একুশে ফেব্রুয়ারির ভোরে খালি পায়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সঙ্গে মিলিয়ে চলা প্রভাত ফেরির দেখা মেলেনি এবার। করোনার জন্য এ বছর ছিল না প্রভাত ফেরির আয়োজন।
রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে কেউ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেনি। পুরো শহীধ মিনার চত্বর ও বেদী ছিল ফাঁকা। পরে দুই-একটি সংগঠনের লোকজন শ্রদ্ধা নিবেদনে আসতে শুরু করে। কিন্ত সেই প্রভাত ফেরি চোখে পড়েনি।
এর আগে বিশেষ ব্যক্তিরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো পরপরই সর্বস্তরের মানুষের জন্য সব উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার৷ সাড়ে ১২টা দিকে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে থাকেন৷ রাত ৩টা পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদন চলে। তারপর একেবারে মানুষ শূন্য হয়ে যায় শহীদ মিনার। যা অন্য কোনোবার হয় না।
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর আবার দুই-একজন করে মানুষ আসতে শুরু করেন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা ষাটোর্ধ্ব মশিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি গত ১০ বছর ধরে ফুল দিতে আসছি। পলাশীর গেট দিয়ে ঢোকার অনুমতি থাকে। সেখানে থাকে লম্বা লাইন। যে লাইন শুরু হয় ভোররাত থেকে। ৬টার দিকে পুলিশ ঢোকার অনুমতি দেয়। এবারই আমার কাছে ব্যতিক্রম মনে হল। ফাঁকা ছিল বেদী। মনের ভেতর কেমন জানি করে উঠলো। পৃথিবীর সুস্থ হয়ে যাক, অমর একুশে আবার আগের মতো ফিরে আসুক।’









