X
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

শুধু বেসরকারি ঋণ প্রবাহে স্থবিরতা কাটছে না

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২১, ১৩:০০

টানা দশ বছরের স্থবিরতা ভেঙে করোনাকালেই বেশ খানিকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ার বাজার। প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রবাস থেকে বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি। রফতানি আয়ও হয়েছে মন্দের ভালো। শুধু তাই নয়, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ খাতই সচল হয়েছে। কিন্তু দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে কোনও গতি আসেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা এখনও যায়নি, একই কারণে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি ব্যবসা-বাণিজ্য। গতি ফেরেনি আমদানি-রফতানিতেও। ফলে নানা অনিশ্চয়তায় নতুন করে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না উদ্যোক্তারা। এতে করে কমেছে ঋণের চাহিদা।

জানা গেছে, অধিকাংশ ব্যাংকই এখন নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছে না। যেটুকু ঋণ দেওয়া হচ্ছে তা খুবই সতর্কতার সঙ্গে। কারণ, এখন ঋণ আদায় হচ্ছে না। এতে ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বেসরকারি খাতে এত কম প্রবৃদ্ধি এর আগে কখনও হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৪১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মহামারির কারণে অধিকাংশ ব্যাংক দেখেশুনে বিনিয়োগ করছে। অনেকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। যে কারণে ঋণের প্রবৃদ্ধি রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সচল হলে তবেই ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে আসবেন। কিন্তু এখন ব্যবসায়ীরা ব্যাংকবিমুখ। যে কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমছে।

আবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকে রাখার জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে সংকটে টিকে থাকতে বিদ্যমান ব্যবসা সংকুচিত করছেন। এমন অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে তারা নতুন করে বিনিয়োগে আসতে চাচ্ছে না। এ কারণে ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার গ্রাহকও পাচ্ছে না। ফলে ঋণ প্রবাহে কমে গেছে গতি।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইএ’র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা এখনও টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে। অনেকেই ব্যবসা ছোট করে ফেলেছেন বলেও জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে টিকে থাকাই দায়, সেখানে ঋণের বোঝা মাথায় নিতে কে চায়?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগেরই ঋণ আমানতের অনুপাত ৮০ শতাংশের নিচে রয়েছে। ৫১টি ব্যাংকের এডিআর নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। অগ্রণী, রূপালী, সোনালীসহ ৫ ব্যাংকের এডিআর ৬০ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। মাত্র সাতটি ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য দুই লাখ চার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আলোচিত সময়ে ব্যাংক খাতে অলস টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। এ অংক অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি। অতিরিক্ত তারল্য থেকে বাচার জন্য ভালো গ্রাহক খুঁজছে অনেক ব্যাংক। তারল্যের চাপ সামলাতে কোনও কোনও ব্যাংক সুদ হারও কমিয়েছে। 

এদিকে চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) জুলাই-ডিসেম্বর এই ছয় মাসের সার্বিক অর্থনীতি পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বাজারে অর্থ সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বেসরকারি ঋণ চাহিদা বাড়েনি।  প্রতিবেদনে অর্থনীতির সূচক বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে,  করোনার ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনীতিতে গতি ফিরতে শুরু করেছে। এজন্য অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে ইতিবাচক ধারা বইছে। অর্থনীতিতে সুবাতাস হচ্ছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩৪৫ কোটি মার্কিন ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বৈদেশিক সহায়তা এসেছে ২০৪ কোটি ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এই সময়ে ১৫ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ বিতরণ করা হয় শিল্প খাতে। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম। পাশাপাশি এই সময়ে ঋণ আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। আদায় পরিস্থিতি গত অর্থবছরের এই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কম ছিল। অর্থাৎ বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কম হওয়ার কারণে এই সময়ে বিনিয়োগ কমেছে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানাও পুরোদমে চালু হয়নি।

শিল্প খাতের উৎপাদন পরিস্থিতি বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যম ও বড় পর্যায়ের শিল্প প্রতিষ্ঠানে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে উৎপাদনের সূচক ৪৪০ দশমিক ২১ পয়েন্টে উঠেছে। ২০১৯ সালের এই সময়ে এই খাতে উৎপাদনের সূচক ছিল ৪১১ দশমিক ৬০ পয়েন্ট। উদ্যোক্তাদের মতে, লকডাউন তুলে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিকতা ফিরে পাচ্ছে। এমনকি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান এখনও পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতায় কাজ করছে না। এছাড়া আরও অনেক খাত এখনো পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা ফিরে পায়নি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশে নেমেছে। শুধু ডিসেম্বর টু ডিসেম্বর মাসভিত্তিক মূল্যস্ফীতির হারও কমেছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, করোনাকালে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে গত বছরে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে মুদ্রা সরবরাহ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুলাই থেকে নভেম্বর এই সময়ে আমদানি কমেছে ২১১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ২০২০ সালের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কমেছে ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ।

 

 

/এমআর/

সম্পর্কিত

বিমা অফিসও খোলা

বিমা অফিসও খোলা

ব্যাংক খোলা, লেনদেন দেড়টা পর্যন্ত

ব্যাংক খোলা, লেনদেন দেড়টা পর্যন্ত

পাঁচদিন পর খুলেছে পুঁজিবাজার, লেনদেন ১টা পর্যন্ত

পাঁচদিন পর খুলেছে পুঁজিবাজার, লেনদেন ১টা পর্যন্ত

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

বিমা অফিসও খোলা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১১:০৭

ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের পাশাপাশি আজ রবিবার (২৫ জুলাই) থেকে বিমা কোম্পানির অফিসও খোলা থাকছে। চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সকাল ১০ থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। 

এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট বিমা প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করার জন্য বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) নির্দেশ দেয়। 

সংস্থাটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ সময় বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা অফিস সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

/জিএম/ইউএস/

সম্পর্কিত

বিমা খাতের গ্রাহকদের জন্য সরকারের টার্গেট নির্ধারণ

বিমা খাতের গ্রাহকদের জন্য সরকারের টার্গেট নির্ধারণ

এমডি নিয়োগ না দেওয়ায় মার্কেন্টাইল লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে শোকজ

এমডি নিয়োগ না দেওয়ায় মার্কেন্টাইল লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে শোকজ

বিমা অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আড়াইটা পর্যন্ত খোলা

বিমা অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আড়াইটা পর্যন্ত খোলা

বিমা অফিসও খুলে দেওয়া হচ্ছে

বিমা অফিসও খুলে দেওয়া হচ্ছে

ব্যাংক খোলা, লেনদেন দেড়টা পর্যন্ত

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১০:২৫

আজ রবিবার (২৫ জুলাই) থেকে যথারীতি খোলা রয়েছে ব্যাংক। সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হবে। লেনদেনের পর আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করার জন্য বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় ২৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত) বিধিনিষেধ চলাকালে সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে ব্যাংক। রবিবার থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হবে। লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করার জন্য বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে,  মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালন করে সীমিত সংখ্যক লোকবলের মাধ্যমে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অত্যাবশ্যকীয় বিভাগসহ ব্যাংক স্বীয় বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক শাখা খোলা রাখতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, কঠোর লকডাউন চলাকালে প্রতিটি ব্যাংকের প্রধান শাখা, সব বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা এবং জেলা ও উপজেলা সদরে একটি করে শাখা খোলা রাখতে হবে।

/জিএম/এমএস/

সম্পর্কিত

ব্যাংক লেনদেন ফিরল স্বাভাবিক সময়ে

ব্যাংক লেনদেন ফিরল স্বাভাবিক সময়ে

ঈদে ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট

ঈদে ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট

পাঁচদিন পর খুলেছে পুঁজিবাজার, লেনদেন ১টা পর্যন্ত

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১০:২০

ঈদুল আজহা ও সাপ্তাহিক ছুটি উপলক্ষ্যে টানা পাঁচদিনের ছুটি শেষে আজ রবিবার (২৫ জুলাই) দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ রোধে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের এই দিন সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হয়েছে, চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সমন্বয় রেখে পুঁজিবাজারের লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা রাখা হবে। তার সঙ্গে প্রথম ও শেষের ১৫ মিনিট প্রি ও পোস্ট ক্লোজিং সেশন থাকবে।

এর আগে গত ১৯ জুলাই সর্বশেষ পুঁজিবাজারে লেনদেন অনুষ্ঠিত হয়। সেই দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লেনদেন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২০ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত মোট তিনদিন এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটির কারণেও লেনদেন বন্ধ ছিল।

/জিএম/ইউএস/

সম্পর্কিত

ব্যাংক খোলা, লেনদেন দেড়টা পর্যন্ত

ব্যাংক খোলা, লেনদেন দেড়টা পর্যন্ত

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসেনি

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসেনি

শেয়ারবাজারে নতুন আশার সঞ্চার

শেয়ারবাজারে নতুন আশার সঞ্চার

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ২১:২০

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগকে থামিয়ে দিতে তৎপরতা চালাচ্ছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-লোয়াব। সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দরে অটোগ্যাস বিক্রি করায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জরিমানা করতে শুরু করেছে। আর এ ধরনের অভিযান ঠেকাতে বিইআরসির হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছে লোয়াব। তবে কমিশন পাল্টা এক চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের অভিযান তারা বন্ধ করবেন না। উল্টো তাদের ঘোষিত দরে এলপিজি বিক্রি না করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

চলতিবছর এপ্রিলে প্রথমবার দেশে সরকারিভাবে এলপিজির দর নির্ধারণের ঘোষণা আসে বিইআরসির পক্ষ থেকে। ২০২০ সালের ২০ আগস্ট উচ্চ আদালতের দেওয়া এক আদেশ বাস্তবায়ন করতে বিইআরসি এই ঘোষণা দেয়। এপ্রিলের পর জুন পর্যন্ত আরও তিনবার এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী সৌদি সিপি অনুসারে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে শুরু থেকেই দাম নির্ধারণের বিষয়টি মেনে নেয়নি বেসরকারি এলপিজি বিক্রেতারা। বাজারে দাম কমানোতো দূরের কথা কোনও ক্রমেই দাম কমানো হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।

ফলে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় সরকারের এ ধরনের ‘ভালো উদ্যোগটি’ প্রশ্নের মুখে পড়ে। তীব্র সমালোচনার মধ্যেই জ্বালানি বিভাগ সরকারের তরফ থেকে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১২ জুলাই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এক অভিযানে এ এইচ সি এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। ওই জরিমানার কাগজে দেখা যায়, অভিযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে ০০৪৪৯২২, আর অভিযোগকারীর নাম লেখা রয়েছে ‘রাষ্ট্র’। এ এইচ সি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানাই বাড়তি দরে এলপিজি বিক্রি রুখতে প্রথম কোনও অভিযান, যা গণমাধ্যমের খবরে এসেছে।

একই দিন ই-মেইলের মাধ্যমে বিইআরসিকে একটি চিঠি পাঠায় লোয়াব। চিঠিতে বলা হয়, গত ১২ এপ্রিল ঘোষিত মূল্য সংশোধনের জন্য এলপি গ্যাস অপারেটরদের ১৮টি আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তাই বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ১২ এপ্রিলের মূল্যকে ভিত্তি ধরে অনুষ্ঠিতব্য যে কোনও মাসিক সভায় অংশগ্রহণ করা থেকেও লোয়াব বিরত রয়েছে।

চিঠিতে লোয়াব বলে, ‘আমরা ১২ এপ্রিলের এমআরপি (সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য) বিষয়ে পেশকৃত আবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি এবং বিষয়টির সন্তোষজনক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তা অধিকারের অভিযান বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেবেন আশা করি। এ বিষয়ে লোয়াবের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিইআরসির চেয়ারম্যানের আলোচনা অনুযায়ী ধারণা করা হয়েছিল যে, ডিসপিউটেড এমআরপির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার অধিদফতর কোনও প্রকার অভিযান পরিচালনা করবে না। কিন্তু এখনও অভিযান চলছে। আজকের অভিযানে যে জরিমানা করা হয়েছে তার একটি রশিদ সংযুক্ত করা হলো।

লোয়াব বলছে, লকডাউনের কারণে বিইআরসি শুনানির তারিখ বাতিল করেছে এবং কখন শুনানি হবে তা অনির্দিষ্ট রয়ে গেছে। সেজন্য অন্তর্বর্তী সময়ে কোনও অভিযান না চালানোর ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছে লোয়াব।

এই চিঠির জবাবে বিইআরসির সচিব রুবিনা ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২০ আগস্টে উচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশে গণশুনানি করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমবার ১২ এপ্রিল, পরে ২৯ এপ্রিল, ৩১ মে এবং ৩০ জুন আরও তিন দফা দর সমন্বয় করা হয়েছে। এখন বিইআরসির কাছে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন রয়েছে। যে আবেদনগুলোর শুনানির জন্য ৭-৮ জুলাই গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অতিমারি পরিস্থিতির কারণে গনশুনানির করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে শুনানি হলে সেখানে সকলের মতামত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে এখন যে দাম ঘোষণা করা হয়েছে ওই দামে এলপিজি বিক্রি করতে হবে। অন্যথায় কমিশন আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গত, রান্নার এলপিজি ছাড়াও পরিবহনের জন্য অটোগ্যাসের দামও নির্ধারণ করে দেয় কমিশন। কিন্তু আগে থেকেই বেশি দামে বিক্রি হওয়া এসব পেট্রোলিয়াম গ্যাসের দাম কমায়নি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সঙ্গত, কারণে এখন মাঠে নেমেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান।

/ইউএস/

সম্পর্কিত

বিধি ছাড়াই নিধিরাম সর্দার কমিশন!

বিধি ছাড়াই নিধিরাম সর্দার কমিশন!

এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণে অনুষ্ঠেয় গণশুনানি স্থগিত

এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণে অনুষ্ঠেয় গণশুনানি স্থগিত

এলপিজির দাম নির্ধারণে ৭ জুলাই আবার গণশুনানি

এলপিজির দাম নির্ধারণে ৭ জুলাই আবার গণশুনানি

আরও কমলো এলপিজির দাম, কমেছে অটোগ্যাসের দামও

আরও কমলো এলপিজির দাম, কমেছে অটোগ্যাসের দামও

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসেনি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০৯:০০

সদ্যবিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরেও বোরোর বাম্পার ফলন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় এ পর্যন্ত বোরো ধানের সংগ্রহ পরিস্থিতিও সন্তোষজনক। করোনা মহামারির মধ্যেও ধান ও চালের সরবরাহ স্বাভাবিক। চাহিদা মিটিয়ে এখনও ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত। তারপরও ৪৮ টাকার কমে বাজারে কোনও চাল নেই। এমন পরিস্থিতিতে আবার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত। চালের মুল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং কমিটি করা হয়েছে। সাত অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া দেওয়া হয়েছে।  বাজারে ধান ও চালের দর ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ কোনও কাজে আসেনি। চালের বাজার অনিয়ন্ত্রিতই রয়েছে।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিলার ও ব্যবসায়ীদের কঠিন যোগসাজশ ও কারসাজিতে বাজারে বেড়েছে চালের দাম। সরকারের খাদ্যমন্ত্রী নিজে সরাসরি গণমাধ্যমে একাধিকবার এই অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত মিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। কারসাজি করা মিলারদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। এ ধরনের হুমকিও তিনি দিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই কারসাজির অভিযোগে কোনও মিলার বা চাতাল মালিকের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে বা কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা কাউকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে-  এ ধরনের কোনও সংবাদ পাওয়া যায়নি।

দেশে চালের উৎপাদন, সরবরাহ, আমদানি ও মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার পরও বাড়ছে চালের দাম। কারণে অকারণেই সুযোগ পেয়েই চালের দাম বাড়িয়ে অনৈতিক মুনাফা করছেন চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কোনওভাবেই চালের বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আমদানি করা হলেও চালের বাজার স্থিতিশীল করা যায়নি। আগামীতে চাল নিয়ে যাতে কোনও প্রকার বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয় সেজন্যই সরকার আবারও চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে বিদ্যমান করোনাকালীন পরিস্থিতিতে আগামী আমন ও পরে আউশ মৌসুমে বিশেষ করে ধান উৎপাদন ও প্রণোদনা বিতরণসহ সার্বিক কৃষি কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৭ জন অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি করাই হয়েছে, আমন ও আউশ উৎপাদনে যাতে চালের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন কোনও পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশে কৃষি উৎপাদন আরও বেগবান করতেই এসব সিনিয়র কর্মকর্তাদেরকে মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও সমন্বয়ের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক অতিরিক্ত সচিবকে ২টি করে সারা দেশের মোট ১৪টি কৃষি অঞ্চলের কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব দিয়ে গত ৬ জুলাই কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- দায়িত্বপ্রাপ্ত সাত কর্মকর্তা হলেন- পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রৌফ চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি অঞ্চল, গবেষণা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কমলা রঞ্জন দাস রাজশাহী ও বগুড়া অঞ্চল, সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল ইসলাম দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চল, সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল সিলেট ও কুমিল্লাহ অঞ্চল, এছাড়া যশোর ও খুলনা অঞ্চলের দায়িত্বে বীজ বিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বলাই কৃষ্ণ হাজরা, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বে পিপিসি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন তালুকদার এবং ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বে প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম সব অঞ্চলের সার্বিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন। সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল।

অপরদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে চলতি বছরের শুরুতেই কারসাজির মাধ্যমে কেউ যাতে চালের মূল্য বাড়াতে না পারে সেজন্য বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত  নির্দেশনায় বলা হয়েছে- ধানের দামের সঙ্গে চালের দামের সামঞ্জস্য রাখতে হবে। কোনোভাবেই যেন মিল মালিক এবং ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুবিধা না নিতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, ভোক্তারা যাতে সহনীয় দামে চাল কিনে খেতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে হবে। চালের বাজার অস্থির করতে কেউ যদি কারসাজির চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।  

জানা গেছে, চালের দাম সহনীয় করতে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য অধিদফতরের নেতৃত্বে আলাদা বাজার মনিটরিং টিম গঠন করা হয়। কৃষি বিপনন অধিদফতর চালের দরও নির্ধারণ করে দিয়েছিলো। নির্ধারণ করে দেওয়া দরের অতিরিক্ত দামে কেউ চাল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও তা কার্যকর করা যায়নি। চালসহ খাদ্যশস্যের বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা রোধ, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং বাজার দর স্থিতিশীল রাখা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার স্বার্থে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য অধিদফতরের অধীনে মোট ৭টি বাজার মনিটরিং টিম গঠন করা হয়।

এর মধ্যে চালের বাজার দরে ঊর্ধ্বগতি প্রবণতা রোধে ঢাকা মহানগরের বড় বড় পাইকারি বাজার সরেজমিন তদারকির জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪টি এবং খাদ্য অধিদফতরের অধীনে ৩টি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটিকে বাজার দর সংগ্রহ করে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতরে প্রতিবেদন দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটি ঢাকা মহানগরের বড় বড় পাইকারি বাজার সরেজমিন তদারকি করে বাজার দর সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দাখিল, বাজার পরিদর্শনে দিনের বাজার দর ও আগের দুই দিনের বাজার দর সংগ্রহ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং বাজারে চাল ও আটার বিক্রয়মূল্য ও ক্রয়মূল্যের তথ্য সংগ্রহ করবে। বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা কমিটিগুলো প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করবে। কিন্তু বাজারে এসব মনিটরিং কমিটির কোনও হদিস পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এরও আগে গত ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর চালের মূল্য সহনীয় রাখতে একটি কন্ট্রোল রুম এবং বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করেছিল সরকার। যা বর্তমানেও খোলা রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে যে কেউ উল্লিখিত কন্ট্রোলরুমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।

মিলাররা চালের বাজারের এই অস্থিরতার জন্য ধানের মূল্য বৃদ্ধিকে দায়ি করলেও মুলত ভারত থেকে চাল আমদানির সংবাদ পাওয়া মাত্র এবং আমদানি করা চালের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে  কমতে শুরু করে ধানের দাম। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বাজারে কমতে থাকে ধানের দাম। এ বছরের জানুয়ারিতেও বাজারে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজির বস্তা) ধানের দাম কমেছে ১৫০-২০০ টাকা। কিন্ত কমেনি চালের দাম। ২ হাজার একশ ৮০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া গুটি স্বর্ণা ধান এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকার নিচে। বিআর-৫১ ধান ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে নেমে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়। আর সুমন স্বর্ণা ধান ২ হাজার ৩৫০ থেকে নেমে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জয়পুরহাটের কৃষক হেমায়েত উদ্দিন জানিয়েছেন, ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন মিল মালিকরা। তারা ইচ্ছামতো ধানের দাম নির্ধারণ করেন, বাধ্য হয়ে তাদের নির্ধারিত দামেই ধান বিক্রি করতে হয়।

মাঠ পর্যায়ে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার গোবিন্দপুরের কৃষকরা জানিয়েছেন, মিলাররাই কারসাজি করে ধান কেনা কমিয়ে দিয়ে কৃষকদের উপর দায় চাপাচ্ছেন। অনেক মিলার আড়তদারদের জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আগে যেখানে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ গাড়ি ধান কিনতেন, এখন সেখানে এক থেকে দুই গাড়ি ধান কিনবেন। বিভিন্ন অজুহাতে তারা ধান কেনা কমিয়ে দেন। অথচ দায়ী করেন কৃষকদের।

জয়পুরহাটের মিলার লায়েক আলী জানিয়েছেন, কৃষকের ধান বেশি দামের আশায় রেখে দেওয়ার কারণে আমাদের বেশি দামে ধান কিনতে হচ্ছে বিধায় চালের দাম বেশি। এর জন্য মিলার নয়, কৃষকরা দায়ী।

/এফএএন/

সম্পর্কিত

যে কারণে বিলম্বিত হচ্ছে মহাসড়কের টোল আদায়

যে কারণে বিলম্বিত হচ্ছে মহাসড়কের টোল আদায়

এবারও সিন্ডিকেটের কবলে কাঁচা চামড়া

এবারও সিন্ডিকেটের কবলে কাঁচা চামড়া

যেসব শিল্প কারখানা খোলা থাকবে

যেসব শিল্প কারখানা খোলা থাকবে

১৪ দিন শপিং মল-দোকানপাট বন্ধ থাকবে

১৪ দিন শপিং মল-দোকানপাট বন্ধ থাকবে

সর্বশেষ

বিচ্ছেদের পর যে কারণে আবারও ভাইরাল আমির-কিরণ

বিচ্ছেদের পর যে কারণে আবারও ভাইরাল আমির-কিরণ

বিমা অফিসও খোলা

বিমা অফিসও খোলা

সৌদি থেকে ফিরে কৃষিকাজ করে মাসে আয় ৩ লাখ

সৌদি থেকে ফিরে কৃষিকাজ করে মাসে আয় ৩ লাখ

সোশ্যাল মিডিয়া এখন আয়েরও মাধ্যম

সোশ্যাল মিডিয়া এখন আয়েরও মাধ্যম

এক হাসপাতালেই ১৯ মৃত্যু

এক হাসপাতালেই ১৯ মৃত্যু

টিভিতে উল্লেখযোগ্য যত নাটক-টেলিছবি-স্বল্পদৈর্ঘ্য...

ঈদের পঞ্চম দিনটিভিতে উল্লেখযোগ্য যত নাটক-টেলিছবি-স্বল্পদৈর্ঘ্য...

যশোর জেনারেল হাসপাতালে আরও ৭ মৃত্যু

যশোর জেনারেল হাসপাতালে আরও ৭ মৃত্যু

টিভিতে আজ

টিভিতে আজ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিমা অফিসও খোলা

বিমা অফিসও খোলা

ব্যাংক খোলা, লেনদেন দেড়টা পর্যন্ত

ব্যাংক খোলা, লেনদেন দেড়টা পর্যন্ত

পাঁচদিন পর খুলেছে পুঁজিবাজার, লেনদেন ১টা পর্যন্ত

পাঁচদিন পর খুলেছে পুঁজিবাজার, লেনদেন ১টা পর্যন্ত

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসেনি

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসেনি

© 2021 Bangla Tribune