্যূনতম সামঞ্জস্য নেই।

বৃহৎ অর্থে এটা বলা যায় যে, সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে স্বল্প/মধ্য মেয়াদে চীন সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে থেকে পাকিস্তান হয়তো কাবুলে তালেবান সরকারের ঘুঁটি নাড়ছে। কিন্তু তাদের এই আকস্মিক প্রভাব বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি বিভ্রমের মতো। চীন এই অঞ্চলের একমাত্র শক্তি, যাকে গোনায় ধরা হয় এবং পাকিস্তানকে নিয়ন্ত্রণ করে চীন! যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং আইএমএফ/ বিশ্বব্যাংকের নতুন আফগান সরকারকে স্বীকৃতি/আর্থিক সহযোগিতা না দিতে একরোখা অবস্থানের ফলে নতুন শাসকদের মধ্য মেয়াদে টিকে থাকার একমাত্র আশা চীন। আজকের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মধ্য মেয়াদ অন্তত আগামী তিন/চার বছর হতে পারে।

আফগানদের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, যা কট্টরপন্থী তালেবান নেতারাও প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন, তা হলো বড় অঙ্কের অর্থ এবং বিপুল পরিমাণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। বেইজিংয়ের শাসকরা এই ঘাটতি মেটাতে নিশ্চিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার সামর্থ্য রাখে। এই পরিস্থিতির মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিড়ম্বনা হলো, যেখানে শয়তানরাও বাণিজ্যে ভয় পায় চীন সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়বে না, সতর্কভাবে পদক্ষেপ নেবে। স্বল্পমেয়াদে তালেবানের টিকে থাকার নিশ্চয়তা এবং চীন, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সিরিয়া, লিবিয়া কিংবা রাশিয়ার মতো দেশগুলোর কাছ থেকে ন্যূনতম স্বীকৃতি পেয়ে গেলে তারা পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মন জয় করতে আগ্রহী থাকবে না। কিংবা বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থাগুলোর পরোয়া করবে না।

অন্যদিকে, নিজেদের মুক্ত বিবেচনা করে চরম রক্ষণশীল ইসলামিকরণের এজেন্ডা নিয়ে এগিয়ে যেতে তালেবানরা বিশ্বের মতামত নিয়েও ভাববে না।

অনেক ভারতীয় বিশ্লেষক যারা আফগানিস্তানের ঘটনাবলি এবং কাশ্মির উপত্যকায় এর প্রভাব নিয়ে নিজেদের হতাশা গোপন রাখেননি, তারাও অস্বীকার করতে পারবেন না যে চীন এমন অবস্থায় রয়েছে, তারা কাবুল বা ইসলামাবাদের ‘শাসকদের’ জন্য মুলা ঝুলানোর নীতি গ্রহণ করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের চলে যাওয়াতে অঞ্চলটি চীনের পাতে তুলে দিয়েছে! ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কিছু মানুষের ধাপ্পাবাজি ও তর্জন-গর্জনকে পাত্তা না দেওয়া দিল্লিভিত্তিক ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা এবং চীনকে মোকাবিলায় কোয়াডে যুক্ত হওয়ার ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে নয়া দিল্লিকে রাজনৈতিকভাবে কানাগলিতে নিয়ে গেছে।

এখন পর্যন্ত ভারত চীনবিরোধী পদক্ষেপ থামানোর কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। হোক তা উঁচু হিমালয় সীমান্ত কিংবা গভীর সমুদ্র। কিন্তু ভারতীয় পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারকরা স্বীকার করুন বা না করুন, তাদের কিছু সময়ের জন্য চীনবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। মজার বিষয় হলো, অনাহূত এই সহিষ্ণুতাকে ভারত ও চীন উভয় পক্ষই নিজেদের জয় হিসেবে হাজির করতে পারবে।

চীনের নেতারা এখন আফগানিস্তানের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের অনেক বেশি সক্রিয় করে ফেলার কারণে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলে চলমান বিরোধ কিছুটা আড়ালে চলে যায়। তাই বড় ধরনের কোনও সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। দিল্লির জন্যও এটি প্রযোজ্য। আফগানিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বের পুরনো নীতি যখন ভারত গ্রহণ করেছিল তখন তারা সাময়িক জয় পেয়েছিল।

চীনের আর্থিক সহযোগিতার চড়া মূল্য দিতে হয়। অনেক সময় তা দ্রুতই সামনে আসে না। জিনজিয়াংয়ের উইঘুর ভিন্নমতাবলম্বীদের পরিস্থিতির নিশ্চিতভাবে উন্নতি হবে না। এই ক্ষেত্রে বেইজিং মস্কোর উদাহরণ অনুসরণ করতে পারে। রাশিয়া চেচেন/দাগেস্তান বিদ্রোহীদের প্রতি সহযোগিতা থামাতে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতি গড়ে তোলে। একই সঙ্গে তারা অঞ্চলটিকে কিছুমাত্রায় স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে। সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চর্চার ক্ষেত্রে তুরস্কের অনেক কাছাকাছি থাকা উইঘুরদের সহযোগিতা থামাতে আফগান ও আরবদের সঙ্গে এমনটি করার ক্ষেত্রে চীনের কোনও বাধা নেই।

এছাড়াও চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বাস্তবায়নে সহায়তা দিতে আফগানিস্তানকে প্ররোচিত করতে পারে। খনিজ সম্পদ ও গ্যাস অনুসন্ধানের অধিকার এবং এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার অধিকারও পেতে পারে বেইজিং। আগে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো মিত্রদের নিয়ে এসব সম্পদ অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখালেও হঠাৎ করে তাদের পিছুটান পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে রাশিয়ার প্রশংসা করেছেন। বিগত ৭০ বছরে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দীর্ঘ অবিচল সমর্থনের কারণেই মোদির এই প্রশংসা (মজার বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. সুব্রানিমানিয়াম সোয়ামি মনে করেন, মোদির আসলে উচিত ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রশংসা করা, রাশিয়ার নয়। রাশিয়ার যাত্রা শুরু কেবল ১৯৯১ সালের পর!)। ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে রাশিয়া ও পাকিস্তানের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উষ্ণ হয়েছে, যা দিল্লির জন্য সতর্কতামূলক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতকে ‘কৌশলগত সহযোগী’র মর্যাদা দেওয়া আর ইন্দো-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর পশ্চিমের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় দিল্লিভিত্তিক নীতিনির্ধারকদের সুনির্দিষ্ট পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। আশ্চর্যের কিছু নেই, কাশ্মির বিরোধ নিয়ে ভারতের প্রতি মস্কোর সমর্থন সম্প্রতি হালকা শব্দে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার সরকারি টিভি চ্যানেল আরটি ডকুমেন্টারির মাধ্যমে ক্রমাগত ভারতীয় জীবনযাত্রার নেতিবাচক দিক তুলে ধরছে। ভারতের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অবনতি, শিক্ষা বঞ্চিত দরিদ্র নারীদের দুর্ভোগ, ভারতের মেডিক্যাল অবকাঠামোর পিছনমুখিতা নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রচার করছে আরটি। আর এসবই শুরু হয়েছে পাকিস্তান যখন রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কেনা এবং রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে কয়েকটি এলাকায় যৌথ মহড়া শুরু করেছে তারপর। পরিষ্কারভাবে, এসবের পর সব ক্ষেত্রেই কট্টরপন্থী নেতা পুতিনের মন জয় করা মোদির জন্য ধারণার চেয়েও কঠিন হবে।

ভারতের জন্য খানিক স্বস্তির কারণ হতে পারে এটা যে আফগান সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন, তাদের মধ্যে নরেন্দ্র মোদিও রয়েছেন। কোনও পাকিস্তানি নেতার সঙ্গে কথা বলেননি তিনি। পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে খারাপ হলো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন কংগ্রেস সদস্যদের বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াইয়ের সময়ও তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের কথা বলেছেন তিনি। অন্যভাবে বলা যাচ্ছে যে পশ্চিমা সামরিক এবং আর্থিক সহায়তা পাকিস্তান আর আগের মতো সহজে পাবে না।

কিন্তু এতে পাকিস্তান খুব বেশি অবাক হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গত কয়েক বছর ধরেই তিক্ত হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদে চীন চূড়ান্ত গন্তব্য হয়ে উঠলে পাকিস্তান তাদের অবশিষ্ট সার্বভৌমত্বও হারিয়ে ফেলতে পারে। ইসলামাবাদের হাতে খুব বেশি বিকল্পও নেই, তাদের টিকে থাকা নির্ভর করে ভারতবিরোধিতার ওপর। আফগান মিলিট্যান্ট এবং জয়েশ-ই-মুহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈয়্যবা-এর মতো রাষ্ট্রহীন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর কাশ্মির অঞ্চলের রাজনীতিতে গভীর কামড় বসাতে আর দিল্লির সঙ্গে পুরনো বোঝাপড়া ঠিক করে নিতে বেশি দেরি করবে না ইসলামাবাদ।

ভারত রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের পুরনো উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টার প্রস্তুতি নেওয়ার পরও তারা স্বল্পমেয়াদে আফগানিস্তান ইস্যুতে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি নিয়েছে। বাংলাদেশের চেয়ে এ অবস্থান খুব আলাদা নয়। তবে একটা পার্থক্যও রয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতকে যতটা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে, বাংলাদেশকে ততটা হবে না। কেননা, দেশটি অনেক বেশি স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির চর্চা করে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলকাতা

/জেজে/এএ/

সম্পর্কিত

তালেবান ফ্যাক্টর: ভারতের জন্য কঠিন হলেও বিজেপির জন্য ইতিবাচক?

তালেবান ফ্যাক্টর: ভারতের জন্য কঠিন হলেও বিজেপির জন্য ইতিবাচক?

চাপ নয়, শিক্ষা হোক আনন্দের

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৩৬

প্রভাষ আমিন আমার প্রথম স্কুল চাঁদগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আমাদের বাড়ির লাগোয়া। লাগোয়া মানে কখনও কখনও আমাদের বাগান ছিল স্কুলের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ। আবার স্কুলের সামনের মাঠটিও ছিল আমাদের সারাবছরের খেলার মাঠ। এখন তো প্লে, কেজি ইত্যাদি করে ক্লাস ওয়ানে উঠতে তিন বছর লেগে যায়। আমাদের সময় বয়স পাঁচ হলে সরাসরি ক্লাস ওয়ান। বাড়ির লাগোয়া বলে স্কুলকে ঠিক স্কুল মনে হতো না। তো ক্লাস ওয়ানে থাকতেই একবার স্কুলে গিয়ে কিছুক্ষণ পর ফিরে এলাম। আম্মা জানতে চাইলেন, ফিরে এলাম কেন? আমি বললাম, স্কুলে জায়গা নেই। আম্মা কিছু বললেন না, খালি খাটের সঙ্গে বেধে আমাকে দিলেন বেদম পিটুনি। তারপর থেকে আর কখনও স্কুলে জায়গার অভাব হয়নি। হাইস্কুলে উঠে একবার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী জেনারেল ওসমানীকে দেখতে স্কুল ফাঁকি দিয়েছিলাম। এছাড়া বরাবরই স্কুল ছিল আমাদের আনন্দের উৎস। 

আমার প্রাইমারি স্কুল দুটি। বাবার চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকার মোহাম্মদিয়া প্রাইমারি স্কুলেও কিছুদিন পড়েছি। প্রথম স্কুল বাড়ির লাগোয়া হলেও হাইস্কুল ছিল বেশ দূরে। গৌরিপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে আমাদের বাসে প্রথমে গৌরিপুর যেতে হতো। পরে রিকশা বা হেঁটে যেতে হতো স্কুলে। প্রাইমারি স্কুলের মতো আমার হাইস্কুলও দুইটা। মামার শিক্ষকতার আমি এসএসসি পাস করেছি চৌদ্দগ্রামের মুন্সীরহাট হাইস্কুল থেকে, যেটি বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে। আমি খুবই সৌভাগ্যবান, আমার দুটি হাইস্কুলের ক্যাম্পাসই ছিল বড়, খোলামেলা, একাধিক বড় মাঠ ছিল। কারণে-অকারণে শিক্ষকদের মার খেয়েছি প্রচুর। তবে বন্ধুদের সাথে আড্ডা, খেলাধুলা, বিতর্ক, মারামারি, খুনসুটি- সব মিলে স্কুল ছিল মজার জায়গা।

শিশুদের সেই আনন্দের জায়গাটাই আমরা কেড়ে নিতে চেয়েছিলাম। ঢাকার ফ্ল্যাট বাড়ির স্কুলগুলো শিশুদের আনন্দের জায়গা হতে পারেনি। কারও কারও জন্য স্কুল মানেই যেন জেলখানা। আগের মতো এখন আর শিক্ষকদের পিটুনির ভয় নেই বটে, তবে স্কুল মানেই পড়াশোনার অনন্ত চাপ; ক্লাস, কোচিং, পরীক্ষা; দম ফেলার ফুরসত নেই কারও। দেড়বছর পর স্কুলে যেতে পেরে সবাই এখন উৎফুল্ল। কিন্তু পরীক্ষার চাপ এলেই সেই উচ্ছ্বাসটা হারিয়ে যেতে পারে। শহরের একটা ছেলের রুটিন দেখলে আমার কান্না পায়। ভোরে ঘুম থেকে উঠে যুদ্ধ শুরু। ঘুম চোখেই নাস্তা সারতে হয়; তাও নিজের পছন্দে নয়, মায়ের পছন্দে। তারপর ব্যাগ নিয়ে দৌড়। সেই ব্যাগেও থাকে নিজের নয়, মায়ের পছন্দের টিফিন। স্কুল ছুটি হয় দুপুর ২ টায়। দৌড়ে বাসায় এসে গোসল-খাওয়া শেষ করতে করতে কোচিংয়ের সময় হয়ে যায়। ৩টা থেকে ৬টা কোচিং খোয়াড়ে বন্দী। সেখান থেকে বাসায় ফিরে স্বাভাবিক হতে হতে দিনের ১২ ঘণ্টা শেষ। তারপর হোমওয়ার্ক। হোমওয়ার্ক করতে করতে একেটা শিশু ক্লান্তিতে ঢলে পড়ে। 

ছুটির দিনেও মাফ নেই। শুক্রবার সকালে কোচিং, যেদিন কোচিং থাকে না, সেদিনও বাসায় টিচার আসে। তাদের রুটিনে খেলা নেই, গান নেই, আউট বই পড়ার সুযোগ নেই। শুধু ছুটে চলা। কিসের পেছনে? আমি নিশ্চিত নই। পড়াশোনা? আসলে কি পড়াশোনা; নাকি নিছক রোল নম্বর আর সার্টিফিকেট? আসলে কোনটা সাফল্য, কোনটা ব্যর্থতা, আমি নিশ্চিত নই। তাহলে আমরা কিসের পেছনে ছুটছি, সন্তানদের ঠেলে দিচ্ছি কিসের রেসে। সাফল্য মানে আসলে কী?  আমরাই তো সন্তানদের শৈশব থেকে আনন্দ কেড়ে নিয়ে সেখানে ভর্তি করে দিচ্ছি অনন্ত চাপ। সাফল্য চাই, আরো সাফল্য। বোঝো আর না বোঝো সব মুখস্ত করতে হবে। তারপর পরীক্ষার খাতায় সব উগড়ে দিতে হবে। অমুক কেন তোমার চেয়ে ভালো, তমুক কেন নম্বর বেশি পেলো। 

যে হতে পারতো গানের পাখি, আমরা তাকেই বানাতে চাই তোতা পাখি। হাজার হাজার তোতা পাখি কিচির মিচির করছে আমাদের চারপাশে। আমরা বলি, শুধু পড়ো আর পড়ো। আমরা জানতে চাই না বা জানাতেও চাই না, আমাদের সন্তান গান শুনতে চায় কিনা, ফুল ভালোবাসে কিনা, প্রকৃতি তাকে টানে কিনা, শীতের সকালে শিশিরে পা ভেজাতে চায় কিনা, বৃষ্টিতে ভিজতে তার কেমন লাগে, গাছপালা-নদীনালার সৌন্দর্য্য আবিষ্কারের আনন্দ সে পেতে চায় কিনা। পরীক্ষায় ভালো করতে হবে; গোল্ডেন জিপিএ ৫ না পাওয়া বিরাট ব্যর্থতা। সুমনের গানের মতো ‘একটু পড়া, অনেক খেলা/গল্প শোনার সন্ধ্যাবেলা’ আর কারও জীবনে আসে না।

নীতি-নির্ধারকদের ধন্যবাদ। তারা শিশুদের এই পরীক্ষার চাপ থেকে মুক্তি দিতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। কথায় কথায় আমরা বৈপ্লবিক পরিবর্তন বলি বটে, কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার এই পরিবর্তন সত্যিই বৈপ্লবিক। ২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা। এতদিন একটি শিশু বোঝার আগেই তার ওপর চেপে বসতো পরীক্ষার চাপ। নতুন পরিকল্পনায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনও পরীক্ষাই থাকছে না। আর দশম শ্রেণির আগে কোনও পাবলিক পরীক্ষা হবে না। এতদিন পঞ্চম শ্রেণিতে পিইসি আর অষ্টম শ্রেণিতে জেএসসি নামে দুটি চাপের পাহাড় ছিল শিশুদের কাঁধে। সেই পাহাড় দুটি সরিয়ে দিলে তারা একটু মাথা উঁচু করে, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবে। আর দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হবে অভিন্ন বিষয়ে। সায়েন্স, আর্টস, কমার্সের বিভাজনটা শুরু হবে একাদশ শ্রেণি থেকে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির দুটি পরীক্ষার ভিত্তিতে দেওয়া হবে এইচএসসির ফল। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না থাকলেও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে। চতুর্থ শ্রেণির পর প্রথম পরীক্ষা শুরু হলে গুরুত্ব বেশি থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপরই। সব মিলিয়ে পরীক্ষায় যেনতেনভাবে ভালো করার চাপের বদলে নিয়মিত ক্লাসরুমের পারফরম্যান্স গুরুত্ব পাবে বেশি। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে নিজেদের মতো পড়াশোনা করবে। শিক্ষকরা তাদের মূল্যায়ন করবেন।

নতুন পরিকল্পনা অবশ্যই উচ্চাভিলাসী। তবে শিশুদের স্বার্থে এই পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জও আছে। যেহেতু শিক্ষকদের মূল্যায়নের গুরুত্বটাই সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা বাড়ানোটা জরুরি। তারচেয়ে বেশি জরুরি শিক্ষকদের নৈতিক মান বাড়ানো। শিক্ষকদের ধারাবাহিক মূল্যায়নই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, এটা শোনার পর আমি রীতিমত আতঙ্কিত হয়েছি। শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে ক্লাস পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি বা ফেল করিয়ে দেওয়ার উদাহরণ ভুরি ভুরি। এই বিষয়টার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে সবচেয়ে বেশি। প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষকদের যোগ্যতা, দক্ষতা হয়তো একটা পর্যায় পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। কিন্তু শিক্ষকদের নৈতিকতার মানদণ্ড রক্ষা করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীরা স্কুলে শুধু পাঠ্যবই শিখতে যায় না। সেখানে তাদের জীবন শেখানো হয়। তাই শিক্ষকদের কাছ থেকে নৈতিকতা শিখবে, মূল্যবোধ শিখবে। প্রাইভেট-কোচিংয়ের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতে হলে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। শিশুদের জন্ম নেয় নিষ্পাপ হিসেবে। আমরা তাদের নানা প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেই। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পয়সা দিয়ে কিনে সন্তানের হাতে তুলে দেই। কীভাবে পাশের বন্ধুকে ল্যাং মেরে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, আমরা সন্তানদের সেই শিক্ষা দেই। গাইড বই, নোট বই আমরাই কিনে তাদের জাতে তুলে দেই। তারা শিখে যায়, ফল ভালো করতে হলে অমুক শিক্ষকের কাছে কোচিং করতে হবে। এভাবে ঘরে-বাইরে, স্কুলে শিশুদের অনৈতিকতা শেখাই। তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার বদলে শৈশবেই তা ধ্বংস করে দেই। 

চ্যালেঞ্জ আছে বলে থেমে থাকা যাবে না। সামনে যত বাধাই আসুক শিশুদের স্বার্থে সব বাধা পেরিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা চাই আমাদের প্রতিটি সন্তান মানুষের মতো মানুষ হোক। তারা শিক্ষায়, জ্ঞানে, মানবিকতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। কেউ কাউকে ল্যাং মেরে এগিয়ে যাবে না। সবাই সবার পাশে থাকবে, একসাথে এগিয়ে যাবে। তাদের জীবনটা যুদ্ধের না হোক, হোক আনন্দের, সৃষ্টিশীলতার। দেশের ভবিষ্যতটা তো তাদেরই হাতে। তাই তাদের পেছনেই আমাদের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

/এসএএস/

সম্পর্কিত

‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি’

‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি’

‘সভ্য সমাজে এগুলো হতে পারে না’

‘সভ্য সমাজে এগুলো হতে পারে না’

১৫ আগস্টের দায় কেন বিএনপির?

১৫ আগস্টের দায় কেন বিএনপির?

‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, তবে...’

‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, তবে...’

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

চাঁদাবাজির অভিযোগে ২ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

চাঁদাবাজির অভিযোগে ২ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

আগাম জামিন পেলেন কেয়া কসমেটিকসের চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী

আগাম জামিন পেলেন কেয়া কসমেটিকসের চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী

চলমান স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চেষ্টা করছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

চলমান স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চেষ্টা করছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

সিরাজগঞ্জে ইঞ্জিন বিকল, উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ

সিরাজগঞ্জে ইঞ্জিন বিকল, উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ

‘শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তরুণদের দক্ষতাবৃদ্ধি জরুরি’

‘শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তরুণদের দক্ষতাবৃদ্ধি জরুরি’

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়লো

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়লো

মামলা করতে আদালতে জেমস

মামলা করতে আদালতে জেমস

নকল ওষুধসহ গ্রেফতার ৩

নকল ওষুধসহ গ্রেফতার ৩

ঢাবি সাংবাদিক সমিতির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ঢাবি সাংবাদিক সমিতির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের আত্মপক্ষ সমর্থন ২১ সেপ্টেম্বর

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের আত্মপক্ষ সমর্থন ২১ সেপ্টেম্বর

উগ্রবাদী বইয়ের প্রকাশক গ্রেফতার

উগ্রবাদী বইয়ের প্রকাশক গ্রেফতার

ইন্দোনেশিয়ার মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা অভিযানে নিহত

ইন্দোনেশিয়ার মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা অভিযানে নিহত

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune