সেকশনস

আটক বাঙালি সৈন্যদের সীমান্ত থেকে পাঞ্জাবে আনা হচ্ছে

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১৯ জানুয়ারির ঘটনা।)

পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা বাঙালিরা ১৯৭৩ সালের শুরুর দিকে বলছিলেন, পাকিস্তানে আটক শত শত পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মচারীকে বিচার করার যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তা কেবল হুমকি না। গত মাসে (ডিসেম্বর ১৯৭২) ইসলামাবাদে এ খবর প্রকাশ হয়ে পড়ায় বেশ কিছু মাঝারি পর্যায়ের বাঙালি কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী থেকে পালিয়ে যেতে থাকেন। পাকিস্তানের উগ্রপন্থীরা বাঙালি বেসামরিক কর্মচারীদের বিচার করার জন্য এতদিন যাবৎ যে দাবি জানিয়ে আসছিল, দেশটির সরকার এখন সেই পথ অনুসরণ করেই বাঙালিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তৈরির কাজ শুরু করেছে। পালিয়ে আসা বাঙালিরা জানান যে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের বিভিন্ন শিবিরে আটক বাঙালি সামরিক কর্মচারীদের পাঞ্জাব এলাকায় আনা হচ্ছে। কারণ, পাকিস্তান সরকার তাদের কড়া পাহারায় রাখতে চায়। পাকিস্তান প্রত্যাগত বাঙালি কর্মচারীরা পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের কল্যাণের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। এখন তাদের পাকিস্তানের ফেলে রেখে চলে আসায় তারা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা বলেন যে পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের ভাগ্য হিটলারের আমলে জার্মানির ইহুদিদের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। বাঙালিদের মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, গত বছর জানুয়ারি মাসের শেষদিকে প্রেসিডেন্ট ভুট্টোর এই ঘোষণার পর থেকে দেশে ফেরার আশায় দিন গুনছিলেন তারা। এখন তাদের সেই আশা দিনের পর দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। সিমলা চুক্তির পর বাঙালিরা পুনরায় আশায় বুক বেঁধেছিল স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের। ১৯৭২ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের জাতিসংঘভুক্তির বিরুদ্ধে চীন ভেটো প্রদান করবে—সেই খবরে ও ভুট্টোর হুমকিতে বাঙালিদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আশা পুনরায় স্তিমিত করে দেয়।

দৈনিক বাংলা, ২০ জানুয়ারি ১৯৭৩ যুদ্ধাপরাধের বিচার হবেই

এদিকে ভুট্টোর হুমকিতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের সিদ্ধান্ত টলবে না বলে ঘোষণা দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। পাকিস্তানে আটক নিরপরাধ অসহায় বাঙালিদের বিচার প্রহসনে প্রেসিডেন্ট ভুট্টোর করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন তিনি। অন্যায়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিরপরাধ বাঙালিদের আটক করে রাখা এবং মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে তাদের বিচারের নামে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট যে উদ্যোগ নেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা ব্যাপক গণহত্যা, নারী নির্যাতন, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল, সেসব পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।’ তাদের বিচার করতে বাংলাদেশ সরকার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, জিল্লুর রহমান তার প্রতি দৃঢ় সমর্থন ঘোষণা করেন।

দৈনিক ইত্তেফাক, ২০ জানুয়ারি ১৯৭৩ আন্তর্জাতিক পাট সংস্থা স্থাপনের সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাট ও পাটজাত দ্রব্য নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য ঢাকায় একটি পাট কারিগরি কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া সম্মেলনে পাট রফতানিকারক দেশগুলোর নীতি সমন্বয় সাধনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর সদর দফতর থাকবে ভারতে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সভাপতি বাংলাদেশ পাট রফতানি করপোরেশনের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান এই দিনে সাংবাদিক সম্মেলনে সিদ্ধান্তের কথা জানান। উল্লেখ করা যেতে পারে যে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্যোগে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে যোগদানকারী প্রতিনিধি দলের গণভবনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে লুৎফর রহমান বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে বিকল্প কৃত্রিম তন্তুর প্রচলনের কারণে পাট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে কার্যকর করা হলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে লুৎফর রহমান বলেন, ‘কৃত্রিম তন্তু প্রস্তুতকারীরা আন্তর্জাতিক সংস্থার মোকাবিলার জন্য সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে এবং পাটজাত দ্রব্যের গবেষণা ও বাজারজাতকরণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার অক্ষুণ্ন থাকবে।’

বাংলাদেশ অবজারভার, ২০ জানুয়ারি ১৯৭৩ নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব, ৩৭ জনের মৃত্যু

১৯৭৩ সালের শুরুতেই পাবনার গ্রামাঞ্চলে এক নতুন রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায়। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ২০ জন কৃষক ও ১৭ জন তরুণের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। রোগটি সে সময় বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিদিন মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, কৃষকরা মাঠে কাজ করার সময় আর জেলেরা নদীতে মাছ ধরার সময় এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তারা প্রথমে হঠাৎ পেটে, বুকে ও মাথায় ব্যথা অনুভব করেন। এরপর কাঁপুনি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

/ইউআই/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১২ এপ্রিল

ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১২ এপ্রিল

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার ‘বীর নিবাস’ হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী 

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার ‘বীর নিবাস’ হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী 

মুশতাকের মৃত্যুতে বিদেশিদের বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত: তথ্যমন্ত্রী

মুশতাকের মৃত্যুতে বিদেশিদের বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত: তথ্যমন্ত্রী

গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতে আটকে আছে ৫৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক

বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতে আটকে আছে ৫৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক

ডিএনসিসিতে কিউলেক্স মশা নিধনে সমন্বিত অভিযান

ডিএনসিসিতে কিউলেক্স মশা নিধনে সমন্বিত অভিযান

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার অনৈতিক দাবির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আসামিরা

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার অনৈতিক দাবির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আসামিরা

মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে মানববন্ধন

মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে মানববন্ধন

নিবন্ধন ৪৫ লাখ, টিকা নিয়েছেন সাড়ে ৩৩ লাখ

নিবন্ধন ৪৫ লাখ, টিকা নিয়েছেন সাড়ে ৩৩ লাখ

২৬ মার্চ থেকে ঢাকা-জলপাইগুড়ি চলবে ট্রেন

২৬ মার্চ থেকে ঢাকা-জলপাইগুড়ি চলবে ট্রেন

সর্বশেষ

ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১২ এপ্রিল

ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১২ এপ্রিল

শাবির নতুন ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহীর উদ্দিন

শাবির নতুন ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহীর উদ্দিন

নিউজিল্যান্ডে নতুন বলেই আসল চ্যালেঞ্জ

নিউজিল্যান্ডে নতুন বলেই আসল চ্যালেঞ্জ

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার ‘বীর নিবাস’ হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী 

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার ‘বীর নিবাস’ হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী 

জাবিতে তিন দফা দাবিতে ছাত্র ফ্রন্টের মানববন্ধন

জাবিতে তিন দফা দাবিতে ছাত্র ফ্রন্টের মানববন্ধন

মুশতাকের মৃত্যুতে বিদেশিদের বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত: তথ্যমন্ত্রী

মুশতাকের মৃত্যুতে বিদেশিদের বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত: তথ্যমন্ত্রী

নারীকে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাই: সেই তিন পুলিশ সদস্য ২ দিনের রিমান্ডে

নারীকে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাই: সেই তিন পুলিশ সদস্য ২ দিনের রিমান্ডে

চকলেটের প্যাকেটে ইয়াবা পাচার, গ্রেফতার ১

চকলেটের প্যাকেটে ইয়াবা পাচার, গ্রেফতার ১

গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

সম্মিলিত ইউনানী-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক পরিষদ সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ে সংবর্ধনা

সম্মিলিত ইউনানী-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক পরিষদ সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ে সংবর্ধনা

রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশস্থলে বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশস্থলে বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ সোমবার

বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ সোমবার

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মুশতাকের মৃত্যুতে বিদেশিদের বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত: তথ্যমন্ত্রী

মুশতাকের মৃত্যুতে বিদেশিদের বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত: তথ্যমন্ত্রী

নিবন্ধন ৪৫ লাখ, টিকা নিয়েছেন সাড়ে ৩৩ লাখ

নিবন্ধন ৪৫ লাখ, টিকা নিয়েছেন সাড়ে ৩৩ লাখ

২৬ মার্চ থেকে ঢাকা-জলপাইগুড়ি চলবে ট্রেন

২৬ মার্চ থেকে ঢাকা-জলপাইগুড়ি চলবে ট্রেন

সেচ মৌসুমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

সেচ মৌসুমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

আকার কমিয়ে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন

আকার কমিয়ে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন

আরও টিকা কেনা হবে, টাকা প্রস্তুত রাখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

আরও টিকা কেনা হবে, টাকা প্রস্তুত রাখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, শনাক্ত ৫১৫

২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, শনাক্ত ৫১৫

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.