X
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

নেত্রকোনায় মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ২৩:৪১

মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না সরকারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নেত্রকোনায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে প্রশাসন থেকে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও তাতে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন উপকারভোগী ও স্থানীয়রা। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কলমাকান্দার লেংগুড়া আশ্রয়ন প্রকল্পে এই অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসকও প্রাথমিকভাবে অনিয়মের খবর পেয়ে ইট ও কাঠ পাল্টানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন।

ঘর বানানোর কাজ শেষের পথে। তবে উপকারভোগীদের অভিযোগ, নিচু মেঝে হওয়ায় বন্যার সময় পানিতে ডুবে যাবে এই ঘর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, মুজিববর্ষে গৃহহীন থাকবে না কেউ, সরকারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নেত্রকোনায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে ৯৬০ জন গৃহহীনকে ঘর বানিয়ে দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরমধ্যে জেলার ১০ উপজেলায় বিভিন্ন শ্রেণিতে এসব উপকারভোগীর মাঝে সরকারি ঘর হস্তান্তর করার সব প্রক্রিয়াও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এরমাঝে শুধুমাত্র কলমাকান্দায় ১০১টি ঘর নির্মাণ কাজ চলমান। কিন্তু কলমাকান্দা লেংগুড়া ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্পে ১৬টি ঘর নদী তীরবর্তী হওয়ায় বর্ষাকালে ঘরগুলোতে পানি উঠার আশঙ্কায় আছেন নিবন্ধিত উপকারভোগীরা। এছাড়াও ঘর নির্মাণে সব নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর। তারা বলছেন, ইট, কাঠ ও সিমেন্ট যা ব্যবহার হয়েছে ও হচ্ছে এখানে সব নিম্নমানের। অথচ সরকার মুজিববর্ষের ঘরে ভালো মানের ইট-সিমেন্ট ব্যবহার করার শর্তে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা বাড়িপ্রতি বরাদ্দ দিয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ঘরগুলো উঁচু না করায় উপকারভোগীরা এটার শতভাগ সুবিধা পাবে না। তার অভিযোগ, এ বাড়ি নির্মাণে দরকারের চেয়ে বেশি পরিমাণে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, একে তো সিমেন্ট কম দেওয়া হয়েছে, তাছাড়া ভালো কোম্পানির সিমেন্টও ব্যবহার করা হয়নি। এ বিষয়ে কর্মরত শ্রমিকদের কাছে অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তারা ঠিকাদারের (প্রকল্প কর্মকর্তা) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে যেহেতু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই প্রকল্প দেখভাল করছেন তাই প্রকল্প কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

শেষের পথে গৃহহীনদের জন্য ঘর বানানোর কাজ। চলছে রঙের কাজ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নদীর তীরে নিচু স্থানে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এই বাড়িগুলো বানানো হয়েছে। ফলে পাহাড়ি ঢলে ঘরগুলো তলিয়ে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য বৃথা যাবে। উপকারভোগী হয়ে উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে ঘরের বাসিন্দাদের।

উপকারভোগী হিসেবে নিবন্ধিতরা অভিযোগ করেছেন, এসব ঘরের কাজ শুরুর আগে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সমস্যার কথা জানিয়েছেন কিন্তু তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি। এজন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা।

ঘর প্রাপ্তির তালিকায় নাম থাকা এক নারী নাম না প্রকাশ করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘ঘরের মেঝে নিচু হয়েছে, এখানে পানি আসলে ঘরে থাকা যাবে না এটা আমি টিএনও (ইউএনও) স্যারকে জানালে তিনি বলছেন, ‘পানি আসলে রাস্তায় থাকবা পরে সরকার আবার তোমাদের ত্রাণ দেবে।’ আমরা গরিব মানুষ কী আর বলবো! বেশি বললে যদি ঘর না পাই তাই আর কিছু বলিনি।’’

এমন শ্যাওলা পড়া রিং ব্যবহার হয়েছে ঘরগুলোর টয়লেট নির্মাণের কাজে।

এদিকে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অস্বীকার করে, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ‘ঢল আসলে উপজেলা সদরও পানিতে তলিয়ে থাকে। বাজেট নেই মেঝে উঁচু করার, তাই করিনি।’ সিমেন্ট ও ইটের বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান জানান, প্রথমদিকে নিম্নমানের কাজের খবর পেয়ে শুরুতেই ইটও পরিবর্তন করে দিয়েছি।  নতুন কোনও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবো।

জেলার ১০টি উপজেলায় ৯৬০টি বাড়ি নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়াও মালামাল আনা নেওয়ার জন্য আরও ৪ হাজার বরাদ্দকৃত টাকা সঠিকভাবে ব্যয়ের মাধ্যমে গৃহ-নির্মাণের দাবি উপকারভোগীসহ স্থানীয়দের।

/টিএন/

সম্পর্কিত

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে কমেছে মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে কমেছে মৃত্যু

ভোটাররা আমার মনিব, আমি চাকর: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ভোটাররা আমার মনিব, আমি চাকর: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

টাকা হারানোর ঘটনায় সন্দেহ করায় পালিয়ে যায় ৩ ছাত্রী

টাকা হারানোর ঘটনায় সন্দেহ করায় পালিয়ে যায় ৩ ছাত্রী

সড়ক না খাল? 

সড়ক না খাল? 

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০৮

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কমপক্ষে শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে হোসাইন হায়দার আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কমপক্ষে শত কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী হোসাইন হায়দার আলী। সেই টাকা পরিশোধ না করে চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় যান। ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঋণ পরিশোধ না করায় আদালতে বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা হয়। এসব মামলায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর অবস্থান শনাক্ত করে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করি। আজ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

গ্রেফতার হোসাইন হায়দার আলী চট্টগ্রাম নগরীর এনায়েত বাজার জুবলী রোডের মেসার্স জুবলী ট্রেডার্সের মালিক। বাসা ছিল নগরীর কোতোয়ালি থানার লাভ লেনের আবেদিন কলোনিতে। ঋণ নেওয়ার পর সেগুলো পরিশোধ না করে ১০ বছর আগে ২০১২ সালে ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০২

বান্দরবানের চন্দ্রঘোনা সড়কের আমবাগান এলাকায় একটি যাত্রীবাহী চাঁদের গাড়িতে ৪০ থেকে ৫০ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে জনসংহ‌তি স‌মি‌তির (জেএসএস মূল) সন্ত্রাসীরা। এতে তিন জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে।

আহত তিন জন হলেন- ওয়াইনু মারমা (২৪), মেহাই চিং মারমা (১৮) ও ইয়াইচং মারমা (১৮)।

বান্দরবান সেনা জো‌ন জানিয়েছে, রাজস্থলী থে‌কে এক‌টি চাঁদের গাড়ি নি‌য়ে বান্দরবা‌নের রুমার বগা ‌লে‌কে ১৯ জনের এক‌টি দল বেড়া‌তে যায়। বিকা‌লে তারা রাজস্থলী‌তে ফেরার প‌থে রাঙ্গামাটি বান্দরবান সড়কের গলাচিপা নামক স্থানে পৌঁছালে জনসংহ‌তি স‌মি‌তির (জেএসএস মূল) সন্ত্রাসীরা গা‌ড়ি‌টি লক্ষ‌্য ক‌রে অতর্কিত গু‌লি চালায়। এ সময় ৪০ থেকে ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গাড়িতে অবস্থানরত তিন তরুণী আহত হন। প‌রে সেনাবা‌হিনী আহত‌দের উদ্ধার ক‌রে বাঙ্গালহালিয়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এছাড়াও অন্যান্য যাত্রীদের অন্য একটি গাড়িতে করে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে।

সেনাবা‌হিনীর ম‌তে, সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টির জন্য জেএসএসের (সন্তু) সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থ‌লে সেনাবাহিনীর টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে ব‌লেও জানায় সেনাবা‌হিনী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বান্দরবান থেকে একটি চাঁদের গাড়ি চন্দ্রঘোনা সড়ক দিয়ে আমবাগান এলাকা পার হওয়ার সময় হঠাৎ পাহাড় থেকে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এ ঘটনায় গাড়ির চাকায় গুলি লাগলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহতকে উদ্ধার করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে বাঙ্গালহালিয়া ও চন্দ্রঘোনার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩২

কক্সবাজার শহর ও পৌরসভার অলিগলির সড়ক, উপ-সড়কগুলোতে চলছে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি। এসব সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না। ফলে শহরের পথচারী ও বাসিন্দাদের কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল। একটু বৃষ্টি হলেই জমছে কাদাপানি। খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্বাস্থ্যকর শহর নামে খ্যাত জেলায় এখন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। শুধু বর্ষা মৌসুম নয়, শুষ্ক মৌসুমেও শহরের প্রধান সড়ক, উপ-সড়কসহ অলিগলি সব রাস্তার অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সড়কের সবখানে ভাঙা, গর্ত ও হাঁটু ও কাদাপানি। এসব পানি সড়কে জমে একাকার। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পৌরবাসীসহ পর্যটকরা।
 
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) পৌর শহরের প্রধান সড়ক উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুঁড়ি করে ৩-৪ ফুট গভীর গর্ত করেছে। পাঁচ কিলোমিটারের পুরোনো সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের বাইরের ভারী যানবাহন এই সড়ক দিয়ে ঢুকতে পারে না। সড়কের বেহাল দশার কারণে মানুষের হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে গেছে। 

সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না

শহরের হাসপাতাল সড়কের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম নির্মাণাধীন সড়কের তিন ফুট গভীর গর্তে পড়ে পা ভেঙে তিন মাস ধরে শয্যাশায়ী। তিনি বলেন, সড়কের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে শহরবাসী অপরাধ করেছে, তাই যন্ত্রণা দেওয়া হচ্ছে। সড়কের কোথাও পা রাখার জায়গা নেই। এমন উন্নয়নকাজ কোথাও দেখিনি। আগে দেখেছি, সড়কের একপাশ খালি রেখে অন্যপাশে উন্নয়ন কাজ করা হতো। এখন দেখছি, পুরো সড়ক খুঁড়ে ফেলা হয়েছে।

একই কথা বলেছেন শহরের বাজারঘাটা এলাকার ব্যবসায়ী পারভেজ আলম। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে শহরের প্রধান সড়কের সবকটি এলাকা খুঁড়ে ফেলেছে। কিন্তু খোঁড়ার পর মেরামত করা হয় না। যতটুকু কাজ করবে, ততটুক না খুঁড়ে পুরো সড়ক খুঁড়ে ফেলায় বেকায়দায় পড়েছে মানুষ। পুরো সড়কে দেখা দিয়েছে অচল অবস্থা। 

এদিকে, গত দেড় বছর আগে থেকে পৌরসভা সড়ক নির্মাণের কাজ করছে। কিন্তু কাজই শেষ হচ্ছে না তাদের। একসঙ্গে শহরের ২৯টি সড়ক-উপ-সড়ক ভেঙে ড্রেনের কাজ শুরু করেছে তারা। দেড় বছরেও সব ড্রেনের কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে প্রত্যেক সড়ক-উপ-সড়ক অকেজো হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল অনুপযোগী।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আলম বলেন, পৌরসভা দেড় বছর আগে ২৯টি সড়ক, উপ-সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২৯টি সড়কের ৩২ কিলোমিটার কাজ এখনও শেষ হয়নি। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের মিউনিসিপ্যাল গভর্নরের সার্ভিসেস প্রকল্প (এমডিএসপি) ও ইউজিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কাজের ব্যয় প্রকল্প ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পৌর শহরে বড় ধরনের কোনও বাজেট কিংবা প্রকল্প নিয়ে সড়কের উন্নয়নকাজ করা হয়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছর ধরে পৌরবাসী সড়ক নিয়ে দুর্ভোগে ছিলেন। এখন পুরো শহরের সব সড়কের পরিকল্পিত উন্নয়নকাজ চলছে। সড়ক উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে বর্তমানে কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে পৌরবাসীর। এই কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। 

খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে ঘটছে দুর্ঘটনা

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, শহরের প্রধান সড়কটি অনেক পুরোনো। সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। তাই শহরের প্রধান সড়কের জিরো পয়েন্ট হলিডে মোড় থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রশস্ত করে ফোরলেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। সড়কের উন্নয়র প্রকল্প হচ্ছে ২৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। 

তিনি বলেন, সড়ক উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে সাময়িক চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু কাজ সম্পন্ন হলে যানজট নিরসনের পাশাপাশি পর্যটন শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।

গত ৯ জুন কক্সবাজারের হোটেল শৈবালে এক কর্মশালায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী কক্সবাজার শহরের সড়কের দুরবস্থা দেখে বলেছেন, পর্যটন শহরের রাস্তার এমন অবস্থা ভাবা যায় না। বিমান বন্দর থেকে যাওয়ার পথে সড়কের এমন করুণ দশা দেশের কোথাও নেই। এমন সড়ক দেখে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে যেন বিরূপ ধারণা না হয়, সে জন্য দ্রুত সড়ক উন্নয়ন করতে হবে। 

/এএম/

সম্পর্কিত

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনের ১০ বছর পর গ্রেফতার

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

যাত্রীবাহী গাড়িটিতে সন্ত্রাসীদের ৪০-৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩২

দিনাজপুরের হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আমিনুল ইসলাম নামের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও সিপাহি হরিদাশ আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার রেলগেট বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। সৈয়দপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

স্থানীয় ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ছেলে অসুস্থ থাকায় আজ সন্ধ্যায় কাজ শেষে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা দেন রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে একই মোটরসাইকেলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও সিপাহি হরিদাশ ওঠেন। পথে ফুলবাড়ি রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই শাহাদৎ হোসেনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাকি দুইজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ফুলবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, পাথরবাহী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ট্রাকচালক রাজিউর রহমানকে আটক করা হয়েছে। ফুলবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২১

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা রিয়াজুল হক জোদ্দারকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তাকে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত শুক্রবার লালমনিহাট সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় রিয়াজুল হক জোদ্দারকে লালমনিরহাট থেকে গ্রেফতার করে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ।

আটক রিয়াজুল হক জোদ্দার উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের চর কড়াইবরিশাল এলাকার মৃত ফুলগনির ছেলে। তিনি চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৫ জুলাই নৌকায় তুলে এক স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই নারী বাদী মামলা রুজু করলে দীর্ঘদিন এজাহারভুক্ত আসামি পলাতক থাকার পর গতকাল গ্রেফতার করা হয়।

 

/এমএএ/

সম্পর্কিত

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে কমেছে মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে কমেছে মৃত্যু

ভোটাররা আমার মনিব, আমি চাকর: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ভোটাররা আমার মনিব, আমি চাকর: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

টাকা হারানোর ঘটনায় সন্দেহ করায় পালিয়ে যায় ৩ ছাত্রী

টাকা হারানোর ঘটনায় সন্দেহ করায় পালিয়ে যায় ৩ ছাত্রী

সড়ক না খাল? 

সড়ক না খাল? 

মৃত্যু কমছে না ময়মনসিংহ মেডিক্যালে

মৃত্যু কমছে না ময়মনসিংহ মেডিক্যালে

মুগদায় রিকশাচালকের ঘরে মিললো জামালপুরের নিখোঁজ ৩ মাদ্রাসাছাত্রী

মুগদায় রিকশাচালকের ঘরে মিললো জামালপুরের নিখোঁজ ৩ মাদ্রাসাছাত্রী

‘বঙ্গবন্ধুর ছবি আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস’

‘বঙ্গবন্ধুর ছবি আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস’

‘সাহস থাকলে দেশে আসুন, আপনার সঙ্গে খেলতে চাই’

‘সাহস থাকলে দেশে আসুন, আপনার সঙ্গে খেলতে চাই’

ময়মনসিংহে বিএনপির ১১ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা 

ময়মনসিংহে বিএনপির ১১ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা 

ময়মনসিংহে করোনা শনাক্ত বেড়েছে

ময়মনসিংহে করোনা শনাক্ত বেড়েছে

সর্বশেষ

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

ক্যাপিটল প্রাঙ্গণে ট্রাম সমর্থকদের মিছিল

ক্যাপিটল প্রাঙ্গণে ট্রাম সমর্থকদের মিছিল

‘শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’   

‘শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’   

আগারগাঁওয়ে ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

আগারগাঁওয়ে ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

© 2021 Bangla Tribune