X
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

লকডাউন বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ১৪:২৬

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে লকডাউনসহ অন্যান্য বিধিনিষেধের বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এর আগে রবিবার (৪ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ জারি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে যোগ দেন। আর মন্ত্রীরা সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে ছিলেন।

সচিবের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, অফিস-আদালত খোলা, গাড়ি চলছে, দোকানপাটও খোলা- এটা কেমন লকডাউন? পরে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী চলমান লকডাউনে জারি করা নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

উল্লেখ্য, করোনার ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সাত দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে আজ সোমবার ভোর ৬টা থেকে। নাগরিকদের জন্য নির্দেশনার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। 

এই সাতদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না। জরুরি ওষুধ কিংবা একান্ত প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া আর কিছু কিনতে বাইরে যাওয়া যাবে না। কাজ শেষে দ্রুত বাসায় ফিরতে হবে। দাফন বা সৎকারের কাজে বাইরে যাওয়া যাবে। সব গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। ব্যক্তিগত যানবাহনও চালানো যাবে না। মোটরসাইকেল ও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা যাত্রীবাহী বিমানও চলবে না।

পণ্যবাহী ও উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত পরিবহন এ নির্দেশের আওতায় পড়বে না। এছাড়া যারা বিদেশে যাবেন, অথবা যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, তারা যাতায়াতের ক্ষেত্রে যে পরিবহন ব্যবহার করবেন তা এ নির্দেশের আওতায় পড়বে না।

এই সাত দিন রেস্তোরাঁ খোলা রাখা যাবে। তবে ভেতরে বসিয়ে কোনও ক্রেতাকে খাবার পরিবেশন করা যাবে না। খাবার প্যাকেট করে নিয়ে যাওয়া যাবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার ডেলিভারি করা যাবে। দোকান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। তবে অনলাইনে কেনাকাটা ও ডেলিভারির সুযোগ থাকবে। এ কাজে নিয়োজিত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। কোনও ক্রেতা সশরীরে শপিংমলে যেতে পারবেন না। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জরুরি সেবা যেমন স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, সমুদ্র, স্থল ও নৌ বন্দরগুলোর কার্যক্রম চলবে। টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডাক বিভাগসহ অন্যান্য জরুরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত অফিস, তাদের কর্মী ও যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। 

চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, সবজি, মাছ-মাংস ইত্যাদি কিনতে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কাঁচাবাজারে যাওয়া যাবে। বিকাল ৪টার পর এসব দোকান ও বাজার বন্ধ করতে হবে। ক্রেতাকেও ঘরে ফিরতে হবে। কাঁচাবাজার খোলা জায়গায় নির্ধারিত দূরত্বে বসবে। ওষুধের দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা যাবে। এক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতাকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ওষুধের দোকানে একসঙ্গে একজনের বেশি ক্রেতাকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। তবে দোকানের আয়তনের ওপর ভিত্তি করে দুজন ঢুকতে পারবেন। এর বেশি নয়।

জরুরি কাজের জন্য সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আদালত খোলা থাকবে। তবে জরুরি কাজের জন্য যাদের প্রয়োজন তাদেরই অফিসে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

গার্মেন্টস ও কারখানা খোলা থাকবে। কারখানার নিজস্ব গাড়িতে শ্রমিকদের আনতে হবে। কাজ শেষে পৌঁছে দিতে হবে। কারখানার গাড়ির ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না। কারখানার কাছাকাছি এলাকায় শ্রমিকদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে। সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে মালিকদের নিজ উদ্যোগে।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন চালাতে সারা দেশেই ব্যাংক খোলা থাকবে। তবে তা সীমিত সময়ের জন্য। ৫-১১ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংকিং লেনদেনের সময়সূচি সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লেনদেন পরবর্তী কাজে প্রয়োজনে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

এই সময়ে দেশের সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ রাজধানী ঢাকায় সুবিধাজনক স্থানে ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করবে।

নির্দেশনা মানার ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা পাড়া-মহল্লায় সার্বক্ষণিক টহল দেবেন। সরকারি আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

 

 

/এসআই/ইউআই/এফএস/

সম্পর্কিত

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

মে মাসের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু ও শনাক্ত

মে মাসের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু ও শনাক্ত

এবারের গণটিকা কর্মসূচিতে প্রাধান্য পাচ্ছেন যারা

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:১৫

আগামী মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশে একদিনের জন্য শুরু হচ্ছে গণটিকাদান কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচিতে ৮০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি জানান, এ দিনের টিকাদান কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার পাবেন, বয়োজ্যেষ্ঠরা। বিশেষ করে যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি। সেইসঙ্গে অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছেন নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী নাগরিকরা।  

‘তাদের প্রাধান্য দিয়ে এবারের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে’, যোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২৮ তারিখ সকাল থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি চলবে। এবারে গণটিকাদান কর্মসূচির ওইদিন ৮০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার টার্গেট ধরা হয়েছে। এই টার্গেট পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজনে একাধিক শিফটে টিকা দেওয়া হবে।

এবারের টিকাদান কর্মসূচিকে ‘গ্রাম-গঞ্জ’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠী রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকে বয়স্ক রয়েছেন, হার্ড টু রিচ এলাকায়- যারা সবসময় টিকাদান কেন্দ্রে আসতেও পারেন না, তাদের জন্য এবারের টিকাদান কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার থাকবে।

পরিকল্পনার বিস্তারিত জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনেকেই টিকা নিতে নিবন্ধন করে অপেক্ষায় আছেন মাসের পর মাস; তারা টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে টিকা নিতে পারবেন কিনা প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা অনেকদিন নিবন্ধন করেছেন কিন্তু টিকা পাননি এবং অপেক্ষায় আছেন, তাদের অবশ্যই আমরা অগ্রাধিকার দেব। আপনারা জানেন, প্রথমদিকে নিবন্ধন একেবারে অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল। যে কারণে আমাদের একটি জট তৈরি হয়েছিল। কোনও কোনও দিন ২০ থেকে ২৫ লাখ লোকের নিবন্ধন হয়েছিল। এখন আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা আছে, আর জট থাকবে না।

সেই সঙ্গে নিবন্ধন না করে কেবল জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এলেও টিকা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

/জেএ/ইউএস/

সম্পর্কিত

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২৯

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, গণতন্ত্র ও গণমানুষের সমর্থনের প্রতি অগাধ বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। তার গণতান্ত্রিক দুর্গম সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস নবীন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের’ উদ্যোগে রাজধানীর বনানীতে  ‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের এক যুগ’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পিকার এসব কথা বলেন।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় কেক কাটার মাধ্যমে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের যাত্রাপথ, তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম, ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, শিক্ষা, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে তার নেতৃত্বে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, বিচক্ষণ কূটনীতি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন স্পিকার।

১৯৮৪ সালে জাতীয় সংসদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘এই সংসদ জনতার সংসদ’ উল্লেখ করে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘ছেলেবেলায় টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম থেকে শুরু করে তার শিক্ষাজীবন, বৈবাহিক জীবন, পারিবারিক জীবন, রাজনীতিতে আসা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন, অনেক গবেষণালব্ধ বিষয় প্রদর্শনীটিতে ফুটে উঠেছে, যা প্রশংসনীয়।’

. স্পিকার বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর এদেশের ইতিহাসকে ভিন্নপথে পরিচালিত ও স্বাধীনতার চেতনাকে ভূ-লুণ্ঠিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। ১৯৮১ সালের ১৭মে স্বজনহারানোর বেদনা বুকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেশে আসা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন বাঁক। বাংলার মানুষ তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, যা থেকে তার পথচলা। সেখান থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, স্বৈরশাসনের অবসানের সংগ্রাম, সংবিধান অনুযায়ী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সত্যি বিস্ময়কর।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমগ্র বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ আজ  উন্নয়নের বিস্ময়। নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে আত্মশক্তিতে বলীয়ান একটি জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছিলাম, তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে নিয়ে গেছেন স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। তিনি তার পিতার মতো এদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালবাসেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যে অপূর্ণ স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, সে স্বপ্নের বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সুদক্ষ নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে তার অবদান ও অর্জন নিয়ে বিশেষ চিত্র প্রদর্শনীর প্রশংসা করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন বাঙালি জাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। এটি একটি ঐতিহাসিক বিশেষ মুহূর্ত বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণ। এটি আমাদের অত্যন্ত আনন্দের এবং আবেগের।’

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং বিশ্ব রাজনীতির লায়ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধু। আর এই লায়ন কিং এর বাস্তব রূপ হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি যদি লড়াই না করতেন, ফিরে যদি না আসতেন, আমরা আজকে এই বাংলাদেশ দেখতাম না।’

তিনি বলেন, ‘আমার আরেকটি জিনিস মনে হয়, আমরা কেন জানি এই প্রজন্ম এখনও বুঝে উঠতে পারিনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জন্য কতটুকু বড় গিফট। আমার কেন জানি মনে হয়, তিনি তো আছেনই আমরা তাকে দেখি। কিন্তু আজ  থেকে ১০০ বছর পরে যে প্রজন্ম আসবেন, তারা যখন পেছনে তাকাবে, তখন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে তারা মূল্যায়ন করতে পারবেন।’

আরাফাত বলেন, ‘আমি যখন ওয়াশিংটন ডিসিতে যাই, যখন আমি বিশাল স্টাচুর সামনে দাঁড়াই, আমার কেন জানি মনে হয়— জজ ওয়াশিংটন আমেরিকাকে স্বাধীন করেছেন, কিন্তু ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন  আমেরিকা যখন বিভক্ত হয়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল, তখন আটকে রেখে, ধরে রেখে, আমেরিকার ভবিষ্যৎ রচনা করেছেন। সেরকম আব্রাহাম লিংকন দরকার ছিল বাংলার রাজনীতিতে। আমিও মনে করি, শেখ হাসিনা সেই আব্রাহাম লিংকন। আর  শেখ হাসিনার জন্য আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অনেক দোয়া থাকবে।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন বলেন, ‘কানাডা এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক অনেক ভালো। বাংলাদেশের অনেকে কানাডায় বসবাস করেন এবং অনেক কানাডিয়ান বাংলাদেশিদের সম্পর্কে জানতে খুবই উদ্রেক যে, বাংলাদেশে কী হচ্ছে।’

‘বাংলাদেশকে কানাডা সবসময় বন্ধু এবং অংশীদার হিসেবে মনে করে’ উল্লেখ করে  তিনি বলেন, ‘এর আগে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে এতকিছু জানতাম না, কিন্তু এই দেশ এবং প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে, শেখ হাসিনার পরিবার সম্পর্কে জানতে পেরে অনেক ভালো লাগলো। আমি আশা করি, আমরা দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে আরও এগিয়ে যাবো।’

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

 

 /ইএইচএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৪২

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় দেশে আসছে ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনা প্রতিরোধী আরও ২৫ লাখ ডোজ টিকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম প্রধান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আগামীকাল সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১০টার দিকে টিকার এ চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারসহ অন্যরা বিমানবন্দরে উপস্থিতি থেকে এই টিকা গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে কোভ্যাক্স সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রথম দফায় ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ লাখ ৩ হাজার ৮৬০ ডোজ ফাইজারের ভ্যাকসিন দেশে এসেছে। আগামীকাল আরও ২৫ লাখ ডোজ এলে এ নিয়ে ফাইজারের মোট ৩৬ লাখ ৪ হাজার ৪৮০ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছাবে।

এর আগে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, মডার্নার ভ্যাকসিনসহ ক্রয়কৃত ও কোভ্যাক্স ফাসিলিটিজের আওতায় মোট ৪ কোটি ৯৪ লাখ ২৯ হাজার ৯৪০ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসেছে। এর মধ্যে শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২ কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯৮ জনকে প্রথম ডোজ এবং ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭১ জনকে দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়াও চীনের সিনোফার্মের ৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের চুক্তি অনুযায়ী এ মাস থেকেই প্রতি মাসে ২ কোটি ডোজ করে ভ্যাকসিন দেশে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে আরও সাড়ে ১০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনসহ মোট ২৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

/জেএ/ইউএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

৬ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

৬ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

১৪ কোটি টাকার সিরিঞ্জ কিনবে সরকার

১৪ কোটি টাকার সিরিঞ্জ কিনবে সরকার

অক্টোবর থেকে টিকা রফতানি করবে ভারত

অক্টোবর থেকে টিকা রফতানি করবে ভারত

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০০

দেশের পর্যটন খাত নিয়ে নেই সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। যে কারণে এ খাতে গুণগত পরিবর্তন আসছে না। আর তাই পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান তথা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপিই গ্লোবাল লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল এ বছর জুনে। তবে মহামারির কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বাংলাদেশ ত্যাগ করায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালের আগে তাই শেষ হচ্ছে না মাস্টারপ্ল্যানের কাজ।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশের পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন হয়। একই বছর ২৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীও অনুমোদন দেন। ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপিই গ্লোবাল লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের চুক্তি হয়। ভ্যাট ও এআইটিসহ চুক্তিমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়।

লক্ষ্য ছিল মাস্টারপ্ল্যানটি তিনটি পর্যায়ে ১৮ মাসে শেষ হবে। ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়। তবে শুরুতেই থমকে যায় করোনার দাপটে।

২০২০ সালের মার্চ হতেই এতে যুক্ত বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ দেশে চলে যান। একপর্যায়ে কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মপরিকল্পনা দেয়। যা কিছু সংশোধনীসহ ২০২০ সালের ১১ নভেম্বরে অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আশা করছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হবে।

পর্যটন মন্ত্রণালয় বলছে, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের পর্যটন শিল্পের চিত্র বদলে যাবে। বাড়বে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। জিডিপিতেও অবদানও বাড়বে। এখন দেশের জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ২ শতাংশ; যা ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘এটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। পুরো দেশের পর্যটন চিত্র বদলাতে হলে পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে, যা এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ণের মাধ্যমে সম্ভব।’

জাবেদ আহমেদ আরও বলেন, ‘মহামারির কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। তবে পুরোদমে কাজ চলছে। সকলের অংশগ্রহণে কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, তিনটি পর্যায়ে পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ হবে। ১ম পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেশের পর্যটন শিল্পের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, সংকট, দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হবে। এ ছাড়া, বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেওয়া হবে প্রথম ধাপেই।

২য় পর্যায়ে দেশের পর্যটনের লক্ষ্য, পদক্ষেপ, কৌশলগত লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও যোগাযোগের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হবে। পর্যটন উন্নয়ন, প্রমোশন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৩, ৫ এবং ১৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনাও থাকবে ২য় পর্যায়ে।

৩য় পর্যায়ে দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা করা হবে। পর্যটন পণ্যের উন্নয়ন, অর্থায়ন ও বিনিয়োগের কৌশল নিয়ে কর্মপরিকল্পনা থাকবে এ পর্যায়ে। বিপণন ও প্রচারের কৌশলও উঠে আসবে এ ধাপে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মহাপরিকল্পনা না ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক  প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে।’

 

 

 
 
/এফএ/

সম্পর্কিত

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)

১৯৭৩ সালের এদিন জাতীয় সংসদের শরৎকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে জনগণের কল্যাণে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিল্পমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যেতে তিনি জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি বিধানে তিনি সরকারের সংকল্প এদিন পুনরুল্লেখ করেন।

সংসদে শিল্পমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, শান্তিপ্রিয় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার দুষ্কৃতকারী সমাজবিরোধীদের নির্মূল করার জন্য সংকল্পবদ্ধ। তিনি পরিষ্কার জানান যে, অস্ত্রের ভাষায় ভ্রুকুটি সরকার কিছুতেই সহ্য করবে না। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার কিছুতেই এই ধরনের হুমকি সহ্য করতে পারে না। পরবর্তী নির্বাচনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারের পরিবর্তন বর্তমান সরকার মেনে নেবে। কিন্তু অস্ত্রের মুখে নতি স্বীকার করবে না।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার আসবে সরকার যাবে। কিন্তু জাতিকে স্বাধীনভাবে টিকে থাকতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হবে না।

দেশের নানাবিধ সমস্যার কথা উল্লেখ করে সৈয়দ নজরুল বলেন, সরকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ভৈরব ব্রিজ উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করেন।

দৈনিক ইত্তেফাক, ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

তিনি বলেন, ‘হয়তো কঠিন সময় উপস্থিত হবে এই দুই মাস। বরাবরই এই দেশের সংকটকাল। এই সময় বাংলাদেশে খাদ্য সংকট দেখা দেয়।’

 এ থেকে উত্তরণে সকলের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, কালোবাজারি, মুনাফাখোর ও সমাজবিরোধী শক্তিকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। সংসদে সৈয়দ নজরুল ঘোষণা করেন, দুনিয়ার কোনও শক্তি দেশের স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে সমর্থ হবে না। দেশমাতৃকাকে স্বাধীনতা কীভাবে রক্ষা করতে হয় বাংলাদেশের জনগণের তা জানা আছে।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধীদলের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক বিরোধিতার অধিকার সবার আছে। কিন্তু অগণতান্ত্রিক অনিয়মতান্ত্রিক কার্যকলাপ চালাবার অধিকার কারও নেই।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, যদি কেউ অস্ত্রের ভাষায় সরকারের বিরোধিতা করতে চায় বা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে চায় কিংবা তিন মাসের মধ্যে সরকারকে উৎখাত করতে চায় তাদের সম্পর্কে সরকার চোখ বুঁজে থাকতে পারে না।

দ্য অবজারভার, ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

বঙ্গবন্ধুর বাণী

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত ভৈরব রেল সেতু পুনর্নির্মাণ করে নিয়মিত যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সর্বাত্মক জাতীয় প্রকাশে গৌরবোজ্জ্বল পদক্ষেপ বলে অভিহীত করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভৈরব সেতু উন্মুক্ত করা উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি বলেন, এ সেতু পুনরায় চালু হলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে। যা জাতীয় অর্থনৈতিক জীবনে প্রেরণা যোগাবে এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের দ্রুত খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাঠানো সহজ হবে।

সেতুটি পুনর্নির্মাণে ভারত, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য বন্ধুদের প্রদত্ত সাহায্যের কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেতুটি এত সংক্ষিপ্ত সময়ে মেরামত ও পুনরায় চালু করার কাজে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সুযোগ্য পরিচালনায় ইঞ্জিনিয়ার, কারিগর, কর্মী ও শ্রমিকরা তাদের কর্তব্য সম্পাদন করেছে।

ভ্যাটিকান রাষ্ট্রদূত এডভার্ড কেনেডি এদিন জাতীয় সংসদের চেম্বারে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে একটি চেক প্রদান করেন।

এদিন সংসদের অধিবেশন সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। অধিবেশনের শেষ দিনে আরও চারটি বিল পাস হয়। এগুলো হলো- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিল ১৯৭৩, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিল ১৯৭৩, বাংলাদেশ গার্লস গাইড সমিতি বিল ১৯৭৩, ওয়্যার হাউসিং করপোরেশন সংশোধনী বিল ১৯৭৩।

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

মে মাসের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু ও শনাক্ত

মে মাসের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু ও শনাক্ত

৬ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

৬ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

১৪ কোটি টাকার সিরিঞ্জ কিনবে সরকার

১৪ কোটি টাকার সিরিঞ্জ কিনবে সরকার

করোনায় আবারও নারী মৃত্যু বেশি

করোনায় আবারও নারী মৃত্যু বেশি

করোনায় আরও ২৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৬২

করোনায় আরও ২৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৬২

বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার ল্যাব চালু কবে, বলতে পারলেন না দুই মন্ত্রী

বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার ল্যাব চালু কবে, বলতে পারলেন না দুই মন্ত্রী

মৃত্যু কমেছে ২০ শতাংশ

মৃত্যু কমেছে ২০ শতাংশ

সর্বশেষ

এবারের গণটিকা কর্মসূচিতে প্রাধান্য পাচ্ছেন যারা

এবারের গণটিকা কর্মসূচিতে প্রাধান্য পাচ্ছেন যারা

নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ৩ জনকে উদ্ধার

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ৩ জনকে উদ্ধার

নকল কসমেটিক-ভেজাল খাদ্য উৎপাদন: ১৫ লাখ টাকা জরিমানা  

নকল কসমেটিক-ভেজাল খাদ্য উৎপাদন: ১৫ লাখ টাকা জরিমানা  

দেশের অগ্রগতি নষ্ট করতে চাইলে দাঁতভাঙা জবাব: ওবায়দুল কাদের

দেশের অগ্রগতি নষ্ট করতে চাইলে দাঁতভাঙা জবাব: ওবায়দুল কাদের

© 2021 Bangla Tribune