সেকশনস

৬০ দিনে নিষ্পত্তির বিধান সত্ত্বেও মামলা ঝুলে আছে ১৩ বছর

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০০:৫০

 

ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ২০০৭ সালে ডেমরার গোলাম কিবরিয়ার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু সেই সম্পত্তি ক্রোকমুক্ত ও নিজের দাবি করে ২০০৮ সালে পাল্টা আবেদন (দেওয়ানি বিবিধ আবেদন) জানায় গোলাম হায়দার নামের এক আগন্তুক। বিধান রয়েছে, গোলাম হায়দারের আবেদনটি সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার। তবে বিগত প্রায় ১৩ বছরেও সেই আবেদন নিস্পত্তি হয়নি। ফলে আগন্তুক ও অপরিচিত গোলাম হায়দারের আবেদনের কারণে বিগত ১৩ বছর ধরে কোর্টের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন গোলাম কিবরিয়া। দীর্ঘদিনেও আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় ১৩ বছরের চড়া সুদের দায় নিজের ওপর আসার অপেক্ষায় ভীত সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ গোলাম কিবরিয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় (লোন ডিফল্ডার) ২০০৭ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের মতিঝিল শাখা থেকে ডেমরার গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর একই বছরের ৯ আগস্ট ওই মামলার ডিক্রি দেন ঢাকার তৃতীয় অর্থঋণ আদালত। আদালত তার ডিক্রিতে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডকে ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে গোলাম কিবরিয়াকে নির্দেশ দেন। এরপর ২০০৮ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই ডিক্রি জারির জন্য মামলা দায়ের করে। তবে ডিক্রি জারির অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় আদালতের নির্দেশে গোলাম কিবরিয়ার সম্পত্তি ক্রোক করে ন্যাশনাল ব্যাংক। এদিকে গোলাম কিবরিয়ার সম্পত্তি ক্রোকের পরপরই উদ্ভব হয় গোলাম হায়দার নামে এক ব্যক্তির। ওই ব্যক্তি ক্রোককৃত সম্পত্তি নিজের দাবি করে এবং সম্পত্তি নিজের অনুকূলে চেয়ে অর্থঋণ আদালত আইনের ৩২ ধারায় একই আদালতে আবেদন (দেওয়ানি বিবিধ আবেদন) দাখিল করে।

২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর দায়ের করা আবেদনে গোলাম হায়দার আদালতকে জানায়, পূর্ব থেকেই ক্রয়সূত্রে গোলাম কিবরিয়ার ক্রোককৃত সম্পত্তির মালিকানা তার এবং শরিকদারের মাধ্যমে তিনি ওই সম্পত্তির মালিকানা পেয়েছেন।

কিন্তু গোলাম কিবরিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গোলাম হায়দারকে কখনোই আমি ব্যাক্তিগতভাবে চিনতাম না। তার সঙ্গে আমাদের পারিবারিক কোনও সম্পর্কও নেই। এরপরও সে আমার সম্পত্তি (ক্রোককৃত) নিজের বলে দাবি করে মামলা দেয়। অথচ সে যেসব শরিকের মাধ্যমে জমি পেয়েছে বলে দাবি জানিয়েছে, সেখানে আমাদের দলিলে অন্য শরিকদারের নাম রয়েছে। অর্থাৎ আমি আমার শরিকের মাধ্যমেই উক্ত সম্পত্তির মালিকানা পেয়েছি, তা স্পষ্ট।

ক্রোককৃত সম্পত্তি নিজের দাবি করে গোলাম হায়দার অর্থঋণ আদালত আইনের ৩২ ধারায় আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন। এই আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে: ১. অর্থঋণ আদালত আইনের মামলায় ডিক্রি থেকে উদ্ভব সম্পত্তি ক্রোক মুক্ত করতে যদি তৃতীয়পক্ষ আবেদন জানায়, তবে আদালত সে আবেদন সরাসরি খারিজ না করলে ডিক্রিদার অনধিক ৩০ দিনের মধ্যে আপত্তি দায়ের করে শুনানি করতে পারবে; ২. আবেদনকারীকে ডিক্রিকৃত অর্থের ২৫ শতাংশ জামানত দাখিল করতে হবে, জামানত না দিলে তার দাবি অগ্রাহ্য হবে; ৩. ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই উক্ত দাবি সংবলিত দরখাস্ত নিষ্পত্তি করতে হবে (আদালতকে)। যদি তাতে ব্যর্থ হয়, তবে আরও ৩০ দিন সময় পাবে (নিষ্পত্তি করতে)।

অথচ আইনের সুস্পষ্ট বিধান সত্ত্বেও সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার বিধান উপেক্ষা করে প্রায় ১৩ বছর ধরে ঝুলে আছে মামলাটি। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার অর্থঋণ আদালত-১ এ বিচারাধীন। মামলাটি খারিজ করতে ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর ওই আদালতে একটি আবেদনও জানায় গোলাম কিবরিয়া। তবে অর্থঋণ আদালত-১ এর বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন সে আবেদন খারিজ করে দেন।

এরপর বিচারিক আদালতে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলাটির কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা চেয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

গোলাম কিবরিয়ার আইনজীবী মৌসুমী রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গোলাম হায়দার মূলত স্থানীয় একজন ভূমিদস্যু। তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তার সঙ্গে আমার মক্কেলের কোনো সম্পর্ক নেই। এরপরও প্রায় ১৩ বছর ধরে মামলাটি ঝুলে থাকায় আমার মক্কেলের ব্যাংক লোনের ওপর সুদের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার আইন অনুসারে ক্রোককৃত সম্পত্তি ছাড়াতে গোলাম হায়দারের ২৫ শতাংশ ঋণের অর্থ পরিশোধের শর্ত থাকার পরও তিনি মূলত ১০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করেছেন। এক্ষেত্রেও আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। তাই মামলাটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছি।

গোলাম কিবরিয়া বলেন, এতদিন ধরে মামলা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে উপার্জিত সব অর্থ খরচ হয়ে গেছে। এরপরও যদি মামলা নিষ্পত্তি হয় তাহলে ১৩ বছরের সুদের ভার আমার ওপরে আসবে। যা পরিশোধ করা আমার পক্ষে অসম্ভব।

 

/বিআই/এএইচ/

সর্বশেষ

মিনুসহ বিএনপির চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন

মিনুসহ বিএনপির চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন

তামিমরা করোনা নেগেটিভ, বুধবার কুইন্সটাউন যাচ্ছে পুরো দল

তামিমরা করোনা নেগেটিভ, বুধবার কুইন্সটাউন যাচ্ছে পুরো দল

খোলাবাজারে চুনাপাথর বিক্রি করছে লাফার্জ, ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের প্রতিবাদ

খোলাবাজারে চুনাপাথর বিক্রি করছে লাফার্জ, ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের প্রতিবাদ

৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

তালেবানের অংশগ্রহণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইছে যুক্তরাষ্ট্র

তালেবানের অংশগ্রহণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইছে যুক্তরাষ্ট্র

৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

জেলার দাবিতে ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন

জেলার দাবিতে ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন

কোভ্যাক্সিন নিরাপদ, কার্যকারিতা জানতে চূড়ান্ত পরীক্ষা প্রয়োজন: ল্যানসেট

কোভ্যাক্সিন নিরাপদ, কার্যকারিতা জানতে চূড়ান্ত পরীক্ষা প্রয়োজন: ল্যানসেট

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নকল আসামিকে কেন দেওয়া হবে না: হাইকোর্ট

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নকল আসামিকে কেন দেওয়া হবে না: হাইকোর্ট

মার্কিন সংবাদমাধ্যমে হ্যারি-মেগানের সাক্ষাৎকার: জরুরি বৈঠকে ব্রিটিশ রাজপরিবার

মার্কিন সংবাদমাধ্যমে হ্যারি-মেগানের সাক্ষাৎকার: জরুরি বৈঠকে ব্রিটিশ রাজপরিবার

টমেটো নদীতে ফেলছেন কৃষক!

টমেটো নদীতে ফেলছেন কৃষক!

হাজী সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ বহাল

হাজী সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ বহাল

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নকল আসামিকে কেন দেওয়া হবে না: হাইকোর্ট

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নকল আসামিকে কেন দেওয়া হবে না: হাইকোর্ট

হাজী সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ বহাল

হাজী সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ বহাল

ডিআইজি মিজানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আরও ২ জনের সাক্ষ্য

ডিআইজি মিজানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আরও ২ জনের সাক্ষ্য

অনলাইনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টায় জঙ্গিরা

অনলাইনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টায় জঙ্গিরা

সাকিব আল হাসান কালীপূজায় নাকি মসজিদে যাবে, এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার: হাইকোর্ট

সাকিব আল হাসান কালীপূজায় নাকি মসজিদে যাবে, এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার: হাইকোর্ট

গাজীপুরের সাবেক মেয়র মান্নানের সাজা কেন বৃদ্ধি করা হবে না

গাজীপুরের সাবেক মেয়র মান্নানের সাজা কেন বৃদ্ধি করা হবে না

মশার ওষুধ কেনা সংক্রান্ত সেই চুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা

সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশমশার ওষুধ কেনা সংক্রান্ত সেই চুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা

ওষুধ ছিটানোর পরও মশা মরছে না: মেয়র আতিক

ওষুধ ছিটানোর পরও মশা মরছে না: মেয়র আতিক


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.