X
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে মুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২১, ১১:৩৮

১৯৯১ সালে এসে বাংলাদেশের নব-গণতান্ত্রিক যাত্রাকে অনেকেই মাইলফলক বলে চিহ্নিত করতে চান। ব্যক্তিগতভাবে আমি সেটা মানতে নারাজ। নারাজ এ কারণেই যে, যাদের নিয়ে এই যাত্রা তাদের মধ্যে তিনটি প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এদেশে রাজনীতি করার কথাই ছিল না। বিএনপি বা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যে প্রক্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা না হলে এই দলটি কোনও অস্তিত্ব পেতো? হয়তো এই দলের গরিষ্ঠসংখ্যক রাজনীতিবিদ তখন চৈনিকপন্থী মাওলানা ভাসানীর দলে গিয়ে আশ্রয় নিতেন, তাতেও বাংলাদেশের উপকার বৈ অপকার হতো না। আর বিএনপি গঠিত না হলে এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে জামায়াতে ইসলামীকেও ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন পড়তো না। গোলাম আজমসহ অন্যান্য জামায়াত নেতারা হয় লন্ডনে, নয় সৌদি আরবে কিংবা পাকিস্তানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতেন। জেনারেল জিয়া যদি বিএনপি গঠন না করতেন তাহলে জেনারেল এরশাদ এসে জাতীয় পার্টি গঠনেরও সুযোগ বা সাহস পেতেন না। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগ, সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার দলসমূহ এবং পরবর্তীতে জাসদের মতো আওয়ামী-বিরোধী কিছু রাজনৈতিক দল গঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতো, যেমনটি পাকিস্তানে হয়েছে। হতে পারতো এদেশেও সেনা-আমলা সমর্থনপুষ্ট রাজনৈতিক দল হতো কিন্তু তারা সরাসরি সামরিক শক্তির বড়াই নিয়ে রাজনীতিতে অস্ত্র-অর্থ-ধর্ম-দুর্নীতির সুযোগ ইত্যাদির সম্মিলন ঘটিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে আজকের অবস্থান এনে ফেলার সুযোগ পেতো না। আমাদের গণতন্ত্রও ভারতের মতো সুস্থির না হলেও স্বাবলম্বী হতো। এই জায়গায় এসে আমাদের এই প্রশ্ন তুলতেই হবে যে, কেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমÐল ভারতের মতো না হয়ে পাকিস্তানের মতো হলো? আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থেই আমাদের এই প্রশ্নটি নিয়ে বিশদ আলোচনা করতে হবে।

বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন বাংলাদেশের চোখে বিশেষ করে দেশের শিক্ষিত শ্রেণিটির একটি বড় অংশই দেশে ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে বলে স্বপ্ন দেখেছেন। যেটি ভারতে সেই ১৯৪৭ সালের পরেই শুরু হয়েছে। জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে ভারত যে গণতান্ত্রিক পথে যাত্রা শুরু করেছিল এবং যে সংবিধানটি ভারত সর্বসম্মতক্রমে গ্রহণ করেছিল তা মূলত সেক্যুলার এবং বাহ্যত বহুপক্ষের জন্য রক্ষাকবচ। নেহেরু আরও যে সকল কাজ করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম হলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থাসমূহ এমন এক শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন যে, দীর্ঘদিন তারা তাদের সঠিক রাজনৈতিক অবস্থানটি ধরে রাখতে পেরেছিলেন। এমনকি নেহেরুর ‘বি ইন্ডিয়ান বাই ইন্ডিয়ান’ পলিসি দেশটির জনগণকে কখনোই বিদেশমুখী করেনি, তারা নিজেদের দেশের উৎপাদন ব্যবস্থাকেই প্রাধান্য দিয়েছে সর্বাগ্রে। নেহেরুর রাজনৈতিক ত্রুটি ছিল না সেকথা তার পরম মিত্রও বলবে না কিন্তু তার সবচেয়ে উত্তম পদক্ষেপ ছিল ভারতীয় গণতন্ত্রকে সেনা ও আমলাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখায় সফলতা অর্জন। অপরদিকে পাকিস্তানে শুরুতেই এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হোঁচট খায়। অনেক গবেষকই মনে করেন যে, জিন্নাহ্ সাহেব শেষকালে এসে ‘পোকায় কাটা পাকিস্তান নিয়া আমি কী করবো’ ধরনের উপলব্ধি প্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং পাকিস্তানেও দুই বৃহৎ ধর্ম-সম্প্রদায়ের সম্মিলন ঘটানোর চেষ্টা চালানোর পক্ষপাতি ছিলেন কিন্তু ততোদিনে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। পাকিস্তানে সেনা-আমলাতন্ত্র দেশটির রাজনীতিবিদদের দুর্বলতা আবিষ্কার করে ফেলেছে এবং তাদেরকে কখনও লোভ দেখিয়ে কখনও ভয় দেখিয়ে মূলত তারাই দেশটির নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে ফেলে। অখণ্ড পাকিস্তানের ২৫ বছর এই সেনা-আমলাতন্ত্র যেভাবে দেশটিকে নিয়ে ছেলেখেলা করেছে সেরকমটি আর কোথাও দেখা যায় না। মজার ব্যাপার হলো, পশ্চিমা গণতন্ত্র তথা পৃথিবীর স্বঘোষিত মোড়লরা কিন্তু পাকিস্তানের এই সেনা-আমলাতন্ত্রের ঘোরতর সমর্থকই কেবল নয় তাদের সকল অনৈতিক পদক্ষেপকে সর্বৈব সমর্থন দিয়ে গেছে। নেহেরু যতোই সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দিকে ঝুঁকেছেন, একটু দূরে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করেছেন জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন গড়ে তুলতে ততোই পাকিস্তান ঝুঁকেছে সামরিকতন্ত্রের দিকে এবং এতে পশ্চিমা মোড়লরা যারপরনাই সমর্থন, সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। পাকিস্তানের এই পুরো রাজনৈতিক সমীকরণে কেবলমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে পাকিস্তানের সেনাতন্ত্র পাশে পায়নি, নাহলে মাওলানা ভাসানী থেকে শুরু করে এদেশের সেই সময়ের বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদদের তারা কাত করে ফেলতে সমর্থ হয়। বঙ্গবন্ধু ও তার সঙ্গী নেতৃবৃন্দের এই অনড় ও অসহযোগিতাই যে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের নিগড় থেকে বের করে আনায় সফলতা অর্জন করে সেটা বলাই বাহুল্য। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশ ভারতীয় বা ওয়েস্টমিনিস্টার গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করবে নাকি ফেলে আসা পাকিস্তানের মতোই সেনা-আমলাতান্ত্রিক একটি উদ্ভট পথে হাঁটবে সে সিদ্ধান্ত বঙ্গবন্ধু নিলেও অর্থাৎ তিনি ওয়েস্টমিনস্টার গণতন্ত্রের দিকে পা বাড়ালেও সদ্য স্বাধীন দেশের সেনা-আমলাতন্ত্র পাকিস্তানের মতোই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশটাকে ভয়ংকর এক অস্থিরতার ভেতর নিয়ে গিয়ে ফেলে। পশ্চিমা গণতান্ত্রিক শক্তির অসহযোগিতার সঙ্গে দেশের ভেতর অচলাবস্থা স্বাধীন বাংলাদেশকে শুরুতেই একটি দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি করে দেয়। তখনকার সময়ে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা লাভকারী যে কোনও দেশের মতোই বাংলাদেশও এক গভীর খাঁদের মুখোমুখি হয়। বঙ্গবন্ধু এই খাঁদ পার হওয়ার জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন কিন্তু দেশের সেনা-আমলা-রাজনীতিবিদদের মিলিত চক্রটি আন্তর্জাতিক শত্রুপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব শুরু হওয়ার আগেই সপরিবারে তাকে ও তার সঙ্গী নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে। ফলে বাংলাদেশে পুরোপুরি পাকিস্তানি ধাঁচের সেনা-আমলাতন্ত্র থানা গেড়ে বসে এবং সংক্ষিপ্তভাবে এটাই মূল কারণ বাংলাদেশে প্রতিবেশি ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক আবহ না গড়ে ওঠার।

যে কথা আগেই বলেছি যে বাংলাদেশের এই সেনা-আমলাতন্ত্র পাকিস্তানের চেয়ে আরেক কাঠি সরেশ হয়ে দেশের রাজনীতিতে দু’দু’টি রাজনৈতিক দল এবং একটি স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করে, আওয়ামী লীগ বা দেশের অন্যান্য পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোকে মূলত এই ত্রয়ী শক্তির সঙ্গে ভোটের রাজনীতি, রাজপথের রাজনীতি কিংবা রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারণী যুদ্ধে মুখোমুখি হতে হয়। ক্ষমতায় থাকলে এই সেনাতান্ত্রিক শক্তিটি মূলত ধ্বংসগ্রাহী, নিজেদের এবং আপন স্বার্থ রক্ষাকারী শ্রেণিটির উন্নয়ন ছাড়া দেশের অবকাঠামো কিংবা জনগণের সার্বিক কল্যাণে কোনও ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে অনাগ্রহী এবং যতভাবে সম্ভব রাজনীতিকে কলুষিত করার চেষ্টায় সদা মগ্ন। ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়াই কেবল নয় নব্বইয়ের দশকে এসে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়া সন্ত্রাসবাদী রাজনীতির প্রশ্রয়ও এদেশে এই সেনাতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিটিই দিয়েছে। অথচ পশ্চিমসহ দেশের ভেতরকার একটি বিশিষ্ট ও শিক্ষিত শ্রেণি তাদের এই অনৈতিক ও বিধ্বংসী রাজনীতির সঙ্গী থেকেছে কখনও না দেখার ভান করে, কখনও এই অনাচারকে প্রশ্রয় এবং সমর্থন দিয়ে। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য এখানেই যে, এদেশে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলকে ঠেকানোর জন্য সেনা-আমলা-সুশীল নামে একটি চক্র বঙ্গবন্ধুর আমল থেকেই কাজ শুরু করেছিল, একুশ বছর ঠেকিয়ে রাখতে সফল হয়েছিল আওয়ামী লীগকে এবং শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব পৃথিবীর আর দশটা রাজনৈতিক দলের মতোই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কোথাও কোথাও বেশ কিছু আপসের ফর্মুলা গ্রহণ করে এবং তাতে ১৯৯৬ সালে সফল হয় এবং ২০০৮ সালের পর তো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় ঘোরাতে উন্নয়নকেই কেবলমাত্র আরাধ্য হিসেবে ধরে নিয়ে এগুতে থাকে। এতে সফলতা এসেছে, বেশ ভালোভাবেই এসেছে, বাংলাদেশ এখন আর ‘বাস্কেট কেইস’ নয়, এশিয়ার উদিয়মান সূর্য্য, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে এখন তুলনা করা হয় আশির দশকের সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার সঙ্গে।

এই উন্নয়নের পথে এবং কেবলমাত্র উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে এগুতে গিয়ে আমরা কী হারিয়েছি তার যেমন হিসেব কষতে হবে তেমনই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নির্ধারিত বাংলাদেশের রাজনীতির স্বাভাবিক ও সঠিক চলার পথটি কেন এবং কীভাবে বদলে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে পাকিস্তানের জনগণের মতোই ক্ষমতাহীন করে তোলা হয়েছিল সেসব আলোচনায় আনতে হবে অবধারিতভাবেই। তবে তিনপর্বের এই আলোচনা শেষ করতে চাই একথা বলে যে, বাংলাদেশের জনগণকে আবার ক্ষমতাবান করে তোলার কাজটি শুরু হয় ২০০৮ সালেই। অনেকেই হয়তো এ প্রশ্ন তুলবেন যে, নির্বাচনি ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জনগণকে ক্ষমতাবান করার প্রক্রিয়াটি কী করে সম্ভব? এই সম্ভাবনাটি অনেক দেশেই বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলিতে মূলত অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। ইউরোপের গণতান্ত্রিক শ্লাঘা মূলত ঔপনিবেশ থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তৈরি অবকাঠামো নির্মিত হওয়ার পরই কেবল সেখানে গণতন্ত্র তার পূর্ণ সৌন্দর্য নিয়ে বিকশিত হতে পেরেছে। তার আগের ইতিহাস মূলত রক্তপাত, দুর্নীতি, দখলদারীত্বের, বৈষম্যের এবং বহুলাংশে ভঙ্গুর গণতন্ত্রের। ব্রিটেনের রাণী ভিক্টোরিয়ার আমলকে যদি আমরা আলোচনায় আনি তাহলে আমরা দেখতে পাই যে, বাংলাদেশের বর্তমান সময়টাকে আমরা ভিক্টোরিয়ার সময়কালের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারি। গোটা বিশ্বের ঔপনিবেশ থেকে সম্পদ আহরণ করে ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আর ক্রমশ দেশটি তার অভ্যন্তরীন অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে গণতন্ত্রকেও সুস্থির করে তুলছে। নির্বাচন-ব্যবস্থাকে সর্বজনীন করেছে, নারীর অধিকার নিশ্চিত করার কাজটি শুরু হয়েছে, ধনী-গরিবের বৈষম্য কমছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ-বিত্তের প্রভাব থেকে মুক্ত করে সাধারণ নাগরিকের জন্য সুলভ করে তুলছে। হয়তো অনেকেই একমত হবেন না আমার সঙ্গে তবে আমি গবেষণালব্ধ তথ্য দিয়েই একথা প্রমাণ করতে পারবো যে, বাংলাদেশও সে পথে হাঁটছে। এই বৈষম্য ও বিভেদপূর্ণ পৃথিবীতে যেখানে বাণিজ্যের নামে একে অপরকে কব্জায় রাখার যে নগ্ন প্রতিযোগিতা বিশ্বময় চলছে সেখানে বাংলাদেশের মতো দেশে গণতন্ত্র, নির্বাচন-ব্যবস্থা কিংবা মানবাধিকার আসলে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একেকটি অস্ত্র। লক্ষ্য করে দেখবেন যখনই বাংলাদেশ সরকারকে ‘টাইট’ দেওয়ার প্রয়োজন হয় তখনই হয় নিউ ইয়র্ক কিংবা ওয়াশিংটন কিংবা লন্ডনে বাংলাদেশের এসব অবস্থা নিয়ে একেকটি উচ্চ পর্যায়ের সেমিনার হয় কিংবা নিউ ইয়র্ক টাইমস বা দ্য গার্ডিয়ানে কারো নেতিবাচক কলাম প্রকাশিত হয় কিংবা অধুনা আল-জাজিরার মতো টেলিভিশন ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ নামে ডকুড্রারা প্রচার করে, যদিও কাতার একটি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক দেশ, যে দেশের আমীরের টাকায় আল-জাজিরা চালিত হয়। এই যখন অবস্থা তখন বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকারও ‘বাস্তব থেকে শিক্ষা’ নিয়ে প্রথমে মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন বা ভাগ্যোন্নয়ন ঘটিয়ে তারপর প্রকৃত গণতন্ত্রকে মানুষের সামনে উন্মুক্ত করার যে পথটি দৃশ্যতঃ গ্রহণ করেছেন তাকে আমরা ‘টপ-ডাউন এ্যাপ্রোচ’ হিসেবে দেখতে পারি। এর সমালোচনা থাকতে পারে বিস্তর, রয়েছে দুর্নীতির কারণে ‘সিস্টেম লস’-এর বিস্তর উদাহরণও কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই পদ্ধতি বাংলাদেশে কাজ করবে বলে আমার মতো অনেকেই বিশ্বাস করেন। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় বেড়িয়ে অভ্যস্ত হওয়া বাঙালি এই দু’টি দেশের মতো উন্নয়ন চায় কথায় কথায়, এবং বাংলাদেশ অতি দ্রুত সে পথেই হাঁটছে। হয়তো আর কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশকে আমরা অর্থনৈতিক ভাবে অন্য এক উচ্চতায় দেখতে পাবো এবং তখন থেকে আমাদের নতুন করে শুরু হবে কার্যকর ও অভিজ্ঞতা-লব্ধ গণতান্ত্রিক পদযাত্রা।
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে একথা তাই আমরা জোর দিয়েই বলতে পারি যে, এর মধ্যে পয়ত্রিশ বছর গিয়েছে দিক্ ঠিক করায় যে বাংলাদেশ আসলে কোন পথে হাঁটবে। আর বাকি পনেরো বছর কাটছে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে। কোন পথে হাঁটবে সেটা এখনও পর্যন্ত ঠিক না হলেও একথা আরও জোর দিয়েই বলা যায় যে, এদেশের মানুষের এটুকু  বোধোদয় হয়েছে যে, দু’দু’জন সেনাশাসকের তৈরি রাজনৈতিক সেনাতন্ত্রকে তারা আর মূল্যায়ন করছে না।  এখনও পর্যন্ত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির ব্যাপারে বাঙালি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি, বরং এই শক্তির সঙ্গে বার বার আপসের ধারাটিই আমরা দেখতে পাচ্ছি। হয়তো একদিন ধর্মকে জায়নামাজের চৌকিতে রেখে বাঙালি প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে, সে আশা আমরা এই পঞ্চাশতম জন্মদিনে করতেই পারি। মাত্র পঞ্চাশ বছরে জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে এমনকি মহাকাশে বাঙালির বিজয়চিহ্ন অঙ্কিত হয়েছে, এ যেমন বিস্ময়কর তেমনই বিশ্লেষকদের চোখে ‘প্যারাডক্স’ বা কূটাভাষ বা প্রচলিত সত্যের বিপরীত ধারণা।

তাহলে প্রচলিত সত্যটি কি? যে কথা এতোক্ষণ ধরে বলেছি, বাংলাদেশকে ‘বাস্কেট কেইস’ বানানোর জন্য দেশ-বিদেশি সকল চক্র সকল শক্তি নিয়োগ করেছিল, দু’দু’টি সামরিকতন্ত্রজাত রাজনৈতিক দল বাঙালির গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছিল, ধর্মভিত্তিক উগ্রবাদের চাষাবাদ হয়েছে বা হচ্ছে এখনও তারপরও কী করে বাংলাদেশ এতোটা এগোলো? পশ্চিমা গবেষকরা তাই একে ‘প্যারাডক্স’ বলছেন, আমরা বলতে চাই আসলে ‘প্যারাডক্স’ নয়, জাতির পিতা যে কথা ৭ই মার্চ ১৯৭৫ সালে তার পঞ্চাশতম জন্মদিনের মাত্র দশদিন আগে বলে গিয়েছিলেন, “আর দাবায়ে রাখতে পারবা না”- বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি।

শুভ জন্মদিন প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় মাতৃভূমি।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি

প্রথম পর্ব: বঙ্গবন্ধু ১০০ বাংলাদেশ ৫০

 
/এসএএস/

সম্পর্কিত

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

সালাউদ্দিনের স্মৃতিতে

কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২১, ২৩:০৬

মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে পাক হানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে একদল বীর বাঙালি। আরেকটি দল ছিল, যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ না করলেও মাঠে ফুটবল খেলে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে। যারা স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল নামেই পরিচিত। ভারতের বিভিন্ন শহরে ফুটবল খেলে জনমত গড়ে অর্থ সংগ্রহ করেছে দলটি। যুদ্ধের সময় জাকারিয়া পিন্টু-কাজী সালাউদ্দিন-নওশেরুজ্জামানদের কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। কোনও সময় আধপেটা থাকতে হয়েছে, কখনোবা ঘুমানোর জায়গাও ঠিকমতো জোটেনি!

তারপরও তাদের দমানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন মাতৃভূমির জন্য। আর সেই দলটির সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন কাজী সালাউদ্দিন। মাত্র সাড়ে ১৬ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন অন্যদের সঙ্গে। স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত দলটির সঙ্গে থেকে বিভিন্ন শহরে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছেন। লাল-সবুজ পতাকার জন্য গড়েছেন জনমত।

দেশের জন্য ফুটবল খেলে লড়াই করতে যাচ্ছেন, তাই ধরেই নিয়েছিলেন সামনে বিপদসংকুল রাস্তা অপেক্ষায়মান। আর পরতে পরতে সেই বাধা অতিক্রমও করে গেছেন।

সেই দিনগুলো মনে পড়লে এখনও নস্টালজিক হয়ে পড়েন দেশের ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি কাজী সালাউদ্দিন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিই। পেছনে ফিরে আর তাকাইনি। জানি এই লড়াই-সংগ্রামে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। তারপরও পিছপা হইনি। লক্ষ্য ছিল, যেভাবেই হোক দেশকে স্বাধীন করতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে হবে। সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’

সাড়ে ৮ মাসব্যাপী ফুটবল খেলে নানান সময় বিভিন্ন ধরনের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। সালাউদ্দিন সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন এভাবে, ‘আমাদের এমনও দিন গেছে আধপেটা খেয়ে থাকতে হয়েছে। দেখা গেছে খাবার সংকট। তাই আমরা বেশি সময় ধরে অনুশীলন করে গেছি। যেন একবেলা না খেতে হয়। এমন সময় কেটেছে আমাদের একাধিক দিন। তারপরও আমরা ভেঙে পড়িনি।’

খাবারের পাশাপাশি আবাসন সংকটও ছিল তীব্র। একটা বাসার মধ্যে পুরো দল থেকেছে। সেখানেই রান্না-বান্না। বলতে গেলে দুর্বিষহ জীবন কেটেছে। সালাউদ্দিনের ভাষায়, ‘এক বাসাতে যদি ৩০ জন থাকে, ঘুমায়, বাথরুম একটি, তাহলে বুঝে নিন কতটুকু কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও আমরা মুখ বুঝে মেনে নিয়েছি। কারণ তো সেই একটাই— দেশকে যে করেই হোক স্বাধীন করতে হবে।’

একপর্যায়ে দেশ স্বাধীন হলো। যে যার মতো দেশে ফিরে এলো। কলকাতা থেকে তখন অন্যদের মতো অনেক কষ্টে ঢাকায় এসেছিলেন সালাউদ্দিন। ধানমন্ডির বাসায় তখন তাকে দেখে অন্যরা চিনতেই পারেনি! সেই সাড়ে ১৬ বছরের তরুণ সালাউদ্দিন এখন সাফ ও বাফুফের সভাপতি হিসেবে এক যুগের বেশি সময় ধরে আছেন। মাঝে স্বাধীনতার পরে তারকা খেলোয়াড় কিংবা কোচ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের প্রথম সুপারস্টার বললে তার নামই সবার আগে চলে আসে।

তবে সেজন্য স্বাধীন দেশকেই সামনে আনছেন সবার আগে, ‘দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আমি আজ এই পর্যন্ত এসেছি। তা না হলে তো আসতে পারতাম না।’

 

 

/টিএ/কেআর/

সম্পর্কিত

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

ভয় নয়, জয়ের উৎসব গণিতের

ভয় নয়, জয়ের উৎসব গণিতের

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ০০:২৫

একটি ট্রফির জন্য দেশের ফুটবলে হাহাকার! সেই ২০০৩ সালে সাফ ফুটবলে ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ, এরপর থেকে ট্রফি যেন ‘সোনার হরিণ’! সাফ কিংবা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ অথবা হালের নেপালে তিন জাতির ফুটবল প্রতিযোগিতা- কোনোটিতেই ট্রফি ছুঁতে পারেনি লাল-সবুজের সেনানিরা। শুধু কী তাই! স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে হাতে গোনা চারটি সাফল্য ফুটবলে বড় অর্জন হিসেবে সঙ্গী।

স্বাধীনতার আগ থেকেই ফুটবল ছিল ভীষণ জনপ্রিয়। স্বাধীন হওয়ার পর ফুটবলে জনপ্রিয়তা যেন নতুন রূপে মাত্রা পায়। ৭০, ৮০ ও ৯০ দশকের ফুটবল যেন ছিল এই দেশের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। কাজী সালাউদ্দিন থেকে শুরু করে চুন্নু-আসলাম-বাদল রায়সহ তারকার অভাব ছিল না। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে একেকজন ছিলেন ভাস্বর। সেই সময় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইরান, থাইল্যান্ড কিংবা ভারতের সঙ্গে সমান তালে খেলার চেষ্টা করতো বাংলাদেশ। অনেক সময় সমানে সমান লড়াই হতো। কিন্তু পরিতাপের বিষয় সেই সময় যাদের খেলা দেখতে দর্শকরা মাঠে যেত, ঠিক তারাই কিনা থেকেছেন আন্তর্জাতিক ট্রফিশূন্য! পরবর্তীতে কোচ কিংবা কর্মকর্তা হয়েও অতৃপ্তি ঘোচাতে পারেননি কেউ।

’৮০ দশক থেকে সাফ গেমসের (বর্তমানে এসএ গেমস) পাশাপাশি সাফ ফুটবলের প্রচলন হয়েছে। সাফ তো ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু সে সময় একাধিক প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেললেও ট্রফি জেতা আর হয়নি। এছাড়া বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব খেললেও সাফল্য সেভাবে ধরা দেয়নি।

সেই আফসোস এখনও অনেকের মনে বিদ্যমান। তাদের সেই কষ্ট অবশেষে ঘুচিয়েছেন আরেক কিংবদন্তি প্রয়াত মোনেম মুন্নার নেতৃত্বের দল। ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে প্রথম চার জাতি ফুটবলের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশে ফুটবলে প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয়।

মোনেম মুন্নার নেতৃত্বে একদল বীর সেনানি অসাধারণ খেলে স্বাগিতক মিয়ানমারকে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল। অথচ গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক দলটির কাছেই হারতে হয়েছিল!

জার্মান কোচ অটো ফিস্টারের কোচিংয়ে মিয়ানমারে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপরের ট্রফিও এসেছে সব বিদেশি কোচের অধীনেই।

এরপর ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডুতে সাফ গেমস ফুটবলে সোনা জিতে সবাইকে চমকে দেন আলফাজ-জুয়েল রানারা। সেখানেও ইরাকি কোচ সামির শাকিরের অবদান।

সেই ধারা অব্যাহত ছিল ২০০৩ সালেও। অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের অধীনে প্রথমবারের মতো ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ বলে অভিহিত সাফ ফুটবলের শিরোপা জেতে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ঢাকার মাঠে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে সেই ট্রফি জয়ের পর আর সাফ ফুটবলে সাফল্য আসেনি। শুধু ২০১০ সালে এসএ গেমসে ঢাকার মাঠে এমিলি-ওয়ালিরা সোনা জিতেছিল। বর্তমানে জাতীয় দল অনেক সুযোগ-সুবিধা পেলেও সেভাবে সাফল্য আনতে পারছে না। সাফল্যের ঘর শূন্যই রয়ে গেছে। বরং এই সময়ে হারতে হয়েছে ভুটানের কাছে!

জাতীয় দলের পাশাপাশি আমাদের ক্লাব ফুটবলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং অন্য মাত্রা যোগ করেছে। এখনও দুই দলের খেলা হলে অনেকেই নস্টালজিক হয়ে পড়েন। যদিও ফুটবলের সেই ক্রেজ আর নেই। মাঠে দর্শক হয় না সেভাবে। তারপরও স্বাধীন বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে দুটি দলের নাম আলাদা করেই লেখা থাকবে। ক্লাব ফুটবলে আবাহনীর পাশাপাশি মোহামেডানও দেশে ও দেশের বাইরে সম্মান কুড়িয়ে এনেছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের হাতে গড়া আবাহনী দেশের ফুটবলে অন্যরকম আবহ তৈরি করেছিল। আইরিশ কোচ উইলিয়াম বিল হার্টের অধীনে প্রথম বাংলাদেশের কোনও ক্লাব আধুনিক ফুটবল খেলতে শুরু করে। এরপর ক্লাবটি ধীরে ধীরে সমর্থকদের মনের কোঠায় জায়গা করে নেয়।

৮০’র দশকের শেষ দিকে ভারতে নাগজি কাপে আবাহনী শিরোপা জিতে ঢাকায় এসেছিল। সেটাই দেশের কোনও ক্লাবের বাইরে প্রথম ট্রফি জয়। দর্শকদের উন্মাদনা তখন ছিল দেখার মতো। এছাড়া বিটিসি কাপ, চার্মস কাপ ও বরদুলই ট্রফি জিতে নিজেদের ট্রফির শোকেস সমৃদ্ধ করেছে তারা। সবশেষ এএফসি কাপে জোনাল সেমিফাইনালে খেলে ইতিহাস গড়েছে আকাশি-নীল জার্সিধারিরা।

অন্যদিকে এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপের দ্বিতীয় পর্বে গিয়ে মোহামেডানও চমক দেখায়। যদিও এক যুগের বেশি সময় ধরে সাফল্যবিহীন ক্লাবটি এখনও ধুঁকছে।

ফুটবলের অতীত ইতিহাস বেশ রোমাঞ্চকর হলেও বর্তমানে সেই আভা নেই। কাজী সালাউদ্দিনের যুগে বেঁচে থাকার জোর লড়াই চলছে ফুটবলের!

 

/টিএ/কেআর/

সম্পর্কিত

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ১০:৫০

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করছে বলেই রূপকল্প-২০২১ নির্ধারণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিককালে আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছরকে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সঙ্গে যুক্ত করেছি। তাই আমাদের সার্বিক পরিকল্পনাটি ২০২০-২১ সালকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। সেই সময়কে কেন্দ্র করে আমাদের যাত্রাপথও চিহ্নিত করেছি।

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের অর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুয়ায়ী তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে আমাদের বেশ অর্জন রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ:

১. ২০২১ সালের আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ সুষ্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। 

২. থ্রি-জি মোবাইল প্রযুক্তির পর দেশে ফোর-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্তৃত হয়েছে। মোবাইল প্রযুক্তিকে আরও সুরক্ষিত করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে (আঙুলের ছাপ) সিম নিবন্ধিত হয়েছে। শিগগিরই এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপেমন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) চালু করে সিম ও মোবাইল সেট ব্যবস্থাপনা পূর্ণাঙ্গভাবে ডিজিটাল করা হচ্ছে। 

৩. পাঁচ হাজার ৭৩৭টি ডিজিটাল সেন্টার এবং ৮ হাজার ২০০ ডিজিটাল ডাকঘরের মাধ্যমে জনগণকে ছয়শ’র বেশি ধরনের ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। 

৪. ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ফাইবার অপটিক ক্যাবল সম্প্রসারণ করা হয়েছে। 

৫. প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল, হাওর, বিল, চর, পাহাড়ি, উপকূলীয় ও দ্বীপ এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে।

৬. দেশে ১৭ কোটির ওপরে মোবাইল সিম ব্যবহার করা হচ্ছে।  ইন্টারনেট গ্রাহক ১১ কোটিতে পৌঁছেছে।

৭. ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব পোর্টাল ‘তথ্য বাতায়ন’ চালু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে।

৮. সারাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের পাশাপাশি স্মার্টকার্ড প্রদান করা হয়েছে। 

৯. মেশিনরিডেবল পাসপোর্ট চালু করা হয়েছে। এরপর ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। 

১০. ডিজিটাল অপরাধ দমনে ও ডিজিটাল নিরাপত্তাবিধানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটির প্রয়োগও করা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি স্থাপিত হয়েছে। সিটিডিআর চালু হয়েছে। সার্ট চালু হয়েছে। ফরেনসিক ল্যাব চালু হয়েছে। 

১১. মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে মহাকাশ বিজ্ঞানের যুগে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

১২. লার্নিং আর্নিং, শি পাওয়ার, হাইটেক পার্ক, বিসিসি, বিআইটিএম, এলআইসিটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রশিক্ষণ দিয়ে লাখ লাখ তরুণকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী মানবসম্পদে পরিণত করা হয়েছে ও কর্মসংস্থান করা হয়েছে। 

১৩. তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মাত্র ২৬ লাখ ডলারের রফতানি এখন এক বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। ডিজিটাল শিল্প খাতকে কর সহায়তা ও নগদ সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

১৪. দেশে ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও রফতানি শুরু হয়েছে। মোবাইল ফোনের বাজারের শতকরা ৮২ ভাগ দেশে উৎপাদিত হয়। মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ রফতানি হয়।

১৫. ডিজিটাল-কমার্স নীতিমালা-২০১৮, জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা-২০১৮ ও জাতীয় টেলিকম নীতিমালা-২০১৮ প্রণীত হয়েছে। মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি গাইডলাইন, সিগনিফিকেন্ট মার্কেট প্লেয়ার গাইডলাইন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার গাইডলাইন, কোয়ালিটি অব সার্ভিস গাইডলাইন, আইএসপিএবি গাইডলাইন প্রণীত হয়েছে। টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ অনুসারে টাওয়ার তৈরি শুরু হয়েছে। 

১৬. ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার চালু হয়েছে। 

১৭. সি-মি-উই-৬ এর সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। প্রকল্পটিও অনুমোদিত হয়েছে। ২০২৪ সালে এটি চালু হবে। 

১৮. ডিজিটাল শিল্প যুগের ৫টি প্রযুক্তির কৌশলপত্র প্রণীত হয়েছে।

১৯. দেশে ৫৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু করা হয়েছে। আরও ১২ হাজার ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু হচ্ছে।

২০. ব্যান্ডউইথের দাম ২৮ হাজার টাকা থেকে ২৮৫ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। 

২১. ই-নথিতে সরকার ডিজিটাল পরিচালনার অসাধারণ সক্ষমতা অর্জন করেছে।

বস্তুত এ অর্জনের ছোট বড় ঘটনাগুলো ছোট করে তুলে ধরতেও অনেক লম্বা সময় লেগে যাবে। প্রতি মুহূর্তে সেই তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো

কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২০:২৭

‘মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে’ বলে মনে করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে বা আমাদের কাছ থেকে ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সামরিক সরকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নকে ছারখার করে দিয়েছে।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উপলক্ষে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মুজাহিদুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসব করতে দিচ্ছে না, পারমিশনও দিচ্ছে না।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ত্রিশ লাখ শহীদের সঙ্গে অবমাননা করা হয়েছে।’

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমি ৫০ বছরের কথা ভাবি না, আমি মনে করি এখনই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ফেরত যেতে হবে।’

সেলিম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ চাই আমরা। এটা আওয়ামী লীগ-বিএনপি দিয়ে হবে না। এরা লুটেরা, ধনিক শ্রেণির দল হয়ে গেছে। এর বাইরে যারা সমাজতন্ত্রমুখী চিন্তা করে, বামপন্থী দল তাদের নেতৃত্বে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেটাই আমাদের কাজ।’

/এসটিএস/এমআর/

সম্পর্কিত

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১, ২২:২১

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজনীতি, আধিপত্য বিস্তার, শিক্ষা ও গবেষণায় পিছিয়ে থাকার কারণ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপ করেছেন ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা।

বাংলা ট্টিবিউন: বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে ছাত্র সংগঠনের কী ভূমিকা ছিল? ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে সেটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

গোলাম মোস্তফা: স্বাধীনতাসহ স্বাধীনতা পরবর্তী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্র সংগঠনের উল্লেখযোগ্য ভুমিকা ছিল। মানুষের অধিকার, শিক্ষা- সবগুলো আন্দোলনে  ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ছাত্রদের আত্মদানের মধ্য দিয়েই যাবতীয় গণযুদ্ধ সম্পূর্ণ হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: স্বাধীনতার এক শ’ বছরে কী আশা করেন?

গোলাম মোস্তফা: আমাদের তরুণদের বা ছাত্রদের একটাই প্রত্যাশা। যে কারণে আমার স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছি, যে আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে, যে তিনটি মূলনীতি- সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার তা যেন ততদিনে নিশ্চিত হয়। আর সামাজিক বৈষম্য থাকবে না এমন দৃশ্যই দেখতে চাই। প্রতিষ্ঠা হবে ন্যায়বিচার। দুর্নীতিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশই আমাদের প্রত্যাশা।

বাংলা ট্রিবিউন: ক্যাম্পাসে রাজনীতির সংস্কৃতির পরিবর্তন আসছে কি? কী ধরনের পরিবর্তন দেখছেন?

গোলাম মোস্তফা: ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে দুটি ধারা- একটা গণতন্ত্রের পক্ষে, শিক্ষার পক্ষে, শিক্ষার্থীদের অধিকারের পক্ষে। আরেকটি সরকারে সমর্থনপুষ্ট। তারা সবসময় একটা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য ছাত্রদের বিপক্ষে দাঁড়ায়। শিক্ষাঙ্গনে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। বিভিন্ন সরকারের পরিবর্তনে সরকার দলীয় ক্যাডার পরিবর্তন হয়, তবে এ সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়নি।

বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ওপর এখন রাজনৈতিক প্রভাবটা কেমন?

গোলাম মোস্তফা: বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তমান সময়ে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাব আছে। স্বায়ত্তশাসিত চারটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপ আছে। উপাচার্যকে নিয়োগ দেন আচার্য। আর আচার্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া কিছুই করতে পারেন না। আমরা ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আগেও বলেছি গণতান্ত্রিক সিন্ডিকেট করে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হোক। শিক্ষকরা দলীয় লেজুড়বৃত্তিক হয়ে পড়ছে। ফলে শিক্ষার উন্মুক্ত দিক বিঘ্নিত হচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষে পা দিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি কোন দিকে? বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে আমাদের গৌরবের ঢাবি ক্রমান্বয়ে পেছাচ্ছে। এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে?

গোলাম মোস্তফা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ, স্বাধীনতার ৫০ বছর এগুলো তো একেকটি মাইলফলক হওয়ার কথা ছিল। এগুলো মানুষ অর্জন দিয়ে উদযাপন করবে। সেই জায়গায় এখন নৈরাশ্য আর হতাশা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংক নিচের দিকে যাচ্ছে, এটা সত্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ গবেষণা করা। সেই জায়গায় পিছিয়ে যাচ্ছে। গবেষকের ওপর যখন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় তখন গবেষণা হয় না। করোনাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু তাদের সহযোগিতা করা হয়নি। গবেষণা খাতে বরাদ্দ কম। দলীয়ভাবে নিয়োগের কারণে শিক্ষকতায় আগ্রহ থাকলেও তরুণরা এতে আসছেন না। যারা আসছে তারা এটাকে জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসেবে নিচ্ছে। যার কারণে গবেষণা তাদের কাছে মুখ্য নয়। যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিছু গবেষণা পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে। যার ফলে অন্যরাও আগ্রহ হারাচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? সহাবস্থান আছে?

গোলাম মোস্তফা: সকল সংগঠনে সেই অর্থে সহাবস্থানের পরিবেশ নেই। প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে কিছুটা আছে। তারা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ছাত্রদের স্বার্থে কথা বলে। যৌথ প্লাটফর্মে কাজ করে। আরেকটি দল আছে, তাদের মূলকাজ হলো দলীয় লেজুড়বৃত্তি আর সরকারি ক্ষমতাকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত লাভ। ছদ্মবেশে তারা ছাত্রদের পক্ষে কথা বলে। সুযোগ বুঝে বিপক্ষে দাঁড়ায়।

বাংলা ট্রিবিউন: হলগুলোতে ক্ষমতাসীনদের একক আধিপত্য রয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ, এ বিষয়ে কী বলবেন?

গোলাম মোস্তফা: বিএনপির সময় ছাত্রদল, আওয়ামী লীগের সময় ছাত্রলীগ হলগুলো দখল করে থাকে এটা সত্য। তাদের নিপীড়নে অনেক শিক্ষার্থী প্রাণও হারিয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ভিন্নমত গ্রহণের প্রবণতা কেমন আছে?

গোলাম মোস্তফা: ভিন্নমত গ্রহণের প্রবণতা অনেকের মধ্যে আছে। অনেকের মধ্যে নেই। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা প্রগতিশীলতায় বিশ্বাস করে, তারা সকল মতকেই প্রাধান্য দেয়। যারা এসবে বিশ্বাসই করে না, সহনশীলতায় বিশ্বাস করে না, যারা মুখোশধারী, তারা আধিপত্য বিস্তারে বিশ্বাসী, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিশ্বাসী। এগুলোর ফলে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়।

 

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

সর্বশেষ

বাগেরহাটে পানিবন্দি হাজারো পরিবার, টর্নেডোতে বিধ্বস্ত বাড়িঘর

বাগেরহাটে পানিবন্দি হাজারো পরিবার, টর্নেডোতে বিধ্বস্ত বাড়িঘর

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কুড়িগ্রামে আটক ৯ রোহিঙ্গা

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কুড়িগ্রামে আটক ৯ রোহিঙ্গা

করোনায় আটকে আছে ত্রিদেশীয় বৈঠক

করোনায় আটকে আছে ত্রিদেশীয় বৈঠক

কিউকম ও রানার এর মধ্যে ব্যবসায়িক চুক্তি

কিউকম ও রানার এর মধ্যে ব্যবসায়িক চুক্তি

বলপূর্বক কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না: যুক্তরাষ্ট্র

বলপূর্বক কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না: যুক্তরাষ্ট্র

বিলের মাঝখানে উপহারের ঘর, ডুবলো পানিতে

বিলের মাঝখানে উপহারের ঘর, ডুবলো পানিতে

নতুন রূপে ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের’ পথ চলা

নতুন রূপে ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের’ পথ চলা

পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৯ ওভারের ম্যাচটিও শেষ হলো না

পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৯ ওভারের ম্যাচটিও শেষ হলো না

দেয়ালেও করোনাভাইরাস, সাতক্ষীরা মেডিক্যালের ল্যাব বন্ধ

দেয়ালেও করোনাভাইরাস, সাতক্ষীরা মেডিক্যালের ল্যাব বন্ধ

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় পরিবেশমন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় পরিবেশমন্ত্রীর

সেই লাকী আক্তারের কণ্ঠে কন্যা ও কান্নার গল্প (ভিডিও)

সেই লাকী আক্তারের কণ্ঠে কন্যা ও কান্নার গল্প (ভিডিও)

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৫০ দেশ ঘুরবে ‘সুবর্ণযাত্রা’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৫০ দেশ ঘুরবে ‘সুবর্ণযাত্রা’

উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির পুনরুত্থান

উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির পুনরুত্থান

‘ছাত্র রাজনীতিকে আমি সহশিক্ষা বলব’

‘ছাত্র রাজনীতিকে আমি সহশিক্ষা বলব’

এখন ‘সহমত ভাই’ চর্চা চলে

এখন ‘সহমত ভাই’ চর্চা চলে

‘ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান এখন খাতা-কলমে’

‘ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান এখন খাতা-কলমে’

© 2021 Bangla Tribune